¦
জাপানে রবীন্দ্রনাথকে ফিরে দেখা

প্রবীর বিকাশ সরকারঁ | প্রকাশ : ০৮ মে ২০১৫

জাপানের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের শতবর্ষপ্রাচীন চলমান সম্পর্ক পৃথিবীর অন্যান্য যেসব দেশ কবিগুরু ভ্রমণ করেছেন তার চেয়ে দীর্ঘতর, বৈচিত্র্যময়তায় উজ্জ্বল এবং গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু অধিকাংশ বাঙালি এবং ভারতীয় সেই ইতিহাস জানেন না বললেই চলে। তেমন গবেষণাও হয়নি রবীন্দ্র-জাপান সম্পর্ক নিয়ে। কেউ কেউ বিচ্ছিন্নভাবে প্রবন্ধ লিখেছেন সেগুলোর সংকলিত দু-একটি গ্রন্থ প্রকাশ পেলেও জাপান এবং উপমহাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়েই এ সম্পর্ক নিয়ে কোনো বিষয়বিভাগ নেই, পড়ানোও হয় না।
১৯৯৪ সালে জাপান শীর্ষ রবীন্দ্র গবেষক অধ্যাপক কাজুও আজুমার উদ্যোগে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রীনিকেতনে ‘নিপ্পনভবন’ নামে জাপানি ভাষা ও সংস্কৃতির অনুষদটি স্থাপন করা হয়েছে সেখানে একটি জাদুঘর গড়ে উঠতে পারত রবীন্দ্র-জাপান স্মৃতিসামগ্রী নিয়ে। এ অজানা প্রায় শতবর্ষ সম্পর্কের বহু বহু দলিলপত্র, আলোকচিত্র, প্রকাশনা অবহেলায় কালের গর্ভে হারিয়ে গেছে এবং দিন দিন বিলুপ্তির পথে। জাপানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পাঁচ-পাঁচবার ভ্রমণে এসে দীর্ঘসময় অতিবাহিত করেছেন। তার ভক্ত সবচেয়ে বেশি এ দেশেই। অনূদিত হয়েছে বিস্তর রচনা। এমনকি অধ্যাপক আজুমার নেতৃত্বে ১২ খণ্ডে নির্বাচিত রবীন্দ্ররচনাবলি। কিন্তু কী কারণে এ দেশে সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও একটি স্মৃতিসংগ্রহশালা গড়ে উঠল না তার রাজনৈতিক পটভূমি ছিল বলে অধ্যাপক আজুমার ভাষ্য থেকে জেনেছিলাম। কিন্তু সেটা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত। রবীন্দ্রনাথের প্রচ্ছন্ন প্রভাবেই যে ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের আগুন জাপান পর্যন্ত সম্প্রসারিত হয়েছিল তা হয়তো অনেকেই জানেন না।
১৯০২ সালে জাপানি পণ্ডিত ও শিল্পকলার ইতিহাসবিদ শিল্পাচার্য ওকাকুরা তেনশিন কলকাতা ভ্রমণকালে প্রায় ১০ মাসের অধিকাংশ সময় আতিথ্যগ্রহণ করেন ঠাকুর পরিবারের সদস্য রবীন্দ্রনাথের ভ্রাতুষ্পুত্র স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম অগ্রণী কর্মী সুরেন্দ্রনাথ ঠাকুরের বাসভবনে। গভীর বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে স্বামী বিবেকানন্দ, সুরেন্দ্রনাথ, রবীন্দ্রনাথ, অবনীন্দ্রনাথ, গগণেন্দ্রনাথ, নন্দলাল বসু, ভগিনী নিবেদিতা প্রমুখের সঙ্গে। রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে সুদূরপ্রসারী ভাতৃবন্ধনে বাঁধা পড়েন ওকাকুরা তার চিন্তিত ‘এশিয়া ইজ ওয়ান’ বা ‘এশিয়া এক’ আপ্তদর্শনের ভিত্তিতে। প্রাচ্যের