¦
নির্বাচন ছাড়া সংকটের সুরাহা হবে না

যুগান্তর ডেস্ক | প্রকাশ : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

পুড়ছে বাংলাদেশ। পেট্রলবোমায় দগ্ধ হচ্ছে একের পর এক জীবন। বহু পরিবার হারাচ্ছে বেঁচে থাকার, উপার্জনের অবলম্বন। কিন্তু সে আগুন নেভার কোনো লক্ষণ নেই। বরং অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, এ অস্থিরতাই হয়ে উঠবে নিত্যদিনের জীবনযাত্রার অংশ। যতদিন না নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এজেন্সি ফ্রান্স প্রেস (এএফপি) “নো এন্ড ইন বাংলাদেশ টু স্লো-বার্ন বাংলাদেশ টার্মোনিল” শীর্ষক প্রতিবেদনে রোববার এ মন্তব্য করেছে। প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন ক্রিস্টিয়ান অটন।
ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন ১২ বছরের শিশু ও বাসের হেলপার রাকিব মিয়ার ভয়াবহ দুরবস্থার বর্ণনা দিয়ে শুরু করা হয়েছে প্রতিবেদনটি। বলা হয়েছে, পরিবারের জন্য দু-মুঠো খাবার জোগাড় করতে এই অল্প বয়সেই তাকে নামতে হয়েছিল জীবনযুদ্ধে। পেট্রলবোমায় দগ্ধ হয়ে এখন সে লড়ছে মৃত্যুর সঙ্গে। হুইল চেয়ারে যখন তাকে হাসপাতালে নেয়া হচ্ছিল তখন বৃদ্ধ মা রাশিদা খাতুন বিলাপ করছিলেন। কেঁদে বলছিলেন, আমার ছেলে কার কী ক্ষতি করেছে? একমাত্র সেই আমাদের পরিবারে খাবারের জোগান দিত। আমরা আমাদের হাত দিয়ে শুধু জীবিকা অর্জন করতে পারি। কিন্তু সে এখন সেটাও করতে পারবে না।
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শত্রুতা বহু যুগ পুরনো এবং তাদের দলীয় সহিংসতা নতুন কিছু নয়। কিন্তু পর্যবেক্ষরা আশংকা করছেন, সাম্প্রতিক রক্তপাত ১৬ কোটি মানুষের এ দেশে নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হতে পারে। যে সহিংসতায় এখন পর্যন্ত ৮০ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ঘিরে সহিংসতার সূত্রপাত। প্রধানমন্ত্রীর অনড় অবস্থান ও দলীয় কার্যালয়ে খালেদা জিয়া আটক থাকায় আশার খুব বেশি আলো দেখছেন না কূটনীতিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
ঢাকার এক বিশ্লেষক আতাউর রহমান বলেন, এ সহিংসতা চলতেই থাকবে এবং বাংলাদেশ ধীরে ধীরে জ্বলবে। ২০১৯ সালের নির্বাচন পর্যন্ত স্থিতিশীলতা অধরাই থেকে যাবে। আতাউর আরও বলেন, সহিংসতার দায়- এর একটি অংশ অবশ্যই খালেদা জিয়াকে নিতে হবে। কিন্তু তিনি এখনও ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়। ধারণা থেকে আতাউর রহমান এমনটাও বলছেন, মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সুচির মতো গৃহবন্দিত্বেই দীর্ঘ সময় কাটাতে হতে পারে খালেদা জিয়াকে।
নতুন করে জাতীয় নির্বাচনের দাবিতে খালেদা জিয়া ৪ জানুয়ারি সড়ক-অবরোধের ডাক দিয়েছিলেন। এরপর থেকে শত শত যানবাহন পেট্রলবোমার আগুনে পুড়েছে। বিরোধী দলের জঙ্গিরা এসব হামলা চালাচ্ছে বলে সরকারের অভিযোগ। তবে বিএনপি দায় চাপাচ্ছে ক্ষমতাসীন দল ও নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর ওপর। বহু কর্মীকে গুলি করেও হত্যা করা হয়েছে।
গতবছর নির্বাচনকে ঘিরে সহিংসতায় বহু মানুষ প্রাণ হারায়। তবে এবারের ঘটনাপ্রবাহ আরও বেশি আতংকজনক। ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মানুষের দুর্দশার ভয়াবহ চিত্রও তুলে ধরা হয় প্রতিবেদনে। বলা হয়, দগ্ধদের দেখতে প্রধানমন্ত্রী গত সপ্তাহে বার্ন ইউনিটে গিয়ে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। এরপর প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, তিনি বিএনপির সঙ্গে সংলাপে বসতে চান কিনা। প্রত্যুত্তরে তিনি ক্ষুব্ধভাবে বলেছিলেন, খুনিদের সঙ্গে, যারা আগুনে মানুষ পুড়িয়ে মারছে, তাদের সঙ্গে? এমন প্রশ্নই উঠতে পারে না। আর তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, সরকার সংলাপের বিরুদ্ধে নয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেটা সম্ভব নয়। আমাদের প্রধান কাজ হচ্ছে সন্ত্রাসী ও জঙ্গি হামলা প্রতিরোধ করা।
গত সপ্তাহে এএফপি-কে দেয়া সাক্ষাৎকারে খালেদা জিয়া হাসিনাকে সরে দাঁড়ানো ও একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছিলেন, সব দলের ঐকমত্যে ও আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতেই নির্বাচন হওয়া উচিত। পাল্টা-জবাবে ইনু বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে খালেদা জিয়াকে ঐক্যের সরকারে যোগ দেয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। কিন্তু সেটা তিনি প্রত্যাখ্যান করেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, খালেদা জিয়ার নির্বাচন বয়কট মারাত্মক ভুল বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, জনমত জরিপগুলো বিএনপির জয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছিল। ইউরোপীয় এক কূটনীতিক বলেন, ব্যাপক পর্যবেক্ষণের আওতায় নির্বাচন হতো এবং ভোটে কারচুপির মাধ্যমে পরাজিত হলে, খালেদা জিয়া ব্যাপক কূটনৈতিক সমর্থন পেতেন। অপর এক পশ্চিমা কূটনীতিক আশংকা প্রকাশ করে বলেন, খালেদা জিয়াকে কোণঠাসা করে ফেলায়, চলমান সহিংসতাই নতুন স্বাভাবিক অবস্থা হয়ে ওঠার মতো ঝুঁকি রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, তিন দশক ধরে পারস্পরিক অপছন্দের সম্পর্কের কারণে দুই নেত্রীকে ব্যাটলিং বেগমস হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। এমনকি পরবর্তী প্রজন্মও দুই নেত্রীর শত্রুতার বিষে আক্রান্ত। আর ১৯৭১ সাল থেকে প্রায় ২০টি সেনা অভ্যুত্থানের সাক্ষী বাংলাদেশ। তবে পুনরায় সেনা হস্তক্ষেপ হতে পারে এমন শংকা নাকচ করে দিয়েছে সেনাবাহিনী।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, দ্রুত সংকট সমাধানের কোনো ইঙ্গিত নেই। তিনি বলেন, সব দলের অংশগ্রহণে একটি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত এ সংঘাত চলতে থাকবে।
শেষ পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close