¦
হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন ববিতা প্রশাসনের দৌড়ঝাঁপ

লোহাগড়া (নড়াইল) প্রতিনিধি | প্রকাশ : ০৯ মে ২০১৫

যুগান্তরে নির্যাতনের সংবাদ ও ছবি দেখছেন নির্যাতিত ববিতা

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের শালবরাত গ্রামে গৃহবধূ ববিতার ওপর তার স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ীর লোকজন মধ্যযুগীয় কায়দায় গাছের সঙ্গে বেঁধে অমানবিক নির্যাতনের ক্ষত শুকায়নি। নড়াইল সদর হাসপাতালের মহিলা ওয়ার্ডের ১৭নং বেডে শুয়ে কাতরাচ্ছেন গুরুতর আহত ববিতা। তার শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে কালশিরা দাগ। শুক্রবার যুগান্তর পত্রিকায় সংবাদ পড়ে ববিতা তার বিয়ের স্বীকৃতির দাবিতে সোচ্চার হয়ে উঠেছেন। বসে নেই পুলিশ প্রশাসনও। তারাও মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, উপজেলার কাশিপুর ইউপির শালবরাত গ্রামের ব্যবসায়ী ছালাম শেখের ছেলে সেনা সদস্য শফিকুল শেখের সঙ্গে পাশের এড়েন্দা গ্রামের ইসমাইল মোল্লার মেয়ে নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের স্নাতক প্রথম বর্ষের ছাত্রী ববিতার (২১) প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০১৩ সালের ২১ নভেম্বর গোপনে তারা বিয়েও করে। বিয়ের কিছু দিন পর থেকেই ববিতার স্বামী সিলেট সেনা নিবাসের ৩৮ বেঙ্গলে কর্মরত সেনাসদস্য শফিকুল শেখ ও তার শাশুড়ি তাকে ঘরে তুলে নিতে টালবাহানা শুরু করে। ববিতা একপর্যায়ে হতাশ হয়ে আদালতের শরণাপন্ন হন। এতে শফিকুল ও তার পরিবারের সদস্যরা ক্ষিপ্ত হয়ে ববিতাকে ডেকে নিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করে। শুক্রবার যুগান্তর পত্রিকায় ববিতার ওপর পাশবিক নির্যাতনের সংবাদ ছবিসহ প্রকাশ হলে ঘটনাটি লোহাগড়া ও নড়াইলে ‘টক অব দ্য টাউন’ এ পরিণত হয়। সকাল ৮টার পর থেকেই যুগান্তরের সংবাদের ফটোকপি করে নিতে দেখা গেছে অনেককে।
দুপুর ৩টার দিকে নড়াইল সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ববিতা যুগান্তরকে বলেন, ‘২০০৮ সালে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে শফিকুলের সঙ্গে তার প্রেম হয়। ২০১৩ সালের ২১ নভেম্বর চাচাশ্বশুর ওমর শেখ ও কালাম শেখের উপস্থিতিতে ববিতাদের বাড়িতে খুব গোপনে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী শফিকুল আমাদের বাড়িতে নিয়মিত যাতায়াত শুরু করে। একপর্যায়ে শ্বশুরবাড়ীর লোকজন তাদের এ বিয়ে অস্বীকার করে। বিয়ের স্বীকৃতি দেয়ার কথা বলে স্বামী শফিকুল গত ২৯ এপ্রিল আমাকে শ্বশুরবাড়ীতে নিয়ে যায়। কিন্তু পরের দিন ৩০ এপ্রিল সকাল বেলা কিছু বুঝে ওঠার আগেই স্বামী শফিকুলসহ তার শ্বশুরবাড়ীর লোকজন গাছের সঙ্গে বেঁধে আমার ওপর মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন চালায়।’ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ববিতা তার বিয়ের স্বীকৃতির জন্য প্রশাসনসহ সমাজের সবার সহযোগিতা কামনা করেন। ববিতার মা খাদিজা বেগম জানান, ‘একদিকে মেয়ের চিকিৎসা খরচ, অন্যদিকে মামলা-মোকদ্দমার ঝামেলা নিয়ে হতাশ আমরা।’
এদিকে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে খবরটি প্রকাশিত হওয়ার পর পরই স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের টনক নড়ে। লোহাগড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) বিপ্লব কুমার সাহা বলেন, মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের আটকের জন্য পুলিশ তৎপর রয়েছে।
 

শেষ পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close