¦
মেয়র পদে উত্তরে ৫ দক্ষিণে ৯ প্রার্থী

আবদুল্লাহ আল মামুন | প্রকাশ : ০৩ মার্চ ২০১৫

ডিসিসির নির্বাচনে মেয়র এবং ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে প্রার্থী দেয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে বিভিন্ন দল। আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি নিজের প্রার্থী দেবে। বিএনপি সরাসরি না দিলে দলটির বর্তমান ও সাবেক হাইপ্রোফাইল নেতা এ নির্বাচনে আসতে পারেন। উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীর তালিকা ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে। এখন পর্যন্ত উত্তরে পাঁচ এবং দক্ষিণে ৯-এ দাঁড়িয়েছে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীর সংখ্যা। ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে প্রার্থীর সংখ্যা ধারণার চেয়ে অনেক বেশি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ যুগান্তরকে বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হয়। দলীয়ভাবে এ নির্বাচন করার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, তার দল তাদের পছন্দের প্রার্থীকে সমর্থন দেবে।
আইন অনুযায়ী দলীয়ভাবে স্থানীয় সরকার পর্যায়ের কোনো নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ নেই। ঢাকা সিটি কর্পোরেশনও স্থানীয় সরকারের একটি ধাপ। কাজেই কাগজপত্রে কেউ ডিসিসিতে দলীয়ভাবে অংশ নিতে পারবে না। এ সুযোগ কাজে লাগাতে চায় বিএনপির সাবেক ও বর্তমান দুই হাইপ্রোফাইল নেতা। তারা নিজেরা প্রার্থী হয়ে বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করবেন বলে জানা গেছে। বিএনপি সরকারবিরোধী আন্দোলনের কারণে ডিসিসির নির্বাচনে প্রকাশ্যে নিজেদের প্রার্থী দিতে পারবে না। তবে গোপনে কাউকে সমর্থন দিতে সমস্যা নেই। এ দুই নেতা সেই গোপন সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করতে পারেন বলেও অনেকেই মনে করছেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে এ মুহূর্তে তারা ভাবছে না। এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দলের অবস্থান স্পষ্ট করার মতো পরিবেশও নেই। ইচ্ছা করলেই তো স্থায়ী কমিটি বা জোটের বৈঠক ডাকা সম্ভব হচ্ছে না। তাই অনানুষ্ঠানিকভাবে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে যাওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত এখন পর্যন্ত হয়নি।
তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশন স্থানীয় সরকারের অধীনে একটি নির্বাচন। এ নির্বাচন জাতির কাছে মুখ্য নয়। এ মুহূর্তে জাতীয় নির্বাচনই সবার কাছে মুখ্য।
বিএনপির এই নীতিনির্ধারক বলেন, এ মুহূর্তে সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের উদ্যোগ নেয়াকে কেউ ভালোভাবে নিচ্ছে না। বিরোধী দলের আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার একটা কৌশল বলেও অনেকে মনে করছেন। তাই সরকারকে এ কৌশল থেকে সরে আসতে হবে। দেশের চলমান সংঘাত, সহিংসতা, অস্থিরতা নিরসনে উদ্যোগ নিতে হবে।
তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে একটি অর্থবহ আলোচনা প্রয়োজন। সরকারকে এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেয়া উচিত। তারা উদ্যোগ নিলেই হরতাল-অবরোধ প্রত্যাহারের সম্ভাবনা তৈরি হবে। তাছাড়া ক্ষমতাসীনরাও ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে বলেছিল, এটা নিয়ম রক্ষার নির্বাচন। নির্বাচন তো হয়ে গেছে, তাহলে এখন কেন তারা তাদের অবস্থান থেকে সরে আসছে।
জানা গেছে, ডিসিসি নির্বাচন কেন্দ্র করে ঢাকায় বড় ধরনের নির্বাচনী আবহ তৈরির সম্ভাবনা আছে বলে মনে করছে সরকার। তাদের মতে, এ আবহ শুধু রাজধানীর মানুষের মধ্যেই নয়, তা ছড়িয়ে পড়বে সারা দেশে। মেয়র ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা সৃষ্টি হলে মানুষ রাস্তায় নেমে আসবে। নির্বাচনী মিছিল মিটিংয়ে মুখর হবে ঢাকা মহানগরী। নির্বাচনী প্রচারের জোয়ারে বিএনপির অবরোধ-হরতালের কর্মসূচি হারিয়ে যাবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট দলের নেতাকর্মীরা।
ঢাকার দুই সিটির মেয়র পদে আওয়ামী লীগ তাদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে। জাতীয় পার্টির দুই নেতাও মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বিএনপি সরাসরি প্রার্থী না দিলেও এক সময় বড় এ দলটিতে সক্রিয় ছিলেন এমন হাইপ্রোফাইল নেতাও নির্বাচনে আসছেন। আলোচনায় আছে বিএনপিতে বর্তমানে সক্রিয় এক নেতার নামও। জাতীয় সংসদের এক স্বতন্ত্র সদস্য বর্তমান পদ ছেড়ে মেয়র পদে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সরকারি দলের সাবেক এক সংসদ সদস্যও একই পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য মাঠে নামতে যাচ্ছেন। ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা যুগান্তরকে জানিয়েছেন, তারা দলীয়ভাবে নির্বাচনে অংশ নেবেন। জাসদ ডিসিসির দুই অংশে তাদের সম্ভাব্য প্রার্থী চূড়ান্ত করার জন্য আলাপ-আলোচনা শুরু করেছে। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবি এবং জাতীয় পার্টি-জেপিও আসন্ন ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রার্থী দেয়ার চিন্তাভাবনা করছে। এক আইনজীবীও মেয়র পদে নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য অনেক আগে থেকে তৈরি হয়ে আছেন। ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে দলীয় এবং স্থানীয়ভাবে প্রার্থী দেয়া হবে। ফলে ডিসিসির ওয়ার্ড পর্যায়ের নির্বাচনে আরও বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন। স্থানীয় সরকার পর্যায়ের এ নির্বাচন দলীয়ভাবে করার সুযোগ না থাকায় সব দলই তাদের পছন্দের প্রার্থীদের সমর্থন দেবেন বলে দলগুলোর নেতাদের সূত্রে জানা গেছে।
