¦
তারেকের নামে রেড অ্যালার্ট সরকারের অপকৌশল

যুগান্তর রিপোর্ট | প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০১৫

বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নামে ইন্টারপোলের রেড অ্যালার্ট জারির বিষয়টিকে সরকারের অপকৌশল, বিভ্রান্তিমূলক প্রচার ও নাটক বলে দাবি করেছে দলটি। বুধবার নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের এমন কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, ইন্টারপোল কখনও স্বপ্রণোদিত হয়ে রেড অ্যালার্ট জারি করে না। সংশ্লিষ্ট দেশের দেয়া তথ্য তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে, যার কোনো কার্যকারিতা নেই। আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি করে বিএনপিকে চাপে রাখা যাবে না।
রিপন বলেন, ইন্টারপোলের ওয়েবসাইটে প্রকাশের আগে থেকে সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী বলেছিলেন, ইন্টারপোলের মাধ্যমে তারেক রহমানকে ধরে এনে বিচার করা হবে। এই রেড অ্যালার্ট তারই বহিঃপ্রকাশ। এটি সরকারের আরেকটি নাটক। সরকারের একটি অতিউৎসাহী মহল প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে এরকম অপপ্রচার চালাচ্ছে। ইন্টারপোলের ওই নোটিশে কিছু ভুল রয়েছে দাবি করে রিপন বলেন, তারেক রহমানের নাম বলা হয়েছে তারেক জিয়া। তিনি তারেক জিয়া নাম ব্যবহার করেন না। তিনি বাংলা ভাষায় কথা বলেন। ইন্টারপোলের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, তারেক রহমান উর্দুতেও কথা বলেন। এটা বিভ্রান্তিমূলক তথ্য।
রিপন আশা করেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপি চেয়ারপারসনকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। বিএনপি চেয়ারপারসনও তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তাই আমি বিশ্বাস করি, রেড অ্যালার্টের নামে যে নাটক করা হয়েছে, এসবের সঙ্গে সরকার প্রধানের সর্ম্পক নেই। বিএনপির এই নেতা বলেন, তারেক রহমান পলাতক নন, তিনি চিকিৎসার জন্য লন্ডনে রয়েছেন। তিনি এমন দেশে রয়েছেন যে দেশ আইনের শাসনে বিশ্বাসী এবং মানুষের অধিকারের প্রতি সচেতন।
তারেক রহমান ও জয় সম্পর্কে নেতিবাচক প্রচারণা চালানো ভবিষ্যৎ রাজনীতির জন্য ভালো হবে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, জয় রাজনীতিতে এসেছেন তাকে সাধুবাদ জানাই। তারেক রহমানও নানা ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হয়েছেন। সেটা কোনো চাপিয়ে দেয়া পদ নয়। কাউন্সিলেই নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে এই দুই দলের নতুন নেতৃত্ব তারা। এদের সম্পর্কে নেতিবাচক প্রচারণা কোনো লাভ হয় না। এটা দেশের জন্য শুভ নয়। কারণ আমাদের মনে রাখতে হবে, দেশ রাজনৈতিক নেতৃত্ব ছাড়া এগুবে না।
এ সময় দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার হায়দার আলী, বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক লে. কর্নেল (অব.) শাহাজান মিলন,সহ-তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব, সহ-দফতরবিষয়ক সম্পাদক আসাদুল করীম শাহিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
প্রচারে বাঁধা দেয়ার অভিযোগ : ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিরোধী দলের প্রার্থীরা প্রচারে সমান সুযোগ পাচ্ছে না অভিযোগ করে আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, আমাদের সমর্থিত ও আর্দশ ঢাকা আন্দোলনের মনোনীত ঢাকা দক্ষিণে মেয়র প্রার্থী মির্জা আব্বাসের প্রচারণায় বাধা দেয়া হচ্ছে। সিদ্ধেশ্বরী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ছাত্রলীগের শিশিরের নেতৃত্বে ক্যাডাররা অস্ত্র উঁচিয়ে মঙ্গলবার মির্জা আব্বাসের প্রচারণায় বাধা দিয়েছে। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ছাত্রলীগের জহিরের নেতৃত্বে আমাদের সমর্থিত মেয়র প্রার্থীর পক্ষে প্রচারপত্র বিলিতে ধাওয়া দেয়া হয়। বেইলি রোড ও শাহবাগের প্রচারণায় পুলিশ বাধা দিয়েছে। শাহবাগে মির্জা আব্বাসের নামে লাগানো পোস্টার ছিঁড়ে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়েছে। এসব ঘটনায় সিটি নির্বাচনে প্রার্থীদের সমান সুযোগ সৃষ্টি হয়নি বলে প্রমাণ হয়। বিরোধী দলের সমর্থিত প্রার্থীদের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করতে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিরোধী দলের প্রার্থীরা যাতে নির্ভয়ে ভোটারদের কাছে যেতে পারে, সেই পরিবেশ সৃষ্টি করুন। ভয়-ভীতির সংস্কৃতি সচল রেখে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না।
শেষ পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close