আদর্শ ও সংস্কৃতিকে সুরক্ষাকল্পে দুজনের পৌরহিত্যে সূচনা ঘটে ‘জাপান-বাংলা শিক্ষা-সাংস্কৃতিক বিনিময় সম্পর্কের যা পরবর্তীকালে রাজনৈতিক স্রোতমুখী হয়ে পড়ে। অবিস্মরণীয় মহাবিপ্লবী রাসবিহারি বসু ১৯১৫ সালে পালিয়ে এসে জাপানে আশ্রয় গ্রহণ করেন ‘পিএন ঠাকুর’ বা ‘প্রিয়নাথ ঠাকুর’ ছদ্মনামে নোবেল বিজয়ী রবীন্দ্রনাথের আত্মীয় হিসেবে। জাপান-বাংলা তথা জাপান-ভারত সাংস্কৃতিক সম্পর্ক দ্রুত স্বরূপ বদলে রাজনৈতিক সম্পর্কে রূপান্তরিত হয়।
ওকাকুরা ও তার শিষ্যদের কল্যাণে রবীন্দ্রনাথের নাম একটু একটু করে ছড়িয়ে পড়ছিল জাপানি ধর্মীয় ও বিদ্বজ্জনমহলে। ১৯১৩ সালে এশিয়ায় সাহিত্যে প্রথম নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর রবীন্দ্রনাথের নাম জাপানে দাবানলের মতো বিস্তারিত হয় গণমাধ্যম এবং বুদ্ধিজীবী সমাজে। শিক্ষিত সাধারণ মানুষের মধ্যেও সাড়া পড়তে থাকে। দ্রুত অনুবাদ হয়ে যায় ‘গীতাঞ্জলি’সহ একাধিক গ্রন্থাদি ইংরেজি থেকে। পত্রপত্রিকায় প্রবন্ধ-নিবন্ধ লেখালেখি হয়। সেই যে তাকে নিয়ে জাপানিদের মাতামাতি শুরু হল তা আর থামিয়ে রাখা যায়নি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিপ্লবী রাসবিহারির কল্যাণে রবীন্দ্রনাথের বিখ্যাত ‘প্রার্থনা’ কবিতাটি ব্যবহৃত হয় জাপানের রাজকীয় সেনাবাহিনীর সুদৃশ্যমান ওয়ার ম্যাগাজিন ‘ফ্রন্ট’-এ যা ব্রিটিশদের বুকে সেল বিঁধিয়েছিল আর আজাদ হিন্দ ফৌজের সেনাধিনায়ক নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর নেতৃত্বাধীন সহস তরুণ সেনাকে করেছিল উদ্বুদ্ধ।
যুদ্ধোত্তর পরাজিত জাপানে রবীন্দ্রনাথের নাম সঙ্গত কারণেই অনুচ্চারিত ছিল এক দশক প্রায়। পঞ্চাশ দশকের মাঝামাঝি আবার রবীন্দ্রনাথের শান্তিনিকেতন, বিশ্বভারতী এবং গীতাঞ্জলির সূর্যোদয়ের সূচনা হতে শুরু করে জাপানি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। স্বনামধন্য টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারতীয় দর্শন ও সংস্কৃতভাষার বহুশ্রুত গবেষক অধ্যাপক ভারততত্ত্ববিদ ড. নাকামুরা হাজিমে, বহুভাষাবিদ অধ্যাপক ড.ওয়াতানাবে শোওকো, সংস্কৃতভাষার পণ্ডিত অধ্যাপক ড.ৎসুশোও বিয়োদোও প্রমুখের উদ্যোগ ও তৎকালীন বিশ্বভারতীর উপাচার্য অধ্যাপক দিলীপ কুমার সিংহ প্রমুখের আগ্রহে পুনরায় জাপান-বাংলা শিক্ষা-সাংস্কৃতিক সম্পর্কের রুদ্ধদ্বার উন্মোচিত হয়। আবার জাপানি ছাত্রছাত্রীরা বিশ্বভারতীতে যাতায়াত শুরু করেন।
