¦

এইমাত্র পাওয়া

  • হালনাগাদ ভোটার তালিকার খসড়া প্রকাশ; নতুন ভোটার ৪৩ লাখ ৬৮ হাজার ৪৭ জন
নতুন বাজার খুঁজে বের করতে হবে

বাসস | প্রকাশ : ০২ জানুয়ারি ২০১৬

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার উদ্বোধন করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা -যুগান্তর

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার উদ্বোধন করে পণ্যের মানোন্নয়নের পাশাপাশি নতুন নতুন বাজার খুঁজে বের করতে উদ্যোক্তাদের তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, এখন আমাদের রফতানি বহুমুখীকরণ এবং প্রচলিত ও অপ্রচলিত পণ্যের জন্য নতুন বাজার অনুসন্ধান করতে হবে। অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমাদের ব্যবসা ব্যবস্থাপনায় দক্ষ ও কার্যকর হতে হবে।
শুক্রবার বিকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ মেলার ২১তম আসরের উদ্বোধন করেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (বিইপিবি) যৌথভাবে এ মেলার আয়োজন করেছে। বক্তব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী সবাইকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানান।
বৈশ্বিক চাহিদা অনুযায়ী পণ্যে বৈচিত্র্য আনার জন্য উদ্ভাবনী ধারণা, জ্ঞান ও গুণগত মান রক্ষার কৌশল নিয়ে এগিয়ে আসার জন্য ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকার জন্য নতুন জ্ঞানভিত্তিক কৌশল অবলম্বন করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্যের কেন্দ্র হিসেবে ডিআইটিএফ এখন স্বীকৃত। এটি আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ত করতে বাংলাদেশী উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের জন্য একটি সুযোগ এনে দিয়েছে। নিজস্ব ব্র্যান্ড তৈরি ও সেগুলো বাজারজাত এবং রফতানি বাড়ানোর পরামর্শ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের নিজস্ব ব্র্যান্ডের পণ্য রফতানি করতে পারলে আমাদের জন্য সহজ ও লাভজনক হবে। এতে রফতানির পরিমাণ বৃদ্ধি এবং বিদেশে আমাদের পণ্যের বাজার বৃদ্ধি পাবে।
দেশের প্রচলিত কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, বিদেশে কৃষি পণ্যের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ফলে আমাদের প্রচলিত ও অপ্রচলিত কৃষি পণ্যের জন্য নতুন নতুন বাজার খুঁজে বের করতে হবে। ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতা এবং যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যে ব্যবস্থাপনার দক্ষতা বাড়ানোরও তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী।
সরকার ব্যবসার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী এ প্রসঙ্গে বলেন, তার সরকার একটি রফতানিবান্ধব নীতি প্রণয়ন করছে। বাংলাদেশের প্রাচীন ব্যবসায়িক ইতিহাসের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের মসলিন পৃথিবী বিখ্যাত। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজা-বাদশাহরা এ বস্ত্র ব্যবহার করতেন। আমাদের পাট, চামড়া এবং কৃষিপণ্য ইউরোপে বিভিন্ন মিল, কল-কারখানায় কাঁচা পণ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
বৈশ্বিক মন্দা সত্ত্বেও বাংলাদেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানান তিনি। চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশ হওয়ার বিষয়েও তিনি আশা প্রকাশ করেন। শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট আমলের শেষ বছরে মাথাপিছু আয় ছিল ৫৪৩ মার্কিন ডলার যা বর্তমানে ১ হাজার ৩১৪ মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। ৫ কোটি মানুষ নিু আয়ের স্তর থেকে মধ্যম আয়ের স্তরে উন্নীত হয়েছে। বিএনপি-জামায়াতের শেষ বছরে দারিদ্র্যের হার ছিল ৪১.৫ শতাংশ। আমরা তা কমিয়ে ২২.৪ শতাংশে নামিয়ে এনেছি। ২০০৬ সালে অতি দারিদ্র্যের হার ছিল ২৪.২ শতাংশ। তা এখন কমে ৭.৯ শতাংশে নেমে এসেছে।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা বাংলাদেশকে বিশ্বের অত্যন্ত সম্ভাবনাময় দেশগুলোর তালিকার প্রথমদিকে স্থান দিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রাইস ওয়াটারহাউস কুপার্স মনে করছে, পরের ১১টি দেশের তালিকায় প্রথমে থাকা বাংলাদেশের অর্থনীতি ২০৫০ সালে পশ্চিমা দেশগুলোকে ছাড়িয়ে যাবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আইএমএফ, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এবং জেপি মর্গ্যান বাংলাদেশকে অপার সম্ভাবনাময় দেশগুলোর তালিকায় প্রথম সারিতে যুক্ত করেছে। আমাদের লক্ষ্য ২০২১ সালের মধ্যে রফতানি আয় ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করা। এ সময়ের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, সংসদে বিরোধী দলের চিফ হুইপ তাজুল ইসলাম চৌধুরী, বাণিজ্য সচিব হেদায়েত উল্লাহ আল মামুন, এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমেদ অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, কূটনীতিক, ব্যবসায়ী ও রফতানিকারক এবং দেশ-বিদেশের অংশগ্রহণকারীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
 

শেষ পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close