¦

এইমাত্র পাওয়া

  • হালনাগাদ ভোটার তালিকার খসড়া প্রকাশ; নতুন ভোটার ৪৩ লাখ ৬৮ হাজার ৪৭ জন
উত্তরের প্রধান ৫ পৌরসভায় আওয়ামী লীগের ভরাডুবি

আনু মোস্তফা, রাজশাহী ব্যুরো | প্রকাশ : ০২ জানুয়ারি ২০১৬

পৌর নির্বাচনে সারা দেশে আওয়ামী লীগের জয়জয়কার হলেও উত্তরাঞ্চলের প্রধান ৫ পৌরসভার একটিতেও জিততে পারেনি ক্ষমতাসীন দলের মেয়র প্রার্থীরা। এসব পৌরসভার ৪টিতে বিএনপি ও একটিতে জামায়াতের প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। উত্তরাঞ্চলের বড় পৌরসভাগুলোতে আওয়ামী লীগ হেরে যাওয়ায় জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতাদের কঠোর সমালোচনা করছেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা। তাদের অভিযোগ এসব পৌরসভায় দলের জনপ্রিয় প্রার্থীদের বাদ দিয়ে টাকার বিনিময়ে মনোনয়ন দেয়া হয়। তাছাড়া জেলার সিনিয়র নেতাদের অনেকেই মনোনীত প্রার্থীদের পক্ষে সেভাবে কাজ করেননি।
উত্তরাঞ্চলের বিশেষ শ্রেণীর পৌরসভা চাঁপাইনবাবগঞ্জে পরাজিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী সামিউল হক লিটন। আয়তনে উত্তরাঞ্চলের সবচেয়ে বড় পৌরসভা এটি। এখানে জামায়াত সমর্থিত মেয়র প্রার্থী অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম জগ প্রতীকে ৩১ হাজার ৫০৪ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। আওয়ামী লীগের সামিউল হক লিটন নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন ৩০ হাজার ৫০৪ ভোট।
মাত্র ১ হাজার ভোটে হেরেছেন তিনি। ভোটের ফলাফল ঘোষণার পরপরই সামিউল হক লিটন অভিযোগ করেন, বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে আসা ফলাফল একত্রীকরণের সময় কারচুরির আশ্রয় নিয়ে তাকে হারিয়ে দেয়া হয়েছে। তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের তৃণমূল নেতাকর্মীদের অভিযোগ, জেলার শীর্ষ দুই নেতার ঘনিষ্ঠরা দলের প্রার্থীকে হারাতে ভেতরে ভেতরে নানা মেকানিজম করেছেন।
উত্তরের সবচেয়ে বড় জেলা নওগাঁ। নওগাঁ সদর পৌরসভায় বিএনপির প্রার্থী নজমুল হক সনি ধানের শীষ প্রতীকে ৩৪ হাজার ৮৮৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। এখানে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী দেওয়ান সেকার আহমেদ শিশান পেয়েছেন ৩২ হাজার ৬৩২ ভোট। স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, নওগাঁ সদরে ত্রিধারায় বিভক্ত আওয়ামী লীগের একাধিক গ্রুপ দলীয় মেয়র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেননি। দলের একাধিক নেতা প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে পরোক্ষভাবে কাজ করায় নওগাঁতে পরাজিত হয়েছে দলের প্রার্থী।
উত্তরের অন্যতম প্রধান পৌরসভা দিনাজপুরে বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ জাহাঙ্গীর ধানের শীষ প্রতীকে ৩৭ হাজার ৫৮৭ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের আনোয়ারুল আলম নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন ২৪ হাজার ৫৩৪ ভোট। এ পৌরসভায়ও প্রার্থী মনোনয়ন থেকে শুরু করে প্রচারণা পর্যন্ত দলীয় কোন্দলের প্রভাব পড়ে। এ ব্যাপারে নিজে কোনো মন্তব্য করেননি আওয়ামী লীগ প্রার্থী। তবে দলীয় নেতাকর্মীরা জেলার বড় দুই নেতার কোন্দলের প্রভাবকেই পরাজয়ের মূল কারণ বলে মনে করছেন।
পাবনা পৌরসভায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাছে হেরে গেছেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী রকিব হাসান টিপু। এখানে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত ও স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুল হাসান মিন্টু খেজুর গাছ প্রতীকে ৩০ হাজার ৫৪৭ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী পেয়েছেন ২৪ হাজার ৬৫৪ ভোট।
জানা গেছে, পাবনায় প্রথমে পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি তসলিম হাসান সুমনকে মেয়র পদে মনোনয়নের সুপারিশ করে তৃণমূল নেতাকর্মীরা। কিন্তু আকস্মিকভাবে টিপুকে দলীয় প্রার্থী করা হয়। ফল ঘোষণার পরপরই পৌর ও জেলা আওয়ামী লীগ সংবাদ সম্মেলন করে দলীয় প্রার্থীর পরাজয়ের কারণ হিসেবে জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের কারচুপিকে দায়ী করেন।
উত্তরাঞ্চলের শিল্পশহর বগুড়ায় বিএনপির মাহবুবুর রহমান ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৭ হাজার ৩৪০ ভোট পেয়ে তৃতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। এ পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম মিন্টু নৌকা প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ৪৯ হাজার ৪১৭। বিএনপির প্রার্থীর চেয়ে অর্ধেকেরও কম ভোট পেয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী। দেশের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিচারে বিজয়ী প্রার্থীর চেয়ে এটাই সবচেয়ে বড় ব্যবধানে পরাজয়। ক্ষমতাসীন প্রার্থীর এ বিশাল ব্যবধানে পরাজয়ের কারণ হিসেবে তৃণমূল নেতাকর্মীরা দলীয় কোন্দলকেই দায়ী করেছেন।
এদিকে বগুড়ার জেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দলীয় প্রার্থী রেজাউল করিম মিন্টু যে ভোট পেয়েছেন তা তার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তায় পেয়েছেন। জেলা কমিটির সভাপতির পক্ষ ছাড়াও দলীয় নেতাদের একটি বড় অংশই দলীয় প্রার্থীর পক্ষে মাঠে নামেননি। তারা মিন্টুকে জেতাতে তেমন কোনো ভূমিকাও নেননি। দলীয় প্রার্থী এ ব্যাপারে স্পষ্ট করে কিছু না বললেও তার অনুসারীরা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির নিষ্ক্রিয় ভূমিকাকেই পরাজয়ের বড় কারণ বলে মনে করছেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের একজন কেন্দ্রীয় নেতা নাম প্রকাশ না করে যুগান্তরকে বলেন, দলীয় প্রার্থীর পরাজয়ের কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। যদি এসব পৌরসভায় প্রার্থীর পরাজয়ের পেছনে দলীয় নেতা বা এমপির জড়িত থাকার প্রমাণ মেলে সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
শেষ পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close