jugantor
ম্যানহোল মানে মৃত্যুফাঁদ
ডিসিসি-ওয়াসা একে-অন্যকে দোষারোপ

  মতিন আব্দুল্লাহ  

১০ ডিসেম্বর ২০১৫, ০০:০০:০০  | 

সড়ক-মহাসড়কে এখনও অনেক জায়গায় এমন ঢাকনাবিহীন ম্যানহোল আছে। যে কোনো সময় ঘটতে পারে বড় দুর্ঘটনা। শ্যামপুর-পাগলা রোড থেকে তোলা ছবি	-যুগান্তর

ঢাকা নগরের বহু ম্যানহোলেরই ঢাকনা নেই। ফলে সড়ক-ফুটপাতে চলাচলের সময় ম্যানহোলে পড়ে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। এতে পড়ে হাত-পা ভাংছেন অনেকেই, ঘটছে মৃত্যুর ঘটনাও। শিশু নীরবের মৃত্যু এর সর্বশেষ উদাহরণ। সড়কের মাঝখানে ঢাকনাবিহীন ম্যানহোলের কারণে মোটরবাইক, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকারও দুর্ঘটনায় পড়ছে। প্রতি বছর এসব ম্যানহোল ব্যবস্থাপনায় প্রচুর অর্থ ব্যয় হলেও এর অনেকগুলো ঢাকনাবিহীনই থাকছে।

নগরবাসীর অভিযোগ, ম্যানহোল ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ঢাকা ওয়াসা এবং ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের। কিন্তু রাজধানীর বৃহৎ এ সেবা সংস্থা দুটি বরাবরই দায়িত্ব পালনে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে চলেছে। ঢাকা ওয়াসা এবং ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন একে অন্যকে দোষারোপ করে তাদের দায়িত্ব এড়ানোর চেষ্টা করছে। অসহায় নগরবাসী ম্যানহোল নামের মৃত্যুফাঁদ থেকে মুক্তি পেতে ঢাকার দুই মেয়রের উদ্যোগ কামনা করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীতে ঢাকা ওয়াসার গভীর ড্রেন রয়েছে ৩৪৬ কিলোমিটার। এসব ড্রেনে ম্যানহোল রয়েছে সাড়ে ৮ হাজার। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের গভীর-অভীর ড্রেনের পরিমাণ ২ হাজার ৬০০ কিলোমিটার। এসব ড্রেনের ওপর স্ল্যাব সিস্টেমের ম্যানহোল তৈরি করেছে সংস্থাটি। এর বাইরে প্রায় ৫শ’ সাধারণ আকৃতির ম্যানহোল রয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের। এ সংস্থার দুই ধরনের মিলে ম্যানহোল প্রায় ৫০ হাজার। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের গভীর ও অগভীর ড্রেন রয়েছে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার। উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আদলে এসব ড্রেনের ওপর স্ল্যাব সিস্টেমের প্রায় ৪০ হাজার ম্যানহোলের পাশাপাশি রয়েছে পাঁচ শতাধিক স্বাভাবিক আকৃতির ম্যানহোল।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন, ঢাকা ওয়াসার পাশাপাশি বেসরকারি ব্যবস্থাপনায়ও কিছু ম্যানহোল তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন ফোন কোম্পানি ও শিল্প প্রতিষ্ঠান এসব তৈরি করেছে। এসব ম্যানহোলের তদারকি কেউই করে না।

যুগান্তর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ঢাকা সিটি কর্পোরেশনসংলগ্ন ঢাকা জেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদেও সরকারি-বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রায় ১০ হাজার ম্যানহোল তৈরি হয়েছে। ওইসব এলাকায় এসব তদারকির কোনো ব্যবস্থা নেই। ঢাকা শহরের সেবা সংস্থাগুলোর ম্যানহোল অব্যবস্থাপনা এবং অভিভাবকহীন ম্যানহোলগুলোর প্রত্যেকটিই মৃত্যু ফাঁদে পরিণত হয়েছে।

