jugantor
খাবার অনুপযোগী ২১ হাজার টন গম নিয়ে বিদেশী জাহাজ
প্রায় দু’মাস আটকে আছে মংলা বন্দরে

  আমির হোসেন আমু,মংলা থেকে  

১০ ডিসেম্বর ২০১৫, ০০:০০:০০  | 

মংলা বন্দর চ্যানেলে গম বোঝাই বিদেশী জাহাজ এমভি পিনটেল	-যুগান্তর

খাবার অনুপযোগী ২১ হাজার টন গম নিয়ে মংলাবন্দরে আটকে আছে একটি বিদেশী জাহাজ। নিুমান ও পোকাযুক্ত গম বোঝাই সাইপ্রাসের পতাকাবাহী ‘এমভি পিনটেল’ নামক এ জাহাজটি প্রায় দু’মাস ধরে মংলাবন্দরে অবস্থান করছে। জাহাজটিতে ৫২ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন গম আমদানি করা হয়েছিল। চট্টগ্রাম বন্দরে ৩১ হাজার ৫০০ টন গম খালাসের পর বাকি ২১ হাজার টন নিয়ে জাহাজটি ১২ অক্টোবর মংলাবন্দরে আসে। আটকে যাওয়া গমের মূল্য প্রায় ৪৪ কোটি টাকা। কবে নাগাদ এটি এ বন্দর ত্যাগ করবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

মংলাবন্দরের হারবার বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাইপ্রাসের পতাকাবাহী এমভি পিনটেল ২১ হাজার ৫০০ টন গম নিয়ে ১২ অক্টোবর মংলাবন্দরের হারবারিয়ায় এসে নোঙর করে। তিন-চার দিনের মধ্যে গম খালাসের জন্য খালিদ ব্রাদার্স নামক একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ করা হয়। ১৩ অক্টোবর আমদানিকৃত গম খালাস তদারকি কমিটি জাহাজের গম পরিদর্শন করে তা খালাস না করার সিদ্ধান্ত নেয়। এ অবস্থায় আমদানিকৃত ওই গমের গুণগত মান নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ওঠে।

পরে খাদ্য বিভাগসহ উচ্চ মহলের নির্দেশে নমুনা গম পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। ঢাকার রিপোর্টেও নিুমান ও খাবার অনুপযোগী বলে রিপোর্ট দিলে খাদ্য অধিদফতর এ গম খালাস না করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। খাদ্য অধিদফতর তাদের সিদ্ধান্ত আমদানিকারক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কমপ্লেক্স কনসালট্যান্ট লিমিটেডকে জানালেও রহস্যজনক কারণে জাহাজটি এখন পর্যন্ত এ বন্দরে পড়ে আছে।

এ ব্যাপারে বুধবার দুপুরে জাহাজটির স্থানীয় এজেন্ট লিডমন্ড শিপিং লিমিটেডের পরিচালক আখতারুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, এমভি পিনটেল জাহাজটি মংলাবন্দর ত্যাগ করার প্রক্রিয়া চলছে। গম বোঝাই অবস্থাতেই আগামী সপ্তাহে এটি এ বন্দর ছেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘জাহাজটি বর্তমানে পশুর চ্যানেলের ৩নং মুরিং বয়ায় অবস্থান করছে। তারা জাহাজটিতে অবস্থানরত ২০ ক্রুর জন্য নিয়মিত বিভিন্ন সামগ্রী সরবরাহ করছেন।’

এদিকে খুলনার আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক কাজী নূরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, খাদ্য বিভাগ এ গম খালাস ও গ্রহণ করবে না বলে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। এখন আমদানিকারক জাহাজ নিয়ে বা গম কি করবে সেটি তাদের বিষয়। তিনি জানান, খাদ্য অধিদফতর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কমপ্লেক্স কনসালট্যান্ট লিমিটেডকে কালো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। তাদের আগামীতে গম আমদানির কোনো সুযোগ দেয়া হবে না।

অপরদিকে খাদ্য অধিদফতরের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, গম আমদানির জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি হয়েছিল গত ২৪ মার্চ। ফ্রান্স থেকে এ গম জাহাজে বোঝাই করা হয়েছিল এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে। সে হিসাবে দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে গম এ জাহাজের হ্যাচে রয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই এতদিন জাহাজের হ্যাচে গম থাকলে তার গুণগতমান নষ্ট হওয়ারই কথা। কারণ জাহাজের হ্যাচে আলো-বাতাস যেতে পারে না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এমভি পিনটেল জাহাজের ২০ জন ক্রু জাহাজ থেকে চোরাই পথে কিছু গম স্থানীয় চোরাকারবারির কাছে বিক্রি করেছে। জাহাজটি মংলাবন্দরের হারবারিয়া এলাকায় অবস্থানকালে এ গম পাচার করে দিয়েছে। হারবারিয়া এলাকাটি এতটাই দুর্গম যে, সেখানে বন্দরের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। ফলে এই নিুমানের গম বাজারে প্রবেশ করলে মানবদেহে ক্ষতিকর প্রভাব পড়ার আশংকা রয়েছে।

এ ব্যাপারে আমদানিকারক কমপ্লেক্স কনসালট্যান্ট লিমিটেড ঢাকার সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করলেও তাদেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে এ বিষয়ে মংলাবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদ জানান, গমবাহী জাহাজের খালাস কাজে বন্দর কর্তৃপক্ষের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। এটি আমদানিকারক ও খাদ্য অধিদফতরসহ সংশ্লিষ্টদের বিষয়।


 

