¦
মান্নান খান দম্পতি ও বদির বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল

যুগান্তর রিপোর্ট | প্রকাশ : ০৮ মে ২০১৫

অবৈধ সম্পদ অর্জন মামলায় সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান খান এবং তার স্ত্রী সৈয়দা হাসিনা সুলতানার বিরুদ্ধে চার্জশিট (নং-১২৬) দাখিল করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বৃহস্পতিবার ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তার (জিআরও) মাধ্যমে ৮ পাতার চার্জশিট দাখিল করা হয়। এছাড়া কক্সবাজার-৪ আসনের সরকারদলীয় এমপি আবদুর রহমান বদির বিরুদ্ধেও চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।
মান্নান খান দম্পতির বিরুদ্ধে দুদকের উপ-পরিচালক মো. নাসির উদ্দিন চার্জশিট দাখিল করেন। বদির চার্জশিট দাখিল করেন উপ-পরিচালক মঞ্জুর মোরশেদ। দুদকের বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত শাখা-১ থেকে মামলা দুটির তদন্ত হয়।
দুদক সূত্র জানায়, আবদুল মান্নান খানের বিরুদ্ধে ২ কোটি ৬৫ লাখ ৫৭ হাজার ৪৪২ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং ৩০ লাখ ৯৬ হাজার ৬১২ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়েছে চার্জশিটে। তার স্ত্রী সৈয়দা হাসিনা সুলতানার বিরুদ্ধে ৩ কোটি ৩৫ লাখ ২৭ হাজার ২৯ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়েছে ১ কোটি ৮৬ লাখ ৩ হাজার ৯১২ টাকার। উভয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দুর্নীতি দমন কমিশন আইন-২০০৪ এর ২৬(১) ও ২৭(২) ধারায় অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। অনুসন্ধান ও তদন্ত কর্মকর্তা, গুলশান সাব-রেজিস্ট্রার আবদুল মালেকসহ ১২ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে চার্জশিটে।
গত বছরের ২১ আগস্ট মান্নান খানের বিরুদ্ধে ৭৯ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করে দুদক। এর ২ মাস পর ২১ অক্টোবর সৈয়দা হাসিনা সুলতানার বিরুদ্ধেও ৩ কোটি ৪৫ লাখ ৫৩ হাজার ৬৪০ টাকার জ্ঞাতআয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে মামলা হয়। ৯ মাস ধরে চলে তদন্ত। তদন্ত প্রক্রিয়ায় মান্নান খান দাবি করেন, তার কোনো অবৈধ সম্পদ নেই কিংবা অর্জিত সম্পদের কোনো তথ্য গোপন করেননি। তবে দুদকের তদন্তে তার এ দাবি মিথ্যা প্রমাণিত হয়।
চার্জশিটে বলা হয়, অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান খান দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ৩০ লাখ ৯৬ হাজার ৬১২ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। তিনি গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ২ কোটি ৬৫ লাখ ৫৭ হাজার ৪৪২ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। তিনি যুক্তরাজ্য সফর শেষে দেশে ফেরার সময় ৪৩ হাজার ৪৫০ ইউরো আনেন। সম্পদ বিবরণীতে তিনি এ অর্থ উপহার হিসেবে দেখালেও প্রকৃত তথ্য গোপন করেন। জিজ্ঞাসাবাদে এ অর্থের বিশ্বাসযোগ্য কোনো উৎস বলতে পারেননি।
সুতারপাড়া ইউনিয়নের অধীন কাটাখালি গ্রামে ৮০৮/৮০৮/২০ হোল্ডিং নম্বরের জমিতে আবদুল মান্নান খান নকশা বহির্ভূতভাবে সুরম্য ভবন নির্মাণ করেছেন। এটির প্রকৃত নির্মাণ ব্যয় দেড় কোটি টাকার মতো হলেও জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ৭৮ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে বলে জানিয়েছেন।
মান্নান খানের স্ত্রী সৈয়দা হাসিনা সুলতানা সম্পর্কে চার্জশিটে বলা হয়, দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে নিজেকে ব্যবসায়ী পরিচয় দিলেও হাসিনা সুলতানা একজন গৃহিণী। তার কোনো ট্রেড লাইসেন্স নেই। সম্পদ বিবরণীতে ৮৫ লাখ টাকার উৎস দেখিয়েছেন মৎস্য চাষ লব্ধ আয়। অথচ মৎস্য চাষের ওপর তার কোনো প্রশিক্ষণ নেই। তার কোনো মৎস্য খামারও নেই।
কক্সবাজার-৪ আসনের এমপি আবদুর রহমান বদির বিরুদ্ধে দাখিলকৃত চার্জশিটে ৬ কোটি ৩৩ লাখ ৯৪২ টাকার অবৈধ সম্পদের অর্জনের অভিযোগ আনা হয়। সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়েছে ৩ কোটি ৯৯ লাখ ৫৩ হাজার ২৭ টাকার।
১৩ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০১৪ সালের ২১ আগস্ট এমপি বদির বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।
শেষ পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close