¦

এইমাত্র পাওয়া

  • কুড়িগ্রাম সীমান্তে নিহত ফেলানী হত্যা মামলার প্রধান আসামী অমিয় ঘোষ বেকসুর খালাস
সত্য ও সুন্দরে যার বসবাস

| প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৩

তিতাস চৌধুরী
মোবারক হোসেন খান শিল্পী দুই অর্থেই। প্রথমত তিনি সুরবাহার শিল্পী এবং দ্বিতীয়ত তিনি সাহিত্য শিল্পী। সুরবাহার সাধনা তার জীবনে প্রতিষ্ঠা ডেকে এনেছে, আর সাহিত্য সাধনা তাকে আত্মমর্যাদা এবং আত্মসম্মানের আসনে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে।
যন্ত্রসঙ্গীত চর্চাও অনুশীলন করতে করতেই সঙ্গীতবিষয়ক লেখালেখির দিকেও তিনি ঝুঁকে পড়েছিলেন। তার হয়তো ধারণা ছিল- শিল্প হচ্ছে বাস্তব অভিজ্ঞতার ব্যাঙ্গময় রূপময়, ধ্বনিময় অথবা ভঙ্গিমাময় অভিব্যক্তি। এ বিশ্বাসেই তিনি মন, আত্মা ও প্রতিভার দাবি নিয়ে সঙ্গীত ও সাহিত্য সাধনায় আত্মনিয়োগ করেন।
মোবারক হোসেন একজন সঙ্গীত গবেষক। তার সঙ্গীত সাধনা এরই মধ্যে সব সুধী মহলে প্রশংসা লাভ করেছে। এ ক্ষেত্রে তার বড় বৈশিষ্ট্য এই যে, তিনি সঙ্গীতের জন্য একটি ভাষাশৈলী নির্মাণ করতে পেরেছেন। ফলে এখানেই তিনি উজ্জ্বল, গভীর ও মধুর।
অনুবাদের ক্ষেত্রেও মোবারক হোসেন খানের অবদান স্বীকৃত এবং ঐশ্বর্যমণ্ডিত। অনুবাদ আসলেই খুব শক্ত। যে ভাষা থেকে অনুবাদ করা হবে সে ভাষা সম্পর্কে একজন লেখকের জ্ঞান থাকা আবশ্যক। শুধু ভাষা জ্ঞান নয়, ভাষা বোধেরও প্রয়োজন। কেন না কোনও গল্প, উন্যাস কিংবা কবিতা পাঠপূর্বক সে ভাষার মূল বক্তব্য যথার্থভাবে উপস্থাপন করতে না পারলে অনুবাদের আসল উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়। সার্থক হওয়া দূরের কথা- আসল ঘটনা বা বিষয়বস্তু খুঁজে পাওয়া দুষ্কর হয়ে ওঠে। এ ক্ষেত্রেও মোবারক হোসেন খান সার্থক।
বেশ কিছুদিন হয়- মোবারক হোসেন খান আমাকে একটি বই উপহার হিসেবে প্রেরণ করেন। বইটির নাম ‘মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা আন্দোলন’। বইয়ের বিষয়বস্তু মূলত মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা আন্দোলনকে ঘের দিয়েই লতিয়ে উঠেছে। এ গ্রন্থে মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা আন্দোলন বিষয়ে যেমন আলোচনা স্থান করে নিয়েছে- তেমনি কিছু অনুবাদ গল্পও আছে। তাও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক। বইটি সম্পর্কে লেখক মোবারক হোসেন খানের বক্তব্যে এর মূল সুর, গতি ও ধ্বনি সুস্পষ্ট। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ আমাদের গর্ব। বাঙালি জাতির গর্ব। বঙ্গবন্ধুর একাত্তরের সাতই মার্চের ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম। এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ ভাষণের সূত্র ধরেই ছাব্বিশে মার্চে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধের অবসান ঘটে ৯ মাস সশস্ত্র সংগ্রাম শেষে ষোলই ডিসেম্বর। অর্জিত হয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ।
