¦
ভোটারদের নীরব বিপ্লব ঘটানোর আহ্বান খালেদা জিয়ার

যুগান্তর রিপোর্ট | প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০১৫

বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীদের ভোট দিয়ে জনগণকে সরকারের বিরুদ্ধে ‘নীরব বিপ্লব’ ঘটানোর আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। মঙ্গলবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে নববর্ষের এক অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান। বিএনপির অঙ্গসংগঠন জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) এ বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
বিএনপি সমর্থিত ঢাকা দক্ষিণের প্রার্থী মির্জা আব্বাস, উত্তরের প্রার্থী তাবিথ আউয়াল এবং চট্টগ্রামের প্রার্থী এম মনজুর আলমকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, ‘এ সরকার নিজেরা নির্বাচিত নয়, তারা আইন লঙ্ঘন করে সব করছে। আর আমাদের প্রতি পদে পদে বাধা দিচ্ছে। ভোট দিয়ে জনগণ নীরব বিপ্লব ঘটাবেন। জালেম সরকারকে দেখিয়ে দেবেন, জনগণ কী করতে পারে।’ বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা ঢাকায় নির্বাচিত হলে যানজট, গ্যাস, পানিসহ সব সমস্যা সমাধান করে ‘নোংরা’ ঢাকাকে সব শ্রেণীর মানুষের বাস উপযোগী করে তোলা হবে বলে আশ্বাস দেন খালেদা জিয়া।
দীর্ঘ তিন মাসের বেশি সময় পর জনগণের সামনে বক্তব্য রাখলেন বিএনপি চেয়ারপারসন। ৮ মিনিট স্থায়ী বক্তব্যে খালেদা জিয়া দেশের বর্তমান অবস্থা, সরকারের দমন-পীড়ন, ঢাকা মহানগরীর দুরবস্থা তুলে ধরেন। খালেদা জিয়ার আগমন উপলক্ষে মঙ্গলবার দুপুর থেকেই নয়াপল্টন কার্যালয়ে কয়েক হাজার নেতাকর্মী সমবেত হন। কাকরাইলের নাইটেঙ্গল রেস্তোরাঁ থেকে ফকিরেরপুল মোড় পর্যন্ত লম্বা সড়কে বিকাল ৪টার দিকে যান চলাচল বন্ধ করে দেয় পুলিশ। সড়কের বিভিন্ন গলিতে ব্যাপকসংখ্যক পুলিশ ও সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। বিকাল ৫টা ১৫ মিনিটের দিকে খালেদা জিয়ার গাড়িবহর কার্যালয়ের সামনে এসে পৌঁছায়। খালেদা জিয়া গাড়ি থেকে নেমে এলে দলের সাংস্কৃতিক সম্পাদক গাজী মাজহারুল আনোয়ার, জাসাস সভাপতি এমএ মালেক ও সাধারণ সম্পাদক মনির খানসহ নেতারা ফুল দিয়ে স্বাগত জানান।
পুলিশ অনুমতি না দেয়ায় জাসাস বর্ষবরণের কোনো মঞ্চ করতে পারেনি। ফলে ফুটপাতে কয়েকটি চেয়ার ও মেঝেতে কার্পেট বিছিয়ে রাখা হয়। গাড়ি থেকে নেমে ফুটপাতের সামনে রাস্তায় গাড়ি থেকে নেমে দাঁড়িয়ে দলের চেয়ারপারসন হাত নেড়ে নেতাকর্মীদের অভিনন্দন জানান। এ সময় নেতাকর্মীরা করতালি দিয়ে ‘খালেদা জিয়া এগিয়ে চলো, আমরা আছি তোমার সাথে’ স্লোগান দিতে থাকে। এরপর রাস্তার পাশে হাজার হাজার নেতাকর্মী পরিবেষ্টিত অবস্থায় একটি চেয়ারে বসেন খালেদা জিয়া। দলীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বর্ষবরণের অনুষ্ঠানের কার্যক্রম।
সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে খালেদা জিয়া বলেন, ‘এই অবৈধ সরকার নিজেরা নির্বাচিত নয়। তারা আইন লঙ্ঘন করে সবকিছু করছে। আর আমাদের পদে পদে বাধার সৃষ্টি ও গ্রেফতার করছে। বর্ষবরণ অনুষ্ঠান করার অনুমতি তারা দেয়নি। তাই এবার ভোটের নীরব বিপ্লব ঘটাতে হবে। আমাদের সমর্থিত প্রার্থীদের ভোট দিয়ে জালেম ও অবৈধ সরকারকে দেখিয়ে দেবেন।’
