¦
শব্দের বাক্যময়তা

মেজবাহ উদদীন | প্রকাশ : ০৮ মে ২০১৫

জীবনে মাঝে মাঝে এমন সময় আসে যখন নিজের জন্য আপনার আফসোস হবে কবি না হওয়ায়, যেখানে সময় কম বক্তব্য অনেক। অল্প কথায় নিজেকে গুছিয়ে উপস্থাপন করার জন্য কবিতা একটি অনন্য মাধ্যম। সেই মাধ্যমেই আমাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন কবি ক্যাথলিন ওসিপ। ‘ওহ, বাহ্, সমাধি মন্দির’ ক্যাথলিন ওসিপ তার তৃতীয় বই ‘দি ডু-ওভার’-এর শেষ কবিতার এমনই নামকরণ করেছেন, আর এর মনমুগ্ধকর বাক্যাংশগুলো তার উদ্দেশ্যগুলোকে একত্রিত করে। ওসিপ লিখেন মৃত্যুকে মনে রাখতে, বিশেষত তার স্বামীর সৎ মা অ্যান্ড্রিয়া ওসিপের মৃত্যুকে; যে তার মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছে উদ্বেগহীনতায়; ওসিপ আমাদের দেখিয়েছেন প্রচলিত শব্দভাণ্ডার কতটা তীব্র হতে পারে এটা এমন যে, সাধারণ লেখকদের ক্ষেত্রে শব্দগুলো গভীরে প্রবেশ করতে না পেরে ক্লান্তিকর, একঘেয়ে অথবা বিভ্রান্ত করে।
‘দি ডু-ওভার’ বইটি সাধারণভাবে বিষাদের, কিন্তু যখন এটা শুরু হয়, এটা সম্পূর্ণ অ্যান্ড্রিয়া। ওসিপ ‘মাদারস ডে’ কবিতায় লিখেন, ‘যখনই আমি তোমার কথা ভাবি, তোমাকে মনে হয় সূর্যের প্রতিরূপ... তুমি একজন বন্ধু যে সাহায্য করতে পারে না কিন্তু মায়ের মতো ভালোবাসতে পারে/আর এখন একটি জড়পিণ্ড সেই সূর্যকে ঢেকে দিয়েছে’। অ্যান্ড্রিয়ার টিউমার (জড়পিণ্ড) পৃথিবীর আলোকে নির্বাপিত করেছে। এখানে তিনটি ছন্দবদ্ধ কবিতার প্রতিটি লাইনের বানানের প্রথম অক্ষরে অ্যান্ড্রিয়া ওসিপের নাম ব্যবহার করা হয়েছে। একইভাবে ২০১১ থেকে ২০১২-তে মারা গেছেন এমন বিশিষ্ট ব্যক্তিদের স্মরণে পাঁচটি ছন্দবদ্ধ কবিতা এখানে যুক্ত করেছেন, যেন অ্যান্ড্রিয়াকে সে সকল ‘স্টারদের’ মতো গুরুত্ব দেয়া! উদাহরণস্বরূপ ‘স্টিভ জবস’ এবং ‘অ্যামি ওয়াইনহাউজ’-এর নাম বলা যায়।
শোকগাথা প্রাচীনকাল থেকেই মৃত্যুকে নাকচ করার চেষ্টা করে : মানুষের কাছে প্রিয় বেহেস্তে অথবা স্মৃতিতে বেঁচে থাকা, যেটা আমাদের মানুষের ইচ্ছেগুলোকে প্রতিপালন করে, যাতে করে সে আবার বেঁচে থাকতে পারে। ‘বৈষম্যের কারণে শতপদী প্রাণী (কেন্নো) পুনরায় ফিরে আসতে চায় না’। টুইটারের যুগে শোকের ধ্বনি কতটা ভিন্ন হওয়া উচিত, এমন যুগ যেখানকার বরণীয় কর্তৃপক্ষ জন লেনন? ওসিপ এখানে লেননকে উল্লেখ করেছেন অবিশ্বাসের সঙ্গে : ‘কি??!! আমাদের উপরে শুধুমাত্র আকাশই আছে?’
