¦

এইমাত্র পাওয়া

  • চাঁদা না দেয়ায় নরসিংদীর পলাশে সন্ত্রাসীদের হামলায় সাবেক ফুটবলার নাদিরুজ্জামান খন্দকার নিহত
তালিকায় দেশী-বিদেশী ২৪১ মানব পাচারকারী

শহীদুল্লাহ শাহরিয়ার ও নাসির উদ্দিন রকি, চট্টগ্রাম ব্যুরো | প্রকাশ : ২৫ মে ২০১৫

দেশজুড়ে বিস্তৃত মানব পাচারকারীদের নেটওয়ার্ক। দীর্ঘ অনুসন্ধানে পুলিশের একটি যৌথ টিম ১১ আন্তর্জাতিকসহ দেশী-বিদেশী শীর্ষ ২৪১ পাচারকারীর একটি তালিকা তৈরি করে পাঁচ মাস আগে। তাদের অনুসন্ধানে বের হয়ে আসে পাচারকারীরা প্রধান রুট টেকনাফের শাহ পরীর দ্বীপ ছাড়াও সারা দেশের ৬০টি পয়েন্ট ব্যবহার করে মালয়েশিয়ায় অবৈধভাবে লোক পাঠাচ্ছে।
চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার পুলিশের তৈরি করা মানব পাচার নিয়ে অনুসন্ধানমূলক গোপন ওই প্রতিবেদনে রয়েছে মানব পাচারের শুরু থেকে শেষপর্যন্ত বহু মানুষের মৃত্যু বা নিখোঁজ হওয়া এবং ক্ষেত্রবিশেষে মুক্তিপণের বিনিময়ে ফিরে আসার মতো নানা ঘটনার বিবরণ। কখন থেকে এ মানব পাচার ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে, কত মানুষ পাচার হয়েছে, কী পরিমাণ মানুষ নিখোঁজ বা মর্মান্তিক মৃত্যুর শিকার হয়েছে, পাচারের নামে কীভাবে হুন্ডি ব্যবসা হচ্ছে, মুক্তিপণ আদায় হচ্ছে, কী পরিমাণ মামলা হয়েছে, সেসব মামলার পরিণতিই বা কী এসব বিষয়ও প্রতিবেদনে স্থান পায়। একইভাবে পাচারকারী চক্রের সঙ্গে আইনশৃংখলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যদের জড়িত থাকার ইঙ্গিতও রয়েছে প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০০ সালে সমুদ্রপথে প্রথম মালেশিয়ায় মানব পাচারের পথ আবিষ্কার করেন টেকনাফের তজর মুলুক নামে এক রোহিঙ্গা জেলে। কেবল  ২০১৪ সালেই ২০ থেকে ২৫ হাজার লোক সমুদ্রপথে মালেশিয়া ও থাইল্যান্ড পাড়ি জমিয়েছে বলে তদন্ত টিমের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে। গত ১৫ বছরে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া পাড়ি দিতে গিয়ে হাজার হাজার অভিবাসী মৃত্যুবরণের পাশাপাশি কারাবন্দি হয়ে মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডের কারাগারে বন্দি রয়েছেন। দেশে মানব পাচার নিয়ে দায়ের করা মামলার একটিতেও শাস্তি হয়নি পাচারকারীদের। ফলে দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে চক্রটি। যার কারণে পুলিশের অনুসন্ধান কমিটি মানব পাচার নিয়ে বিদ্যমান আইনের সংশোধনের প্রস্তাবসহ ৮ দফা সুপারিশ করে। কিন্তু সে সুপারিশের একটিও বাস্তবায়ন করা হয়নি।
চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বনজ কুমার মজুমদার, কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তোফায়েল আহমেদ, চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান, সিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মোহাম্মদের তদন্ত ও অনুসন্ধানে মানব পাচারের ভয়াবহ চিত্র উঠে আসে। পুলিশের উচ্চ পর্যায়ের এ অনুসন্ধান টিম মানব পাচার সংক্রান্ত প্রতিবেদনটি গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর পুলিশ সদরদফতরের অতিরিক্ত ডিআইজি (স্পেশাল ক্রাইম অ্যান্ড প্রসিকিউশন) বরাবরে দাখিল করেন। কিন্তু পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও ওই প্রতিবেদনের সুপারিশ বাস্তবায়ন কিংবা প্রতিবেদনে উল্লিখিত পাচারকারীদের বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চিহ্নিত হওয়ার পরও পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়ায় মানব পাচার ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। যুগান্তরের হাতে আসা গোপন ওই প্রতিবেদনের উল্লেখযোগ্য তথ্য-উপাত্ত পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হল।
১১ আন্তর্জাতিক পাচারকারী : মানব পাচারে বাংলাদেশী ছাড়াও মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড এবং মিয়ানমারের নাগরিকরা জড়িত রয়েছে বলে পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। দেশী-বিদেশী এ আন্তর্জাতিক পাচারকারীদের মধ্যে রয়েছে- থাইল্যান্ডের থাংশুর ছেলে মং, থাইল্যান্ডের ফুডাবা জেলার রোনাং এলাকার চে-এর ছেলে থেন, মিয়ানমারের আবদুল গফুর, টেকনাফ শাহ পরীরদ্বীপ এলাকার জলিলুর রহমানের ছেলে আবদুল আমিন, একই এলাকার ফজল হকের ছেলে আক্তার হোসেন মাঝি, সুলতান আহাম্মদের দুই ছেলে মো. আবু তৈয়ব ও দিল মোহাম্মদ, টেকনাফ উপজেলার দক্ষিণ নয়াপাড়া এলাকার আবদুল হাশিমের ছেলে আনার আলী, টেকনাফ রঙ্গীখালী এলাকার দুদু মিয়ার ছেলে সামসু উদ্দিন, উখিয়া উপজেলার থাইনখালী এলাকার মৌলানা আবদুল করিমের ছেলে মো. সুমন। এদের সবাই বর্তমানে সপরিবারে মালয়েশিয়ায় বসবাস করছে। এ মানব পাচারকারীদের আর্থিক ও অন্যান্য সহযোগিতা করে থাকেন মানাকিং নামে এক মালয়েশিয়ান নারী। তিনি অবস্থান করেন থাইল্যান্ডে।
আরও ২৩০ পাচারকারী : পুলিশের প্রতিবেদনে মানব পাচারে জড়িত শীর্ষ পর্যায়ের ২৩০ জনের নাম উঠে এসেছে। এরা হচ্ছে- পাবনার সুজানগর থানার হেমজপুর মধ্যপাড়া এলাকার বিশু প্রমাণিকের ছেলে মহসীন, হবিগঞ্জ বানিয়াচং থানার নাজিরপুলের ছলিম উদ্দিনের ছেলে মো. শহিদ মিয়া, যশোরের মনিরামপুর থানার ডুমুরখালীর আনার মোড়লের ছেলে মো. মিলন হোসেন, নড়াইলের নড়াগাতী থানার কচুয়াডাঙ্গার মগফুল শেখের ছেলে বিদ্যুৎ শেখ, কক্সবাজারের টেকনাফ শাহ পরীরদ্বীপের মো. হাসিম ওরফে হাতকাটা হাসিমের ছেলে মো. সেলিম ওরফে লম্বা সেলিম, টেকনাফ দক্ষিণপাড়ার জমির উদ্দিন ওরফে আব জহুরের ছেলে জহির মাঝি, একই এলাকার সোনা আলীর ছেলে আলেক মাঝি, টেকনাফ কোয়াইনছড়ি পাড়ার আমির হোসেনের দুই ছেলে খুইল্যা মিয়া ও এজাহার মিয়া, একই এলাকার কালা মিয়ার ছেলে জাহেদ হোসেন, আলী আহাম্মদের ছেলে মো. ইউনুছ, বশির আহাম্মদের ছেলে আমান উল্লাহ, সলিম উদ্দিনের ছেলে ফজল আহাম্মদ, ফজল মিয়ার ছেলে সলিম উদ্দিন, কালা মিয়ার ছেলে আইয়ুব, আবু খায়েরের ছেলে জহির আহম্মদ, নুরুল ইসলামের ছেলে আবদুল্লাহ, বাচা মিয়ার ছেলে আবদুল হক, টেকনাফ কাটাবুনিয়ার আবদুল কাশেমের ছেলে ইছহাক, একই এলাকার ইউসুফ আলীর ছেলে সিদ্দিক আহাম্মদ, আজিজুর রহমানের ছেলে ফয়েজ, মকবুল আহাম্মদের ছেলে নুরুল ইসলাম ওরফে কালা পুতু, আবদুল মাজেদের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম, সফিউল্লাহর ছেলে মীর আহাম্মদ, টেকনাফ কাটাবুনিয়া সাবরাং এলাকার কালা মিয়ার ছেলে মো. কাসেম, ওই এলাকার মো. কাসেমের দুই ছেলে মো. ইসমাইল ও জুনাইদ হোছাইন ওরফে তুরকি, আবদুল কুদ্দুছের ছেলে ইমাম হোছন, আবদুল্লাহর স্ত্রী রিযাজু বেগম, কাদির হোসেনের ছেলে ফিরোজ, আজিজুর রহমানের ছেলে হাফেজ উল্লাহ, আজিজুর রহমানের ছেলে মনির উল্লাহ, আবদুল মাজেদের তিন ছেলে জাহাঙ্গীর, আলমগীর ও শওকত হোসেন, একই এলাকার আবদুল হকের ছেলে ছলিম উদ্দিন, মকবুল আহম্মদের ছেলে ছৈয়দ হোছন, কবির আহম্মদের ছেলে জাহাঙ্গীর, মোহাম্মদ ছিদ্দিকের ছেলে জসিম উদ্দিন, আবদুর শরিফের দুই ছেলে ছিদ্দিক ওরফে বাগুইন্যা ও মোহাম্মদ শফি ওরফে মইগ্যা, একই এলাকার সফি উল্যাহর ছেলে মীর আহাম্মদ, নুরুজ্জামানের দুই ছেলে এজাহার মিয়া ও মেজাহের মিয়া, আবদুল্লাহর ছেলে মোহাম্মদ ফারুক, আবদুল আমিনের ছেলে মোহাম্মদ শরিফ, নুরুল ইসলামের স্ত্রী মুন্নি আকতার, শহর মুল্লুকের ছেলে আবদুল্লাহ, আমির হামজার চার ছেলে আবদুর রহমান, কামাল, জামাল, আবুল কালাম, ছুবি আলমের তিন ছেলে জাহাঙ্গীর, রাশেদ ও সাকের, মোহাম্মদ ওরফে লুনার ছেলে জাফর, ফজরাস সিকদারের ছেলে মোহাম্মদ হোছন, আবদুল মাবুদের দুই ছেলে ওমর হোসেন ও ওসমান, আজিজুর রহমানের ছেলে ফয়েজ উল্লাহ, আবদুল গফুরের ছেলে হেলাল, কালা পুতুর ছেলে আবদুল্লা, ছৈয়দুর রহমানের ছেলে জিয়াউর রহমান, আবদুল হকের ছেলে নুরুল আলম, আবদুল কাদেরের ছেলে আবদুল করিম, তাজুর মল্লিকের ছেলে শামসুল আলম, মতিউর রহমানের ছেলে আবদুল আজিজ, আবদুল কাদেরের ছেলে নুরুল আলম, নুরুজ্জামানের ছেলে মো. আমিন, মো. হোছনের ছেলে মো. দিলু, ছুনা আলীর ছেলে মো. ফারুক, আবদুল হকের ছেলে মো. আলম, ফয়জুর রহমানের ছেলে জিয়াউল হক, আবদুর রশিদের ছেলে দিলদার মিয়া, টেকনাফ কচুবনিয়া এলাকার সুলতান আহাম্মদের ছেলে মৌলভী বশির ওরফে ডাইল্যা, আবদুর রহিমের ছেলে নজির আহাম্মদ ওরফে নজির ডাকাত, আবদুল খালেকের ছেলে আবদুল হামিদ, মোছাব্বের আহাম্মদের ছেলে গুরা মিয়া, আবদুর রহমানের ছেলে কাশেম ওরফে বাগু, ফজল আহম্মেদের