¦
দারুল ইহসানের ৯১টি ক্যাম্পাস বন্ধ হচ্ছে

উবায়দুল্লাহ বাদল | প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী অনুমোদিত ক্যাম্পাসের বাইরে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন বা পরিচালনা করার কোনো সুযোগ নেই। অথচ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় দারুল ইহসান সারা দেশে ৯১টি অবৈধ ক্যাম্পাস খুলে শিক্ষার নামে সনদ বাণিজ্য করছে। অনুমোদনহীন এসব ক্যাম্পাসে নেই প্রয়োজনীয়সংখ্যক শিক্ষক। অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা তো দূরের কথা, নিয়মিত পাঠদান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো উপযুক্ত পরিবেশও নেই। উচ্চতর শিক্ষার পরিবর্তে প্রদান করা হচ্ছে অবৈধ সার্টিফিকেট। চলছে বেআইনি ও মানহীন শিক্ষা কার্যক্রম। ফলে দেশের অসংখ্য নিরীহ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। ক্ষুণ্ন হচ্ছে সরকারের ভাবমূর্তি। খোদ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনেই ওঠে এসেছে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ বাণিজ্যের এমন চিত্র।
সারা দেশের ৩৬টি জেলায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯১টি অবৈধ ক্যাম্পাস দ্রুত বন্ধ করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। চিঠির সঙ্গে অবৈধ ক্যাম্পাস ও পরিচালনাকারীর নাম-ঠিকানাও পাঠানো হয়েছে। ইতিমধ্যে এসব অবৈধ ক্যাম্পাস উচ্ছেদ করতে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।
সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে- দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি গ্রুপ নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের মামলা-মোকাদ্দমায় জড়িত হয়ে সারা দেশে অননুমোদিতভাবে আউটার ক্যাম্পাস পরিচালনা করছে। এসব ক্যাম্পাস বন্ধ করার ক্ষেত্রে হাইকোর্টের কোনো নিষেধাজ্ঞা বা আইনগত কোনো বাধা নেই। তবে ২৯টি আউটার ক্যাম্পাস পরিচালনার ক্ষেত্রে মরহুম প্রফেসর সৈয়দ আলী নকী কর্তৃক দায়েরকৃত রিট নং-৩১৮৯/০৮ মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আদালতের দেয়া স্থগিতাদেশ বহাল রয়েছে।
দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ গ্রুপের অবৈধ ক্যাম্পাসের বিবরণ দিয়ে চিঠিতে বলা হয়- এই ২৯টি আউটার ক্যাম্পাস ছাড়া ধানমণ্ডি গ্রুপের ৩২টি অননুমোদিত ক্যাম্পাস, আবুল হোসেন গ্রুপের ৩৮টি ক্যাম্পাস এবং আকবর উদ্দিন গ্র“পের ৩৬টি ক্যাম্পাস বন্ধ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। হাইকোর্টের মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিতাদেশপ্রাপ্ত ২৯টি আউটার ক্যাম্পাসের রিট মামলাটি প্রত্যাহার করে ক্যাম্পাসগুলোর কার্যক্রম গুটানো হবে বলে ২৯টি ক্যাম্পাসের পরিচালক মাহমুদ আহমেদের পক্ষ থেকে লিখিত আগ্রহ ব্যক্ত করা হয়েছে।
অবৈধ ক্যাম্পাসগুলো দ্রুত বন্ধ করতে চিঠিতে আরও বলা হয়- এমতাবস্থায়, স্থগিতাদেশ/নিষেধাজ্ঞাবহির্ভূত দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৬টি জেলাধীন ৯১টি অননুমোদিত ক্যাম্পাস দ্রুত বন্ধ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হল।
বন্ধ হচ্ছে যেসব ক্যাম্পাস : শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চিঠি পাওয়ার পর দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯১টি অবৈধ ক্যাম্পাস উচ্ছেদ করতে আইনশৃংখলা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়ে পুলিশ সদর দফতরে চিঠি দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এসব শাখার মধ্যে ঢাকার ২৭টি, রাজশাহীর ৪টি, রংপুরের ৩টি, দিনাজপুরের ২টি, নীলফামারীর ৩টি, লালমনিরহাটের ১টি, পঞ্চগড়ের ৩টি, কুড়িগ্রামের ৪টি, গাইবান্ধার ২টি, জয়পুরহাটের ২টি, পাবনার ১টি, নওগাঁর ১টি, বগুড়ার ৩টি, চুয়াডাঙ্গার ১টি, যশোরের ১টি, খুলনার ৫টি, বাগেরহাটে ১টি, সাতক্ষীরায় ৪টি, ঝিনাইদহ ১টি, মাগুরায় ১টি, বরিশালে ১টি, গোপালগঞ্জে ২টি, রাজবাড়িতে ১টি, ফরিদপুরে ১টি, মুন্সিগঞ্জে ১টি, মানিকগঞ্জে ১টি, নারায়ণগঞ্জে ১টি, গাজীপুরে ৩টি, ময়মনসিংহে ২টি, জামালপুরে ২টি, টাঙ্গাইল ১টি, চট্টগ্রামে ২টি, কক্সবাজারে ১টি, চাঁদপুরে ১টি এবং কুমিল্লায় ১টি অবৈধ ক্যাম্পাস রয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ১৯৯৩ সালের ২৯ আগস্ট প্রতিষ্ঠিত দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্ক ছিল। মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্বে ইউনিভার্সিটি চার ভাগ হয়েছে। সারা দেশে খোলা হয়েছে অনুমোদনহীন ১২০টিরও বেশি শাখা। টাকা দিলেই মেলে সনদ, এমন অভিযোগ প্রমাণও হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের তদন্তে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে মঞ্জুরি কমিশন। এর বিরুদ্ধে মালিকপক্ষ মামলা দেয়ার পর মঞ্জুরি কমিশনের সিদ্ধান্ত স্থগিত হয়ে যায়। এই সুযোগে ছাত্র ভর্তি করে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।
২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বেসরকারি ১২টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪৮টি ক্যাম্পাসে ভর্তিতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সতর্ক করেছিল বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। তারমধ্যে শীর্ষে ছিল দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়। যেসব ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেয়া হয়েছে তাদের ঠিকানাও প্রকাশ করেছিল ইউজিসি। এরও আগে ২০১৩ সালের এপ্রিল মাসে মালিকানা সংকট, অনিয়ম, দুর্নীতি ও আউটার ক্যাম্পাসের মাধ্যমে সনদ বাণিজ্যের অভিযোগে অভিযুক্ত দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাপারে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি তথা চ্যান্সেলরকে সিদ্ধান্ত নেয়ার অনুরোধ করেছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি। সংসদীয় কমিটির সভাপতি রাশেদ খান মেনন ওই সময় গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, যারা এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করে এখন চাকরি করছে তাদেরকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সনদ নেয়ার সুযোগ দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকানা সংকট, অনিয়ম, দুর্নীতি ও আউটার ক্যাম্পাসের মাধ্যমে সনদ বাণিজ্য বন্ধসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে ২০১০ সালের অক্টোবরে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি কাজী এবাদুল হককে প্রধান করে এক সদস্যবিশিষ্ট বিচার বিভাগীয় কমিটি গঠন করা হয়। ২০১২ সালের মার্চ মাসে বিচার বিভাগীয় কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা হয়, যাতে বিশ্ববিদ্যালয়টি বন্ধের সুপারিশ করা হয়।
শেষ পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close