¦
বেনাপোল বন্দরে দুর্নীতিতে রাজস্ব ক্ষতি ২ হাজার কোটি টাকা

বেনাপোল প্রতিনিধি | প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০১৫

বেনাপোল স্থলবন্দরে ১৫ সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। ঘুষ-দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত কাস্টমস, বন্দর ও ইমিগ্রেশনের কতিপয় কর্মকর্তাও। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গোপন তদন্ত প্রতিবেদনে এমনটাই বের হয়ে এসেছে। দেশের ৭০ ভাগ পণ্য আমদানি হয়ে থাকে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে। এতে সরকার বছরে রাজস্ব আদায় করে থাকে ২ হাজার কোটি টাকা। প্রতিবেদনে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের লাইসেন্স বাতিল, স্থলবন্দরের কাস্টম হলে অবস্থিত স্ক্যানিং মেশিন, আর্চওয়ে সচল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক মো. আজিমুদ্দিন বিশ্বাস স্বাক্ষরিত প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থলবন্দরটিতে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, কর্মকর্তা-কর্মচারী, ইমিগ্রেশন পুলিশ ও আনসার সদস্যদের একটি বড় সিন্ডিকেট দিনের পর দিন ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে ঘুষ আদায় করছেন। ঘুষ না দিলে তাদের নানা হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানের কাছেও এর অনুলিপি পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদনে ঘুষখোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নাম উল্লেখ করে সমস্যা সমাধানে কয়েক দফা প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘুষ নিয়েই ক্ষান্ত হচ্ছে না এ সিন্ডিকেট। বরং ঘুষ দেয়া-নেয়ায় অংশ নেন না এমন সৎ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নানা ধরনের অপবাদ দিয়ে বদলি করা হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এ চক্র ঘুষ আদায়ে স্থানীয় দালাল নিয়োগ দিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মনিরুল ইসলাম বন্দরের সব শেড ইনচার্জদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করে থাকেন। কেউ অপারগতা প্রকাশ করলে তাকে অযথা হয়রানি করার জন্য অফিসিয়ালি মানসিকভাবে চাপে রেখে নানা ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেন। বন্দরের অন্য দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হলেন ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (শেড নং-১০) রানা চৌধুরী, নাহিদ হোসেন (রাজস্ব শাখা), ফারুক হোসেন (টংঘর), উজ্জ্বল কুমার পাল (শেড নং-৩৯), আশরাফুর রহমান বাপ্পি, শফিকুল ইসলাম খাদেম, সালাউদ্দিন (টিটি), ওয়্যারহাউস সুপার মোস্তফা, ওয়্যারহাউস সুপার (টিটিআই) মোস্তফা আবুল বাশার ও বিল শাখার মনিরুজ্জামান।
এ ব্যাপারে বেনাপোল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের সিনিয়র সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) মনিরুল ইসলাম জানান, তিনি এ ব্যাপারে কিছু জানেন না। কোনো দুর্নীতির সঙ্গে তিনি জড়িত নন।
বেনাপোল বন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরাও প্রত্যক্ষভাবে অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। আমদানি করা পণ্যের মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে কাস্টমস কর্মকর্তাদের যোগসাজশে এইচএস কোড বা পণ্য পরিচিতি নম্বর পরিবর্তন করে ও ঘোষণার বেশি পণ্য এনে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে অল্প দিনে কোটি কাটি টাকার মালিক বনে গেছেন তারা।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এসব সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট পণ্য ছাড় করানোর জন্য জাল কাগজপত্র বানিয়ে চোরাকারবারিদের মাধ্যমে ভারত থেকে নিয়ে আসা মালামাল পাচার করছেন। এছাড়া সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের একটি অংশ টংঘরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঘুষের বিনিময়ে ভারত থেকে অবৈধ মালামাল এনে শেডে রেখে জাল কাগজপত্র তৈরি করে ও একই কাগজ দেখিয়ে বারবার পণ্য খালাস করছেন।
দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত বলে প্রতিবেদনে যেসব সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের নাম এসেছে সেগুলো হল- মেসার্স শামসুর রহমান, মেসার্স কাজ ইন্টারন্যাশনাল, মেসার্স সোহান ট্রেড সেন্টার, মেসার্স জয়েন্ট এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স আরএস ইমপেক্স, মেসার্স অর্ণব এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স তরঙ্গ এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স বকুল অ্যান্ড ব্রাদার্স, মেসার্স সামাদ অ্যান্ড সন্স, মেসার্স প্রগতি এজেন্সি, মেসার্স এমি এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স গনি অ্যান্ড সন্স, মেসার্স রবি ইন্টারন্যাশনাল, মেসার্স বিজনেস মিডিয়া এবং মেসার্স আনুষা ইমপেক্স।এ ব্যাপারে বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজর বলেন, ঢালাওভাবে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা ঠিক নয়।
প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে পাঠানো গোপন প্রতিবেদনে বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের কয়েকজন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীর নামধাম ও তাদের কর্মকাণ্ডও উল্লেখ করা হয়। এসব দুর্নীতিবাজ ইমিগ্রেশন পুলিশের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদেশ যাওয়া প্রত্যেক যাত্রীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা ভ্রমণ কর আদায়ের নিয়ম রয়েছে। এ টাকা ব্যাংকে জমা দিয়ে ভ্রমণ করের রশিদ নিতে হয়। কিন্তু দুর্নীতিবাজ কিছু পুলিশ সদস্য চেকপোস্টের কিছু এন্টারপ্রাইজ নামের দোকান থেকে ভারতগামী যাত্রীদের কাছ থেকে ভ্রমণ কর জমা দেয়ার কথা বলে তাদের পাসপোর্ট ও টাকা নিয়ে আসে। পরবর্তী সময়ে ভ্রমণ কর জমা না দিয়ে টাকা আত্মসাৎ করে যাত্রীদের গোপনে ভারত যেতে সহায়তা করছেন। এভাবে প্রায় প্রতিদিন কয়েকশ যাত্রীর কাছ থেকে ভ্রমণ করের টাকা হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে। পরে এ টাকা ওসিসহ দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ভাগবাটোয়ারা করে নেন। ইমিগ্রেশনের অভিযুক্তরা হলেন এসআই আনোয়ার, জাকির, আনিস, রবিউল, খায়রুল ও এএসআই মোর্শেদ এবং কনস্টেবল হান্নান, জোসেফ, সেকেন্দার ও কনস্টেবল আবদুর রাজ্জাক। এ ব্যাপারে চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আসলাম খান বলেন, এ ধরনের অনিয়মের সঙ্গে পুলিশ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জড়িত নয়। এটি কাস্টমের ব্যাপার। ভ্রমণ কর না দিয়ে কেউ বিদেশ গিয়েছেন এ ধরনের কোনো তথ্য তার জানা নেই।
শেষ পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close