ছেলে জাফর আলম, টেকনাফ কচুবনিয়া সাবরাং এলাকার আবদুল খালেকের দুই ছেলে সিরাজুল হক ও সাব্বির, উলা মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ হোছন, আবদুর রহমানের ছেলে হাছান, নজির আহম্মদের ছেলে আবদুচ ছালাম, সুলতান আহম্মদের দুই ছেলে শাহজাহান ও শাকের, এজাহার মিয়ার ছেলে মাজেদ, আবদুর শরীফের ছেলে মৌলভী আবুল হোছন, আবদুল হকের দুই ছেলে সাইফুল ও রশিদ আহম্মদ, মো. কাসেমের ছেলে মোহাম্মদ আলী, জাফর আহম্মদের ছেলে মো. জাবের, আবদুল মালেকের দুই ছেলে বকসু মাঝি ও রশিদ আহম্মদ, আবদুল করিমের ছেলে মৌলভী আাবুল হোছন, ইমাম শরীফের ছেলে রহিম উল্লাহ, ছিদ্দিক আহম্মদের ছেলে ইমাম হোছন, টেকনাফ আলীর ডেইল এলাকার নজির আহম্মদের দুই ছেলে আক্তার কামাল ও সাইদ কামাল, টেকনাফ হাদুর ছড়া এলাকার আলো ফকিরের ছেলে আবদুল গফুর, কবির আহম্মদের ছেলে সাকের মাঝি, টেকনাফ মুন্ডার ডেইল এলাকার নাজু মিয়ার ছেলে নুরু মাঝি, হোসেন আলী সিকদারের ছেলে জহির ওরফে কানা জহির, টেকনাফ নয়াপাড়া সাবরাং এলাকার লাল মিয়ার তিন ছেলে ইমাম শরীফ, লিটন ও মো. শরিফ, আবদুল্লাহর ছেলে মো. লিটন, জালালের ছেলে আবুল হাসিম, মো. হোসেনের ছেলে দলিল আহম্মদ, টেকনাফ পুরানপাড়া এলাকার মৌলানা আবদুল গফুরের ছেলে হাফেজ মুক্তার, হারিয়াখালী এলাকার নূর আহম্মদের ছেলে সাদ্দাম, গুরা মিয়ার ছেলে আবুল কালাম, আবুল ওরফে কাবিলের ছেলে আমান, নয়াপাড়া  ঘোনারপাড় এলাকার আজিজ উল্লার ছেলে মো. শরিফ, আবু বক্করের ছেলে রহমত উল্লাহ, বহত আলীর ছেলে আবদুল্লাহ, কবির আহাম্মদ, শামসুল আলম, হাজীপাড়ার মুজিব উল্লাহ, আক্তার কামাল, মোয়াজ্জেম হোসেন, সাব্বির আহাম্মদ, সাজেদা বেগম, মৌলভী ইউনুছ, মৌলভী কলিম উল্লাহ, আবদুল শুক্কুর, নয়াপাড়া লাফার ঘোনা এলাকার লাল মিয়ার ছেলে আবদুর রানা, বাজারপাড়া এলাকার হাজী আবদুল করিমের ছেলে হামিদ হোসেন, তাজিয়াকাটা এলাকার করিম সিকদারের ছেলে মমতাজ মিয়া, বাদশা মিয়ার ছেলে মোজাম্মেল, সুলতানের ছেলে আবুল কাশেম, লম্বাঘোনা এলাকার মো. রশিদের ছেলে, নেয়ামত উল্লাহ বাশি, মহেশখালী কুতুবজোম বটতলা এলাকার হামিদ বকসুর ছেলে নুরুল আবছার, মধ্যম গহিরার বাদশা মিয়ার ছেলে মো. কামাল, আবদুল হকের ছেলে আবদুল হাকিম, গহিরা তেলিপাড়া ডাক্তার বাড়ির আবদুর রশিদের ছেলে মো. লোকমান, আনোয়ারা উপজেলার মধ্য গহিরা বাচা মিয়া মাঝির বাড়ির নুরুজ্জামানের ছেলে মো. জসিম, টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপ মিস্ত্রিপাড়ার ফয়েজুর রহমানের ছেলে মো. হাসান, নরসিংদী মাদকদী ইউনিয়নের মিয়াবাড়ির রওশন আলীর ছেলে মিশু মিয়া, বগুড়া সোনাতলী তেকানীর তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে সোনা মিয়া, ফৌজদারহাট উত্তর ছলিমপুরের আমিনুর রহমানের ছেলে তাজউদ্দিন, একই