সরেজমিন ঘুরে এবং এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কামরাঙ্গীরচর, লালবাগের ইসলামবাগ, কেল্লার মোড়, শহীদনগর, হাজারীবাগের কোম্পানীঘাটসংলগ্ন বেড়িবাঁধ এলাকা, জুরাইন, সায়েদাবাদ, ধলপুর, দক্ষিণ মৈশুন্ডি, পোস্তাগোলা, শ্যামপুর, মিরপুর, বনশ্রীসহ মহানগরীর অভিজাত উত্তরা, ধানমণ্ডি, বনানী, বারিধারার বিভিন্ন সড়কে ঢাকনাবিহীন ম্যানহোল চোখে পড়েছে। প্রধান সড়কের তুলনায় অলি-গলিতে ঢাকনাবিহীন ম্যানহোলের সংখ্যা বেশি। তবে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের মেয়ররা দায়িত্ব গ্রহণের পর ঢাকনাবিহীন ম্যানহোলের পরিমাণ কমেছে বলে জানিয়েছেন অনেকেই।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা জানান, তারা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ঢাকা ওয়াসা ও সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাছে অভিযোগ করেও প্রতিকার পাচ্ছেন না। এছাড়া তারা বছরজুড়ে ঢাকা ওয়াসা এবং দুই সিটি কর্পোরেশনের সড়ক খুঁড়ে নিরাপত্তা বেষ্টনী ছাড়া বড় বড় গর্ত ফেলে রাখার প্রতিবাদ জানান। এসব গর্তেও প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনায় পড়তে হচ্ছে রাজধানীবাসীকে।

পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের চেয়ারম্যান আবু নাসের খান যুগান্তরকে জানান, ম্যানহোল ব্যবস্থাপনায় বেশি ব্যর্থতা ঢাকা ওয়াসার। ম্যানহোলের অব্যবস্থাপনার সঙ্গে সড়ক খুঁড়ে নালায় পরিণত করার ক্ষেত্রে তাদের অবদান বেশি। তবে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনও ম্যানহোল এবং সড়ক ব্যবস্থাপনায় চরমভাবে উদাসীন। এতে নগরবাসীর ভোগান্তির পাশাপাশি মারাত্মক পরিবেশ দূষণ ঘটছে।

এসব ব্যাপারে জানতে বুধবার দুপুরে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী তাকসিম এ খানের কার্যালয়ে যায় যুগান্তর প্রতিবেদক। ঢাকা ওয়াসার উপ-প্রধান জনতথ্য কর্মকর্তা মোস্তফা তারেক বিষয়টি ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালককে জানান। কিন্তু তিনি গুরুতর অসুস্থতার কথা বলে কোনো মতামত জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন। যদিও প্রায় ২০ মিনিট তার কার্যালয়ে বসে থেকে বিভিন্ন ব্যক্তিকে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে দেখা গেছে। এরপর ঢাকা ওয়াসার জ্যেষ্ঠ একাধিক প্রকৌশলীর সঙ্গে ম্যানহোল বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বলেন, ঢাকা ওয়াসার যে কোনো ব্যাপারে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্যতীত অন্য কারও কথা বলার অনুমতি নেই। আর ঢাকা ওয়াসার জনতথ্য বিভাগের কর্মকর্তারা কোনো কিছু জানেন না বলে জানান।

