¦

এইমাত্র পাওয়া

  • হালনাগাদ ভোটার তালিকার খসড়া প্রকাশ; নতুন ভোটার ৪৩ লাখ ৬৮ হাজার ৪৭ জন
শিগগিরই সরকারের পরিবর্তন হবে

যুগান্তর রিপোর্ট | প্রকাশ : ০২ জানুয়ারি ২০১৬

রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশনে ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া -যুগান্তর

অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে খুব শিগগিরই সরকারের পরিবর্তন হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, কোনো সরকারেরই স্থায়ীভাবে ক্ষমতায় থাকার সুযোগ নেই। সরকার আসবে এবং যাবে। এ সরকারও ক্ষমতায় চিরদিন থাকতে পারবে না। কিন্তু আইনশৃংখলা বাহিনীর লোকদের থাকতে হবে। সরকারের কর্মকর্তারা থাকবেন। খুব শিগগিরই দেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে এ সরকারের বিদায় হবে। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে ছাত্র সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের নিরপেক্ষ থাকতে হবে উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, সরকারের পরিবর্তন হলেও আপনাদের থাকতে হবে। দেশে গণতন্ত্র নেই মন্তব্য করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, বর্তমানে দেশে গণতন্ত্র তো নেই, স্বৈরশাসনও নয়, এখন হয়েছে রাজতন্ত্র কায়েম। এক ব্যক্তি যিনি তার ইচ্ছা প্রকাশ করবেন তার ইচ্ছায় সব। তাকে সালামি দিয়ে এবং সালাম দিয়ে সেই ইচ্ছা পূরণ করতে হচ্ছে।
আওয়ামী লীগকে ‘ডাইনি বাহিনী’ অভিহিত করে তিনি বলেন, রক্তের প্রতি তাদের নেশা হয়ে গেছে। এদের হাতে শুধু রক্ত আর রক্ত। রক্ত ছাড়া থাকতে পারে না। তারা রক্তপিপাসু ও নরপিশাচ হয়ে জন্মেছে।
পৌর নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হাসিনা-রকিব মার্কা নির্বাচন আমরা প্রত্যাখ্যান করেছি। তাদের অধীনে কখনও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়- তা আরেকবার প্রমাণিত হল। খালেদা জিয়া বলেন, পৌর নির্বাচনে ভোট ডাকাতি করে কতটি আসন পেলেন তা নিয়ে আনন্দ পাওয়ার কিছু নেই। কারণ এ কাজ কারা করেছে তা তারা (সরকার) ভালোভাবেই জানেন। এই নির্বাচনে আইনশৃংখলা বাহিনীকে দলীয় কর্মীর মতো ব্যবহার করে নষ্ট করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এর মানে এই নয় যে, দেশে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। অবশ্যই নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন আমরা চাই। জনগণ সেই নির্বাচনে ভোট দিতে পারলে বিএনপি অবশ্যই ক্ষমতায় যাবে।
প্রিসাইডিং অফিসারদের কোনো দোষ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান ইসি অথর্ব ও মেরুদণ্ডহীন। বারবার আমরা সেনা মোতায়েনের দাবি জানিয়েছি। কিন্তু তিনি বলেছেন, সেই পরিস্থিতি নাকি সৃষ্টি হয়নি।
গণতন্ত্রের স্বার্থে বিএনপি এ নির্বাচনে অংশগ্রহণ নেয় উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, এ নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের লক্ষ্য ছিল, বিএনপি আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে এবং নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে- এ কথা সবার কাছে বলবে।
বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, আজকে দেশে গণতন্ত্র নেই। দেশের গণতন্ত্র নির্বাসনে। কোথাও কোনো উন্নয়ন নেই। শুধু ঢাকায় কয়েকটি ফ্লাইওভার নির্মাণ করে দেখাচ্ছে। কারণ এসব প্রকল্পে কমিশন পাওয়া যায়। সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, কুইক রেন্টাল বিদ্যুতের নামে বিদ্যুৎ খাতকে ধ্বংস করেছে। কুইক রেন্টাল বিদ্যুতে ভর্তুকি দিয়ে বিদ্যুতের দাম বাড়াচ্ছে। আর সেই বোঝা জনগণের ওপর চাপাচ্ছে। এর আগে খালেদা জিয়া জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং পায়রা উড়িয়ে ছাত্র সমাবেশের উদ্বোধন করেন।
