¦
১৬ বছর পর পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়

স্পোটর্স রিপোর্টার | প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০১৫

প্রস্তুতি ম্যাচে জয়-পরাজয় গৌণ। সেই ম্যাচে জুনায়েদ খানকে চার মেরে যেভাবে উল্লাস করলেন মোহাম্মদ শহীদ, বোঝা গেল জয় কতটা কাম্য ছিল বিসিবি একাদশের। ১৯৯৯ বিশ্বকাপের পর পাকিস্তানের বিপক্ষে কোনো ধরনের ফরম্যাটেই জেতেনি বাংলাদেশ। ১৬ বছর পর কাল সেই গেরো খুলল বিসিবি একাদশ। হোক তা প্রস্তুতি ম্যাচে। ফতুল্লায় ২৬৯ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে সাত বল বাকি থাকতে এক উইকেটে বিসিবির জয়। জয়ের নায়ক সাব্বির রহমানও জানালেন, এই জয়ে বাংলাদেশ আরও আত্মবিশ্বাসী হবে। শেষ ১৮ বলে বিসিবি একাদশের প্রয়োজন ছিল নয় রান। শেষ ১২ বলেও তাই। হাতে এক উইকেট। ম্যাচের ফল যেতে পারে যে কোনো দিকেই। ৪৯তম ওভারে মোহাম্মদ শহীদের ব্যাটের কানায় লেগে দুটি চারেই ফল বিসিবির পক্ষে চলে আসে। এর আগে কখনও সাঈদ আজমলকে স্কোয়ার লেগের ওপর দিয়ে, আবার কখনও লং-অন দিয়ে রাহাত আলীর বল সীমানার বাইরে পাঠিয়েছেন সাব্বির রহমান। ফর্মে থাকার চমৎকার প্রদর্শনী হল তার ফতুল্লায়।
আগামীকাল প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে খেলবেন এমন ক্রিকেটার কাল প্রস্তুতি ম্যাচে ছিলেন মাত্র তিনজন। তাদের মধ্যে এক সাব্বির রহমানেরই আট ছয়ে ১২৩ রানের ইনিংসে জিতল বিসিবি একাদশ। সিরিজে স্বাগতিকরা যে ফেভারিট, এ ম্যাচেই তা বুঝিয়ে দিল বিসিবি একাদশ। ওপেনিংয়ে সমস্যা কাটিয়ে ওঠার লক্ষ্যে রনি তালুকদার নতুন মুখ। অভিষেকের আগে প্রস্তুতি মাচে শূন্য দিয়ে শুরু করলেন রনি। ফর্মে ফেরার সুযোগ কাজে লাগাতে পারলেন না তামিম ইকবালও। এ দুজনই আগামীকাল পাকিস্তানের বিপক্ষে ওপেন করবেন। টিম ম্যানেজমেন্টের চিন্তা আরও বাড়িয়ে দিল আরেকবার ওপেনিংয়ের ব্যর্থতা। তামিম ৯, রনি ০। শুরুতে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে চাপ কাটিয়ে ওঠেন লিটন কুমার। সাব্বিরের সঙ্গে তার ৭২ রানের জুটিতেই বাংলাদেশের ভিত শক্ত হয়। তবে ইমরুল কায়েসের অভিজ্ঞ ব্যাটিং ও শেষদিকে ২২৮ রানে আট উইকেট পড়ে যাওয়ার পর সোহাগ গাজীর ৩৬ রান ম্যাচ জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে। বিশ্বকাপে পেস ও বাউন্স দিয়ে প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের কাঁপিয়ে দেয়া পাক পেসার ওয়াহাব রিয়াজ, নিষেধাজ্ঞা থেকে ফেরা সাঈদ আজমল- কাউকেই ধারাল হয়ে উঠতে দেননি সাব্বিররা।
বিনা টিকিটে পাকিস্তান ও বিসিবি একাদশের প্রস্তুতি ম্যাচ দেখার সুযোগ হাতছাড়া করেননি দর্শকরা। দুপুর পর্যন্ত গ্যালারি কিছুটা ফাঁকা থাকলেও যত বেলা গড়িয়েছে, গ্যালারি ভরে উঠেছে। প্রস্তুতি ম্যাচে অধিনায়কত্ব করার কথা ছিল নাসির হোসেনের। তাকে খেলানোই হল না। একাদশে ছিলেন না আবুল হাসানও। বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্টের কৌশল। শুরুতে উইকেটের চরিত্র বুঝতে একটু সময় নিয়েছেন পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানরা। বল কখনও নিচু হয়ে আসছিল। আবার কখনও ধীর গতিতে। শুরুটা পাকিস্তানের ভালো হয়েছে। দুই ওপেনার মোহাম্মদ হাফিজ ও আজহার আলীকে প্রথম চাপে ফেলেন মুক্তার আলী। সাফল্যও পেয়েছেন তিনি। আজহার আলীকে আউট করে প্রথম ৬৬ রানের ওপেনিং জুটি ভাঙেন মুক্তার। এরপর টানা তিন উইকেট নিয়ে পাকিস্তানের রানের গতি কমিয়ে আনেন শুভাগত হোমই। হাফিজ, হারিস সোহেল ও মোহাম্মদ রিজওয়ানকে ফেরান তিনি। ফিরেই সেঞ্চুরির আশা জাগিয়েছিলেন হাফিজ। তাকে ফেরান শুভাগত হোম। পরে শহীদ, জুবায়ের, তাইজুল ও গাজী একটি করে উইকেট পেয়েছেন। শেষ উইকেটে ফাওয়াদ আলমের ৬৭* ও আজমলের ১৬* রানে ২৬৮ রান করে পাকিস্তান। আল-আমিনের ভাগ্যটাই খারাপ। নয় ওভার বল করে তিনিই শুধু উইকেটশূন্য থাকেন। বিসিবি একাদশের বাকি পাঁচ ক্রিকেটার মোহাম্মদ শহীদ, মুক্তার আলী, তাইজুল ইসলাম, জুবায়ের হোসেন, সোহাগ গাজী নিয়েছেন একটি করে উইকেট। তিন উইকেট নেয়া বাংলাদেশের সেরা বোলার শুভাগত হোম।
শেষ পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close