তবে নাম প্রকাশ না করে ঢাকা ওয়াসার এক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী যুগান্তরকে জানান, ম্যানহোল ব্যবস্থাপনায় ঢাকা ওয়াসা এখন একটি মডেল। খবর পাওয়া মাত্রই ঢাকনাবিহীন ম্যানহোলে নতুন ঢাকনা লাগিয়ে দেয়া হয়। একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে এ দায়িত্ব দিয়ে রাখা হয়েছে। তিনি আরও জানান, মাদকসেবীরা ম্যানহোলের বড় শত্র“। ম্যানহোলের নতুন নতুন ঢাকনা চুরি করে নিয়ে যায় মাদকসেবীরা। এ কারণে অনেক সময় ঢাকনাবিহীন দেখা যায় বিভিন্ন ম্যানহোল। এ প্রকৌশলী বলেন, ঢাকা শহরের ঢাকনাবিহীন বেশির ভাগ ম্যানহোলই ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের। এটা চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলতে পারি আমরা।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. নুরুল আমিন যুগান্তরকে জানান, ম্যানহোল ব্যবস্থাপনায় দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন খুবই আন্তরিক। তবে ঢাকা শহরের ঢাকনাবিহীন বেশিরভাগ ম্যানহোলই ঢাকা ওয়াসার। তিনি আরও জানান, ঢাকা ওয়াসার ম্যানহোল ব্যবস্থাপনার দায়ভার নিতে হচ্ছে সিটি কর্পোরেশনকে।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. শরীফ উদ্দিন যুগান্তরকে জানান, উত্তর সিটি কর্পোরেশনের সর্বোচ্চ ৩শ’ ম্যানহোল রয়েছে। বাকি ড্রেনগুলো স্ল্যাব দিয়ে ঢাকা রয়েছে। এসব ম্যানহোল ও স্ল্যাব অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে মেইনটেন্যান্স করা হচ্ছে। তিনি জানান, কোনো এলাকার ম্যানহোলের ঢাকনা নেই জানা মাত্রই তা লাগিয়ে দেয়া হয়। তবে ঢাকা ওয়াসার অনেক ম্যানহোল থাকায় জনগণ সব দায় সিটি কর্পোরেশনের ওপর চাপান।


 

সাবমিট

ম্যানহোল মানে মৃত্যুফাঁদ

ডিসিসি-ওয়াসা একে-অন্যকে দোষারোপ
 মতিন আব্দুল্লাহ 
১০ ডিসেম্বর ২০১৫, ১২:০০ এএম  | 
সড়ক-মহাসড়কে এখনও অনেক জায়গায় এমন ঢাকনাবিহীন ম্যানহোল আছে। যে কোনো সময় ঘটতে পারে বড় দুর্ঘটনা। শ্যামপুর-পাগলা রোড থেকে তোলা ছবি	-যুগান্তর
সড়ক-মহাসড়কে এখনও অনেক জায়গায় এমন ঢাকনাবিহীন ম্যানহোল আছে। যে কোনো সময় ঘটতে পারে বড় দুর্ঘটনা। শ্যামপুর-পাগলা রোড থেকে তোলা ছবি -যুগান্তর

ঢাকা নগরের বহু ম্যানহোলেরই ঢাকনা নেই। ফলে সড়ক-ফুটপাতে চলাচলের সময় ম্যানহোলে পড়ে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। এতে পড়ে হাত-পা ভাংছেন অনেকেই, ঘটছে মৃত্যুর ঘটনাও। শিশু নীরবের মৃত্যু এর সর্বশেষ উদাহরণ। সড়কের মাঝখানে ঢাকনাবিহীন ম্যানহোলের কারণে মোটরবাইক, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকারও দুর্ঘটনায় পড়ছে। প্রতি বছর এসব ম্যানহোল ব্যবস্থাপনায় প্রচুর অর্থ ব্যয় হলেও এর অনেকগুলো ঢাকনাবিহীনই থাকছে।