ষাটের দশকে কলকাতা ও পূর্ববাংলার ঢাকা থেকে সাংস্কৃতিক কর্মী এবং উচ্চশিক্ষার্থীদের জাপানে আসা শুরু হয়। যাদের আদর্শ রবীন্দ্রনাথ। রবীন্দ্র জন্মশতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে ১৯৫৭ সাল থেকেই উদ্যোগ গ্রহণ করেন সাবেক রবীন্দ্রভক্তরা। রবীন্দ্রনাথের শেষজীবনের জাপানি বন্ধু কাগজ ব্যবসায়ী ও শিক্ষাবিদ ড.ওওকুরা কুনিহিকোর নেতৃত্বে প্রায় চার বছর লাগিয়ে বহুবিবিধ আয়োজন, প্রদর্শন ও প্রকাশনার মধ্য দিয়ে রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তী উদযাপিত হয় ১৯৬১ সালে। যা এককথায় তুলনারহিত। ১৯৬৬ সালে ‘বাংলা ভাষা পাঠচক্র’ নামে একটি সংস্থা গড়ে ওঠে খ্যাতিমান বাংলা ভাষার গবেষক অধ্যাপক ড.ৎসুয়োশি নারার উদ্যোগে। বেশকিছু তরুণ জাপানি সাহিত্যানুরাগী এ প্রকল্পে যোগ দেন। তারা ‘কল্যাণী’ নামে একটি ম্যাগাজিন প্রকাশ করে তাতে রবীন্দ্রনাথসহ বাংলা সাহিত্যের প্রায় সব দিকপালের বিখ্যাত সব রচনার অনুবাদ করতে থাকেন মূল বাংলা থেকে জাপানিতে।
এ তরুণ প্রজন্মের রবীন্দ্রভক্ত বাংলা ভাষার শিক্ষানুরাগীদের মধ্যে জাপানে ও শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রবিপ্লব ঘটান অনন্য মেধাসম্পন্ন অধ্যাপক কাজুও আজুমা। নির্ধারিত আড়াই বছর ছাড়িয়ে তিনি সাড়ে তিন বছরই কাটিয়ে দেন শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতীতে জাপানি বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে, ব্যাপক আলোড়ন তোলেন কলকাতার রবীন্দ্রবলয়ে। সস্ত্রীক বাংলা ভাষা ও রবীন্দ্রসাহিত্য নিয়ে বিপুল গবেষণায় সফল হন। ১৯৭১ সালে জাপানে ফিরে এসে সংগঠিত করেন সাবেক ও নবীন রবীন্দ্রভক্তদের। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে সমর্থন করে জাপানে জনমতগঠন এবং তহবিল সংগ্রহ কর্মকাণ্ডে জড়িত হন। ১৯৭২ সালে গঠন করেন ‘জাপান টেগোর সমিতি’ যার সভাপতি হন ১৯১৬ সাল থেকে রবীন্দ্রনাথের একনিষ্ঠ ভক্ত, অনুবাদক ও দোভাষী স্বনামধন্য মনস্তত্ত্ববিদ ও নারীমুক্তি আন্দোলনের আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব মাদাম কোওরা তোমি (কোরা তোমি) আর সাধারণ সম্পাদক হন অধ্যাপক আজুমা নিজে। একাধিক প্রকল্প গ্রহণ করেন তার মধ্যে জাপানি ভাষায় নির্বাচিত রবীন্দ্র রচনাবলি প্রকাশ, বিশ্বভারতীতে গুরুদেবের ‘স্বপ্ন’ জাপানভবন স্থাপন অন্যতম প্রধান। দুটোতেই তিনি সফলকাম হন এবং সর্বশেষ প্রকল্প কলকাতার সল্টলেকে ‘ভারত-জাপান সংস্কৃতি কেন্দ্র : রবীন্দ্র-ওকাকুরা ভবন’ প্রতিষ্ঠা ২০০৭ সালে। বাংলাদেশের সিলেটেও অনুরূপ প্রকল্প গ্রহণ করেছিলেন একই সময়ে যার সাড়ে ৬ কোটি টাকার তহবিল আত্মসাৎ করে তারই স্নেহধন্য জাপান প্রবাসী দারাদ আহমেদ। ভেস্তে যায় সেই প্রকল্পটি।
