¦

এইমাত্র পাওয়া

  • চাঁদা না দেয়ায় নরসিংদীর পলাশে সন্ত্রাসীদের হামলায় সাবেক ফুটবলার নাদিরুজ্জামান খন্দকার নিহত
সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনাল গঠনে অর্থ ছাড়ে কালক্ষেপণ

যুগান্তর রিপোর্ট | প্রকাশ : ২৫ মে ২০১৫

সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয় ২০১২ সালে। কিন্তু এ ট্রাইব্যুনাল গঠনে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দে গড়িমসি করছে সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়। আর এ কারণে দীর্ঘদিনেও ট্রাইব্যুনাল গঠন সম্ভব হয়নি বলে দাবি সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর।
গত বছর অর্থ সংকটের কারণে এ ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব নাকোচ করে মন্ত্রণালয়টি। এ পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২ এপ্রিল পুনরায় অর্থ ছাড়ের অনুরোধ জানিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে ডিও লেটার (আধা সরকারি পত্র) পাঠায়। এ পরিপ্রেক্ষিতে অর্থ বরাদ্দ না দিয়ে এবার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে কত মামলা দায়ের হয়েছে তা জানতে চেয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। রোববার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে দায়েরকৃত মামলার সংখ্যা জানতে চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মিজানুর রহমান স্বাক্ষরিত একটি পত্র আইন মন্ত্রণালয়ের কাছে পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র এ খবর নিশ্চিত করেছে।
জঙ্গি নির্মূল টাস্কফোর্সের সভাপতি হচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। ১২ মে এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী যুগান্তরকে বলেছিলেন, রাজনৈতিক সহিংসতা জাতীয়ভাবে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এসব ঘটনায় দায়ের হওয়া নাশকতার মামলাগুলোর বিচারে পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হলে অবশ্যই অর্থ বরাদ্দ পাবে। এবার অর্থ কোনো সমস্যা হবে না। তার এ আশ্বাসের পরে এবারও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে অর্থ ছাড় হয়নি। কত মামলা দায়ের হয়েছে তা জানতে চাওয়া হয়েছে। আর এ প্রক্রিয়া শেষ হতে আরও বেশ সময় লেগে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সন্ত্রাসবিরোধী আইন-২০০৯-এর আওতায় সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ২০১২ সালের ১ নভেম্বর আইন মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আইন মন্ত্রণালয় ২০১৩ সালের ২ জুলাই ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট ও রংপুর বিভাগের জন্য একটি করে মোট ৭টি সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের কাজ শুরু করে। ট্রাইব্যুনালগুলোর জনবল কাঠামো, যানবাহন ও অফিস সরঞ্জামাদির তালিকাসহ একটি প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। এ প্রস্তাবে আবর্তক ও অনাবর্তক খাতে সর্বমোট ২ কোটি ৬২ লাখ ৬২ হাজার ৭৪০ টাকা বরাদ্দের জন্য অনুরোধ করা হয়। ওই পত্রের ভিত্তিতে ২০১৩ সালের ২৮ মে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এতে সম্মতি দেয়। পরে গত বছরের ৩ মার্চ অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব বিলকিস জাহান রিমি স্বাক্ষরিত এক পত্রে ট্রাইব্যুনাল গঠনের জন্য অর্থ বরাদ্দের বিষয়ে অপারগতা প্রকাশ করে।
২ এপ্রিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পুনরায় অর্থ বরাদ্দ চেয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে ডিও পাঠিয়েছে। ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের অনুরোধ জানিয়ে স্বরাষ্ট্র মনন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো ওই পত্রে বলা হয়, সন্ত্রাসবিরোধী আইন (সংশোধিত ২০১৩), ২০০৯-এর ২৮ ধারা মোতাবেক এক বা একাধিক সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিধান রয়েছে। ওই আইনের বিভিন্ন ধারায় দায়েরকৃত মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি হলে দেশে কার্যকরভাবে সন্ত্রাস দমন সম্ভব হবে। বর্তমান দায়েরকৃত মামলাগুলো জেলা ও দায়রা জজরা তাদের অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে পরিচালনা করেন বিধায় এর নিষ্পত্তি করতে বিলম্ব হয়। এতে করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের কাক্সিক্ষত লক্ষ্য অর্জিত হচ্ছে না। অর্থাৎ সন্ত্রাস দমন কার্যক্রম সন্তোষজনকভাবে সফল হচ্ছে না।
স্বরাষ্ট্র সচিবের পাঠানো ওই পত্রে আরও বলা হয়, দেশে সন্ত্রাস দমনকে কাক্সিক্ষত মাত্রায় নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করার প্রস্তাব অনুমোদন করে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে বাজেট বরাদ্দের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করছি। এ ডিও লেটারের পরিপ্রেক্ষিতে অর্থ বরাদ্দ না দিয়ে এবার সন্ত্রাসবিরোধী আইনে কত মামলা হয়েছে তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের হরতাল-অবরোধের সময় নাশকতার অভিযোগে শত শত মামলা হয়েছে। এসব মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ শীর্ষস্থানীয় অনেক নেতাকেই আসামি করা হয়েছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হরতাল-অবরোধের ঘটনায় দায়ের হওয়া নাশকতার মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। এরপরই সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিষয়ে ফের নড়েচড়ে বসে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ছয় বছর আগে প্রণীত সন্ত্রাসবিরোধী আইনটি জামিন অযোগ্য, কম সময়ে বিচার এবং মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবনের বিধান রেখে প্রণীত। এ আইনে দায়েরকৃত মামলা জামিন অযোগ্য হলেও ট্রাইব্যুনাল সন্তুষ্ট হলে বিশেষ বিবেচনায় আসামিকে জামিন দিতে পারেন। তবে সে ক্ষেত্রেও শর্ত হচ্ছে, রাষ্ট্রপক্ষকে পর্যাপ্ত শুনানির সুযোগ দিতে হবে এবং রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিষয়ে আপত্তি জানালে তা দেয়া যাবে না।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের হওয়া মামলায় নজরদারি থাকে অনেক বেশি। এ আইনে মামলার অনুমোদনের জন্য জেলা প্রশাসক থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পর্যন্ত যেতে হয়। মামলা তদন্তেও মেয়াদ আইন দিয়ে নির্দিষ্ট করা আছে প্রথমে ১৫ দিন, এরপর ৩০ দিন। সুনির্দিষ্ট কারণে এটা ৭৫ দিন পর্যন্ত হতে পারে। আবার এ মামলার বিচার ১৮০ দিনের মধ্যে শেষ করতে হবে। এ আইনের আওতায় ট্রাইব্যুনাল গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
শেষ পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close