সাবমিট

খাবার অনুপযোগী ২১ হাজার টন গম নিয়ে বিদেশী জাহাজ

প্রায় দু’মাস আটকে আছে মংলা বন্দরে
 আমির হোসেন আমু,মংলা থেকে 
১০ ডিসেম্বর ২০১৫, ১২:০০ এএম  | 
মংলা বন্দর চ্যানেলে গম বোঝাই বিদেশী জাহাজ এমভি পিনটেল	-যুগান্তর
মংলা বন্দর চ্যানেলে গম বোঝাই বিদেশী জাহাজ এমভি পিনটেল -যুগান্তর

খাবার অনুপযোগী ২১ হাজার টন গম নিয়ে মংলাবন্দরে আটকে আছে একটি বিদেশী জাহাজ। নিুমান ও পোকাযুক্ত গম বোঝাই সাইপ্রাসের পতাকাবাহী ‘এমভি পিনটেল’ নামক এ জাহাজটি প্রায় দু’মাস ধরে মংলাবন্দরে অবস্থান করছে। জাহাজটিতে ৫২ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন গম আমদানি করা হয়েছিল। চট্টগ্রাম বন্দরে ৩১ হাজার ৫০০ টন গম খালাসের পর বাকি ২১ হাজার টন নিয়ে জাহাজটি ১২ অক্টোবর মংলাবন্দরে আসে। আটকে যাওয়া গমের মূল্য প্রায় ৪৪ কোটি টাকা। কবে নাগাদ এটি এ বন্দর ত্যাগ করবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

মংলাবন্দরের হারবার বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাইপ্রাসের পতাকাবাহী এমভি পিনটেল ২১ হাজার ৫০০ টন গম নিয়ে ১২ অক্টোবর মংলাবন্দরের হারবারিয়ায় এসে নোঙর করে। তিন-চার দিনের মধ্যে গম খালাসের জন্য খালিদ ব্রাদার্স নামক একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ করা হয়। ১৩ অক্টোবর আমদানিকৃত গম খালাস তদারকি কমিটি জাহাজের গম পরিদর্শন করে তা খালাস না করার সিদ্ধান্ত নেয়। এ অবস্থায় আমদানিকৃত ওই গমের গুণগত মান নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ওঠে।

পরে খাদ্য বিভাগসহ উচ্চ মহলের নির্দেশে নমুনা গম পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। ঢাকার রিপোর্টেও নিুমান ও খাবার অনুপযোগী বলে রিপোর্ট দিলে খাদ্য অধিদফতর এ গম খালাস না করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। খাদ্য অধিদফতর তাদের সিদ্ধান্ত আমদানিকারক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কমপ্লেক্স কনসালট্যান্ট লিমিটেডকে জানালেও রহস্যজনক কারণে জাহাজটি এখন পর্যন্ত এ বন্দরে পড়ে আছে।

এ ব্যাপারে বুধবার দুপুরে জাহাজটির স্থানীয় এজেন্ট লিডমন্ড শিপিং লিমিটেডের পরিচালক আখতারুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, এমভি পিনটেল জাহাজটি মংলাবন্দর ত্যাগ করার প্রক্রিয়া চলছে। গম বোঝাই অবস্থাতেই আগামী সপ্তাহে এটি এ বন্দর ছেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘জাহাজটি বর্তমানে পশুর চ্যানেলের ৩নং মুরিং বয়ায় অবস্থান করছে। তারা জাহাজটিতে অবস্থানরত ২০ ক্রুর জন্য নিয়মিত বিভিন্ন সামগ্রী সরবরাহ করছেন।’

এদিকে খুলনার আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক কাজী নূরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, খাদ্য বিভাগ এ গম খালাস ও গ্রহণ করবে না বলে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। এখন আমদানিকারক জাহাজ নিয়ে বা গম কি করবে সেটি তাদের বিষয়। তিনি জানান, খাদ্য অধিদফতর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কমপ্লেক্স কনসালট্যান্ট লিমিটেডকে কালো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। তাদের আগামীতে গম আমদানির কোনো সুযোগ দেয়া হবে না।

অপরদিকে খাদ্য অধিদফতরের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, গম আমদানির জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি হয়েছিল গত ২৪ মার্চ। ফ্রান্স থেকে এ গম জাহাজে বোঝাই করা হয়েছিল এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে। সে হিসাবে দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে গম এ জাহাজের হ্যাচে রয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই এতদিন জাহাজের হ্যাচে গম থাকলে তার গুণগতমান নষ্ট হওয়ারই কথা। কারণ জাহাজের হ্যাচে আলো-বাতাস যেতে পারে না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এমভি পিনটেল জাহাজের ২০ জন ক্রু জাহাজ থেকে চোরাই পথে কিছু গম স্থানীয় চোরাকারবারির কাছে বিক্রি করেছে। জাহাজটি মংলাবন্দরের হারবারিয়া এলাকায় অবস্থানকালে এ গম পাচার করে দিয়েছে। হারবারিয়া এলাকাটি এতটাই দুর্গম যে, সেখানে বন্দরের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। ফলে এই নিুমানের গম বাজারে প্রবেশ করলে মানবদেহে ক্ষতিকর প্রভাব পড়ার আশংকা রয়েছে।

এ ব্যাপারে আমদানিকারক কমপ্লেক্স কনসালট্যান্ট লিমিটেড ঢাকার সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করলেও তাদেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে এ বিষয়ে মংলাবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদ জানান, গমবাহী জাহাজের খালাস কাজে বন্দর কর্তৃপক্ষের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। এটি আমদানিকারক ও খাদ্য অধিদফতরসহ সংশ্লিষ্টদের বিষয়।


 

 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র