এলাকার মঙ্গল চাঁদের বাড়ির মসিউদ্দৌলার ছেলে হারুন অর রশিদ, মোহাম্মদ আলীর ছেলে মো. রুবেল, খান মোহাম্মদ মিয়াজী বাড়ির নুরুল আমিনের ছেলে মো. নওশাদ, বজলু হাবিলদার বাড়ির আবদুর রশিদের ছেলে মো. খোরশেদ, মৌলভী আবু তাহেরের বাড়ির আবু তাহেরের ছেলে মো. জাহেদ, সিরাজগঞ্জের বেলকুচি মারুমান্দি জিরুরীর মো. বেলাল, একই এলাকার হাজী হানিফের ছেলে মো. জামাল, রবিউল ইসলামের ছেলে জকু মাঝি, আনোয়ারা দক্ষিণ গহিরা ঘাটকুল এলাকার সরুর ছেলে আহছান মাঝি, ঝিনাইদহ কালীগঞ্জ রগুনাথপুর রবিনের ছেলে রানা, মাগুরা শালিকা শাপলা হাট এলাকার মো. কামরুল, উখিয়া সোনারপাড়া মকতুল হোসেনের ছেলে নুরুল কবির, উখিয়া পশ্চিম সোনাইছড়ি জালিয়াপালং এলাকার আজিজ উল্যার ছেলে কায়সার জনি, উখিয়া সোনারপাড়া এলাকার নুরুল কবিরের স্ত্রী রেবি আক্তার, একই এলাকার ইউসুফ আলীর ছেলে রুস্তম আলী, পূর্ব সোনারপাড়ার আবদুল জলিলের ছেলে লালু মাঝি, উখিয়া জালিয়াপালং পশ্চিম সোনারপাড়ার নুরুল কবিরের ছেলে নুরুল আবছার, কুতুবদিয়া কৈয়যার বিলের আবু ছৈয়দের ছেলে মাহাদুল করিম, উখিয়া জালিয়াপালং লম্বরীপাড়া ছালেহ আহম্মদের ছেলে মফিজুর রহমান, পশ্চিম সোনাইছড়ির মো. হোছনের ছেলে শাহ আলম, লম্বরীপাড়ার ইসলাম মিয়ার ছেলে বেল্লাল ওরফে লাল বেল্লাল, সোনাইছড়ির ফজল আহমদের ছেলে আক্তার, আমির হামজার ছেলে সৈয়দ আলম, সওদাগর পাড়ার সালেহ আহাম্মদের ছেলে মফিজ ওরফে মালয়েশিয়া মফিজ, নাজির হোছনের ছেলে জয়নাল আবেদীন, পশ্চিম সোনারপাড়ার জহির আহম্মেদের ছেলে মো. জাফর মাঝি, খরুশকুল খামারপাড়ার আবুল হোছনের ছেলে সৈয়দ হোছন, মোস্তফা মাঝির ছেলে বেলাল, নুরুল হকের ছেলে আজিজুল হক, মোস্তফা মাঝির ছেলে নুনু, সোলায়মানের ছেলে আনোয়ার হোছন, খুরশকুলের নুরু মাঝি, চৌফলদণ্ডী দক্ষিণ পাড়ার নুরুল হকের ছেলে একরাম মেম্বার, পোকখালীর আবুল হোসেনের ছেলে শুক্কুর সারাং, শহর মুল্লুকের ছেলে নুরুল হাকিম মেম্বার, রমজান আলী মেম্বারের ছেলে রুবেল, আলী বকসুর ছেলে আবুল কালাম, টাইম বাজার এলাকার সিকান্দরের ছেলে আরাফাত, নুরুল আলমের ছেলে পারভেজ, নুর মোহাম্মদের ছেলে সামশুল আলম, রেজাউল করিম, শাহাদাত উল্লাহ, একরাশ ওরফে রাশেদ, আবদুল মালেকের ছেলে বেলাল, জামাল মাঝির ছেলে রেজাউল করিম, কুতুবদিয়া পাড়ার রশিদ আহাম্মদের ছেলে দস্তগীর, মঞ্জুর মাঝির ছেলে আনিসুর রহমান, শাহাদাত উল্লাহর ছেলে কামরুল হাসান, লাল মিয়ার ছেলে বাদশা, শামসুল আলমের ছেলে রিদোয়ান, রশিদ মাঝি, সোনার মিয়া, সৈয়দ করিম, কক্সবাজার লিংক রোড বিসিক শিল্প এলাকার খায়ের আহাম্মদের ছেলে পাখি, পিএম খালী ছনখোলার মো. মোস্তাকের ছেলে শফি উল্লাহ, সফর মিয়ার ছেলে বাহার উদ্দিন, টেকনাফ শাহ পরীরদ্বীপ বাজার পাড়ার সোলতান আহাম্মদের ছেলে ধলু হোসেন, মো. ইউনুছ, হাজী