¦

এইমাত্র পাওয়া

  • চাঁদা না দেয়ায় নরসিংদীর পলাশে সন্ত্রাসীদের হামলায় সাবেক ফুটবলার নাদিরুজ্জামান খন্দকার নিহত
পুলিশের দুটি তদন্ত প্রতিবেদনই প্রত্যাখ্যান সংসদীয় কমিটির

শেখ মামুনূর রশীদ | প্রকাশ : ২৫ মে ২০১৫

মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা ও বিজ্ঞানমনস্ক লেখক অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ড এবং পহেলা বৈশাখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় যৌন নিপীড়নের ঘটনায় পুলিশের দুটি প্রতিবেদনই প্রত্যাখ্যান করেছে স্বরাষ্ট্র্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। রোববার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির সদস্যরা এ রিপোর্ট প্রত্যাখ্যান করেন। পাশাপাশি তারা দুটি ঘটনাই খতিয়ে দেখতে আরও অধিকতর তদন্তের সুপারিশ করেন।
এ ছাড়াও যৌন নিপীড়নের ওই ঘটনার পর স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) শহিদুল হক মিডিয়ায় যে বক্তব্য দিয়েছেন তাতে অমিল রয়েছে বলে দাবি করেন কমিটির সদস্যরা। তারা বলেন, এতে করে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি স্পর্শকাতর অভিহিত করে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলার ক্ষেত্রে আরও সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেন তারা।
জানতে চাইলে এ প্রসঙ্গে কমিটির সভাপতি টিপু মুন্সি রোববার যুগান্তরকে বলেন, ‘ব্লগার অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ড এবং যৌন নিপীড়নের ঘটনায় দেয়া পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে কমিটিতে আলোচনা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এ ঘটনার সময় পুলিশের কোনো গাফিলতি ছিল না। আমরা বিষয়টি আরও ভালোভাবে খতিয়ে দেখতে বলেছি।’ যৌন নিপীড়নের ঘটনায় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও আইজিপির দেয়া বক্তব্য সম্পর্কে তিনি বলেন, ওই ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে আইজিপি যে কথা বলেছেন, তার সঙ্গে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে ‘গরমিল’ রয়েছে।
বইমেলা থেকে বেরিয়ে গ্রীন রোডের বাসায় ফেরার পথে ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় স্ত্রীসহ সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র্র প্রবাসী ব্লগার অভিজিৎ রায়। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান তিনি। অভিজিৎ রায়কে রক্ষা করতে গিয়ে তখন সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর আহত হন স্ত্রী রাফিদা আহম্মেদ বন্যা। পুলিশের কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে প্রকাশ্যে এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে দেশে-বিদেশে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায় ওই সময় পাশেই পুলিশের একাধিক সদস্য দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় যৌন নিপীড়নের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায়ও ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয় সারা দেশে। যৌন নিপীড়নের ঘটনায় অভিযুক্তদের চিহ্নিত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এখনও আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এ ঘটনার সময়ও পাশেই ছিলেন পুলিশের একাধিক সদস্য। সবকিছু দেখেও না দেখার ভান করে তারা ছিলেন নীরব দর্শকের ভূমিকায়। দুটি ঘটনায়ই পুলিশ তার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেনি কিংবা দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের অবহেলা ছিল কিনা তা খতিয়ে দেখার দাবি ওঠে সমাজের বিভিন্ন মহল থেকে। এর পরিপ্রেক্ষিত্রে পুশিল প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে বলে জানানো হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পুলিশ প্রশাসন সম্প্রতি দুটি ঘটনারই তদন্ত প্রতিবেদন স্বরাষ্ট্র্র মন্ত্রনালয়ে জমা দেয়। যার অনুলিপি তারা এ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতেও পাঠায়। তদন্ত প্রতিবেদনে তারা দাবি করে, অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ড এবং যৌন নিপীড়নের ঘটনার সময় কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের গাফিলতি পাওয়া যায়নি।
রোববার বৈঠকে এ প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে বিষয় দুটি আরও ভালোভাবে খতিয়ে দেখার সুপারিশ করেন কমিটির সদস্যরা। তারা বলেন, একের পর এক ঘটনা সংঘটিত হচ্ছে। কোথাও কোথাও পুলিশ সদস্যরা নীরব দর্শকের ভূমিকায় থাকছেন। যা খুবই দুঃখজনক। এতে করে অপরাধ আরও বাড়বে দাবি করে কমিটির সদস্যরা বলেন, পুলিশ সদস্যরা তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করলে অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানো সম্ভব।
