¦
সাবেক আয়কর কমিশনার খুন

যুগান্তর রিপোর্ট | প্রকাশ : ০৩ মার্চ ২০১৫

রাজধানীর রামপুরায় নিজ বাড়িতে ডাকাত দলের হাতে খুন হয়েছেন সাবেক আয়কর কমিশনার আবু তাহের (৭০)। দ্বিতীয় তলার গ্রিল কেটে বাসায় ঢুকে তাকে খুন ও তার স্ত্রীকে মারধর করে নগদ টাকাসহ স্বর্ণালংকার নিয়ে যায় ডাকাত দল। রোববার দিবাগত গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে। তবে ডাকাতি ও হত্যার সঙ্গে জড়িতরা সন্ধ্যা পর্যন্ত শনাক্ত ও গ্রেফতার হয়নি। পুলিশ ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, ডাকাত দলের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে ওই বাড়ি ও বাড়ির মানুষ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করার পরই ডাকাতি করেছে। বাড়ির কর্তা রাতে কোন কক্ষে ঘুমান তাও তাদের আগে থেকেই জানা ছিল। ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায়, রামপুরা টিভি রোডের ৩৪৭ নম্বর তিন তলাবাড়ির মালিক আবু তাহের। তিনি সাবেক আয়কর কমিশনার। বাড়ির নিচতলা ও তৃতীয় তলা ভাড়া দেয়া হয়েছে। স্ত্রী রোকেয়া তাহেরকে নিয়ে দ্বিতীয় তলায় থাকেন তিনি। বাসায় রয়েছে দুই গৃহকর্মী। আবু তাহরের দুই ছেলের মধ্যে বড় ছেলে রকিবুল হক আমেরিকায় আর ছোট ছেলে আরিফুল হক প্রীতম বনশ্রীতে বসবাস করেন। বড় মেয়ে জেসমিন নাহার থাকেন স্বামীর বনানীর বাসায় ও ছোট মেয়ে ইয়াসমিন নাহারের বাসা ধানমণ্ডি। ইয়াসমিন নাহার জানান, দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে তার বাবা-মা ঘুমিয়ে ছিলেন। রাত ৩টার দিকে বাড়ির পেছনের দিকে দ্বিতীয় তলার ডাইনিং রুমের জানালার গ্রিল কেটে ডাকাত দলের চার সদস্য বাসার মধ্যে ঢোকে। প্রথমেই আবু তাহেরের কক্ষে ধাক্কা দেয় তারা। শব্দ পেয়ে স্বামী-স্ত্রীর ঘুম ভাঙে। রোকেয়া তাহের জানান, গৃহকর্মী ভেবে তার স্বামী ঘরের দরজা খোলেন। এ সময় মুখে কালো কাপড় বাঁধা চারজন তাহের ও রোকেয়াকে জাপটে ধরে। প্রথমে তাহেরের হাত-পা বাঁধে এবং মুখে স্কচটেপ দিয়ে জড়িয়ে মাথায় আঘাত করে। এরপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হাতে ও পায়ে আঘাত করে। রোকেয়ার হাত-পা বেঁধে হত্যার হুমকি দিয়ে আলমারির চাবি ছিনিয়ে নেয় ডাকাত দল। দুটি ঘরের আলমারি খুলে কাপড়চোপড়সহ জিনিসপত্র তছনছ করে। রোকেয়া বলেন, আলমারিতে থাকা নগদ ৪৫ লাখ টাকা ও ১০-১২ ভরি স্বর্ণলংকার লুট করে। স্বামীর পাশে তাকে হাত-পা বেঁধে ও মুখে স্কচটেপ জড়িয়ে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় তারা। ডাকাতদের বয়স ২০ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে বলে জানান তিনি। প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা ধরে ডাকাতরা তাণ্ডব চালালেও পাশের ঘরে থাকা দুই গৃহকর্মী নুরজাহান ও সেলিনা টের পায়নি। ভোর ৬টার দিকে নুরজাহান ঘুম থেকে উঠে ওই কক্ষে গিয়ে দেখেন গৃহকর্তা-গৃহকর্ত্রী