¦
মিসরের বিমান হামলায় ৬৪ আইএস জঙ্গি নিহত

যুগান্তর ডেস্ক | প্রকাশ : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

লিবিয়ায় অপহরণ হওয়া ২১ কপটিক খ্রিস্টানকে হত্যার বদলা নিতে সেখানে আইএস (ইসলামিক স্টেট) জঙ্গিদের আস্তানা লক্ষ্য করে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে মিসর। এতে সংগঠনটির তিন নেতাসহ ৬৪ জঙ্গি নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন লিবিয়ার সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মেজর মোহাম্মদ হেগাজি। সোমবার ভোরে লিবিয়ার সেনাবাহিনীর সহায়তায় মিসরের সেনাবাহিনীর সদস্যরা লিবিয়ার উপকূলীয় শহর ডারনা এবং সিরতে এ হামলা শুরু করেন। এর আগে রোববার আইএস জঙ্গিরা মিসরীয় ওই খ্রিস্টানদের শিরশ্ছেদের ভিডিও প্রকাশ করে। এ হত্যাকাণ্ডের পর মিসরে ৭ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করে দেশটির সরকার। শিরশ্ছেদের ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। আহরাম অনলাইন, বিবিসি।
ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল-ফাত্তাহ আল-সিসি রোববার রাতে বলেন, লিবিয়ায় উপযুক্ত সময় এবং স্থানে আইএসের হাতে মিসরীয় ২১ কপটিক খ্রিস্টানের প্রাণ হারানোর প্রতিশোধ নেয়ার অধিকার রাখে মিসর। তিনি জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সঙ্গে তড়িঘড়ি করে বৈঠক করেন এবং ৭ দিনের শোক ঘোষণা করেন। মিসরের সরকারি টিভিতে বলা হয়েছে, ভোরের দিকে ওই বিমান হামলায় লিবিয়ার অভ্যন্তরে আইএসের প্রশিক্ষণ শিবির এবং অস্ত্রভাণ্ডার লক্ষ্য করা হয়। মিসরীয় সেনাবাহিনী জানিয়েছে, হত্যার প্রতিশোধ ও হত্যাকারীদের উচিত শাস্তি দিতে এ হামলা চালানো হয়। মিসরের সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে দাবি করা হয়, লিবিয়ায় বিমান হামলা সফল হয়েছে এবং বিমানগুলো নিরাপদে ফিরে এসেছে। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে সিসি বলেন, তাদের প্রতি আমাদের সমর্থন অব্যাহত থাকবে। মিসরের পাশে পশ্চিমা মিত্ররা রয়েছে বলে জানান সিসি। আইএসের প্রকাশিত ওই ভিডিওতে একটি সমুদ্র সৈকতে হাতকড়া পরা ২১ জিম্মিকে দেখা যায়। তাদের পরনে কমলা রঙের জাম্পস্যুট। তাদের প্রত্যেকের সঙ্গে একজন করে মুখোশধারী জঙ্গি। তাদের পরনে কালো পোশাক। একপর্যায়ে জিম্মি ব্যক্তিদের হাঁটু গেড়ে বসিয়ে গণহারে শিরশ্ছেদ করে জঙ্গিরা। জঙ্গিদের প্রকাশিত ফুটেজের ক্যাপশনে লেখা ছিল, ধর্মের কারণেই তাদের হত্যা করা হয়েছে।
ভিডিও ফুটেজে দাবি করা হয়, মিসরের ওই ২১ খ্রিস্টানকে শিরশ্ছেদ করেছে আইএসের ত্রিপোলি শাখা। লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলির কাছে সমুদ্র সৈকতে তাদের শিরশ্ছেদ করা হয়। এর আগে আইএসের অনলাইন সাময়িকীতে সমসংখ্যক মিসরীয় নাগরিক লিবিয়ায় জিম্মি আছেন বলে দাবি করা হয়েছিল।
মিসরের প্রধান ইসলামিক প্রতিষ্ঠান আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক তাত্ত্বিকরা এ ঘটনাকে বর্বরোচিত বলে আখ্যায়িত করেছেন। যুক্তরাজ্যের কপটিক চার্চের বিশপ অ্যাঞ্জেলোস বলেছেন, এ ঘটনায় মিসর সরকারের কিছু করার ছিল না। তিনি বলেন, শিরশ্ছেদের শিকার ব্যক্তিরা ব্রিটেনের নাগরিক হলে তাদেরও কিছু করার থাকত না। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, ফ্রান্স ও ইতালিও এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
সরকারি নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও প্রতি বছর কাজের খোঁজে হাজার হাজার মিসরীয় সীমান্ত পাড়ি দিয়ে লিবিয়ায় যান। এছাড়া মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ লিবিয়ায় বহু খ্রিস্টান বসবাস করেন। এর আগে এভাবে এত খ্রিস্টানকে হত্যার ঘটনা ঘটেনি।
 

শেষ পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close