দেশে কেউ খুন ও গুম হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেদিন বেশি করে ভাত খান মন্তব্য করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, অতীতে হাসিনারই সহকর্মী ‘আমার ফাঁসি চাই’ গ্রন্থে লিখেছেন। এদের থেকে দেশকে মুক্ত করার জন্য আমাদের অনেক সন্তানকে জীবন দিতে হয়েছে।
ছাত্রলীগ সব দখল করে নিয়েছে দাবি করে খালেদা জিয়া বলেন, তারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের হাতে দেয় অস্ত্র। সব জায়গায় চাঁদাবাজি করে। তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে আজ দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার পরিবেশ নেই। বিদেশীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে ভয় পায় জানিয়ে তিনি বলেন, দেশে আইনশৃংখলা পরিস্থিতি খারাপ। বিদেশী হত্যা হচ্ছে। দেশের অর্থনীতির অবস্থা অনেক খারাপ দাবি করে খালেদা জিয়া বলেন, ব্যাংকগুলোতে আজ টাকা নেই, লুট হয়েছে। দেশে চাকরি নেই, চাকরির আশায় মানুষ ঢাকামুখী হচ্ছে। তারা কষ্ট করে ঢাকায় কিছু একটা করে জীবনধারণ করছে।
প্রশাসনকে নিরপেক্ষ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার বলে বিএনপি ক্ষমতায় এলে আপনাদের চাকরি যাবে। কিন্তু আমি বলব, আপনাদের চাকরি যাবে না। আপনারা আপনাদের মেধা ও যোগ্যতা বলেই চাকরি করবেন। ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করেছিলেন’ মন্তব্য করে খালেদা জিয়া বলেন, তিনি দেশকে এগিয়ে নিতে কাজ শুরু করেছিলেন। মুক্তিযোদ্ধাদের পুনর্বাসন, সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে অতি অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি দেশকে গুছিয়ে নিয়েছিলেন। পাহাড়ে-সমতলে কোথাও বৈষম্য সৃষ্টি করেননি। বর্তমানে অনেক কর্মকর্তা আছেন যারা সেদিন জিয়াউর রহমানের সঙ্গে খাল কেটেছিলেন। আজ কেন হঠাৎ করে তাদের মস্তিষ্ক বিকৃত হল?
ছাত্রদলের উদ্দেশে তিনি বলেন, তোমাদের আরও সুশৃংখল হতে হবে, সুশিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে। তা না হলে লক্ষ্য অর্জন হবে না। কেবল কোনো নেতার নামে আর এলাকার নামে স্লোগান দিলে হবে না। পড়ালেখা করে অনেক কিছু শিখতে হবে। তিনি বলেন, নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টু, এম ইলিয়াস আলীর মতো অনেক ছাত্রনেতা এমপি হয়েছিলেন। আজ তাদের গুম ও হত্যা করা হয়েছে। এসবের বিচার একদিন হবে। এ সময় ছাত্রদলের সভাপতি রাজীব আহসানসহ সব রাজবন্দির মুক্তি দাবি করেন তিনি।
ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুনুর রশিদ মামুনের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শাসসুজ্জামান দুদু, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, কেন্দ্রীয় নেতা ড. আসাদুজ্জামান রিপন, খায়রুল কবির খোকন, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, এবিএম মোশাররফ হোসেন, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান।
আরও উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ড. আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ডা. জেডএম জাহিদ হোসেন, আবদুল মান্নান, অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন। সবশেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।
 

শেষ পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close