jugantor
নারীদের চাকরি থেকে বিরত রাখার সুযোগ নেই : প্রধানমন্ত্রী

  বাসস  

১০ ডিসেম্বর ২০১৫, ০০:০০:০০  | 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে বেগম রোকেয়া পদক গ্রহণ করছেন বিবি রাসেল	-যুগান্তর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ইসলাম নারীদের সুযোগ দিয়েছে এবং কর্মক্ষেত্রে তাদের অধিকার নিশ্চিত করেছে। তাই কোনো অজুহাতে চাকরি করা থেকে দেশের নারীদের নিরস্ত করার কোনো অবকাশ নেই। বুধবার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বেগম রোকেয়া দিবসের উদ্বোধন এবং বেগম রোকেয়া পদক-২০১৫ বিতরণকালে তিনি একথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শালীনতা বজায় রেখে মহিলারা সব কাজ করতে পারে। ইসলাম তাদের সেই সুযোগ দিয়েছে। ইসলাম একমাত্র ধর্ম, যে ধর্ম নারীদের অধিকার নিশ্চিত করেছে, হোক তা সম্পদ অথবা কর্মক্ষেত্র। তিনি বিবি খাদিজার দৃষ্টান্ত তুলে ধরে বলেন, তিনি নারীদের মধ্যে প্রথম ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন, পেশার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন একজন ব্যবসায়ী। মহানবীর (সা.) স্ত্রী বিবি আয়েশা যুদ্ধক্ষেত্রে সব সময় মহানবীর (সা.) পাশে থাকতেন এ কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি আমাদের সামনে সর্বোত্তম দৃষ্টান্ত এবং আমরা এটি সর্বদা সামাজিকভাবে ধারণ করব।

এ বছর বিশ্বখ্যাত ফ্যাশন ডিজাইনার বিবি রাসেল এবং বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, লোকহিতৈষী ও সমাজকর্মী ড. তাইবুন নাহার রশিদ সম্মানজনক বেগম রোকেয়া পদক পেয়েছেন। বিবি রাসেল এবং মরহুম তাইবুন নাহারের পুত্র আলী আসগর খুরশীদ প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করেন।

১৯৯৫ সালে বেগম রোকেয়ার নামে সরকার এ অ্যাওয়ার্ড চালু করে। বেগম রোকেয়া অবিভক্ত বাংলার নারী স্বাধীনতা আন্দোলনের পথিকৃৎ, তিনি ছিলেন শীর্ষ নারীবাদী লেখক এবং বিশ শতকের প্রথমদিকের বিশিষ্ট সমাজকর্মী এবং লিঙ্গ সমতা ও নারীশিক্ষায় তার অসামান্য প্রচেষ্টার জন্য তিনি বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় এ অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি এতে সভাপতিত্ব করেন। সচিব নাসিমা বেগম অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন। বেগম রোকেয়ার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, তার আদর্শ, তার লেখা, দৃঢ় মনোবল এবং কর্মস্পৃহা কঠিন সময়ে আমাদের এখনও অনুপ্রেরণা জোগায়। যদিও রোকেয়া নিজে সামাজিক প্রতিবন্ধকতার কারণে ম্যাট্রিকুলেশন সম্পন্ন করতে পারেননি।

অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্তদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুই বিশিষ্ট নারী বিবি রাসেল ও ড. তাইবুন নাহার রশিদকে রোকেয়া পদক দিতে পেরে আমি আনন্দিত। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে রংপুরের নিশবেতগঞ্জে শতরঞ্জি উৎপাদনকারীদের জন্য বিবি রাসেল যা করেছেন, সেটি অসামান্য কাজ এবং বাংলাদেশের নারী ফ্যাশন ডিজাইনার হিসেবে বিশ্বব্যাপী তার সুখ্যাতিতে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। নিশবেতগঞ্জের জনগণ ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধকালে তাদের তীর-ধনুক নিয়ে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। বিএনপি ও জামায়াত ২০০১ সালে পাকবাহিনীর মতো তাদের ওপর নৃশংসতা চালায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ড. নাহার ১৯৪৮ সালে জাতীয় রক্ষী বাহিনীর কমান্ডার ছিলেন, স্বাধীনতার আগে ও পরে তিনি বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করেছেন। ১৯৭১ সালে অসহযোগ আন্দোলন চলাকালে তিনি নারী কর্মীদের প্রশিক্ষণের জন্য আত্মগোপনে যান। ১৯৭২ সালে স্বাধীনতা দিবসে তিনি বঙ্গবন্ধুকে গার্ড অব অনার প্রদান করেছিলেন। স্বাধীনতা যুদ্ধে দেশের নারী সমাজের অবদান ও আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি এবং বিশ্বসমাজে একটি স্বাধীন দেশের মর্যাদা লাভ করেছি।


 