বিএনপি চেয়ারপারসন ঢাকা দক্ষিণে মির্জা আব্বাসকে মগ মার্কা ও উত্তরে তাবিথ আউয়ালকে বাস মার্কায় ভোট দেয়ার আহবান জানান। তাদের ছবি সংবলিত লিফলেট হাতে তুলে উপস্থিত সবাইকে দেখান। মির্জা আব্বাসের মগ প্রতীক হাতে নিয়ে সবার সামনে তুলে ধরেন তিনি। বলেন, মির্জা আব্বাস আগেও ঢাকার মেয়র ছিলেন। তিনি ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন নগরীতে পরিণত করেছিলেন। সেই ঢাকা এখন পৃথিবীর মধ্যে নোংরা ও দূষণযুক্ত শহরের তালিকায় ২ নম্বরে এসে দাঁড়িয়েছে। এই শহরটি এখন মানুষের বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। আমাদের সমর্থিত প্রার্থী নির্বাচিত হলে পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও যানজটের সমস্যা নিরসন হবে। তাই মির্জা আব্বাসকে মেয়র হিসেবে নির্বাচিত করে সেবা করার সুযোগ দেবেন- এটা আমি আপনাদের কাছে প্রত্যাশা করি।’
উত্তরে মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল মিন্টুকে তরুণদের প্রার্থী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, নতুন প্রজন্মের তাবিথ আউয়াল উচ্চশিক্ষিত ছেলে। বিদেশে লেখাপড়া করেছে। এই তরুণ ছেলেকে আপনাদের সেবা করার সুযোগ দেবেন। তার অনেক নতুন নতুন আইডিয়া আছে।
খালেদা জিয়া বলেন, এ সরকারের জনগণের ওপর আস্থা নেই বলে তারা নির্বাচন দিতে ভয় পায়। নির্বাচিত ৫ প্রতিনিধিকে বরখাস্ত করে নিজেদের দলীয় লোকজনকে বসিয়েছে। আমাদের প্রার্থীদের বিজয় করুন, আমরা দেশকে ওপরের দিকে নিয়ে যাব। তিনি বলেন, দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়। পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে। দেশকে সরকার নিচের দিকে নিয়ে গেছে। জালেম, গুম-খুনি সরকারকে তারা ক্ষমতায় দেখতে চায় না। বক্তব্যের শুরুতে দেশবাসীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান খালেদা জিয়া।
চলমান আন্দোলন সম্পর্কে তিনি বলেন, আমাদের আন্দোলন একটি নির্দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন। সরকার এখন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন দিয়েছে। তারা ভেবেছে, আমরা আন্দোলনে আছি নির্বাচনে যাব না। বিএনপি নির্বাচনকে ভয় পায় না। স্থানীয় সরকারের সিলেট থেকে শুরু করে রাজশাহী, চট্টগ্রাম, বরিশাল, খুলনা, কুমিল্লাসহ সব সিটি নির্বাচনে আমরা অংশ নিয়ে বিজয়ী হয়েছি। ঢাকা সিটি কর্পোরেশনেও মানুষ পরিবর্তন আনবে।
অনুষ্ঠানে আদর্শ ঢাকা আন্দোলনের আহ্বায়ক অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ, দক্ষিণের মেয়র প্রার্থী মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাস, উত্তরের প্রার্থী তাবিথ আউয়াল, অধ্যাপক তাহমিনা আখতার টফি, ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মাসুদ আহমেদ তালুকদার, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আবদুল হাই শিকদার, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, জাসাস সভাপতি এমএ মালেক, সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন, জাসাসের কেন্দ্রীয় নেতা সালাহউদ্দিন শিশির, আরিফুল রহমান মোল্লা, খালেদ এনাম মুন্না প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, আবদুল হালিম, শওকত মাহমুদ, ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন, গাজী মাজহারুল আনোয়ার, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, ড. আসাদুজ্জামান রিপন, সানাউল্লাহ মিয়া, শিরিন সুলতানা, শামীমুর রহমান শামীম, আসাদুল করীম শাহিন, রফিক শিকদার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রবেশ না করে অনুষ্ঠানের পরপরই খালেদা জিয়া গুলশানে বাসার উদ্দেশে রওনা হন। দোতলায় চেয়ারপারসনের কক্ষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে রাখা হয়েছিল। খালেদা জিয়া চলে যাওয়ার পর জাসাস শিল্পীদের মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়।
 

শেষ পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close