ছালে আহমদের ছেলে মো. ইসমাইল, আবু শামা ওরফে বাডু হাজীর ছেলে ফিরোজ আহাম্মদ, আবদুল মোতালেবের ছেলে দেলোয়ার, সোলতান আহাম্মদের ছেলে সাহাব মিয়া, জালাল আহাম্মদের ছেলে শরীফ হোসেন, মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে শরীফ হোসেন ভুলু, গনি মিয়ার ছেলে নুর হাকিম, ধলু হোসেনের ছেলে বেলাল উদ্দীন, জালাল আহাম্মদের ছেলে নুর হোসেন, নজির আহাম্মদের ছেলে নুরুল আলম, হাজী আলী হোসেনের ছেলে এনায়েত উল্লাহ, হাসেমের ছেলে মো. সেলিম ওরফে সলিম, দলিলুর রহমানের ছেলে মো. হোসেন, জোর আহাম্মদের ছেলে জাফর আহাম্মদ, মাহামুদুল মাঝির ছেলে মো. শফিক, আবুল কাশেম মিয়ার ছেলে আবু তাহের, নুর আহাম্মদের ছেলে মো. জাফর, আলী মাঝি, কবির হোসেনের ছেলে সামশুল আলম, আবদুল লতিফের ছেলে সাব্বির আহাম্মদ ও কালা মিয়ার ছেলে কামাল হোসেন।   
মানব পাচারের রুট : পাচারকারী চক্রটি বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কক্সবাজারের টেকনাফ উপকূলীয় এলাকা দিয়ে মানব পাচার করে থাকে। দেশের সব স্থান থেকে দালাল এবং এজেন্টের মাধ্যমে লোকজনকে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের অদূরে ৯০ ডিগ্রি বামে মিয়ানমার সীমান্তে অবস্থানরত ট্রলারে সমবেত করে রওনা দেয়া হয়। ৬০টি পয়েন্ট দিয়ে মানব পাচার করা হয়। পয়েন্টগুলো হচ্ছে- কক্সবাজারের নুনিয়া ছড়া, ফিশারীঘাট, নাজিরার টেক, সমিতিপাড়া ঘাট, কলাতলী ঘাট, ঈদগাহ ঘাট, খুরুশকুল ঘাট, চৌফলদণ্ডি ঘাট, পিএমখালী ঘাট। মহেশখালীর সোনাদিয়া, গোরপঘাটা, কুতুবজোম ঘাট ও ধলঘাটা। উখিয়ার সোনারপাড়া, রেজুরখাল, ইনানী, ছেপটখালী, মনখালী ও শফিরবিল। টেকনাফের বাহালছড়া, হাবিরছড়া, বড়ডেইল, মহেশখালী পাড়া, সাবরাং, নয়াপাড়া, কাটাবুনিয়া, খুরের মুখ, শাহপরীর দ্বীপ, ঘোলারপাড়া, মাঝেরপাড়া, পশ্চিমপাড়া, জালিয়াপাড়া, হাদুরছড়া, জাহাজপুরা, কচ্ছপিয়া, ও শ্যামলপুর। চকরিয়া থানার বদরখালী ও সুন্দরবন। পেকুয়া থানার মগনামা। চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী, আনোয়ারা, পটিয়ার শিকলবাহা, গহিরা সন্দ্বীপের উপকূলীয় ঘাট। চট্টগ্রাম মহানগরীতে কর্ণফুলী, বন্দর, পতেঙ্গার উপকূলীয় এলাকা। নোয়াখালীর চরজব্বর, হাতিয়ার নলচিরা ঘাট ও জাহাজমারা ঘাট। পটুয়াখালীর মনপুরা, সাতক্ষীরার উপকূলীয় এলাকা, বরগুনার উপকূলীয় এলাকা এবং খুলনার উপকূলীয় এলাকা।  