স্বাধীনতা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। এ চেতনার মূল উৎস বাংলাভাষা আমাদের মাতৃভাষা। ভাষা আন্দোলনে বায়ান্নর একুশে ফেব্র“য়ারিতে জীবন দান একুশের চেতনা। তাই একুশের চেতনা আর মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মিলনে আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রাম। বায়ান্নর একুশের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বাংলাভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে বাংলাদেশের মাটি হয়েছিল অগণিত শহীদদের রক্তে রঞ্জিত। মুক্তিযুদ্ধ আর ভাষা আন্দোলনের যুগল সংগ্রামকে পরম্পরায় গেঁথে রচিত হয়েছে ‘মুক্তিযুদ্ধ এবং ভাষা আন্দোলন’ গ্রন্থটি।
এ গ্রন্থের সূচিপত্রের দিকে এক নজর তাকালেও বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়। যেমন : ১. সাতই মার্চ ঢাকা বেতারের বৈপ্লবিক প্রতিবাদ, ২. একাত্তরের অসহযোগ আন্দোলনে ঢাকা বেতার, ৩. আমার মুক্তিযুদ্ধ, ৪. মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তির গান, ৫. মুক্তিযুদ্ধে দেশের গান, ৬. মুক্তিযুদ্ধ ও গণসঙ্গীত, ৭. মুক্তিযুদ্ধ ও নজরুল, ৮. মুক্তিযুদ্ধের গান বিজয়ের গান, ৯. মুক্তিযোদ্ধা জজ হ্যারিসন, ১০. মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ ধুন এবং ওস্তাদ আলী আকবর খান, ১১. মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং বুদ্ধিজীবী-শিল্পীদের ভাবনা, ১২. বিজয়ের গাঁথা, ১৩. বিজয় গান, ১৪. বিজয় নিশান উড়ছে, ১৫. স্বাধীনতার জয়গান, ১৬. স্বাধীনতার সৌধ (কুমিল্লায় নির্মিত), ১৭. একজন বীর উত্তমের কথা, ১৮. মুক্তিযুদ্ধে সংবাদপত্র : আমোদ, ১৯. একাত্তরের ছাব্বিশে মার্চ থেকে ষোলই ডিসেম্বর, ২০. মুক্তিযুদ্ধের কথন ইত্যাদি। মুক্তিযুদ্ধের গল্পের মধ্যে আছে- ১. বিমান যোদ্ধার প্রত্যাবর্তন, ২. মুক্তিযোদ্ধার মুখ, ৩. আমার সোনার বাংলা ইত্যাদি। ভাষা আন্দোলনবিষয়ক রয়েছে ৮টি প্রবন্ধ যেমন- ১. একুশের গান, ২. বায়ান্নর গান, ৩. ভাষা আন্দোলন : কিছু কথা, কিছু গান, ৪. আ-মরি বাংলা ভাষা, ৫. একুশে মেলা ও বই, ৬. প্রবাসে শহীদ মিনার, ৭. সিডনিতে একুশে মেলা এবং ৮. একুশের চেতনা ও ভাষা শহীদ সালাম। বলা যায়- গ্রন্থে প্রবন্ধ ও গল্প মিলিয়ে সমগ্র মুক্তিযুদ্ধকে লেখক স্পর্শ করতে চেয়েছেন এবং পেরেছেনও।
মোবারক হোসেন খান মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস রচনা করেননি- তবে তিনি গ্রন্থের সর্বত্রই ইতিহাসের উপাদান ও উপকরণ ছড়িয়ে গেছেন। যে কেউ এ গ্রন্থ থেকে উপাদান উপকরণ নিয়ে ইতিহাস রচনা করতে পারেন। এ গ্রন্থটির বড় বৈশিষ্ট্য এই যে আমাদের ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ যে এক সূত্রে গাঁথা- তাও লেখকের বিভিন্ন প্রবন্ধ-নিবন্ধ ও গল্পে উজ্জ্বল হয়ে ফুটে উঠেছে। এখানে তিনি বিশিষ্ট এবং সার্থক।
