¦
এডিপির আকার ৯২ হাজার কোটি টাকা

যুগান্তর রিপোর্ট | প্রকাশ : ০৮ মে ২০১৫

আগামী অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) সর্বোচ্চ বরাদ্দ পাচ্ছে পরিবহন খাত। পদ্মা সেতু প্রকল্পের বরাদ্দের কল্যাণে মোট এডিপির ২১ শতাংশ থাকছে এ খাতে। এ হিসাবে পরিবহনে বরাদ্দ দেয়া হবে ১৯ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা। এখান থেকে পদ্মা সেতুর জন্য থাকবে ৭ হাজার ২০০ কোটি টাকা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ পাচ্ছে বিদ্যুৎ খাত। এ খাতের জন্য মোট এডিপির ১৬ শতাংশ বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে। যা অর্থের পরিমাণে ১৪ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। অগ্রাধিকার তালিকায় তৃতীয় অবস্থান থাকা ভৌত পরিকল্পনা, পানি সরবরাহ ও গৃহায়ন খাত পাচ্ছে ১০ হাজার ৪৬১ কোটি টাকা; যা মোট এডিপির ১১ দশমিক ৩১ শতাংশ।
বৃহস্পতিবার পরিকল্পনা কমিশনের বর্ধিত সভায় ২০১৫-১৬ অর্থবছরের এডিপির খসড়া নির্ধারণ করা হয়। পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সভায় সভাপতিত্ব করেন। পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, ১৪ মে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের সভায় এডিপির চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হবে। ওই সভায় সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের চাহিদার ভিত্তিতে এডিপির আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ৯২ হাজার ৫শ কোটি টাকা। সরকারি খাত থেকে আসবে বরাদ্দের ৫৮ হাজার কোটি টাকা ও প্রকল্প সাহায্য থেকে আসবে ৩৪ হাজার ৫শ কোটি টাকা। এর মধ্যে সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নে থাকবে ৯ হাজার ৯৯৬ কোটি টাকা। এ হিসাবে এডিপির আকার হবে ৯৬ হাজার ৪৯৬ কোটি টাকা। এর আগে ২০১৫-১৬ অর্থবছরের জন্য এডিপির আকার পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছে অর্থ বিভাগ।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পরিকল্পনা কমিশনের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর পক্ষ থেকে বরাদ্দের জন্য দাবির পরিমাণ আরও বেশি। বিভিন্ন সময় ওইসব মন্ত্রণালয় ও বিভাগ পরিকল্পনা কমিশনে চিঠি দেয়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণায়ের মন্ত্রীও পরিকল্পনামন্ত্রীর বরাবর ডিও (চাহিদা পত্র) দিয়েও দাবির কথা জানান। কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বরাদ্দ আগেই নির্ধারণ করে দেয়ার কারণে সে অনুসারেই বরাদ্দ চূড়ান্ত করা হয়। তবে এনইসি বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এ বরাদ্দ আরও বাড়তে পারে।
জানা গেছে, প্রকল্পগুলোর চাহিদা অনুসারে বরাদ্দ দিতে হলে আরও সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। এক্ষেত্রে বৈদেশিক অংশে বরাদ্দ কাছাকাছি হলেও জিওবি বা দেশীয় অর্থায়নে বরাদ্দ বাড়ানোর প্রয়োজন হবে। কিন্তু অর্থ সংকট ও সীমাবদ্ধতার কথা চিন্তা করে এ বরাদ্দকেই যথেষ্ট মনে করছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
সর্বোচ্চ বরাদ্দপ্রাপ্ত অন্যান্য খাতের মধ্যে রয়েছে শিক্ষা ও ধর্ম খাতে মোট এডিপির ১০ দশমিক ৮৫ শতাংশ; যা ১০ হাজার ৩৬ কোটি টাকা। পল্লী উন্নয়ন ও পল্লী প্রতিষ্ঠান খাত পাচ্ছে ৮ হাজার ৪৩৬ কোটি টাকা; যা ৯ দশমিক ১২ শতাংশ। স্বাস্থ্য খাতে দেয়া হচ্ছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ; যা ৬ হাজার ৭৭ কোটি টাকা। কৃষি খাতে যাচ্ছে ৪ হাজার ৬২৫ কোটি টাকা; যা মোটের হিসাবে ৫ শতাংশ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বছরের প্রথমে বড় আকারের বাজেট করার জন্য এডিপির আকার বড় করা হয়। কিন্তু পরে এ আকার কমিয়ে আনা হয়। এবারও এর ব্যতিক্রম হওয়ার সুযোগ নেই।
কমিশন সূত্র জানায়, আগামী এডিপিতে প্রাইভেট পাবলিক পার্টনারশিপের (পিপিপি) অধীনে মোট ৪০টি প্রকল্প রাখা হচ্ছে। এডিপিতে প্রায় ১৩শ প্রকল্পের বিপরীতে এ বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে। এর মধ্যে বৈদেশিক আশির্বাদপুষ্ট ৩৬৮টি, আর ২০৯টি প্রকল্প শেষ করার টার্গেট নির্ধারণ করা হচ্ছে। অনুমোদিত সবুজ পাতায় রাখা হচ্ছে ৮৩৪টি প্রকল্প।
২০১৪-১৫ অর্থবছরের শুরুতে মোট এডিপির আকার নির্ধারণ করা হয়েছিল ৮০ হাজার ৩১৪ কোটি ৫২ লাখ টাকা। তবে চলতি অর্থবছরের প্রথম ৮ মাসের (জুলাই ফেব্র“য়ারি) মাথায় মূল এডিপির আকার কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৫ হাজার কোটি টাকায়। সংশোধিত এডিপির ৪০ হাজার ১০০ কোটি টাকা আসবে স্থানীয় মুদ্রায়। আর বিদেশী সহায়তা হিসেবে পাওয়া যাবে ২৪ হাজার ৯০০ কোটি টাকা।
শেষ পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close