রবীন্দ্রনাথের জীবদ্দশায় তার বন্ধু ওওকুরা কুনিহিকো ‘টেগোর মেমোরিয়াল অ্যাসোসিয়েশন’ গঠন করেছিলেন ১৯৫৮ সালে এবং য়োকোহামা বন্দরনগরীতে তারই প্রাসাদোপম বাসভবনে স্থাপন করেছিলেন ‘রবীন্দ্র স্মৃতিকক্ষ’ কিন্তু সেগুলো ছিল স্বল্পায়ু। জাপানে বর্তমানে যা আছে রবীন্দ্র স্মৃতিধন্য দর্শনীয় স্থান তা হল নাগানো-প্রিফেকচারের বিখ্যাত কারুরইজাওয়া শহরের মাউন্ট আসামা পর্বতের পাদদেশে স্থাপিত একটি রবীন্দ্র স্মারক ভাস্কর্য ‘শিসেই তাগো-রু : জিনরুই ফুছেন’ বা ‘কবিসন্ত টেগোর : যুদ্ধহীন ‘মানব’ যা শান্তিবাদী মাদাম কোওরা তোমি ১৯৮০ সালে গুরুদেবের ১২০তম জন্মবার্ষিকীতে নির্মাণ করান প্রখ্যাত ভাস্কর তাকাতা হিরোআৎসুকে দিয়ে। ১৯১৬ সালে রবীন্দ্রনাথ জাপানের প্রথম মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষাবিদ ড.নারুসে জিনজোওর অনুরোধে কারুইজাওয়া ক্যাস্পাসে বক্তৃতা দিতে এসে কয়েকদিন ছিলেন। এখানেই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ওয়াদা তোমি (বিবাহসূত্রে কোওরা তোমি) রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে পরিচিত ও ভক্ত হন। সেই স্মৃতিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য তার এই প্রচেষ্টা রবীন্দ্র নারীভক্তদের মধ্যে তিনিই করে গেছেন, মৃত্যু পর্যন্ত গুরুদেবকে ভুলতে পারেননি। তার বাসভবনের নামও রেখেছিলেন ‘শান্তিনিকেতন’ নামে।
২০০২ সালে এই রবীন্দ্র স্মৃতিবিজড়িত স্থানটি পরিদর্শন করার সৌভাগ্য হয়। এ স্মারক ভাস্কর্যের একটি অনু-ভাস্কর্য সাইতামা-প্রিফেকচারের হিগাশি মুরায়ামা শহরের তাকাসাকা রেলস্টেশনের সম্মুখে পাবলিক আর্ট হিসেবে স্থাপিত হয়েছে কয়েক বছর আগে। আর ২০১১ সালে রবীন্দ্র সার্ধশতজন্মবর্ষে টোকিওর বিখ্যাত সোওকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে স্থাপিত হয়েছে পূর্ণদেহী সুদর্শন একটি রবীন্দ্র ভাস্কর্য।
রাজধানী টোকিওতে রয়েছে রবীন্দ্র স্মৃতিবিজড়িত একাধিক স্থান যেমন উয়েনো উদ্যান, আসুকায়ামা উদ্যান, শিনজুকু শহর, মেজিরোও শহর, মেগুরো শহর প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য যার অনন্তপক্ষে একটিতে রবীন্দ্রনাথের একটি স্মারক ভাস্কর্য স্থাপনের উদ্যোগ নিতে পারে বাংলাদেশ সরকার নানা কারণেই। যেমন বিশিষ্ট বৌদ্ধপণ্ডিত কিমুরা নিক্কি ১৯০৭ সালে চট্টগ্রামের এক মহাস্থবির মন্দিরে পালি ভাষা শিক্ষা লাভ করেন তিন বছর, তারপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা লাভ করে পালি ভাষা বিভাগের অধ্যাপক হন। রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব হয় এবং তার দোভাষীর দায়িত্ব পালন করেন জাপানে। জাপানশীর্ষ রবীন্দ্র গবেষক অধ্যাপক কাজুও আজুমা ছিলেন আমৃত্যু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভক্ত ও দোভাষী। বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নে যিনি অসামান্য অবদান রেখেছিলেন বঙ্গবন্ধুর অকৃত্রিম বন্ধু রাজনীতিবিদ হায়াকাওয়া তাকাশি তিনিও ছিলেন প্যান-এশিয়ানিস্ট রবীন্দ্র সুহৃদ ওকাকুরারই অনুসারী।
জাপান প্রবাসী লেখক ও গবেষক
 

সাহিত্য সাময়িকী পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close