ঢাকা উত্তরে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, নাগরিক ঐক্য, জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি একজন করে মেয়র প্রার্থী দেয়ার পরিকল্পনা করছে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ ব্যবসায়ী নেতা আনিসুল হকের নাম ঘোষণা করেছে। বাকিরা কেউ এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে নাম ঘোষণা করেনি। তবে সম্ভাব্য প্রার্থীরা দলের সমর্থন আদায়ের জন্য নানাভাবে চেষ্টা চালাচ্ছেন। বিএনপির এক সময়ের হাইপ্রোফাইল নেতাও ডিসিসির এপ্রান্তে মেয়র প্রার্থী হতে পারেন। এছাড়া দক্ষিণে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ, সিপিবি, লেবার পার্টি থেকে একজন করে মেয়র প্রার্থী দিতে যাচ্ছে। ডিসিসির এপ্রান্তে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য, সাবেক এক সংসদ সদস্য, এক আইনজীবী এবং বিএনপির সক্রিয় এক নেতার নামও সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে শোনা যাচ্ছে। ডিসিসির দক্ষিণ অংশে মেয়র পদে ঢাকার প্রথম নির্বাচিত মেয়র মোহাম্মদ হানিফের ছেলে এবং মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাঈদ খোকনের নাম ঘোষণা করেছে আওয়ামী লীগ।
রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ নির্দলীয় ঢাকা সিটি কর্পোরেশন (ডিসিসি) নির্বাচনে সবাইকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সবাই না এলেও আমাদের নির্বাচন হবে। আমরা চাই সবার অংশগ্রহণে একটি সুন্দর নির্বাচন হোক। আমরা সবাইকে (রাজনৈতিক দলগুলো) নির্বাচনে নিয়ে আসার চেষ্টা করব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন সিইসি।
ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগের উত্তর ও দক্ষিণের প্রার্থী সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্মতি পেয়ে মাঠে নেমেছেন। দুই প্রার্থী নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছেন। দক্ষিণে সাঈদ খোকনের সমর্থকরা চার দিন ধরে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে মিছিল করছে। সাঈদ খোকন পুরান ঢাকার নাজিরাবাজারে তাদের পৈতৃক বাড়িতে সকাল থেকে গভীর রাত অবধি দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী, সমর্থক এবং ওই এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলছেন। তিনি বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করছেন। তিনি শনিবার ইস্কাটনে একটি স্কুলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও যোগ দেন।
এ অংশে দলীয় সমর্থন না পেয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাজী মোহাম্মদ সেলিম। স্বতন্ত্র এই সংসদ সদস্যের মেয়র পদে স্বতন্ত্র নির্বাচনের ঘোষণায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হল দখলের ঘটনায় কিছুদিন আগেও আলোচনায় ছিলেন পুরান ঢাকার এই সংসদ সদস্য। ওই সময় ছাত্রলীগের সঙ্গেও বিরোধ তৈরি হয় হাজী সেলিমের। বিত্তবান আওয়ামী লীগ নেতা হাজী মোহাম্মদ সেলিম নির্বাচনের মাঠে এলে দক্ষিণে ডিসিসি নির্বাচন উৎসবমুখর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আনিসুল হকের আগেই ঢাকা সিটি কর্পোরেশন-উত্তরে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি বর্তমানে পুলিশ রিমান্ডে রয়েছেন। তার ঘনিষ্ঠরা জানিয়েছেন, জেলে থেকেও নির্বাচন করতে পারেন আওয়ামী লীগের সাবেক এই নেতা। সে ক্ষেত্রে এ অংশে নির্বাচন তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অন্যদিকে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র যুগান্তরকে জানিয়েছে, এক সময় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এক ‘হাইপ্রোফাইল’ ব্যক্তি ডিসিসি উত্তরে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন। এই ব্যক্তির প্রতি গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন মহলের সমর্থন রয়েছে। সহসাই তিনি ঘোষণা দিয়ে নির্বাচনে মাঠে হাজির হবেন বলে ওই সূত্রটি দাবি করেছে।
মেয়র পদ ছাড়াও ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে অধিক প্রার্থীর সমাহার ঘটিয়ে নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। কিছু কিছু এলাকায় বিএনপির প্রার্থীদের নির্বিঘ্ন চলাফেরার ব্যবস্থা করে তাদের মাঠে রাখার কথাও ভাবছেন সরকারের সংশ্লিষ্টরা। এ নিয়ে আরও কী করা যায়- সেটাও ভেবে দেখা হচ্ছে।
জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ রোববার যুগান্তরকে বলেন, ডিসিসি নির্বাচন আয়োজন করাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ স্থানীয় সরকারে ‘অথরিটি ডেলিগেট’ করতে হলে নির্বাচন করতে হবে। এর মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো আরও শক্তিশালী হবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এ নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে।
 

শেষ পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close