¦
শিল্পে গতি আনতে বিডা গঠনে কচ্ছপ গতি

শাহ আলম খান | প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০১৫

শিল্পায়ন কার্যক্রমে গতি আনতে যে প্রতিষ্ঠান একক ক্ষমতাবলে দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে আনবে, এবার সেই প্রতিষ্ঠানের জন্মলগ্নই দীর্ঘসূত্রতায় পড়েছে। প্রস্তাবিত এ প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্য নাম রাখা হচ্ছে বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট অথরিটি বা বাংলাদেশ শিল্প উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)। শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতায় এটি পরিচালিত হবে। তবে নিজস্ব ক্ষমতাবলে এ কর্তৃপক্ষ স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে বলে অন্য কোনো সংস্থার কাছে তাকে মুখাপেক্ষী হতে হবে না।
শিল্পোন্নয়নের স্বার্থে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই চেয়েছেন দেশে এ ধরনের একটি কর্তৃপক্ষ গঠন হোক। যে কর্তৃপক্ষ সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সমন্বয় ও সংযোগ রক্ষা করবে। একই সঙ্গে দ্রুততম সময়ে একটি স্থান থেকে সব ধরনের সেবা দিতে সক্ষম হবে।
জানা গেছে, গত বছরের ২৪ আগস্ট শিল্প মন্ত্রণালয় পরিদর্শনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ ভাবনার কথা জানান- যা বাংলাদেশ রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (বেপজা) ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (সেইজেড)- এ তিনের বাইরে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতায় কোনো একটি একক কর্তৃপক্ষ হিসেবে কাজ করবে। তিনি সংশ্লিষ্টদের এ ধরনের পৃথক কর্তৃপক্ষ গঠনের উপায় খোঁজারও নির্দেশনা দেন। তবে এরপর প্রায় নয় মাস পার হতে যাচ্ছে। সে উদ্যোগে অগ্রগতি তেমন আশানুরূপ নয়।
এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত বিডার আত্মপ্রকাশের রূপরেখা কাগুজে পরিকল্পনাতেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে। সূত্রমতে, দীর্ঘ এ সময়ে মাত্র একটি বৈঠক হয়েছে। ওই বৈঠকে একক কর্তৃপক্ষ হিসেবে বিডাকে কি ধরনের ক্ষমতা দেয়া যায় এবং তার কাজের ধরন কেমন হবে ও কি ধরনের লজিস্টিক সাপোর্ট দিতে হবে- তার একটি প্রাথমিক খসড়া প্রণয়ন হয়েছে মাত্র। যার কাটাছেঁড়ার কাজ এখনও শেষ হয়নি।
ওদিকে প্রণীত প্রাথমিক খসড়ার আরও সংশোধন ও তা চূড়ান্তকরণে নির্বাহী সম্মতি অর্জনে চলতি ১ এপ্রিলেই আরও একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সেটিও অনুষ্ঠিত হয়নি। আরও বাকি রয়েছে ভেটিং ও মন্ত্রিসভার অনুমোদন। এমন পরিস্থিতিতে আসছে বাজেটের জন্য অর্থ সংস্থান রাখার কোনো ব্যবস্থা থাকবে কিনা এবং জনবলের কাঠামো অনুমোদনে জনপ্রশাসন ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত কী হবে সেটি নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। আর এর মধ্য দিয়েই প্রধানমন্ত্রীর দ্বিতীয় দফায় শিল্প মন্ত্রণালয় পরিদর্শন সময়সূচি ঘনিয়ে আসছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. ফরহাদ উদ্দিন যুগান্তরকে জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখ্য সচিবের সভাপতিত্বে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে একটি সভা করা হয়। ওই সভায় সম্ভাব্যতা ও যৌক্তিকতা এবং ক্ষমতায়নের ব্যাপারে প্রাথমিকভাবে বিডা গঠনের একটি রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হয়। পরে এ সংক্রান্ত কম্প্রিহেনসিভ খসড়া কার্যপত্র প্রণয়নে শিল্প মন্ত্রণালয় ছাড়াও বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাট, অর্থ এবং এর আওতাধীন বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তাকে নিয়ে আরও একটি মতবিনিময় সভা হয়। যার আলোকে ইতিমধ্যে একটি খসড়া কার্যপত্র তৈরি হয়েছে- যা চলতি মাসেই একটি সভা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হতে পারে। এর জন্য আমরা প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখ্য সচিবের উপস্থিতির জন্য সময় চেয়েছি। আশা করছি, দ্রুতসময়েই প্রাথমিক খসড়া চূড়ান্ত করে অর্থ ও জনপ্রশাসনে পাঠাতে পারব।
