¦
সন্দেহভাজন জাহাজটি এখনও কুতুবদিয়ায়

মাসুদ করিম | প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

উত্তর কোরিয়ার জাহাজ সন্দেহে এমভি ঝং ডি ১ চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করার ক্ষেত্রে সরকারের নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরও জাহাজটি বাংলাদেশের জলসীমা ছেড়ে যায়নি। বাংলাদেশ ত্যাগের আগে মালামাল খালাস করে যাওয়ার জন্য হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছে হাজী সেলিম এমপির মালিকানাধীন মদীনা ট্রেডিং। মামলার কারণে জাহাজটি বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের অদূরে কুতুবদিয়ায় অবস্থান করছে।
সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে এ নিয়ে বুধবার শুনানি হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবারও শুনানি চলবে। আগামী রোববার মামলার রায় হতে পারে। এদিকে, জাহাজটি যে কোম্পানির মালামাল বহন করছিল তার বাংলাদেশে স্থানীয় এজেন্ট মদীনা ট্রেডিং।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জাতিসংঘের গৃহীত প্রস্তাব ১৭১৮ মোতাবেক সরকার এই জাহাজটি বঙ্গপোসাগরে বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশের পর পরই তাকে চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর না করে জলসীমা ত্যাগের নির্দেশ দেয়। কিন্তু মদীনা ট্রেডিং সরকারের এই নির্দেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন জানায়। উত্তর কোরিয়ার ওশান মেরিটাইম ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের মালিকানাধীন জাহাজটি ৬ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করে। তার আগে বিশ্বের প্রভাবশালী চারটি দেশ বাংলাদেশকে এ ব্যাপারে সতর্ক করে। এই কোম্পানির জাহাজে ইতিপূর্বে চালের নিচে ক্ষেপণাস্ত্র পরিবহনের দায়ে জাতিসংঘ কোম্পানিটির জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। জাতিসংঘের এই প্রস্তাব মেনে চলা সব সদস্য রাষ্ট্রের জন্য বাধ্যতামূলক।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, সরকারের বহিষ্কারাদেশ পেয়ে জাহাজটি বাংলাদেশের সীমানা ছেড়ে চলে যাওয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করে। বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে এ সংক্রান্ত ছাড়পত্রও গ্রহণ করে। কিন্তু ওই সময় মদীনা ট্রেডিংয়ের মালিক হাজী সেলিম বিদেশে অবস্থান করছিলেন। তিনি জাহাজটিকে বাংলাদেশ ছেড়ে না যেতে বলেন। মদীনা ট্রেডিংয়ের পক্ষ থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে জাহাজটিকে সরকারের বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মামলা হয়।
জানতে চাইলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মেরিটাইম ইউনিটের সচিব অবসরপ্রাপ্ত রিয়ার এডমিরাল মো. খুরশেদ আলম বুধবার যুগান্তরকে বলেছেন, বাংলাদেশ জাতিসংঘের প্রতি গভীরভাবে অঙ্গীকারাবদ্ধ। জাতিসংঘের অধীনে সবচেয়ে বেশি শান্তিরক্ষী পাঠিয়ে থাকে বাংলাদেশ। এছাড়াও, আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে এই বিশ্ব সংস্থার সঙ্গে আমাদের জোরালো সমর্থন ও অংশগ্রহণ রয়েছে। এ কারণে জাতিসংঘের প্রস্তাব আমরা পালন করে থাকি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি নিয়ে ৬ ফেব্রুয়ারি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সমুদ্র পরিবহন অধিদফতর, দেশের সব নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থা এবং আইনসংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বৈঠকে বসে গোটা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে। ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, জাহাজটির পণ্য খালাস করতে দেয়া হলে জাতিসংঘের প্রস্তাবের লংঘন হবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কঠিন সমালোচনার মুখে পড়বে যা শান্তিরক্ষা কার্যক্রমসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সার্বিক পরিস্থিতি বুঝতে পেরে উত্তর কোরিয়ার জাহাজটি নিজেদের পতাকা পরিবর্তন করে পানামার পতাকা ধারণ করে। বিশ্বে এ ধরনের দুর্নীতির নজির অহরহ হচ্ছে। তবে কয়েকটি বিষয় জানার পর বাংলাদেশ নিশ্চিত হয় যে, জাহাজটি পরিচয় গোপন করলেও প্রকৃতপক্ষে উত্তর কোরিয়ার। কারণ জাহাজের সব ক্রুই উত্তর কোরিয়ার। বিদেশী জাহাজে সাধারণত সব ক্রু একই দেশের হয় না। অপরদিকে, উত্তর কোরিয়া বিভিন্ন ধরনের সন্দেহভাজন কাজে যুক্ত থাকে বিধায় তাদের জাহাজে বিদেশী ক্রু নিয়োগ দেয় না। তাছাড়া, জাহাজটির ধারণ ক্ষমতা ৩৭ হাজার টন হলেও এটি ৪৩ হাজার টন ক্লিংকার বহন করছিল। ক্লিংকারের নিচে কী আছে সেটি যাচাই করার কোনো সামর্থ্য বাংলাদেশের নেই। সার্বিক বিষয় বিবেচনা করেই সরকার উত্তর কোরিয়ার জাহাজ ভেড়ানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা বুধবার যুগান্তরকে জানান, হাইকোর্টে বিচারপতি হাসান আরিফের একক বেঞ্চে মামলাটির শুনানি চলছে। বুধবার শুনানি হয়েছে। বৃহস্পতিবারও (আজ) শুনানি হবে। রোববার নাগাদ এ মামলার রায় হওয়ার সম্ভাবনা আছে। তিনি আরও বলেন, জাহাজটি বর্তমানে কুতুবদিয়ায় থাকলেও এটিকে ডিপোর্ট করতে বলেছি। কারণ, যে কোম্পানির জাহাজ তা জাতিসংঘের মাধ্যমে নিষিদ্ধ। কিন্তু মদীনা ট্রেডিং জাহাজটিকে এরেস্ট করে মাল খালাস করতে চাইছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র আরও জানায়, সরকার পর্যালোচনা করে দেখেছে যে, এ ক্লিংকার দিয়ে ৫০ হাজার টন পর্যন্ত সিমেন্ট উৎপাদন হতে পারে। সেনা কল্যাণ সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট সূত্র যাচাই করে সরকার জেনেছে, দেশে এমন কোনো সিমেন্ট সংকট নেই যে, এই পরিমাণ সিমেন্ট না হলে সমস্যা হবে। বরং দেশে বিভিন্ন স্থানে বিপুল পরিমাণ সিমেন্ট মজুদ আছে। জানতে চাইলে মদীনা ট্রেডিংয়ের আইনজীবী ব্যারিস্টার তানজীব-উল-আলম বুধবার রাতে যুগান্তরকে বলেন, সরকার পক্ষ বলেছে, বিশ্বের কয়েকটি প্রভাবশালী দেশ অনুরোধ করে বলেছে, এটি উত্তর কোরিয়ার জাহাজ। তাই এই জাহাজকে যেন বাংলাদেশে ঢুকতে দেয়া না হয়। কিন্তু আমরা বলছি, এটি মূলত সিঙ্গাপুরের জাহাজ। এই জাহাজের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার কোনো সম্পর্ক নেই। তারপরও সরকার যদি এই জাহাজকে থাকতে না দেয় তবে যেন মালগুলো খালাসের অনুমতি দেয়। এ লক্ষ্যে মদীনা ট্রেডিং জাহাজটিকে এরেস্ট করেছে। এই এরেস্ট করার অর্থ হল, মামলার রায় না হওয়া পর্যন্ত জাহাজ বাংলাদেশের জলসীমা ছেড়ে যেতে পারবে না।
শেষ পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close