সাবমিট

নারীদের চাকরি থেকে বিরত রাখার সুযোগ নেই : প্রধানমন্ত্রী

 বাসস 
১০ ডিসেম্বর ২০১৫, ১২:০০ এএম  | 
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে বেগম রোকেয়া পদক গ্রহণ করছেন বিবি রাসেল	-যুগান্তর
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে বেগম রোকেয়া পদক গ্রহণ করছেন বিবি রাসেল -যুগান্তর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ইসলাম নারীদের সুযোগ দিয়েছে এবং কর্মক্ষেত্রে তাদের অধিকার নিশ্চিত করেছে। তাই কোনো অজুহাতে চাকরি করা থেকে দেশের নারীদের নিরস্ত করার কোনো অবকাশ নেই। বুধবার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বেগম রোকেয়া দিবসের উদ্বোধন এবং বেগম রোকেয়া পদক-২০১৫ বিতরণকালে তিনি একথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শালীনতা বজায় রেখে মহিলারা সব কাজ করতে পারে। ইসলাম তাদের সেই সুযোগ দিয়েছে। ইসলাম একমাত্র ধর্ম, যে ধর্ম নারীদের অধিকার নিশ্চিত করেছে, হোক তা সম্পদ অথবা কর্মক্ষেত্র। তিনি বিবি খাদিজার দৃষ্টান্ত তুলে ধরে বলেন, তিনি নারীদের মধ্যে প্রথম ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন, পেশার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন একজন ব্যবসায়ী। মহানবীর (সা.) স্ত্রী বিবি আয়েশা যুদ্ধক্ষেত্রে সব সময় মহানবীর (সা.) পাশে থাকতেন এ কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি আমাদের সামনে সর্বোত্তম দৃষ্টান্ত এবং আমরা এটি সর্বদা সামাজিকভাবে ধারণ করব।

এ বছর বিশ্বখ্যাত ফ্যাশন ডিজাইনার বিবি রাসেল এবং বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, লোকহিতৈষী ও সমাজকর্মী ড. তাইবুন নাহার রশিদ সম্মানজনক বেগম রোকেয়া পদক পেয়েছেন। বিবি রাসেল এবং মরহুম তাইবুন নাহারের পুত্র আলী আসগর খুরশীদ প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করেন।

১৯৯৫ সালে বেগম রোকেয়ার নামে সরকার এ অ্যাওয়ার্ড চালু করে। বেগম রোকেয়া অবিভক্ত বাংলার নারী স্বাধীনতা আন্দোলনের পথিকৃৎ, তিনি ছিলেন শীর্ষ নারীবাদী লেখক এবং বিশ শতকের প্রথমদিকের বিশিষ্ট সমাজকর্মী এবং লিঙ্গ সমতা ও নারীশিক্ষায় তার অসামান্য প্রচেষ্টার জন্য তিনি বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় এ অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি এতে সভাপতিত্ব করেন। সচিব নাসিমা বেগম অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন। বেগম রোকেয়ার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, তার আদর্শ, তার লেখা, দৃঢ় মনোবল এবং কর্মস্পৃহা কঠিন সময়ে আমাদের এখনও অনুপ্রেরণা জোগায়। যদিও রোকেয়া নিজে সামাজিক প্রতিবন্ধকতার কারণে ম্যাট্রিকুলেশন সম্পন্ন করতে পারেননি।

অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্তদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুই বিশিষ্ট নারী বিবি রাসেল ও ড. তাইবুন নাহার রশিদকে রোকেয়া পদক দিতে পেরে আমি আনন্দিত। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে রংপুরের নিশবেতগঞ্জে শতরঞ্জি উৎপাদনকারীদের জন্য বিবি রাসেল যা করেছেন, সেটি অসামান্য কাজ এবং বাংলাদেশের নারী ফ্যাশন ডিজাইনার হিসেবে বিশ্বব্যাপী তার সুখ্যাতিতে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। নিশবেতগঞ্জের জনগণ ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধকালে তাদের তীর-ধনুক নিয়ে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। বিএনপি ও জামায়াত ২০০১ সালে পাকবাহিনীর মতো তাদের ওপর নৃশংসতা চালায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ড. নাহার ১৯৪৮ সালে জাতীয় রক্ষী বাহিনীর কমান্ডার ছিলেন, স্বাধীনতার আগে ও পরে তিনি বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করেছেন। ১৯৭১ সালে অসহযোগ আন্দোলন চলাকালে তিনি নারী কর্মীদের প্রশিক্ষণের জন্য আত্মগোপনে যান। ১৯৭২ সালে স্বাধীনতা দিবসে তিনি বঙ্গবন্ধুকে গার্ড অব অনার প্রদান করেছিলেন। স্বাধীনতা যুদ্ধে দেশের নারী সমাজের অবদান ও আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি এবং বিশ্বসমাজে একটি স্বাধীন দেশের মর্যাদা লাভ করেছি।


 

 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র