ভয়ংকর দিনগুলোতে যে সজীব চিত্র তিনি অভিজ্ঞতার আলোকে আমাদের জানিয়ে দেন- তা রীতিমতো শ্বাসরুদ্ধকর। একাত্তরে অসহযোগ আন্দোলনে ঢাকা বেতার ও আমার মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক রচনা-দুটো আমাদের সহজেই আক্রান্ত করে, ভীত করে এবং পরিপূর্ণ করে। লেখক বেতারের দুঃসহ দিনগুলোর কথা আমাদের না জানালে আমরা জানতাম-ই না- এর ভূমিকা। জীবনকে বাজি রেখে যেভাবে লেখক ও তার সহকর্মীরা কাজ করেছিলেন- তা অন্যত্র দুর্লভ। তারাও এক অর্থে মুক্তিযুদ্ধ করেছিলেন। বেতারের এ ইতিহাস লিখে লেখক আমাদের শ্রদ্ধা অর্জন করেছেন। অন্যান্য প্রবন্ধের উপাদানও গ্রন্থটিতে সমৃদ্ধ করেছে। জর্জ হ্যারিসন ও মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ ধুন-রচনা দুটি গুরুত্বপূর্ণ। ওস্তাদ আলী আকবর খান ও রবিশঙ্কর সেই অনুষ্ঠানে যুগলবন্দি বাজিয়েছিলেন- সরোদ আর সেতারে। ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ আয়োজন বিশ্ব ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এ কনসার্টের আগে পর্যন্ত জানত বাংলাদেশ স্বাধীনতার জন্য মুক্তিযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছে। কনসার্ট পরিবেশনের সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ববাসী জেগে উঠল (পৃ.-৯৩)। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বুদ্ধিজীবীরা ও শিল্পীর ভাবনা রচনাটিও গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে অধ্যাপক কবীর চৌধুরী বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পেছনে সবচেয়ে বেশি কার্যকর ছিল বাঙালিত্ববোধ। এ বাঙালিত্ববোধ তার সব শক্তি সংগ্রহ করেছে তার সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য থেকে। মানবতাবোধ, ধর্মনিরপেক্ষ চেতনা এবং সব মানুষকে উদার দৃষ্টিতে দেখার যে ঐতিহ্য এবং সেই সঙ্গে সবরকম অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার যে প্রবণতা তাই মুক্তিযুদ্ধ অনিবার্য করে তুলেছিল (পৃ. ৯৭)। লেখক একটি প্রবন্ধে উল্লেখ করেন : নিশ্চিত সংগ্রামের যে শপথ আমি নিয়েছিলাম আমার প্রিয়তমাসুকে মুক্ত করার, আমার সেই সংগ্রাম ব্যর্থ হয়নি। আমি বিজয়ের মুখ দেখেছি। আমি শহীদ হয়েছি।
... আমি একজন কবির কথা বললাম।
আমি একজন সঙ্গীতশিল্পীর কথা বললাম।
আমি একজন গেরিলা সৈনিকের কথা বললাম।
আমি একজন মুক্তিযোদ্ধার কথা বললাম।
আমি একজন বীর উত্তমের বীরত্বগাথা বললাম।
আমি একজন শহীদ খাজা নাজিমউদ্দিন ভূঁইয়ার কথা বললাম। (পৃ. ১২৮)।
এই খাজা নাজিমউদ্দিন ভূঁইয়া ছিলেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। এভাবেই লেখক স্বদেশে এবং বিদেশে
মোবারক হোসেন খান তাত্ত্বিক কোনও ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস রচনা করেননি। তিনি ভাষা আন্দোলনবিষয়ক কিছু প্রবন্ধ রচনা করেন- যা থেকে ভাষা আন্দোলন সম্পর্কে আমরা কিছু ইনফরমেশন পাই। আবার এ তথ্যগুলো ইতিহাস রচনায় সহায়ক।