ওসিপ সাধারণ বিশ্বস্ততার জন্য তার নিজের অতীতকে ছুঁয়েছেন। ‘অন স্যাডনেস’ নামক গদ্য কবিতায় বলেন, ‘বিষণ্ণতাকে মনে হয় সবচেয়ে কষ্টকর আবেগময় অবস্থা/গ্রহণের ক্ষেত্রে এবং সমানভাবে সম্মান অথবা উদযাপন করার ক্ষেত্রে’। ‘ভালবাসার জয়/নিষ্ঠুরতার উপর’ কবিতায় লিখেছেন, ‘আর আমরা এটা বিশ্বাস করি কারণ এটা বিশ্বাস করাই আমাদের কাজ, আর যদি তুমি এটা বিশ্বাস করতে না পার সম্ভবত তোমার পেছনে জোরে একটি লাথি মারার প্রয়োজন আছে...’। আমরা অ্যান্ড্রিয়াকে তার দৈহিক পতনের শব্দগুলোর মধ্যেই বেশি দেখতে পাই, তার শেষ মাস এবং দিনগুলি, কবির মস্তিষ্কে তার মৃত্যুপরবর্তী উপস্থিতি : ‘হার্টসডালে তার শেষ রাতে আমি অবহেলায় পরে থাকা স্টোভটি ধুয়েছিলাম/আমি তার পেছন দিক ঘষলাম/বড় নয় এমন কি ছোটও নয় কিন্তু ভারী এবং ঠাণ্ডা/তার জ্যোতির্ময় মুখে আর আলো আসেনি।’
‘দি ডু-ওভার’ বইটিতে ওসিপ কিছু বিশেষ কবিতা নিয়ে কাজ করেছেন, যেমন- সিলভিয়া পাথের ‘দি মুন অ্যান্ড দি ইউ ট্রি’কে কিছুটা উন্নত করে ‘গোস্ট মুন’ : কারণ সিলভিয়া লিখেছেন, ‘চাঁদের কোনো দরজা নেই। এর ডানদিকে একটি মুখ আছে/হাতের গিঁটের মতো ফেকাসে এবং ভয়ঙ্কর বিপর্যস্ত।’ ওসিপ লিখতে পারেন, ‘চাঁদের কোনো নেশা নেই। এটা বিকৃত রুচির লোকের মতো/বারবার একই পর্ন লিংকের উপর ক্লিক্ করে।’ এ ধরনের পুনর্লিখন হয়তো আপনাকে আঘাত করবে বেপরোয়া অথবা নাটুকে হিসেবে। তবুও এগুলো আপনাকে স্মরণ করিয়ে দেবে সমকালীন অন্যান্য কবিদের, বিশেষ করে অ্যানি কার্সনের কথা। কার্সন থেকে রবার্ট লওয়েল পর্যন্ত আধুনিক কবিরা বড় একফালি গদ্যের মাধ্যমে পদ্যের বই ছিন্নভিন্ন করেছেন। ওপিস এটা করেন ‘আফটার’ নামক গল্পের মাধ্যমে।
ওসিপ লিখেন তার ভাইরা কী সে সম্পর্কে, কোনটা সে কাটিয়ে উঠতে পারে না, কোন সমস্যার সমাধান সে করতে পারে না। ‘সফলতা রচিত হয় উপেক্ষার মধ্য দিয়ে/যেটা তুমি পছন্দ কর না’, সে এমনই মনে করে কিন্তু সে এমন কিছুই করতে পারে না। ‘কিভাবে আমি জানবো কোনটা সঠিক?’ আমরা গদ্যের কাছে যাই যখন কোনো উত্তরের প্রয়োজন হয়; আমরা কবিতার কাছে যাই যখন উত্তরটি পরিষ্কার না হবে। ওসিপ বলেন, ‘আমার ছেলেবন্ধু আমার ভৌতিক প্রশ্নে বিরক্ত হয়, মেয়েবন্ধু আমার প্রশ্নগুলো উপেক্ষা করে/আর আমার বস্ আমার ভৌতিক প্রশ্নগুলোকে ভয় পায়।’ কবি নিজের সম্বন্ধে বলেন, ‘আমি আমার মরিয়া জীবসত্তাকে ভালবাসি/আর আমার শেষ সুযোগ উচ্চারণে।’
সূত্র : দি নিউইয়র্ক টাইমস
 

সাহিত্য সাময়িকী পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close