¦
বেঁচে যাচ্ছে নূর হোসেন!

রাজু আহমেদ, নারায়ণগঞ্জ থেকে | প্রকাশ : ০৩ মার্চ ২০১৫

নৃশংস সাত খুনের নির্দেশদাতা আর নেপথ্যের খলনায়ক কে? এমন প্রশ্নের উত্তরে যে কেউই বলবেন গডফাদার নূর হোসেন। কিন্তু নূর হোসেন আদৌ কী এ মামলায় বিচারের সম্মুখীন হবেন কিংবা সাজা হবে তার? মামলার তদন্ত ঘিরে এখন এ প্রশ্নই উঠেছে। আশংকা করা হচ্ছে, নরসিংদীর সাবেক পৌর মেয়র লোকমান হত্যা মামলার ভাগ্যই বরণ করতে যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জের ৭ খুন মামলা। ওই মামলায় প্রধান অভিযুক্তরা খালাস পেয়েছিলেন।
যুগান্তরের অনুসন্ধানে বের হয়ে এসেছে এ শংকার কথা। জানা গেছে, ভারতের কারাগারে আটক নূর হোসেনকে খুনি হিসেবে অভিযুক্ত করার মতো তথ্যপ্রমাণ এখনও হাতে আসেনি তদন্তকারী সংস্থার। র‌্যাবের আÍস্বীকৃত কর্মকর্তাদের জবানবন্দির ভিত্তিতেও তদন্তকারীদের প্রমাণ করা কষ্টসাধ্য হবে যে, হত্যাকাণ্ড ঘটাতে নূর হোসেন প্রভাবিত করেছিলেন বা খুনের নির্দেশ দিয়েছিলেন। এ জন্যই নূর হোসেনকে দেশে ফিরিয়ে এনে মামলার অভিযোগপত্র দিতে চাচ্ছে তদন্তকারী সংস্থা।
গুঞ্জন রয়েছে, শত কোটি টাকার মালিক নূর হোসেনের শেল্টারদাতা সরকারের দুই প্রভাবশালী ব্যক্তির পরোক্ষ মদদেই নূর হোসেনকে বাঁচানোর পরিকল্পনা চলছে শুরু থেকেই। এ জন্য খরচ করা হয়েছে কয়েক কোটি টাকা। তবে উচ্চ আদালতে দাখিল করা র‌্যাবের নিজস্ব তদন্ত প্রতিবেদনে এ নৃশংস ঘটনার সঙ্গে নূর হোসেনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
তদন্ত ও আদালত সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, সাত খুনের ঘটনায় গ্রেফতার র‌্যাবের তিন চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা আদালতে ১৬৪ ধারায় যে জবানবন্দি দিয়েছিলেন সেখানে নূর হোসেনের নামই ছিল না। ওই সূত্র দাবি করেছে, র‌্যাবের সাবেক সিও লে. কর্নেল তারেক সাইদ মোহাম্মদ, মেজর (অব.) আরিফ হোসেন ও লে. কমান্ডার (অব.) মাসুদ রানা আদালতে স্বীকারোক্তিতে হত্যাকাণ্ডের সবকিছুই বয়ান করেছেন। কিন্তু তাদের কেউই বলেননি যে, প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামকে খুন করতে নূর হোসেন নির্দেশ দিয়েছিলেন বা এ জন্য তারা টাকা নিয়েছেন।
শোনা গেছে, জনপ্রশাসনের তদন্ত কমিটির কাছে তারেক সাঈদ বলেছেন, অপহরণের এক মাস আগে র‌্যাব সদর দফতর থেকে নজরুলকে গ্রেফতারের সিদ্ধান্ত হয়। সে অনুসারে নজরুল ও তার সঙ্গীরা আদালত থেকে ফেরার পথে তাকে গ্রেফতারের জন্য মেজর আরিফ ও রানা ফোর্সসহ প্রস্তুতি নেয়। যদিও র‌্যাবের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুরো বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে তারেক সাঈদ গোপন রাখায় সদর দফতর বিভ্রান্ত হয় এবং অপহৃতদের জীবিত উদ্ধারে ব্যর্থ হয়। এ ছাড়া র‌্যাব সদর দফতর থেকে কাউকে গ্রেফতারের কোনো নির্দেশনা ছিল না।
সাতজনের লাশ নদীতে ডোবানোর আগে নেয়া হয় কাঁচপুর ব্রিজ এলাকার ল্যান্ডিং স্টেশনের সামনে। নূর হোসেনের বডিগার্ড মোর্তজা চার্চিলসহ কয়েকজন সেখানে পাহারায় ছিলেন। আদালতে চার্চিলের দেয়া জবানবন্দি অনুযায়ী, নূর হোসেনের নির্দেশে র‌্যাবকে সাহায্য করতেই তারা সেখানে গিয়েছিলেন। তারা বস্তা দেখলেও লাশ নামাতে দেখেননি। পরে টিভিতে সংবাদ দেখে ঘটনা বুঝতে পেরে পালিয়ে যান। অভিজ্ঞ আইজীবীরা বলছেন, চার্চিলের দেয়া জবানবন্দি অনুযায়ীও নূর হোসেনকে নির্দেশদাতা হিসেবে প্রমাণ করা কঠিন।
উচ্চ আদালতে র‌্যাবের দাখিল করা প্রতিবেদন অনুযায়ী, লে. কর্নেল তারেক সাঈদের নির্দেশে পুরো হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। এ ক্ষেত্রে তার অবৈধ আদেশ মেনে চলেন অন্যরা। ওই প্রতিবেদনে প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম ও কাউন্সিলর নূর হোসেনের দ্বন্দ্বকেই হত্যার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
বলা হয়েছে, একই ধারার রাজনীতি করলেও ব্যবসায়িক স্বার্থ, এলাকায় প্রভাব বিস্তার এবং রাজনৈতিক অবস্থানগত প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে দুজনের মধ্যে দীর্ঘদিনের শত্র“তা ও পাল্টাপাল্টি মামলা ছিল। এ কারণেই নূর হোসেন তার পক্ষে কাজ করার মতো প্রশাসনের লোকের অন্বেষণে ছিলেন। অব্যাহত প্রচেষ্টায় তিনি র‌্যাব-১১-এর সিপিএসসির কোম্পানি কমান্ডার মেজর আরিফ হোসেন, পরে র‌্যাব-১১-এর অধিনায়ক তারেক সাঈদ মোহাম্মদকে সহযোগী হিসেবে পেয়ে যেতে সমর্থ হন বলে প্রতীয়মান হয়।
অভিজ্ঞ আইনজীবীরা বলছেন, নূর হোসেনের নাম যদি র‌্যাবের প্রধান অভিযুক্ত তিন কর্মকর্তার জবানবন্দিতে উঠে না আসে তবে নূর হোসেনকে অভিযুক্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা কঠিন হয়ে যাবে। নূর হোসেন প্রভাবিত করলেই র‌্যাব প্রভাবিত হবে এমন অনুমানভিত্তিক তথ্যপ্রমাণে তাকে কঠিন সাজার মুখোমুখি করা কষ্টসাধ্য।
শেষ পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close