¦
সীমান্ত বিল পাস বর্তমান সরকারের কূটনৈতিক সাফল্য : প্রধানমন্ত্রী

বাসস | প্রকাশ : ০৮ মে ২০১৫

ভারতের রাজ্যসভায় স্থলসীমান্ত চুক্তি বিল পাসকে প্রধানমন্ত্রী বর্তমান সরকারের ব্যাপক কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করে এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান। বিলটি পাসের প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলা ভাগের পর থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা পর্যন্ত কেউই এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। স্বাধীনতার পর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যকার কয়েক দশকের পুরনো সীমান্তবিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ গ্রহণ করেন। বঙ্গবন্ধু এর সমাধানে কাজও করেছেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর এ প্রক্রিয়া থেমে যায় এবং পরবর্তী কোনো সরকার এ নিয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এ বিল পাসের মধ্য দিয়ে ছিটমহলবাসীর নাগরিকত্ব নিশ্চিত হওয়ায় এখন বড় দায়িত্ব চলে এসেছে। ইতিমধ্যে তাদের বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দেয়া হচ্ছে। এ ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। ছিটমহলবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি ও আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের তিনি নির্দেশ দেন।
তিনি বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থাগুলোর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন। ভারতের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ লোকসভায় এ বিল পাসের ফলে বাংলাদেশ ও ভারত- এই দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে কয়েক দশকের সীমান্তবিরোধ নিষ্পত্তির পথ সুগম হল। ইন্দিরা-মুজিব চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ ও ভারত উভয় দেশের সীমান্তে ভূমি ও নাগরিককেন্দ্রিক দীর্ঘদিনের বিরোধ নিষ্পত্তির এ স্থলসীমান্ত বিল রাজ্যসভায় উত্থাপন করেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা-পরবর্তী সরকারগুলো ভারতের সঙ্গে স্থলসীমান্ত হোক বা সমুদ্রসীমা, কোনো অমীমাংসিত বিষয় নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেয়নি। তিনি বলেন, ওই সরকারগুলো ভারতের কাছে স্বাধীনতা বিক্রির অভিযোগ করে শুধু আওয়ামী লীগকে গালিই দিয়েছে। কিন্তু প্রকৃত সত্য হচ্ছে, তারা দেশের কষ্টার্জিত স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে ভারত ও অন্যান্য প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে ঝুলে থাকা সব সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেয়। কিন্তু ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় এলে আবারও এ প্রক্রিয়া থেমে যায়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সালে ক্ষমতায় ফিরে এসে আওয়ামী লীগ সরকারই এ প্রক্রিয়া পুনরুজ্জীবিত করে। ইতিমধ্যে ভারতের সঙ্গে স্থলসীমান্ত ও সমুদ্রসীমা দুটি বিরোধ নিষ্পত্তি করেছে।
আগুন-সন্ত্রাসীদের ক্ষমা নেই : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগুন-সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের এবং আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, আগুন-সন্ত্রাসীদের কোনো ক্ষমা নেই। তিনি বলেন, আগুনে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করার মতো মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ যাতে আর কেউ করতে না পারে সে জন্য যারা এ ধরনের অপরাধ করবে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। তারা কোনো ক্ষমা অথবা ছাড় পাবে না। আর যাতে কেউ এমন অপরাধ করতে না পারে, এ জন্য তাদের অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এসব কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, তার সামনে দুটি চ্যালেঞ্জ। একটি সন্ত্রাস এবং অন্যটি জঙ্গিবাদ। তিনি বলেন, আমরা দুই ধরনের জঙ্গিবাদ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছি। একটি পেশাদার জঙ্গিবাদ এবং অন্যটি বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের মদদে জঙ্গিবাদ।
এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী দেশে জঙ্গিবাদ যাতে আর মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে সে জন্য কঠোর ব্যবস্থা নিতে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দেন।
তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট তথাকথিত আন্দোলনের নামে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করেছে। এ ধরনের আন্দোলন আমি কখনও দেখিনি। বিএনপি-জামায়াত জোটের লাগাতার অবরোধ কর্মসূচি উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেউ জানে না, অবরোধ আছে কিনা। আমি জানি না বিএনপি নেত্রী অবরোধ প্রত্যাহারে লজ্জা পাচ্ছেন কিনা।
প্রধানমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীরা পেট্রলবোমা ছুড়ে ও অগ্নিসংযোগের মতো ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম চালিয়ে নিরীহ লোকজনকে জীবিত পুড়িয়ে হত্যা করেছে এবং আরও কয়েকশ লোককে আহত করেছে। যাদের আমৃত্যু এর যন্ত্রণা ভোগ করতে হবে। মানুষ আল্লাহতায়ালার সেরা সৃষ্টি। বিএনপি-জামায়াত পেট্রলবোমা ছুড়ে এবং পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করে ঘৃণ্য অপরাধ করেছে।
বিএনপি-জামায়াতের কথিত তিন মাসের আন্দোলন সম্পর্কে প্রশ্ন তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ৯২ দিন তার অফিসে অবস্থান করে খালেদা জিয়া কিছু অর্জন করতে পারেননি বরং সাধারণ মানুষের অবর্ণনীয় দুর্ভোগের সৃষ্টি করেছেন। সন্ত্রাসীদের দমন এবং বিএনপি-জামায়াত জোটের ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম রোধের পাশাপাশি তিনটি সিটি কর্পোরেশনে অবাধ, স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে আইনশৃংখলা বজায় রাখার জন্য আইনশৃংখলা বাহিনীর ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি।
আওয়ামী লীগের জনসভায় ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, দিবালোকে ঘৃণ্য ওই হামলার ঘটনায় বিএনপি-জামায়াত সরকার জড়িত। তিনি এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিচার ত্বরান্বিত করার জন্য আইনশৃংখলা সংস্থাগুলোর প্রতি নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, আপনারা গ্রেনেড হামলাকারীদের বিচার জোরদার করুন এবং তাদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করুন।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন সংস্থার উন্নয়ন ও কল্যাণে গৃহীত বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পুলিশবাহিনী, বিজিবি, বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড এবং পাসপোর্ট ও ইমিগ্রেশন অধিদফতরের আধুনিকায়নে সময়োপযোগী বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি আরও ৫০ হাজার পুলিশ সদস্য নিয়োগে সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া জোরদারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।
শেখ হাসিনা বলেন, গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনা করে তার সরকার পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে তিনি দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা এবং দেশের বিভিন্ন আইনশৃংখলা সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দেন।
শেষ পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close