¦
অবরোধ কেন অবৈধ নয়

যুগান্তর রিপোর্ট | প্রকাশ : ০৩ মার্চ ২০১৫

অবরোধ কেন অবৈধ, আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। চার ব্যবসায়ী সংগঠনের করা এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ সোমবার এ রুল জারি করেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার হরতাল-অবরোধে ক্ষতিপূরণ চেয়ে এবং বিধিনিষেধ আরোপের দাবিতে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ, বিটিএমইএ এবং বিকেএমইএ- এই রিট করেন। প্রথমে রিট আবেদনটি জনস্বার্থে করার কথা বলা হলে ওই রিটের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন হাইকোর্ট। সোমবার রিট আবেদন থেকে জনস্বার্থ শব্দটি বাদ দিয়ে শুনানি করা হয়। প্রাথমিক শুনানি শেষে নয়টি রুল ইস্যু করেন হাইকোর্ট।
রুলে আগাম নোটিশ ছাড়াই হরতাল আহ্বান করাকে কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং হরতাল-অবরোধে ক্ষতির জন্য কেন সব রাজনৈতিক দলকে দায়ী করা হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। মৌলিক অধিকার লংঘন এবং অপরাধ সংঘটনে উস্কানি দেয়ায় হরতাল-অবরোধ আহ্বানের খবর গণমাধ্যমে প্রচার-প্রকাশে বিরত থাকার কেন নির্দেশ দেয়া হবে না রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
হরতাল-অবরোধে আইনগত বাধা-নিষেধ আরোপ করার ক্ষেত্রে সরকারের নিষ্ক্রিয়তাকে কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না; হরতাল-অবরোধে ক্ষতিগ্রস্তদের কেন ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দেয়া হবে না; ৬ জানুয়ারি থেকে হরতাল-অবরোধ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত সময়ের ব্যাংক সুদ মওকুফ করতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, হরতাল-অবরোধে (৬ জানুয়ারি থেকে যতদিন হরতাল-অবরোধ চলে) ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ঋণ খেলাপি হওয়া সংক্রান্ত ক্রেডিট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরোর (সিআইবি) তালিকা স্থগিত করতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না এবং ১২ বছরের জন্য সব ঋণকে পুনঃতফসিল করার নির্দেশ কেন দেয়া হবে না- মর্মে রুল জারি করা হয়েছে।
এছাড়া হরতাল-অবরোধে ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ চাইতে কেন হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতে পারবে না তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
সরকার, স্বরাষ্ট্র সচিব, অর্থ সচিব, আইন সচিব, তথ্য সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত সব রাজনৈতিক দলসহ সংশ্লিষ্ট ৪৮ জন বিবাদীকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট কামরুল হক সিদ্দিকী ও ব্যারিস্টার ইমতিয়াজ মইনুল ইসলাম।
রিটের শুনানিতে কামরুল হক সিদ্দিকী বলেন, আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত আছে যে কোনো সংগঠন জনস্বার্থে মামলা করতে পারে। তিনি বলেন, হরতাল-অবরোধে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তারা এ জন্য উচ্চ আদালতে প্রতিকার চাইতেই পারেন।
হরতাল-অবরোধের ঘোষণা সংক্রান্ত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি মিডিয়ায় প্রকাশের বিষয়ে আইনজীবী ব্যারিস্টার ইমতিয়াজ মইনুল হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, কোনো একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে হরতাল বা অবরোধের কর্মসূচির সংবাদ প্রচার ও প্রকাশ করছে গণমাধ্যম। এরপর হরতাল-অবরোধে সহিংস ঘটনা ঘটছে। তাই গণমাধ্যমে হরতালের ঘোষণা প্রচার বা প্রকাশ অপরাধের উস্কানি হিসেবে কাজ করে কিনা, সহিংস ঘটনা ঘটতে অনুপ্রাণিত করে কিনা, এটা প্রকাশ বা প্রচার করা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কিনা এটা খতিয়ে দেখতে চায় আদালত। এজন্য গণমাধ্যমে প্রকাশের বিষয়েও একটি রুল জারি করেছেন।
এর আগে একই বেঞ্জ পৃথক দুটি রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হরতাল অবরোধের নামে সহিংসতা, নৃসংশতা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেন। এছাড়া এসএসসি পরীক্ষা নির্বিঘ্ন করতে এবং হরতাল-অবরোধের দিনেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো চালু রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সরকারকে নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি রুল জারি করে। এছাড়া তারেক রহমানের বক্তব্য মিডিয়ায় প্রচার ও প্রকাশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন হাইকোর্টের এই বেঞ্চ।
শেষ পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close