কমিটির পক্ষ থেকে এ সময় ২১ মে কুড়িল বিশ্বরোড এলাকা থেকে এক আদিবাসী তরুণীকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে ধর্ষণের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। কমিটির সদস্যরা এ ঘটনার সঙ্গে যুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার এবং বিচারের মুখোমুখি করার জন্য পুলিশ বাহিনীকে নির্দেশনা দেন। এ সময় পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঘটনার সঙ্গে যুক্ত সন্দেহে একজনকে তারা আটক করেছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। অচিরেই এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত বাকিদেরও আটক করা হবে। বৈঠকে সিলেটে ব্লগার অনন্ত বিজয় দাশ হত্যাকাণ্ড এবং এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্তদের খুঁজে বের করা নিয়েও আলোচনা হয়। সংসদীয় কমিটি একের পর এক ব্লগার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে। তারা তথ্য-প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করে ঘাতকদের চিহ্নিত করার সুপারিশ করে।
এ ছাড়াও আল কায়দা-আনসারুল্লাহ বাংলা টিম-১৩ নামে একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে দেশের ১০ বিশিষ্ট ব্যক্তিকে হত্যার হুমকি দিয়ে পাঠানো চিঠি আমলে নেয়ার সুপারিশ করে সংসদীয় কমিটি। তারা পুলিশকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি বিশিষ্টজনদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বলেন।
আল কায়দা-আনসারুল্লাহ বাংলা টিম-১৩ নামে এ সংগঠন ২০ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আআমস আরেফিন সিদ্দিক, অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচটি ইমাম, গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার, জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ অসীম সরকার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কাবেরী গায়েন, সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট তারানা হালিম, বিকাশ সাহা, ইকবালুর রহিম ও পলান সুতার- এ ১০ জনকে হত্যার হুমকি দিয়ে চিঠি পাঠায়।
এ বিষয়ে সংসদীয় কমিটির আলোচনা সম্পর্কে সভাপতি টিপু মুন্সি বলেন, ‘আইনশৃংখলা বাহিনীকে বলা হয়েছে, যে দশ ব্যক্তিকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে তারা কমবেশি সবার কাছেই পরিচিত। তাই তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। পুলিশকে কমিটির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, কোনো ঘটনা ঘটার আগেই তাদের নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে। ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর নিরাপত্তা বাড়িয়ে লাভ কী?’
বৈঠকে হঠাৎ করে খুন, ধর্ষণ, ডাকাতি, ছিনতাই বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন কমিটির সদস্যরা। তারা আইনশৃংখলা পরিস্থিতির অবনতিতেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এছাড়াও মানব পাচার নিয়েও আলোচনা হয় কমিটির বৈঠকে। মানব পাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনার সুপারিশ করে কমিটি। তারা এ ঘটনায় পুলিশ বাহিনীর কোনো সদস্য জড়িত থাকলে তাদেরও ছাড় না দেয়ার নির্দেশ দেন। এ বিষয়ে কমিটির সভাপতি টিপু মুন্সি বলেন, সিলেটে ব্লগার হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত খুঁজে বের করার রাজধানীর কুড়িল এলাকায় আদিবাসি তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনায় দোষীদের দ্রুত চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনার সুপারিশ করেছেন তারা। আদিবাসী তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনায় পুলিশ একজনকে গ্রেফতার করেছে বলে সংসদীয় কমিটির সদস্যদের অবহিত করেছে।
কমিটির সভাপতি টিপু মুন্সির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির সদস্য স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, মো. ফরিদুল হক খান দুলাল, আবুল কালাম আজাদ, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, ফখরুল ইমাম, কামরুন নাহার চৌধুরী অংশ নেন।
বৈঠকে রংপুর ও গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ গঠনের সরকারি নীতিগত সিদ্ধান্তের সর্বশেষ কার্যক্রমের অগ্রগতি এবং পুলিশ বাহিনীর যানবাহন সমস্যা সমাধানের বিষয়ে আলোচনা হয়। কমিটি পুলিশ বাহিনীতে ৫০ হাজার পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে। পুলিশ বাহিনীর যানবাহন সমস্যা সমাধানের জন্য মন্ত্রণালয়ের দীর্ঘসূত্রতা অবসানের পাশাপাশি বৈদেশিক ঋণ ও অনুদানের মাধ্যমে যানবাহন ক্রয় করার জন্য প্রয়োজনীয় পদেক্ষপ গ্রহণের সুপারিশ করে কমিটি। এছাড়া আগামী ২৪ নভেম্বরের মধ্যে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কার্যক্রমে গতিশীলতা বাড়ানোরও তাগিদ দেয়া হয়েছে।
 

শেষ পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close