বেডে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় পড়ে রয়েছেন। রোকেয়ার বাঁধন খুলে দেয় নুরজাহান। এরপরই বিষয়টি ছোট মেয়ে ইয়াসমিন নাহার ও মেয়ের স্বামী ওয়াহিদ আনিসকে মোবাইল ফোনে জানান রোকেয়া। খবর পেয়ে তারা রামপুরার বাসায় গিয়ে তাহেরকে উদ্ধার করে ইউনাইটেড হাসপাতালে নিয়ে যান। এ সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। রামপুরা থানার এসআই সাইদুল ইসলাম বলেন, নিহতের বাম পায়ে, বাম হাতে ও থুতনিতে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে।
ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, দ্বিতীয় তলার প্রধান দরজা খুলেই ভেতরে ঢুকে ডাইনিং রুম। এর বাম পাশে দুটি কক্ষ ও ডান পাশে তিনটি কক্ষ। বাম পাশের একটিতে থাকেন তাহের দম্পতি। ডান পাশের কক্ষের একটিতে থাকে দুই গৃহকর্মী। গৃহকর্মী নুরজাহান জানায়, রাত ১১টার দিকে সেলিনাকে নিয়ে সে কক্ষে ঘুমিয়ে পড়ে। ভোর ৬টার দিকে সে ঘুম থেকে ওঠে গৃহকর্তার দরজা খোলা দেখে। রাতে কী হয়েছে তা তারা টের পায়নি বলে জানায়।
তাহেরের বেডরুমে গিয়ে দেখা যায়, বেশ কয়েকটি ডায়েরি, কাগজপত্র, জামাকাপড় ছড়ানো-ছিটানো। বেডের ওপর কয়েকটি ছবিও পড়ে রয়েছে। দুটি আলমারি খোলা। তছনছ হয়ে আছে জিনিসপত্র। পাশের আরেকটি ঘরের দুটি আলমারির মধ্যে একটি খোলা। তা থেকে জামাকাপড় বের করে ঘরে ছড়ানো-ছিটানো। নিহত তাহেরের মেয়ে ইয়াসমিন নাহার বলেন, ডাকাত দল ফ্রিজ থেকে খাবারও বের করে টেবিলের ওপর রেখেছে। এর আগে তাদের বাড়িতে কখনও ডাকাতির ঘটনা ঘটেনি বলে জানান। নিচতলার ভাড়াটিয়া কাজল সাহা ও তার স্ত্রী মুক্তি সাহা জানান, তারা রাতে ডাকাতির খবর শোনেননি। গ্রিল কাটার শব্দও পাননি তারা। সকাল সাড়ে ৬টার দিকে গৃহকর্মী নুরজাহান ডাকাতির বিষয়টি তাদের জানান।
খবর পেয়ে ডিবি ও সিআইডির সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেন। ডিবির সহকারী পুলিশ কমিশনার ইকবাল হোসাইন যুগান্তরকে বলেন, বাসার ভেতরে চারজন ঢুকলেও বাইরে পাহারায় ছিল আরও কয়েকজন। ধারণা করা হচ্ছে, অনেক আগে থেকেই এ বাড়ি ও বাড়ির লোকজনের ওপর নজর রাখছিল ডাকাত দল। বাড়ির মালিক কোন কক্ষে ঘুমান তাও তাদের জানা ছিল। এ কারণে বাড়ির সামনের প্রাচীর পার হয়ে প্রথমে ওই কক্ষের জানালা খোলার চেষ্টা করে তারা। ওই কক্ষে ওঠার চিহ্ন রয়েছে। সেখানে ব্যর্থ হয়ে বাড়ির পেছন দিকে ডাইনিং রুমের জানালার গ্রিল কেটে ঢুকেছে। গ্রিল খুব সূক্ষ্মভাবে কাটা হয়েছে। তারা পেশাদার ডাকাত। ডিবি ছায়া তদন্ত শুরু করেছে বলে তিনি জানান। রামপুরা থানার ওসি মাহবুবুর রহমান তালুকদার বলেন, ইউনাইটেড হাসপাতাল থেকে লাশ উদ্ধার করে দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। বিকালে লাশের ময়নাতদন্ত করা হয়। এ ঘটনায় রাতে রামপুরা থানায় মামলা করা হয়।
 

শেষ পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close