¦
সেনা সদস্যদের কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ

যুগান্তর রিপোর্ট | প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

নিহত সেনা কর্মকর্র্তাদের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর মধ্য দিয়ে বুধবার পালন করা হয়েছে পিলখানা হত্যাযজ্ঞের ষষ্ঠবার্ষিকী। রাজধানীর বনানীতে সামরিক কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত শহীদদের সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তাদের স্বজন, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে সামরিক সচিব, তিন বাহিনীর প্রধান ও বিজিবির মহাপরিচালক। শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সকাল থেকে সামরিক কবরস্থানে স্বজনদের ভিড় বাড়তে থাকে। একে একে আসতে থাকেন সবাই। শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে সবাই স্মরণ করেন পিলখানা হত্যাযজ্ঞে প্রাণ হারানো সেনা কর্মকর্তাদের। ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি সেই সময় বিডিআর সদর দফতর পিলখানায় বিদ্রোহী বিডিআর সদস্যদের নারকীয় তাণ্ডবে প্রাণ হারান ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন। এ ঘটনার ছয় বছর পার হল। নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের স্মৃতি আজও মানুষকে কাঁদায়।
বর্বরোচিত এ হত্যাকাণ্ডের ষষ্ঠ বার্ষিকী উপলক্ষে বনানীর সামরিক কবরস্থানে শহীদদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শাহাদত বরণকারীদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতির পক্ষে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মো, জয়নুল আবেদীন, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মো. মোজাম্মেল হক খান, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ইকবাল করিম ভূঁইয়া, নৌবাহিনী প্রধান ভাইস এডমিরাল এম ফরিদ হাবিব ও বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার মার্শাল মোহাম্মদ ইনামুল বারী (যৌথভাবে), স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমদ (যৌথভাবে)।
এরপর শ্রদ্ধা জানান জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। এরশাদের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর নিহতদের স্বজন ও অন্যরা শ্রদ্ধা জানান। শ্রদ্ধা নিবেদনের পর শহীদদের সম্মানে এক মিনিট দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করা হয় এবং তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
দিনের কর্মসূচি অনুযায়ী শহীদদের রুহের মাগফিরাতের উদ্দেশ্যে পিলখানাসহ বিজিবির সব সেক্টর, প্রতিষ্ঠান ও ইউনিটের ব্যবস্থাপনায় বাদ ফজর খতমে কোরআন এবং বিজিবির সব মসজিদে এবং বিওপি পর্যায়ে শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে শহীদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এ সময় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা স্যালুট প্রদান করেন। পরে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়।
এছাড়া সব সেনানিবাসের কেন্দ্রীয় মসজিদে কোরআন খতম ব্যবস্থা এবং শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মিলাদ মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাতের আয়োজন করা হয়। ওই মাহফিলে সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পদবির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বনানী কবরস্থানে ফুল দিতে এসে নিহত সেনা কর্মকর্তাদের স্বজনরা সাংবাদিকদের বলেন, অপরাধীদের শাস্তি যেন নিশ্চিত হয়। তাহলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশে কেউ এ ধরনের অপরাধে জড়াতে সাহস পাবে না। শ্রদ্ধা জানানো শেষে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে রায় কার্যকর হবে বলে আশা করি। তিনি বলেন, মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য উচ্চ আদালতে একটি বিশেষ বেঞ্চ গঠন করা হয়েছে। আর বিদ্রোহের সঙ্গে জড়িত সবকটি ব্যাটালিয়নকে বিলুপ্ত করা হয়েছে। বাহিনীর নাম পরিবর্তনের পাশাপাশি পরিবর্তন আইনেও এসেছে। বিজিবি প্রধান আশা প্রকাশ করে বলেন, এ ধরনের ঘটনা আর কখনোই ঘটবে না বলেও মনে করি।
এদিকে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় পিলখানা হত্যাকাণ্ডে শাহাদাত বরণকারী তৎকালীন বিডিআরের কেন্দ্রীয় সুবেদার মেজর মো. নুরুল ইসলামের পরিবারকে চার লাখ ৮০ হাজার টাকার বার্ষিক অনুদানের চেক হস্তান্তর করার কথা রয়েছে বিজিবি মহাপরিচালকের। বিকাল সাড়ে ৪টায় পিলখানার বীর উত্তম ফজলুর রহমান খন্দকার মিলনায়তনে (সাবেক দরবার হল) শহীদ ব্যক্তিবর্গের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।
সামরিক কবরস্থানে শায়িত ছেলে মেজর মিজানুর রহমানের কবরে ফুল দিতে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন তার মা কোহিনুর রহমান। কোহিনুর রহমান বলেন, অনেক বড় আশা নিয়ে ছেলেকে সেনাবাহিনীতে দিয়েছিলেন। কিন্তু তার স্বপ্ন এভাবে ভেঙে যাবে ভাবতেও পারেননি। তিনি বলেন, ঘটনার দিন সকাল পৌনে ৮টায় বাসা থেকে বের হন মিজান। আর এর কিছুক্ষণ পর তিনি জানতে পান পিলখানায় গোলাগুলি হচ্ছে। বলেন, সেই সকাল ছিল শেষ সকাল। ছেলের সঙ্গে আর কোনো কথা হয়নি তার।
শ্রদ্ধা জ্ঞাপন বিএনপির পক্ষে : বেলা ১১টার দিকে বনানীর সামরিক কবরস্থানে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেন, বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় চলমান বিচার প্রক্রিয়া দেশের সাধারণ মানুষের সামনে প্রকাশ করা হোক। তিনি বলেন, পিলখানা হত্যাযঞ্জে সেনা কর্মকর্তাসহ অসংখ্য সৈনিক নিহত হওয়ায় দেশের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। চলমান বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতারও দাবি করে তিনি বলেন, যাতে করে কোনো নিরপরাধ মানুষ সাজা না পায় এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
 

শেষ পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close