¦
বলয়মুক্ত ছাত্রদল গড়ার উদ্যোগ

নজরুল ইসলাম | প্রকাশ : ০৮ মে ২০১৫

আন্দোলন-সংগ্রামে আগের মতো ভূমিকা রাখতে পারছে না ছাত্রদল। অন্যতম এ সহযোগী সংগঠনের দুরবস্থা দেখে হতাশ বিএনপির হাইকমান্ড। এ অবস্থায় ছাত্রদলের পুনর্গঠনকে অনিবার্য মনে করছেন তারা। চাইছেন কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সংগঠনকে পুরোপুরি ঢেলে সাজাতে। আর এ পুনর্গঠন কাজটি পুরোপুরি স্বাধীনভাবেই করতে পারবে ছাত্রদল। নির্ভরযোগ্য সূত্রে ছাত্রদলের বিষয়ে হাইকমান্ডের এ নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা জানা গেছে।
সূত্র আরও জানায়, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী ছাড়া ছাত্রদল কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে কারও কাছে জবাবদিহিতা করবে না। দলের নীতিনির্ধারণী পরবর্তী বৈঠকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
এদিকে সংগঠনকে চাঙ্গা করতে বিএনপির চেয়ারপারসনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান। বৃহস্পতিবার মোবাইল ফোনে তিনি যুগান্তরকে বলেন, এ ধরনের উদ্যোগের ফলে সংগঠনের স্বতন্ত্র অবস্থান বিকশিত হবে। চারদলীয় জোট সরকারের আমলে (২০০২ সালে) এ ধরনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। তখন সাহাবউদ্দিন লাল্টুকে ছাত্রদলের আহ্বায়ক করে সারা দেশে সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ওই সময়ে তারেক রহমান সরাসরি ছাত্রদলের কার্যক্রম মনিটরিং করায় কোনো প্রভাবশালী নেতা বা মন্ত্রী-এমপি বাধার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারেননি। ওই সময়ও ছাত্রদল সাংগঠনিকভাবে বেশ শক্ত অবস্থানে ছিল। নানা কারণে এর ধারাবাহিকতা না থাকায় একপর্যায়ে ছাত্রদল বিএনপির কিছু নেতার বলয়ে আটকে যায়।
আকরামুল হাসান আরও বলেন, এ অবস্থায় কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যদি নিরপেক্ষ থেকে স্বাধীনভাবে কর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে সঠিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে তাহলেই সাংগঠনিকভাবে ছাত্রদলকে শক্তিশালী করা সম্ভব হবে। এ বিষয়টি যদি ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) সরাসরি মনিটরিং করেন, তাহলে সংগঠন শক্তি ফিরে পাবেই। দফতরের দায়িত্বে থাকা ছাত্রদলের সহসভাপতি নাজমুল হাসান যুগান্তরকে বলেন, ছাত্রদল যদি বিশেষ বলয়মুক্ত থাকে আর দুবছর অন্তর অন্তর কমিটি গঠন করা হয় তাহলে মাঠপর্যায় থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত শুধু নেতাই পাওয়া যাবে প্রায় দশ লাখ। সংগঠনের পক্ষ থেকে এ বিষয়টি ম্যাডামকে পরিসংখ্যান আকারেও দেখানো হয়েছে।
জানা গেছে, পরবর্তী আন্দোলন-সংগ্রামে যাওয়ার আগে বিএনপির ভ্যানগার্ড হিসেবে খ্যাত ছাত্রদলকে সাংগঠনিকভাবে কাক্সিক্ষত শক্তি সঞ্চয় করতে বলা হয়েছে। সে ক্ষেত্রে ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা, পৌর, জেলা, মহানগর ও বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে পূর্ণ স্বাধীনতা দেয়া হচ্ছে। এসব কমিটি গঠন করতে গিয়ে সংগঠনের দায়িত্ব প্রাপ্ত নেতাদের যাতে মূল দলের কোনো নেতার ভূমিকায় বিব্রত হতে না হয় সে জন্য খুব শিগগিরই বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতাদের কাছে চিঠি পাঠানো হবে। জানা গেছে, ছাত্রদলের বর্তমান কমিটি ভেঙে না দিয়ে যেসব পদ ফাঁকা রয়েছে সেখানে যোগ্য নেতাদের অন্তর্ভুক্ত করতে বলা হয়েছে। যেসব কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে সেগুলো শিগগিরই গঠন করতে কাজ শুরু করবে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটি। এ বিষয়ে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান জানান, চলতি মাসেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটি গঠনের মাধ্যমে সংগঠনের পুনর্গঠন কাজ শুরু করা হবে। পর্যায়ক্রমে মেয়াদোত্তীর্ণ বাকি কমিটিগুলো গঠন করা হবে। জানা গেছে, যারা অবিবাহিত এবং বয়সসীমা ৩০ বছরের মধ্যে তাদেরই কমিটি আনতে চায় বিএনপির হাইকমান্ড। ছাত্র রাজনীতির গৌরব ফিরিয়ে আনা এবং ছাত্রদলকে সুদৃঢ় ও সুসংহত করতেই এসব উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এ ছাড়া ২০১১ সালের ২১ জুলাই বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মারামারির ঘটনা তদন্তে দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদুকে প্রধান করে এক সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তারা ছাত্রদলের সংকট উত্তরণের উপায় সন্ধান ও নতুন কমিটি গঠনের বিষয়ে কাজ করেছিল। খালেদা জিয়ার বিশেষ নির্দেশে দুদু দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য, যুগ্ম মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ছাত্রদল নেতাদের সঙ্গে কথা বলে একটি প্রস্তাবনা তৈরি করেন। ওই প্রস্তাবনাকেই আমলে নেয়া হবে এবার ছাত্রদলের কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে। যারা টেন্ডারবাজি, দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত তাদের কেউ যাতে কমিটিতে স্থান না পায় সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখা হবে।
ছাত্রদল সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন সময়ে ছাত্রদলের কমিটি গঠন করতে গিয়ে দলের সাবেক মন্ত্রী-এমপি ও স্থানীয় বিএনপি নেতাদের চিরকুটে তা করতে হয়েছে। এতে করে সংগঠনে কর্মীদের মতের প্রতিফলন ঘটেনি। বারবারই তুলনামূলক দুর্বলরা কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে বসেছেন। ফলে সংগঠন থেকে ছিটকে পড়েছেন বহু যোগ্য নেতৃত্ব। এভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে সংগঠন। যার প্রভাব পড়েছে সরকারবিরোধী আন্দোলনে। আকরামুল হাসান বলেন, দলের সাবেক এমপি-মন্ত্রী ও নেতাদের নানামুখী স্বার্থের টানাপোড়েনে পড়ে সরকারবিরোধী আন্দোলনে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি।
শেষ পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close