¦
সমৃদ্ধ হচ্ছে কোস্টগার্ড

সৈয়দ আতিক | প্রকাশ : ০৯ মে ২০১৫

গভীর সমুদ্রে অভিযানের পুরো সক্ষমতা ও উদ্ধার তৎপরতার জন্য বিশ্বমানের আধুনিক বাহিনীতে রূপ নিচ্ছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। এ বাহিনীর বহরে দীর্ঘদিনের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে যোগ হচ্ছে হেলিকপ্টার। যা গভীর সমুদ্রে যে কোনো ধরনের উদ্ধার কার্যক্রম ও অভিযানের ক্ষেত্রে দ্রুত সহায়ক হবে। আরও যোগ হচ্ছে চারটি অপসোর পেট্রোল ভ্যাসেলস (ওপিভি) জাহাজ, উত্তাল ঢেউ মোকাবেলায় সক্ষম ইনশোর পেট্রোল ভ্যাসেলস (আইপিভি) ও উভয়চরে অভিযানের জন্য হোভার ক্রাফট। এসব সরঞ্জাম সমৃদ্ধ করবে এ বাহিনীকে। কোস্টগার্ড সদরদফতর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
জানা গেছে, এতদিন খুঁড়িয়ে চলছিল কোস্টগার্ড। সরকারের প্রতিশ্রুতি ছিল এ বাহিনীকে সমৃদ্ধ করা। সেই প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে কোস্টগার্ডের বহরে একের পর এক যোগ হবে আধুনিক জলযান, প্রযুক্তি, উভয়চরের যান ও উচ্চগতির যোগাযোগের মাধ্যম। খুব শিগগিরই চারটি ওপিভি জাহাজ এ বহরে যোগ হচ্ছে। আরও চারটি ওপিভির নীতিগত অনুমোদন হয়েছে। কোস্টগার্ড সরকারের কাছে দাবি করেছে চারটি হেলিকপ্টারের। আর আইপিভির মতো বড় জাহাজ পেলে সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ মোকাবেলা করে তৎপরতা চালানো যাবে।
কোস্টগার্ডের তথ্যানুযায়ী, সমুদ্রের তীর থেকে প্রায় ১২ নটিক্যাল মাইল অভ্যন্তরীণ সমুদ্র অঞ্চল বিস্তৃত। এ অঞ্চলে বাংলাদেশের সব অভ্যন্তরীণ আইন প্রযোজ্য। জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণ, অবৈধ মৎস্য আহরণ, অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান প্রতিরোধ, ত্রাণ ও উদ্ধার কার্য পরিচালনা, বনজসম্পদ সংরক্ষণ, মাদকদ্রব্য পাচার, সমুদ্র ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা, নাশকতামূলক কার্যকলাপ দমন ও সমুদ্র বন্দরের নিরাপত্তা বিধান কোস্টগার্ডের দায়িত্বের অন্তর্গত। এতদিন কোস্টগার্ড গভীর সমুদ্রে খুঁড়িয়ে অভিযান চালিয়েছে। এখন যে কোনো বড় ধরনের অভিযান ও উদ্ধার তৎপরতা চালানোর মতো সক্ষমতা পাচ্ছে এ বাহিনী।
কোস্টগার্ডের পরিচালক (অপারেশন্স) ক্যাপ্টেন মাহমুদ হোসেন জিয়া বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে জানান, জলপথে দেশের অভ্যন্তরে বোট ও ছোট জাহাজ দ্বারা নিরাপত্তা টহল প্রদান ও আভিযানিক তৎপরতা চালিয়ে এ বাহিনী সফল হয়েছে। প্রযুক্তি ও সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে যখন অপরাধীরা অপরাধ করার চেষ্টা করে তখন বাহিনীকেও তাদের মোকাবেলায় সুদৃঢ় ও আধুনিক হতে হয়। সে অনুযায়ী এখন পুরো সক্ষমতা পাচ্ছে কোস্টগার্ড। তিনি বলেন, চোরাচালান ও জলদস্যুতা দমন, মৎস্যসম্পদ রক্ষা, মাদকদ্রব্য পাচার নিয়ন্ত্রণ, বনজসম্পদ রক্ষা, নৌযান পরিদর্শন, অবৈধ সার চালান প্রতিরোধ এবং ত্রাণ ও উদ্ধার তৎপরতায় পরিচালনায় এ বাহিনী এ পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা ও অবদান রেখেছে।
