¦
নিজের স্বার্থে মানুষ হত্যা করছেন বিএনপি নেত্রী

সংসদ রিপোর্টার | প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, শুধু নিজের স্বার্থেই বিএনপি নেত্রী হরতাল-অবরোধ দিয়ে মানুষ হত্যা করছেন। তবে দেশের মানুষ তার এ ব্যক্তিস্বার্থের আন্দোলনে নেই। তাই বিএনপি নেত্রীর প্রতি অনুরোধ, বন্ধ করুন এই হত্যাকাণ্ড, বন্ধ করুন এই সন্ত্রাস।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট হরতাল-অবরোধের নামে ৫২ দিন ধরে দেশে চরম নৈরাজ্য করছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে খেটে খাওয়া মানুষ। পেটের তাগিদে কাজে বের হয়ে এ পর্যন্ত ১০১ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার অধিকাংশই মারা গেছে আগুনে পুড়ে। পেট্রলবোমাসহ নানা নাশকতায় সহস্রাধিক ব্যক্তি মারাত্মক আহত হয়েছেন। এক হাজার ১৭৩টি যানবাহন আগুনে পুড়ে গেছে ও ভাংচুর করা হয়েছে। ছয় লঞ্চে আগুন দেয়া হয়েছে, ২৫ দফায় ট্রেনে নাশকতা করা হয়েছে। আর এসব ধ্বংসাত্মক কাজে এ পর্যন্ত ব্যবসা-বাণিজ্য, রফতানি ও অন্যান্যভাবে ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকারও বেশি আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী তার কার্যালয়ে হরতাল ও অবরোধে ক্ষতিগ্রস্ত বাস, ট্রাক ও অন্য যানবাহনের মালিকদের অর্থ সহায়তা দেন। প্রধানমন্ত্রী এদিন ১৫৬টি গাড়ির ১৪৬ মালিকের হাতে ৪ কোটি ২০ লাখ ৬৫ হাজার টাকার চেক বিতরণ করেন। গাড়ি প্রতি সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা দেয়া হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী জাতির এ সংকটকালে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর জন্য যানবাহন মালিকদের প্রতি আহ্বান জানান।
পরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জাতীয় ভূমি ব্যবহার কমিটির সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাসস্থান নির্মাণে জমি সাশ্রয়ের জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, কৃষিজমি বাসস্থান ও কলকারখানা গড়ে তুলতে ব্যবহার করা যাবে না। এ কাজে বনের ভূমিও ব্যবহার করা যাবে না। ভূমির সঠিক ও পরিকল্পিত ব্যবহার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। এজন্য আলাদা একটি কর্তৃপক্ষ গঠনের কথাও বলেন তিনি।
সংসদে প্রধানমন্ত্রী : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি ও জামায়াত পরস্পরের দোসর। আন্দোলনের নামে তাদের নাশকতার একটাই উদ্দেশ্য যুদ্ধাপরাধীদের রায় বাস্তবায়ন বন্ধ এবং খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক রহমানকে মামলার শাস্তি থেকে রক্ষা করা। শুধু নিজের স্বার্থেই বিএনপি নেত্রী হরতাল-অবরোধ দিয়ে মানুষ হত্যা করছেন। বিভিন্ন দুর্নীতির অর্থ আত্মসাৎবিষয়ক জোট নেতাদের মামলাগুলো থেকে বাঁচানোও এ হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য।
সংসদ নেতা বলেন, পৃথিবীর নিষ্ঠুরতম প্রক্রিয়া হচ্ছে আগুনে পুড়িয়ে মানুষ মারা। এভাবে ক্ষমতায় আরোহনের চেষ্টা কোনো রাজনৈতিক দলের মতাদর্শ হতে পারে না। অথচ ক্ষমতালিপ্সায় অন্ধ হয়ে তারা এমনকি নিষ্পাপ শিশুদেরও পুড়িয়ে হত্যা করছে। তাদের এ কার্যক্রম দেশের প্রচলিত আইনে মৃত্যুদণ্ড পাওয়ার উপযোগী অপরাধ। এগুলো বন্ধ না হলে সরকার সংশ্লিষ্ট সবার বিরুদ্ধেই বিধি মোতাবেক পদক্ষেপ নেবে।
শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি নেত্রী সম্প্রতি আন্দোলনের ৭ দফা দাবি দিয়েছেন। এর মধ্যে জনগণের কল্যাণ ও মঙ্গলের কোনো দাবি নেই। সব ব্যক্তিস্বার্থের।
২০২১ সালে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ : প্র্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী ২০২১ সালের মধ্যে প্রত্যেক ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়া সম্ভব হবে। ২০০৬ সালে দেশের ৪৩ ভাগ লোক বিদ্যুৎ সুবিধা ভোগ করত, যা বর্তমানে ৭০ ভাগে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, সরকার ২০০৯ থেকে এ পর্যন্ত ৬৭টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ৫ হাজার ২৫১ মেগাওয়াট এবং ভারত থেকে আমদানির মাধ্যমে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎসহ মোট ৫ হাজার ৭৫১ মেগাওয়াট ক্ষমতার নতুন বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করেছে। দেশের বর্তমান বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ১১ হাজার ২৬৫ মেগাওয়াট।
ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ি মালিকদের অর্থ প্রদান : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার ১৫৬টি গাড়ির ১৪৬ মালিকের হাতে ৪ কোটি ২০ লাখ ৬৫ হাজার টাকার চেক বিতরণ করেন। অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, চলমান হরতাল ও অবরোধে প্রায় ১ হাজার ৮শ’ যানবাহন পুড়ে গেছে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, এ পর্যন্ত ৮২৩টি গাড়ির মালিক আর্থিক সহযোগিতার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছেন। এর মধ্যে ২৮৭টি পুড়ে গেছে ও ৫৩৬টি গাড়ি ভাংচুর করা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, প্রথম দফায় ১৫৬টি গাড়ির ১৪৬ জন মালিককে তাদের যানবাহনের ক্ষতির জন্য প্রধানমন্ত্রী আর্থিক সহযোগিতা দেন। ক্ষতিগ্রস্ত অবশিষ্ট মালিকদের পরে একাধিক ধাপে আর্থিক সহায়তা দেয়া হবে। ওবায়দুল কাদের বলেন, হরতাল-অবরোধ চলাকালে নিহত ও আহত চালক এবং হেলপারদেরও প্রধানমন্ত্রী আর্থিক সহযোগিতা দেবেন। বর্তমান সংকটে জনগণের পাশে দাঁড়ানো এবং যাত্রী সেবা দেয়ার জন্য মন্ত্রী গাড়ি মালিকদের ধন্যবাদ জানান। তিনি গাড়ি মালিকদের আশ্বস্ত করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী গাড়ির মালিকদের দুঃসময়েও পাশে থাকবেন।
অনুষ্ঠানে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচটি ইমাম, ইকবাল সোবহান চৌধুরী, এলজিআরডি ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রহমান রাঙ্গা, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. আবুল কালাম আজাদ, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগম, প্রেস সচিব একেএম শামীম চৌধুরী এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি কে এনায়েত উল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।
বাসস্থান নির্মাণে জমি সাশ্রয়ী হোন- প্রধানমন্ত্রী : জাতীয় ভূমি ব্যবহার কমিটির সভায় গ্রামীণ অবকাঠামো বিশেষ করে পরিকল্পিত আবাসনের জন্য ‘ভিলেজ ইমপ্রভমেন্ট অ্যাক্ট’ নামে নতুন আইন, পরিকল্পিত নগরায়নের জন্য ‘টাউন ইমপ্র“ভমেন্ট অ্যাক্ট-১৯৫৩’ ও সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি-বিধান হালনাগাদ করে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভা শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব একেএম শামীম চৌধুরী সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা ও খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে হবে। এজন্য ভূমিকে সঠিক ও পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করতে হবে। এতে বিরাট জনগোষ্ঠীর উপকার হবে। চাষযোগ্য জমি রক্ষার নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উর্বর জমি নষ্ট করা যাবে না। দুই-তিন ফসলি জমিতে বাড়ি-ঘর, শিল্প কারখানা নির্মাণ করা যাবে না। শিল্প কারখানা হবে ইপিজেডে।
তিনি বলেন, রাস্তাগুলো এমন ভাবে করতে হবে যাতে চাষযোগ্য জমি, পরিবেশ ও জলাধার রক্ষা করা যায়। পরিকল্পিতভাবে সীমিত জমি ব্যবহার করে বাসস্থান নির্মাণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে বহুতল বাড়ি নির্মাণকে উৎসাহিত করেন প্রধানমন্ত্রী। যে কোনোভাবে বনকে রক্ষা করার তাগিদও দেন তিনি। তিনি আরও বলেন, বনের জমিতে শিল্প কারখানা করা যাবে না।
সভায় এছাড়াও সিদ্ধান্ত হয়েছে উদ্ধার জমি সরকার খাসজমি হিসেবে পুনঃগ্রহণ করবে। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া জমির প্রকৃতিগত পরিবর্তন আনা যাবে না। সিটি কর্পোরেশন অথবা পৌরসভাগুলো স্ব স্ব অধিক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন উদ্দেশে ব্যবহার্য জমির একটা জোনিং ম্যাপ করবে। সভায় রেলমন্ত্রী ও রেল সচিবকে জাতীয় ভূমি কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
 

শেষ পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close