কোন পরিস্থিতিতে আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী তার বিখ্যাত একুশের গান রচনা করেছিলেন- তারও পটভূমি লেখক উল্লেখ করেন।
আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্র“য়ারি/
আমি কি ভুলিতে পারি?/
কিংবা অন্য একটি গান :
ভুলব না, ভুলব না, একুশে ফেব্র“য়ারি ভুলব না/
লাঠি, গুলি আর টিয়ারগ্যাস, মিলিটারি আর মিলিটারি ভুলব না/
রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই- এ দাবিতে ধর্মঘট/
বরকত-সালামের খুনে লাল ঢাকার রাজপথ/
ভুলব না।/
বিজয়ের গানেও লেখক উল্লেখ করেন
মোরা একটি ফুলকে বাচাব বলে যুদ্ধ করি/
মোরা একটি মুখের হাসির জন্য অস্ত্র ধরি/
মোরা একখানা ভালো ছবির জন্য যুদ্ধ করি/
মোরা সারাবিশ্বের শান্তি বাঁচাতে যুদ্ধ করি।/
মোবারক হোসেন খান গল্পেও যুদ্ধের চিত্র এঁকেছেন। তিনটি গল্পের মধ্যে একটি অনুবাদ বাকি দুটি তার নিজের রচনা। গল্পগুলোতে মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধার চেতনা ধরা পড়েছে। বিশেষ করে ‘মুক্তিযোদ্ধার মুখ’ গল্পটি একটি অসাধারণ গল্প। এরূপ গল্প বাংলা সাহিত্যে কেউ রচনা করেছেন কি না আমার জানা নেই। গল্পের শেষ ক’টি লাইন এরূপ : স্লাইপার তরুণ তার পাশের লাশটাকে হাত দিয়ে ঠেলে চিৎ করে শুইয়ে দিল। লাশটার মুখের দিকে তাকাতেই চমকে উঠল দেখতে পেল, সে আর কেউ নয়, তারই আপন ভাই (পৃ.-১৪৭)। আমাদের মুক্তিযুদ্ধেও এরূপ চিত্র ছিল না?
নিশ্চয় হয়তো ছিল, কিন্তু এ নিয়ে কোনও গল্প লেখা হয়নি।
বস্তুত মোবারক হোসেন খানের জীবন ও শিল্প হাত ধরাধরি করে বেড় উঠেছে। আসলে শিল্পের জন্য মোবারক হোসেন খানের সুগভীর প্রেম ও ভালোবাসা ছিল সাহিত্য ও সংস্কৃতি সাধনার পূর্বশর্ত। এ শর্ত সামনে রেখেই সম্ভবত তিনি এ সাধনায় ব্রতী হয়েছিলেন। তার সম্পর্কে এবং তার একটি বই সম্পর্কে কিছু কথা লিখে আনন্দ বোধ করছি।
স্বাধীনতা আমার ভালো লাগে না
শুচি সৈয়দ
‘স্বাধীনতা আমার ভালো লাগে না’ প্রভাষ আমিনের কলামগ্রন্থ। বইটির আমার হাতে, আমাকে পড়তে দেখে আমার কন্যা সামান্থা বলল, ‘প্রভাষ কাকুকে জেলে ঢুকিয়ে দাও, স্বাধীনতা ভালো না লাগলে।’ জানিনা সামান্থার এই বাক্য প্রভাষের কাছে কেমন লাগবে। তবে আমাকে বইটি পাঠিয়ে প্রভাষ-‘পেয়েছি’- জানার পর ফিরতি খুদে-বার্তায় লিখেছে-‘বল এখন আপনার কোর্টে।’ এ বছর ফেব্র“য়ারির বইমেলায় প্রকাশিত প্রভাষের বইটি যে শুধু আমার কোর্টে নয়, অনেক পাঠকেরই কোর্টে তারই আভাষ বোধকরি সামান্থার বাক্যটি। আমার কন্যা সামান্থার জানা নেই যে, স্বাধীনতা ভালো না লাগা প্রভাষ আমিন গরাদহীন একটা বৃহৎ কারাগারেরই বাসিন্দা- সে কথা এ গ্রন্থের বিভিন্ন লেখায় উঠে এসেছে। ২০০১ থেকে ২০১২ পর্যন্ত বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত লেখা নিয়ে মলাট বন্দী প্রভাষ আমিনের বইয়ে এই সময়ের বাংলাদেশের চেহারা প্রতিফলিত হয়েছে। উঠে এসেছে বাংলাদেশের সমাজ ও রাষ্ট্রের হালফিল। এই হালফিল চিত্রকে আমার ক্লিশে, বিরক্তিকর বলে মনে হয়। বিতৃষ্ণ বিষয়গুলো পাঠকের ভ্রু কুঁচকাবে বলেই আমার ধারণা। সে কথা বোধকরি প্রভাষ আমিন নিজেও উপলব্ধি করে থাকবেন; তাই তার ‘আগাম ক্ষমা প্রার্থনা’ নামক ভূমিকাটি বেশ দীর্ঘই। কিন্তু আমি চমৎকৃত হয়েছি প্রভাষের ‘যে ছেলেবেলা আমাকে অপরাধী করে দেয়’ লেখাটি পড়তে পড়তে। আজ সকালেই আমার পুত্র অর্ককে আমি বেশ ভর্ৎসনা করছিলাম; সে দেয়ালে ক্রিকেট বল ঠুকে ক্যাচ ধরছিল বলে। আমি সন্ত্রস্ত আমার বাড়িওয়ালা যদি চটা ওয়াল দেখে চটাচটি করেন মাসান্তে বাড়িভাড়া উসুল করতে এসে- সেই ভয়ে। আর প্রভাষ আমিন লিখেছেন তার পুত্র প্রসূনের কান্নার কথা-
‘‘প্রসূন কাঁদতে কাঁদতে একথাই বলছিল, ‘বাসায় আমার খেলার কেউ নেই। আমি দেয়ালের সঙ্গে খেলি।’ আসলেই সে দেয়ালে বল করে ফিরতি বলে ব্যাট করে।’’ (পৃ: ১৬৭)
আজই সকালে পুত্রকে বকে আমার মনে হচ্ছিল ওদেরকে দেশে পাঠিয়ে দিই। যেখানে খেলার মাঠটি পাবে অবারিত, নির্ভয় বিকেলে। প্রভাষ আমিনের বইটি পাঠ করতে গিয়ে আমার একটু হালকা বোধ হল- একই সমতলে দুটি শিশুকে দেখে। প্রভাষের কলামে নাগরিক উদাসীনতা, অক্ষমতা যেমন উঠে এসেছে তেমনই সামাজিক নিষ্ক্রিয়তাকেও চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়েছেন তিনি। প্রভাষ তার দীর্ঘ ভূমিকা ‘আগাম ক্ষমা’য় বলেছে, ‘আনিসুর হক যে মাঝে মাঝে ভুল কথা বলে মানুষকে সান্ত্বনা দেন, এই বই তার প্রমাণ হয়ে থাকবে।’ (পৃ: ৬) প্রভাষ ভাল গল্প লিখতে পারবে বলে যাঁরা তাকে উৎসাহিত করেছেন তাঁদের মধ্যে গল্পকার আনিস রহমান, প্রাবন্ধিক আহমদ মাযহার এবং ঔপন্যাসিক আনিসুল হকের নাম উল্লেখ করেছেন প্রভাষ। প্রভাষ নিজে দাবি করেছেন, তাদের কথা ভুল প্রমাণিত হবে। না, প্রভাষ, এই বইটি কিন্তু তাঁদের কথাকে সঠিক বলেই প্রতিপন্ন করেছে। তাঁরা কেউ আপনাকে ভুল বাক্যে সন্তুষ্ট করতে চাননি। সেকথা পাঠকও উপলব্ধি করতে পারবে- আপনার ‘আমার বাবার মুখচ্ছবি,’ ‘জাপান গার্ডেন সিটির রোমহর্ষক গল্প’-এই তিনটি লেখা পড়লেই। বাংলাদেশের রাজনীতি, সমাজনীতি নিয়ে ক্লিশে কলাম লেখকের কোনও অভাব ঘটবে না এইদেশে আগামী ৫/১০ বছর অন্তত। প্রভাষ আমিন, আমিও আপনাকে কথাসাহিত্যের লেখায় মনোনিবেশের কথাই বলব- একজন পাঠক হিসেবে; যাঁদের নাম উল্লেখ করেছেন তাঁদের মত করে নয়। আমার কন্যা সামান্থার বাক্যটির অনুসরণে বলি, গরাদহীন এই কারাগারের মানুষগুলোর কথা কথাসাহিত্যে তুলে ধরুন। লিখুন, এদের সবার সার্বিক স্বাধীনতার আকাক্সক্ষার কথা লিখুন। হস্বাধীনতা আমার ভালো লাগে না। প্রভাষ আমিন। প্রকাশক : ঐতিহ্য। প্রচ্ছদ : ধ্র“ব এষ। মূল্য: ৩৭৫ টাকা। পৃ : ২৯৯
 

সাহিত্য সাময়িকী পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close