jugantor
সনাতনী ‘প্রতীক’ নিয়ে বিব্রত নারী প্রার্থীরা
ইসির দৃষ্টিভঙ্গির তীব্র সমালোচনা * চুড়ি ভ্যানিটি ব্যাগ গ্যাসের চুলা পুতুল ফ্রক মার্কা নিয়ে পদে পদে বিড়ম্বনা

  শিপন হাবীব  

১০ ডিসেম্বর ২০১৫, ০০:০০:০০  | 

ছোটবেলা থেকেই শুনে আসছি এমন এক দেশ, এক সমাজের কথা, যেখানে অর্ধেক আকাশজুড়ে থাকবে নারী। বিরাজ করবে আপন মহিমায়। কিন্তু শত ফুল ফুটতে দেয়ার সেই পরিবেশ আজও যেন স্বপ্নই রয়ে গেছে। অন্দর মহলে শুরু হওয়া বৈষম্যমূলক আচরণ রাজনীতির মাঠ পর্যন্ত তাড়া করে বেড়ায় নারীকে। নির্বাচনের সময় বিষয়টি আর ‘প্রতীকী’ থাকে না। মূর্ত হয়ে ওঠে প্রতীক নির্ধারণের বাস্তবতায়। নারী প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দের ক্ষেত্রে বরাবরই এক ধরনের সনাতনী চিন্তাধারারই প্রতিফলন ঘটে। চলতি সময়েও তার ব্যত্যয় ঘটেনি।

আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে প্রার্থীদের জন্য চুড়ি, ভ্যানিটি ব্যাগ, গ্যাসের চুলা, পুতুল, ফ্রকসহ যে ১০টি প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে তাকে বৈষম্যমূলক বলছেন প্রার্থী থেকে শুরু করে নারীনেত্রী ও সমাজকর্মীরা। নির্বাচন কমিশনের এ ধরনের মানসিকতায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সচেতন মানুষ।

এদিকে বিব্রতকর নানা প্রতীক পেয়ে বিব্রত নারী কাউন্সিলর প্রার্থীরা তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা এসব প্রতীকে নির্বাচন করাকে লজ্জাজনক বলেও অভিহিত করেছেন। নারী কাউন্সিলর পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ২ হাজার ৬৬৮ জন। তাদের বরাদ্দ করা হয়েছে, চুড়ি, ভ্যানিটি ব্যাগ, পুতুল, চকলেট, কাঁচি, মৌমাছি, ফ্রক, আঙুর, গ্যাসের চুলা ও হারমোনিয়ামের মতো প্রতীক।

মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি এ বিষয়ে বলেছেন, নারী কাউন্সিলর পদের প্রার্থীদের জন্য নির্ধারিত প্রতীকগুলো খুব অপমানজনক। এসব প্রতীক বরাদ্দের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন তাদের সনাতনী চিন্তার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে। নারী আজ কেবল চুড়ি পরে গৃহের অভ্যন্তরে বন্দি নয়। নারীরা আজ বিমান চালাচ্ছে, ট্রেন চালাচ্ছে, রাইফেল, স্টেনগান চালাচ্ছে। নারীর প্রতীক শুধু চুড়ি, পাটাপুতা ও হাঁড়ি-পাতিল নয়। নারী এখন সবকিছুর প্রতীক। নারীর প্রতীক চুড়ি না হয়ে বিমান হল না কেন- এ প্রশ্ন রেখে তিনি আরও বলেন, অতীতেও নারী প্রার্থীদের এ রকম বিব্রতকর প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের এ রকম দায়িত্বহীনতা দুঃখজনক। প্রতিমন্ত্রী এ বৈষম্য দূর করতে নির্বাচন কমিশনে নারী কমিশনার নিয়োগ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, সমাজ তথা রাষ্ট্রে নারী-পুরুষের সমান অধিকার নেই। পুরুষতান্ত্রিক সমাজ নারীদের বন্দি করে রাখতে চায়। এমন লজ্জাজনক প্রতীক বরাদ্দ নারীর প্রতি চিরাচরিত ধ্যান-ধারণার প্রতিফলন। সেই সনাতন ধ্যান-ধারণাতেই মূল্যায়ন করা হচ্ছে নারীদের। যেখানে নারী আজ বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে পুরুষের সঙ্গে সমান তালে এগিয়ে চলেছে, সেখানে নারী প্রার্থীদের জন্য ইসির এমন প্রতীক বরাদ্দ নারীদের হেয় করার শামিল।

গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও নারী নেত্রী মোশরেফা মিশুর মতে, এ জাতীয় সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্টরা চরম পিতৃতান্ত্রিক মনোভাবের পরিচয় দিয়েছে।