নগরবাসীর অভিযোগ, ম্যানহোল ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ঢাকা ওয়াসা এবং ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের। কিন্তু রাজধানীর বৃহৎ এ সেবা সংস্থা দুটি বরাবরই দায়িত্ব পালনে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে চলেছে। ঢাকা ওয়াসা এবং ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন একে অন্যকে দোষারোপ করে তাদের দায়িত্ব এড়ানোর চেষ্টা করছে। অসহায় নগরবাসী ম্যানহোল নামের মৃত্যুফাঁদ থেকে মুক্তি পেতে ঢাকার দুই মেয়রের উদ্যোগ কামনা করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীতে ঢাকা ওয়াসার গভীর ড্রেন রয়েছে ৩৪৬ কিলোমিটার। এসব ড্রেনে ম্যানহোল রয়েছে সাড়ে ৮ হাজার। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের গভীর-অভীর ড্রেনের পরিমাণ ২ হাজার ৬০০ কিলোমিটার। এসব ড্রেনের ওপর স্ল্যাব সিস্টেমের ম্যানহোল তৈরি করেছে সংস্থাটি। এর বাইরে প্রায় ৫শ’ সাধারণ আকৃতির ম্যানহোল রয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের। এ সংস্থার দুই ধরনের মিলে ম্যানহোল প্রায় ৫০ হাজার। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের গভীর ও অগভীর ড্রেন রয়েছে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার। উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আদলে এসব ড্রেনের ওপর স্ল্যাব সিস্টেমের প্রায় ৪০ হাজার ম্যানহোলের পাশাপাশি রয়েছে পাঁচ শতাধিক স্বাভাবিক আকৃতির ম্যানহোল।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন, ঢাকা ওয়াসার পাশাপাশি বেসরকারি ব্যবস্থাপনায়ও কিছু ম্যানহোল তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন ফোন কোম্পানি ও শিল্প প্রতিষ্ঠান এসব তৈরি করেছে। এসব ম্যানহোলের তদারকি কেউই করে না।

যুগান্তর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ঢাকা সিটি কর্পোরেশনসংলগ্ন ঢাকা জেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদেও সরকারি-বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রায় ১০ হাজার ম্যানহোল তৈরি হয়েছে। ওইসব এলাকায় এসব তদারকির কোনো ব্যবস্থা নেই। ঢাকা শহরের সেবা সংস্থাগুলোর ম্যানহোল অব্যবস্থাপনা এবং অভিভাবকহীন ম্যানহোলগুলোর প্রত্যেকটিই মৃত্যু ফাঁদে পরিণত হয়েছে।

সরেজমিন ঘুরে এবং এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কামরাঙ্গীরচর, লালবাগের ইসলামবাগ, কেল্লার মোড়, শহীদনগর, হাজারীবাগের কোম্পানীঘাটসংলগ্ন বেড়িবাঁধ এলাকা, জুরাইন, সায়েদাবাদ, ধলপুর, দক্ষিণ মৈশুন্ডি, পোস্তাগোলা, শ্যামপুর, মিরপুর, বনশ্রীসহ মহানগরীর অভিজাত উত্তরা, ধানমণ্ডি, বনানী, বারিধারার বিভিন্ন সড়কে ঢাকনাবিহীন ম্যানহোল চোখে পড়েছে। প্রধান সড়কের তুলনায় অলি-গলিতে ঢাকনাবিহীন ম্যানহোলের সংখ্যা বেশি। তবে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের মেয়ররা দায়িত্ব গ্রহণের পর ঢাকনাবিহীন ম্যানহোলের পরিমাণ কমেছে বলে জানিয়েছেন অনেকেই।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা জানান, তারা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ঢাকা ওয়াসা ও সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাছে অভিযোগ করেও প্রতিকার পাচ্ছেন না। এছাড়া তারা বছরজুড়ে ঢাকা ওয়াসা এবং দুই সিটি কর্পোরেশনের সড়ক খুঁড়ে নিরাপত্তা বেষ্টনী ছাড়া বড় বড় গর্ত ফেলে রাখার প্রতিবাদ জানান। এসব গর্তেও প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনায় পড়তে হচ্ছে রাজধানীবাসীকে।

পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের চেয়ারম্যান আবু নাসের খান যুগান্তরকে জানান, ম্যানহোল ব্যবস্থাপনায় বেশি ব্যর্থতা ঢাকা ওয়াসার। ম্যানহোলের অব্যবস্থাপনার সঙ্গে সড়ক খুঁড়ে নালায় পরিণত করার ক্ষেত্রে তাদের অবদান বেশি। তবে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনও ম্যানহোল এবং সড়ক ব্যবস্থাপনায় চরমভাবে উদাসীন। এতে নগরবাসীর ভোগান্তির পাশাপাশি মারাত্মক পরিবেশ দূষণ ঘটছে।

এসব ব্যাপারে জানতে বুধবার দুপুরে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী তাকসিম এ খানের কার্যালয়ে যায় যুগান্তর প্রতিবেদক। ঢাকা ওয়াসার উপ-প্রধান জনতথ্য কর্মকর্তা মোস্তফা তারেক বিষয়টি ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালককে জানান। কিন্তু তিনি গুরুতর অসুস্থতার কথা বলে কোনো মতামত জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন। যদিও প্রায় ২০ মিনিট তার কার্যালয়ে বসে থেকে বিভিন্ন ব্যক্তিকে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে দেখা গেছে। এরপর ঢাকা ওয়াসার জ্যেষ্ঠ একাধিক প্রকৌশলীর সঙ্গে ম্যানহোল বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বলেন, ঢাকা ওয়াসার যে কোনো ব্যাপারে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্যতীত অন্য কারও কথা বলার অনুমতি নেই। আর ঢাকা ওয়াসার জনতথ্য বিভাগের কর্মকর্তারা কোনো কিছু জানেন না বলে জানান।

তবে নাম প্রকাশ না করে ঢাকা ওয়াসার এক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী যুগান্তরকে জানান, ম্যানহোল ব্যবস্থাপনায় ঢাকা ওয়াসা এখন একটি মডেল। খবর পাওয়া মাত্রই ঢাকনাবিহীন ম্যানহোলে নতুন ঢাকনা লাগিয়ে দেয়া হয়। একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে এ দায়িত্ব দিয়ে রাখা হয়েছে। তিনি আরও জানান, মাদকসেবীরা ম্যানহোলের বড় শত্র“। ম্যানহোলের নতুন নতুন ঢাকনা চুরি করে নিয়ে যায় মাদকসেবীরা। এ কারণে অনেক সময় ঢাকনাবিহীন দেখা যায় বিভিন্ন ম্যানহোল। এ প্রকৌশলী বলেন, ঢাকা শহরের ঢাকনাবিহীন বেশির ভাগ ম্যানহোলই ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের। এটা চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলতে পারি আমরা।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. নুরুল আমিন যুগান্তরকে জানান, ম্যানহোল ব্যবস্থাপনায় দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন খুবই আন্তরিক। তবে ঢাকা শহরের ঢাকনাবিহীন বেশিরভাগ ম্যানহোলই ঢাকা ওয়াসার। তিনি আরও জানান, ঢাকা ওয়াসার ম্যানহোল ব্যবস্থাপনার দায়ভার নিতে হচ্ছে সিটি কর্পোরেশনকে।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. শরীফ উদ্দিন যুগান্তরকে জানান, উত্তর সিটি কর্পোরেশনের সর্বোচ্চ ৩শ’ ম্যানহোল রয়েছে। বাকি ড্রেনগুলো স্ল্যাব দিয়ে ঢাকা রয়েছে। এসব ম্যানহোল ও স্ল্যাব অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে মেইনটেন্যান্স করা হচ্ছে। তিনি জানান, কোনো এলাকার ম্যানহোলের ঢাকনা নেই জানা মাত্রই তা লাগিয়ে দেয়া হয়। তবে ঢাকা ওয়াসার অনেক ম্যানহোল থাকায় জনগণ সব দায় সিটি কর্পোরেশনের ওপর চাপান।


 

 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র