জানা গেছে, সমুদ্র তীরবর্তী ৭১০ কিলোমিটার উপকূল সংলগ্ন প্রায় ৩৪০০০ বর্গকিলোমিটার টহলে থাকা জাহাজগুলোর মধ্যে অধিকাংশ অতি পুরাতন, ছোট ও ধীরগতির ছিল। কোস্টগার্ডের কর্মকর্তাদের মতে, ইন্টারন্যাশনাল ট্রাইব্যুনাল ফর দি ল অব দি সি এর যুগান্তকারী রায় অনুযায়ী বাংলাদেশ বিশাল সমুদ্র এলাকার অধিকার পেয়েছে। আর তা সফলভাবে ব্যবহার করতে হলে এ এলাকার নিরাপত্তা রক্ষা ও আইনশৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা জরুরি। বাংলাদেশে সমুদ্র এলাকায় সঞ্চিত আছে অফুরন্ত মৎস্যসম্পদসহ অন্যান্য খনিজসম্পদ। যা সংরক্ষণ ও সুষ্ঠুভাবে আহরণের জন্য কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। আর সরকার তা চিন্তা করেই একটি সুসংগঠিত এবং কার্যকর কোস্টগার্ড বাহিনী রূপ দিতে ঢেলে সাজাচ্ছে।
কোস্টগার্ডের তথ্যানুযায়ী, উপকূলীয় অঞ্চলের ১৯টি জেলা নিয়ে প্রায় ৪৭ হাজার ২০১ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত । যা দেশের মোট স্থলভাগের প্রায় ৩২ ভাগ। প্রতি বর্গকিলোমিটারে প্রায় ১০১৪ জন মানুষ বসবাস করে। এর মধ্যে ১২টি জেলার ৪৮টি উপজেলা সরাসরি সমুদ্রের সঙ্গে সংযুক্ত। যেখানে জনবসতি প্রতি বর্গকিলোমিটারে গড়ে ৪৮২ জন। উপকূলীয় এলাকার প্রায় সাড়ে ৩ কোটি মানুষের মাঝে শুধু মৎস্য আহরণ করে জীবিকা নির্বাহ করে প্রায় ১.৫ কোটি মানুষ। এ বিশাল এলাকায় জনগণের নদী ও সমুদ্রে চলাচলে নিরাপত্তা প্রদানের জন্য রয়েছে প্রায় দুই হাজার কোস্টগার্ড সদস্য। আনুপাতিক হারে প্রায় সাড়ে সাত হাজার মৎস্যজীবী এবং প্রায় ১৫ হাজার উপকূলবাসীর জন্য রয়েছে একজন কোস্টগার্ড সদস্য যা নিতান্তই অপ্রতুল।
গোয়েন্দা তৎপরতায় নিয়োজিত কোস্টগার্ডের একজন কর্মকর্তা বলেন, আরও প্রায় পাঁচ হাজার জনবল চেয়ে তারা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। আপাতত দুই হাজার জনবল পেলেও এ বাহিনীর কাঠামো আরও শক্ত হবে। সরকার বিষয়টি নিয়ে ভাবছে বলে জানান তিনি।
এদিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ জলসীমায় নৌচলাচল উপযোগী নদ-নদীগুলোর মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৮৪৩০ কিলোমিটার। এরমধ্যে ৩০৫৮ কিলোমিটার প্রধান নদীপথ। এসব নদীপথে বিভিন্ন প্রকার জলযান চলাচলের নিরাপত্তা প্রদানসহ চোরাচালান প্রতিরোধ, মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ ও অন্যান্য নানাবিধ কাজে কোস্টগার্ডকে সারা বছর ধরে দায়িত্ব পালন করতে হয়। এছাড়া সুন্দরবনের নদনদীসহ জলভাগের আয়তন প্রায় ১৭০০ বর্গকিলোমিটার। এ বিশাল জলভাগ প্রতিনিয়ত টহলের আওতায় রাখার জন্য কোস্টগার্ডের বহরে ছিল মাত্র ৩৪টি বিভিন্ন আকারের বোট। এমনকি সমুদ্র তীরবর্তী ৭১০ কিলোমিটার উপকূল সংলগ্ন প্রায় ৩৪০০০ বর্গকিলোমিটার টহলের জন্য মাত্র ১২টি জলযান থাকলেও তার সবই সমুদ্রে চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পড়ে। বর্তমানে বহরে যেসব বড় জলযান, উভয়চর যান, হেলিকপ্টার ও প্রযুক্তি আসছে তাতে এ বাহিনীতে আগের চেয়ে কয়েকগুণ গতিসঞ্চার হচ্ছে।
শেষ পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close