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহিন আনাম বলছেন, নির্বাচন কমিশনার আরেকবার প্রমাণ করেছেন যে তারা চরম নারীবিদ্বেষী। এ রকম লজ্জাজনক, বৈষম্যমূলক আর বিব্রতকর প্রতীক বরাদ্দ দেয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনের দেশবাসী তথা নারী সমাজের কাছে শর্তহীনভাবে ক্ষমা চাওয়া দরকার। একই সঙ্গে প্রতিশ্রুতি দিতে হবে যে, নারীদের এ রকম লজ্জাজনক প্রতীক আগামীতে বরাদ্দ দেয়া হবে না।

মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম বলেন, সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দে অত্যন্ত পিতৃতান্ত্রিক মনোভাবের পরিচয় দেয়া হয়েছে। নারীরা আজ সব ক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছে, দেশ পরিচালনা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ পর্বত জয় করছে। নারীরা যখন এগিয়ে যাচ্ছে এমন সময় ইসির বরাদ্দ দেয়া এ রকম বিব্রতকর প্রতীক পুরো নারী সমাজের জন্য লজ্জাজনক। যারা এসব করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া উচিত বলেও তিনি মনে করেন।

মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী অ্যাডভোকেট এলিনা খান বলেছেন, যে দেশে বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেত্রী নারী সে দেশে নারীদের নির্বাচনী প্রতীক এ ধরনের হওয়া খুবই লজ্জাজনক। এর জন্য নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগও চেয়েছেন তিনি।

নারী প্রার্থীদের বিব্রতকর প্রতীক বরাদ্দ দেয়ার বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট সালমা আলী বলেন, দেশে প্রতিনিয়ত নারীরা নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিচ্ছেন। এমন হীন প্রতীক বরাদ্দ দিয়ে খোদ ইসি নারীদের ছোট করেছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া পৌরসভা নির্বাচনে ৪, ৫ ও ৬নং ওয়ার্ড থেকে সংরক্ষিত নারী আসনে কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হয়েছেন মিলি আক্তার। তিনি যুগান্তরকে জানান, ডিজিটাল যুগে কত সুন্দর সুন্দর প্রতীক রয়েছে। যেমন কম্পিউটার, মোবাইল, মাউস আরও কত কিছু। কিন্তু শুধু নারী বলেই ইসি এমন বিব্রতকর প্রতীক বরাদ্দ দিয়েছে। এসব প্রতীকে স্লোগানও দেয়া যায় না। সাধারণ লোকজন ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করেন। ভোটাররাও এসব প্রতীক পছন্দ করেন না। পুরুষ প্রার্থীরাও নারীদের এমন প্রতীক বরাদ্দের বিরোধিতা করছেন বলে জানান তিনি।



সাবমিট

সনাতনী ‘প্রতীক’ নিয়ে বিব্রত নারী প্রার্থীরা

ইসির দৃষ্টিভঙ্গির তীব্র সমালোচনা * চুড়ি ভ্যানিটি ব্যাগ গ্যাসের চুলা পুতুল ফ্রক মার্কা নিয়ে পদে পদে বিড়ম্বনা
 শিপন হাবীব 
১০ ডিসেম্বর ২০১৫, ১২:০০ এএম  | 
ছোটবেলা থেকেই শুনে আসছি এমন এক দেশ, এক সমাজের কথা, যেখানে অর্ধেক আকাশজুড়ে থাকবে নারী। বিরাজ করবে আপন মহিমায়। কিন্তু শত ফুল ফুটতে দেয়ার সেই পরিবেশ আজও যেন স্বপ্নই রয়ে গেছে। অন্দর মহলে শুরু হওয়া বৈষম্যমূলক আচরণ রাজনীতির মাঠ পর্যন্ত তাড়া করে বেড়ায় নারীকে। নির্বাচনের সময় বিষয়টি আর ‘প্রতীকী’ থাকে না। মূর্ত হয়ে ওঠে প্রতীক নির্ধারণের বাস্তবতায়। নারী প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দের ক্ষেত্রে বরাবরই এক ধরনের সনাতনী চিন্তাধারারই প্রতিফলন ঘটে। চলতি সময়েও তার ব্যত্যয় ঘটেনি।

আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে প্রার্থীদের জন্য চুড়ি, ভ্যানিটি ব্যাগ, গ্যাসের চুলা, পুতুল, ফ্রকসহ যে ১০টি প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে তাকে বৈষম্যমূলক বলছেন প্রার্থী থেকে শুরু করে নারীনেত্রী ও সমাজকর্মীরা। নির্বাচন কমিশনের এ ধরনের মানসিকতায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সচেতন মানুষ।

এদিকে বিব্রতকর নানা প্রতীক পেয়ে বিব্রত নারী কাউন্সিলর প্রার্থীরা তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা এসব প্রতীকে নির্বাচন করাকে লজ্জাজনক বলেও অভিহিত করেছেন। নারী কাউন্সিলর পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ২ হাজার ৬৬৮ জন। তাদের বরাদ্দ করা হয়েছে, চুড়ি, ভ্যানিটি ব্যাগ, পুতুল, চকলেট, কাঁচি, মৌমাছি, ফ্রক, আঙুর, গ্যাসের চুলা ও হারমোনিয়ামের মতো প্রতীক।

মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি এ বিষয়ে বলেছেন, নারী কাউন্সিলর পদের প্রার্থীদের জন্য নির্ধারিত প্রতীকগুলো খুব অপমানজনক। এসব প্রতীক বরাদ্দের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন তাদের সনাতনী চিন্তার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে। নারী আজ কেবল চুড়ি পরে গৃহের অভ্যন্তরে বন্দি নয়। নারীরা আজ বিমান চালাচ্ছে, ট্রেন চালাচ্ছে, রাইফেল, স্টেনগান চালাচ্ছে। নারীর প্রতীক শুধু চুড়ি, পাটাপুতা ও হাঁড়ি-পাতিল নয়। নারী এখন সবকিছুর প্রতীক। নারীর প্রতীক চুড়ি না হয়ে বিমান হল না কেন- এ প্রশ্ন রেখে তিনি আরও বলেন, অতীতেও নারী প্রার্থীদের এ রকম বিব্রতকর প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের এ রকম দায়িত্বহীনতা দুঃখজনক। প্রতিমন্ত্রী এ বৈষম্য দূর করতে নির্বাচন কমিশনে নারী কমিশনার নিয়োগ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, সমাজ তথা রাষ্ট্রে নারী-পুরুষের সমান অধিকার নেই। পুরুষতান্ত্রিক সমাজ নারীদের বন্দি করে রাখতে চায়। এমন লজ্জাজনক প্রতীক বরাদ্দ নারীর প্রতি চিরাচরিত ধ্যান-ধারণার প্রতিফলন। সেই সনাতন ধ্যান-ধারণাতেই মূল্যায়ন করা হচ্ছে নারীদের। যেখানে নারী আজ বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে পুরুষের সঙ্গে সমান তালে এগিয়ে চলেছে, সেখানে নারী প্রার্থীদের জন্য ইসির এমন প্রতীক বরাদ্দ নারীদের হেয় করার শামিল।

গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও নারী নেত্রী মোশরেফা মিশুর মতে, এ জাতীয় সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্টরা চরম পিতৃতান্ত্রিক মনোভাবের পরিচয় দিয়েছে।

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহিন আনাম বলছেন, নির্বাচন কমিশনার আরেকবার প্রমাণ করেছেন যে তারা চরম নারীবিদ্বেষী। এ রকম লজ্জাজনক, বৈষম্যমূলক আর বিব্রতকর প্রতীক বরাদ্দ দেয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনের দেশবাসী তথা নারী সমাজের কাছে শর্তহীনভাবে ক্ষমা চাওয়া দরকার। একই সঙ্গে প্রতিশ্রুতি দিতে হবে যে, নারীদের এ রকম লজ্জাজনক প্রতীক আগামীতে বরাদ্দ দেয়া হবে না।

মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম বলেন, সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দে অত্যন্ত পিতৃতান্ত্রিক মনোভাবের পরিচয় দেয়া হয়েছে। নারীরা আজ সব ক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছে, দেশ পরিচালনা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ পর্বত জয় করছে। নারীরা যখন এগিয়ে যাচ্ছে এমন সময় ইসির বরাদ্দ দেয়া এ রকম বিব্রতকর প্রতীক পুরো নারী সমাজের জন্য লজ্জাজনক। যারা এসব করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া উচিত বলেও তিনি মনে করেন।

মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী অ্যাডভোকেট এলিনা খান বলেছেন, যে দেশে বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেত্রী নারী সে দেশে নারীদের নির্বাচনী প্রতীক এ ধরনের হওয়া খুবই লজ্জাজনক। এর জন্য নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগও চেয়েছেন তিনি।

নারী প্রার্থীদের বিব্রতকর প্রতীক বরাদ্দ দেয়ার বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট সালমা আলী বলেন, দেশে প্রতিনিয়ত নারীরা নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিচ্ছেন। এমন হীন প্রতীক বরাদ্দ দিয়ে খোদ ইসি নারীদের ছোট করেছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া পৌরসভা নির্বাচনে ৪, ৫ ও ৬নং ওয়ার্ড থেকে সংরক্ষিত নারী আসনে কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হয়েছেন মিলি আক্তার। তিনি যুগান্তরকে জানান, ডিজিটাল যুগে কত সুন্দর সুন্দর প্রতীক রয়েছে। যেমন কম্পিউটার, মোবাইল, মাউস আরও কত কিছু। কিন্তু শুধু নারী বলেই ইসি এমন বিব্রতকর প্রতীক বরাদ্দ দিয়েছে। এসব প্রতীকে স্লোগানও দেয়া যায় না। সাধারণ লোকজন ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করেন। ভোটাররাও এসব প্রতীক পছন্দ করেন না। পুরুষ প্রার্থীরাও নারীদের এমন প্রতীক বরাদ্দের বিরোধিতা করছেন বলে জানান তিনি।



 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র