মানব পাচার সংক্রান্ত মামলা : ২০১০ সাল থেকে গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত ৫ বছরে মানব পাচার নিয়ে চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজরে ২৭৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৩৫৫ আসামির বিরুদ্ধে ২৪২টি মামলা দায়ের করা হয় কক্সবাজারের বিভিন্ন থানায়। একই সময়ে সিএমপির ১৬ থানায় মানব পাচার আইনে ১৬৭ আসামির বিরুদ্ধে মোট ২৯টি মামলা দায়ের করা হয়। চট্টগ্রাম জেলায় দায়ের করা হয় ৫টি মামলা। চট্টগ্রাম আদালতের কয়েকজন আইনজীবী যুগান্তরকে জানিয়েছেন, ভিকটিমরাই বাদী হয়ে মানব পাচার রোধে থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা চলাকালে আদালতে সাক্ষ্য দিতে অনীহা প্রকাশ করেন অধিকাংশ মামলার বাদী। ফলে বিচারে আসামি খালাস পায়। মানব পাচার রোধে দায়ের করা মামলাগুলো মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা নেই। তদন্ত হয় গতানুগতিকভাবে।
প্রতিবেদনের ৮ সুপারিশ : সমুদ্রপথে মানব পাচার রোধে পুলিশের অনুসন্ধান কমিটি ২০১৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর ৮ দফা সুপারিশ করে। কিন্তু সেগুলোর একটিরও বাস্তবায়ন ৫ মাসে হয়নি। ৮ দফা সুপারিশের মধ্যে রয়েছে- মানব পাচার আইনে দায়ের করা মামলাগুলো তদারকির জন্য উচ্চপর্যায়ের মনিটরিং সেল গঠন করা,  মনিটরিং সেলে অন্যদের সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং অ্যাটর্নি জেনারেলের প্রতিনিধি থাকা, আসামিদের শাস্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সাক্ষী হাজিরার বিষয়ে জেলা/মেট্রোপলিটন পর্যায়ে বিশেষ মনিটরিং সেল গঠন করা, গুরুত্বপূর্ণ মামলার মতো মানব পাচার আইনে রুজুকৃত মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচার করা, মানব পাচারের অধিকাংশ ঘটনা যেহেতু টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ দিয়ে ঘটছে সেহেতু ওই দ্বীপে আইনশৃংখলা বাহিনীর দৃশ্যমান উপস্থিতি এবং এর জন্য দ্বীপে একটি পূর্ণাঙ্গ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র স্থাপন করা, উপকূলীয় অঞ্চলে মানব পাচার রোধে ইউএনও, ওসি, ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা, মানব পাচারে দেশীয় চক্রের সঙ্গে থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার কিছু লোক জড়িত রয়েছে বিধায় ওই প্রবাসীদের আইনের আওতায় আনা হয়। এ ছাড়াও প্রতিবেদনের সুপারিশে বলা হয়েছে, টেকনাফ থানার সঙ্গে মিয়ানমারের ৬০ কিলোমিটার এবং উখিয়া থানার সঙ্গে ২০ কিলোমিটার নৌপথ রয়েছে। রোহিঙ্গাদের অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে এবং মানব পাচার ঠেকানোর জন্য এসব এলাকায় নৌপুলিশের ইউনিট স্থাপন করা যেতে পারে। মানব পাচারে যেহেতু ৪টি দেশ (বাংলাদেশ, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়া) সম্পর্কিত সেহেতু পাচারকারীদের আর্থিক সমন্বয় ও লেনদেনের ক্ষেত্রে হুন্ডি ব্যবসায়ীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই তাদের আইনের আওতায় আনা যেতে পারে।
 

শেষ পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close