এ ব্যাপারে দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানায়, বর্তমানে কোনো কর্তৃপক্ষ একত্রে শিল্পপণ্য উৎপাদন, চাহিদা নিরূপণ, কাঁচামালের জোগান ও নিশ্চিতকরণ এবং ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত দায়িত্ব পালন করছে না। শিল্প নিবন্ধনের পর একই দফতর থেকে নতুন শিল্পোদ্যোক্তাকে শিল্পসংক্রান্ত সেবাও দিচ্ছে না। শিল্পায়ন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিতকরণ ও বিভিন্ন কাঠামোগত সুবিধা নিশ্চিতকরণে প্রয়োজনীয় সেবা কোনো একটি নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাওয়া যায় না। এ লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি একক কর্তৃপক্ষ গঠন করা প্রয়োজন।
শিল্পোন্নয়নে যেসব ক্ষমতা থাকবে বিডার : প্রস্তাবিত বিডা গঠনে প্রাথমিক একটি খসড়া যুগান্তরের কাছে এসেছে। ওই খসড়া পর্যালোচনায় দেখা গেছে, অনেকটা ওয়ানস্টপ সার্ভিসের মতোই বিডাকে পরিচালনা করা হবে। নিজস্ব ক্ষমতা ও স্বয়ংসম্পূর্ণতার বলে পরিকল্পিত, আধুনিক ও গতিশীল শিল্পায়ন নিশ্চিত, শিল্প জমির সুষ্ঠু ব্যবহার, শিল্পের লাইসেন্স প্রদান, শিল্প ইউনিটের জন্য মূলধনি যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল, যন্ত্রাংশ আমদানির অনুমোদন ও চাহিদা নিরূপণ, দেশীয় ও আঞ্চলিক বিবেচনায় নিয়ে আমদানি নীতিমালা প্রণয়ন করবে বিডা। একই সঙ্গে দুর্ঘটনা ও অপ্রত্যাশিত ব্যয় হ্রাস, শ্রম অসন্তোষ দূর ও দক্ষতা বৃদ্ধি এবং স্বল্প সময়ে সব ধরনের সেবা দেয়ার সক্ষমতা থাকবে এ কর্তৃপক্ষের।
এছাড়া অনগ্রসর এলাকায় বিশেষ করে উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে শিল্পায়নের প্রসার ঘটানো, অব্যবহৃত ও বন্ধ শিল্প-কারখানা এবং কৃষি সম্ভাবনা কম এমন জমি ও মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন অব্যবহৃত জায়গায় পরিকল্পিত শিল্প প্রতিষ্ঠা, কৃষি সেবা ও শিল্প খাতের সংযোগ বৃদ্ধি, একই ভাবে মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদন, প্রয়োজনীয় কাঁচামালের জোগান, চাহিদা নিরূপণ ও নিশ্চিতকরণে ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত দায়িত্ব পালন, শিল্পে অসন্তোষ ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি, অগ্নিকাণ্ড ও ভবন ধসের মতো ঘটনা প্রতিরোধ করবে।
পাশাপাশি অনুৎপাদনশীল কারখানাকে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সর্বোচ্চ উৎপাদন সক্ষমতা ফিরিয়ে আনা, শিল্প গবেষণা জোরদার, বুদ্ধিভিত্তিক দক্ষ শ্রমিক তৈরি, বিপণন ব্যবস্থার বিকাশ, গবেষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, নতুন কারিকুলাম তৈরির মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া শিল্পকে আধুনিকায়ন, বিসিআইসির নিয়ন্ত্রণাধীন ট্রেনিং ইন্সটিটিউট ফর কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজকে (টিআইসিআই) শক্তিশালী করা, বাংলাদেশের শিল্পপণ্য রফতানির জন্য নিজস্ব ব্রান্ড তৈরি, কারিগরি সম্ভাব্যতা যাচাই, শিল্পের পরিকল্পিত রোডম্যাপ প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, কৃষিজাত পণ্য সংরক্ষণের কোল্ড স্টোরেজের ব্যবস্থা করাসহ এ সম্পর্কিত আইন ও অর্ডিন্যান্স প্রণয়ন করবে বিডা।
শেষ পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close