¦
১২ কিমি. নির্মাণে ৬ বছর পার

মামুন আব্দুল্লাহ | প্রকাশ : ০৩ মার্চ ২০১৫

চট্টগ্রাম থেকে রাঙ্গামাটি জাতীয় মহাসড়কের চট্টগ্রাম অক্সিজেন মোড় অংশে সাড়ে ১২ কিলোমিটার রাস্তা ৪ লেনে উন্নীতকরণে উদ্যোগ নেয়া হয় ২০০৯ সালে। ইতিমধ্যে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। ব্যয় হয়েছে ৪৩ কোটি টাকা। কিন্তু কাজের কাজ খুব একটা হয়নি। মূল কাজের ৬৭ শতাংশই বাকি। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের কাজের গতি বাড়াতে একাধিকবার প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন। কিন্তু তাতে কাজ হয়েছে মাত্র ৩৩ শতাংশ। এখন নতুন করে এ প্রকল্পের ব্যয় বাড়ানো হচ্ছে প্রায় শত কোটি টাকা। মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে ২০১৭ সাল পর্যন্ত।
সূত্র জানায়, প্রকল্পটি প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী প্রতিশ্রুত। এজন্য প্রকল্প তৈরিতে করা হয়েছে তড়িঘড়ি। যথাযথভাবে করা হয়নি সম্ভাব্যতা যাচাই। ফলে যেনতনভাবে অনুমোদন হওয়া এ প্রকল্প নিয়ে শুধু জটিলতায়ই বেড়েছে। কাজের অগ্রগতি খুব একটা হয়নি।
এ প্রসঙ্গে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) আরিফুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, যথাযথ সম্ভাব্যতা যাচাই ছাড়া কিভাবে এ প্রকল্পের ডিপিপি তৈরি করা হয়েছে তা তিনি জানেন না। তিনি বলেন, এ প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণে যে পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন তা বরাদ্দ ছিল না। এ রাস্তাটিতে মোট ৬টি বাজার রয়েছে। ৪ লেনে উন্নীত করতে জমি ও ক্ষতিপূরণ মিলিয়ে প্রায় ৯৪ কোটি টাকা লাগবে। প্রকল্প অনুমোদনের সময় কেন এগুলো বিবেচনায় আনা হয়নি সেটি জানা নেই। বর্তমানে ৬টি বাজারে জমি অধিগ্রহণের কাজ বাকি আছে। কিন্তু অন্য স্থানে কিছু কাজ হয়েছে। তিনি আরও বলেন, অনেক কন্ট্রাক্টর (ঠিকাদার) কাজে অপারগতা প্রকাশ করেছে। ফলে নতুন বরাদ্দ না পেলে কাজের অগ্রগতি বাড়ানো সম্ভব হবে না।
২০০৯ সালে ১২৯ কোটি ৫১ লাখ টাকা ব্যয় ধরে এ প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়। ২০১৩ সালের ডিসেম্বর নাগাদ এর কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। প্রাথমিকভাবে ১৩.৪৭ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ করে চার লেন ছাড়াও স্লো-মোভিং গাড়ির জন্য দুটি ডিভাইজ করার পরিকল্পনা নেয়া হয়। এই পরিমাণ জমি নির্ধারণে ওই সময় মাত্র ৩১ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় এই জমি অধিগ্রহণে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার প্রয়োজন। অবশেষে প্রকল্প বাস্তবায়ন সংস্থা আইএমইডির সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে জমি অধিগ্রহণের পরিমাণ কমিয়ে আনা হয়। পরবর্তীতে ডিপিপি সংশোধন করে জমি অধিগ্রহণের পরিমাণ কমিয়ে ১.৩ হেক্টর জমি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত হয় এবং স্লো- মোভিং যানবাহনের জন্য আলাদা লেন করার পরিকল্পনা থেকে সরে আসে সরকার।
কিন্তু এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পেরিয়ে গেছে দীর্ঘ সময়। ফলে বেড়েছে জমির দাম। এজন্য নতুন করে আরও ৯৬ কোটি ৪৭ লাখ টাকা বরাদ্দ বাড়ানো হচ্ছে। ফলে ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২২৬ কোটি টাকায়। আজ মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভায় প্রকল্পের ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব উপস্থাপন করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভায় সভাপতিত্ব করবেন।
যুগান্তরের চট্টগ্রাম প্রতিনিধি জানান, এই প্রকল্পের ইলেকট্রিক পোল সরানো, বাজারগুলোর জমি অধিগ্রহণ ও সেতু কালভার্ট নির্মাণ সংক্রান্ত বহু কাজ বাকি রয়েছে। এ অবস্থায় বর্ধিত মেয়াদে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কেননা জমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসন একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া, যা এখনও শেষ করা হয়নি। এর আগে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এ প্রকল্পের অগ্রগতি বাড়াতে একাধিকবার এলাকা সফর করেছেন। তাতেও কাজ হয়নি।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য ড. আরাস্তু খান বলেন, চট্টগ্রামে সহজে প্রবেশের জন্য রাস্তাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ডিপিপি অনুসারে এই কাজ করা অনেক ব্যয়বহুল ছিল। ফলে প্রকল্পটির ব্যয় বাড়িয়ে নতুন সংশোধনী আনা হচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে বর্ধিত সময়ে এটির কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।
প্রকল্পের মূল কাজের মধ্যে রয়েছে- ১.৩৬ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ, ৩ হাজার ৪৩ বর্গমিটার সেমি পাকা অবকাঠামো অপসারণ, ২ হাজার ৮৮ বর্গমিটার স্থায়ী অবকাঠামো অপসারণ, ৯৪ হাজার ঘনমিটার সড়কবাঁধ প্রশস্তকরণ ও মাটির ভরাটকরণ, ১৮.৩০ মিটার আরসিসি সেতু নির্মাণ, ১৪৫ মিটার বক্স কালভার্ট নির্মাণ ও রাস্তার দুপাশে আড়াই হাজার মিটার ড্রেন নির্মাণ।
শেষ পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close