¦

এইমাত্র পাওয়া

  • রাজশাহীর বাগমারায় কাদিয়ানি মসজিদে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় অজ্ঞাতদের আসামি করে পুলিশের মামলা || রূপপুর বিদ্যুতকেন্দ্র নির্মাণের জন্য রুশ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের ১২.৬৫ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি সই || নাটোরের ভাষা সৈনিক দৌলতজ্জামান ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)
পথ নির্মাতাদের কথা-তিন

সৈয়দ আবুল মকসুদ | প্রকাশ : ২৫ ডিসেম্বর ২০১৫

।। ২২ ।।
সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার প্রবর্তিত হয় ১৯৬০ সালে। দ্বিতীয় বছর ১৯৬১ সালে কবিতায় আহসান হাবীব, উপন্যাসে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ, ছোটগল্পে মবিন উদ্দীন আহমদ, নাটকে নূরুল হোসেন, গবেষণা প্রবন্ধে মুহম্মদ আবদুল হাই এবং শিশুসাহিত্যে বেগম হোসনে আরা পুরস্কৃত হন। মবিন উদ্দীন আহমদ আজ বিস্মৃত। যে লেখক আহসান হাবীব, ওয়ালীউল্লাহ প্রমুখের সঙ্গে পুরস্কৃত হওয়ার যোগ্যতা রাখেন তাঁর নিশ্চয়ই পাঠযোগ্য সাহিত্যকর্ম থাকবে। সেকালে এখনকার মতো দলীয় রাজনীতির ব্যাপার ছিল না বাংলা একাডেমির মতো প্রতিষ্ঠানে। তা থাকলে সত্যেন সেনের মতো কমিউনিস্টের বই বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত হতো না সামরিক শাসক মোহাম্মদ আইয়ুব খানের আমলে।
আজ বাংলাদেশের সাহিত্যে মবিন উদ্দীনের নামনিশানা নেই। তাঁর এভাবে হারিয়ে যাওয়ার কারণ খুবই সহজ। তিনি বিত্তবান ছিলেন না। কোনো প্রভাবশালী পুত্র-কন্যা রেখে যাননি। তিনি কোনো বড় প্রতিষ্ঠানের প্রধান ছিলেন না অথবা যুগ্মসচিবের উপরের পদে চাকরি করেননি।
যদি থাকত তাঁর প্রভাবশালী পুত্র-কন্যা অথবা কোনো নামিদামি পত্রিকার সম্পাদক তাঁর গুণগ্রাহী তা হলে ২০১২ সালে তাঁরা ঘটা করে তাঁর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করতেন। ওসব বাদ দিলেও বাংলাদেশে যদি একাডেমিক পর্যায়ে মৌলিক গবেষণার রেওয়াজ থাকত তা হলে কেউ তাঁর সম্পর্কে কিছু আলোচনা করতেন। মবিন উদ্দীন কোনো প্রকাণ্ড বড় লেখক ছিলেন না, কিন্তু লেখক তিনি ছিলেন এবং শুধু লেখকই ছিলেন। বেশকিছু চমৎকার ছোটগল্প রয়েছে তাঁর। তিনি সেই সময় পূর্ববাংলায় কথাসাহিত্যের চর্চা করেছেন। যখন বড় মাপের লেখক এখানে দু’চারজনের বেশি ছিলেন না।
মবিন উদ্দীন ছিলেন অতি সজ্জন, নিরীহ প্রকৃতির মানুষ। তিনি যে একজন খ্যাতিমান লেখক- সে রকম কোনো অহঙ্কার তাঁর আচরণে প্রকাশ পেত না। পঞ্চাশের দশকে আমি তাঁকে দেখেছি। তাঁর সঙ্গে আমার আব্বার বন্ধুত্ব ছিল, যদিও আব্বা তাঁর চেয়ে বয়সে কিছু বড় ছিলেন। ষাটের দশকের প্রথম দিকে আমি তাঁকে দেখেছি পাটুয়াটুলী লয়াল স্ট্রিটে সওগাত অফিসে মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনের সম্পাদকীয় দফতরে। মবিন উদ্দীন চাকরি করতেন ঢাকা জজ কোর্টে। সম্ভবত ছিলেন নিচের পদের কোনো কর্মকর্তা।
মবিনউদ্দীনের জন্ম ১৯১২ সালে মানিকগঞ্জ জেলার পারিল নওয়াদা গ্রামে। তাঁদের পরিবার ছিল গ্রামীণ শিক্ষিত মধ্যবিত্ত পরিবার। তাঁর এক চাচা ছিলেন ঢাকার সাব-ডিপুটি কালেক্টর। পরিবারের অনেকেই ছিলেন শিক্ষিত। কথাসাহিত্যিক মতীয়র রহমান খান তাদেরই পরিবারের সদস্য। মবিনউদ্দীন কলকাতা বঙ্গবাসী বা সিটি কলেজ থেকে চল্লিশের দশকে বিকম পাস করেন। আইকম পাস করেন জগন্নাথ কলেজ থেকে। ছোটবেলায় বাবা-মা মারা যাওয়ায় চাচা-মামাদের অভিভাবকত্বে তিনি বেড়ে উঠেন। সে জন্য তাকে কষ্ট করতে হয়েছে।
ব্রিটিশ আমলে একজন গ্রাজুয়েট মুসলমান চেষ্টা করলে অনেক কিছুই হতে পারতেন। মবিনউদ্দীন ছিলেন সাহিত্যগত প্রাণ। কোর্টে চাকরি এবং লেখালেখি ছাড়া তিনি আর কিছুই করেননি। সেকালে তাঁর চেয়ে ছোট চাকুরে ঢাকায় বিষয়সম্পত্তি করেছেন। তাঁর সে আগ্রহ ছিল না। কবি খান মোহাম্মদ মঈনুদ্দীন ছিলেন তাঁরই এলাকার মানুষ। মঈনুদ্দীনের বাংলাবাজার আলহামরা লাইব্রেরিতেও তিনি সন্ধ্যার দিকে যেতেন। তাঁর কোনো একটি বই আলহামরা লাইব্ররি থেকে বেরিয়ে থাকতে পারে বলে মনে হচ্ছে।
মবিনউদ্দীন মূলত ছোটোগল্পই লিখতেন। একটি উপন্যাসও তাঁর আছে। তাঁর ছোটগল্প সংকলনগুলোর মধ্যে রয়েছে কলঙ্ক (১৯৪৬), সাহানা (১৯৪৮), হোসেন বাড়ির বউ (১৯৫২), ভাঙা বন্দর (১৯৫৪), কুদরত খাঁর ভিটে (১৯৫৫), মুখচর (১৯৫৬), বুনো শয়তান (১৯৫৬) প্রভৃতি। পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত তাঁর অনেক লেখাই অগ্রন্থিত রয়ে গেছে। ১৯৭৮ সালে যখন তিনি মারা যান তখন নতুন যুগের কেউ তাকে চেনে না। দু’লাইন মৃত্যু সংবাদ কোথাও বেরিয়েছিল বলে মনে পড়েনি। কেউ শোক প্রকাশ করেনি।
মবিনউদ্দীনের ‘সন্তান’ শীর্ষক একটি ছোটগল্প পড়ে ভালো লেগেছিল বলে এখনও মনে আছে। নিুমধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষের জীবনের দুঃখ-সুখ-দ্বন্দ্ব, তাদের হতাশা প্রভৃতি তাঁর লেখার বিষয়বস্তু। তাঁর ‘হোসেন বাড়ির বউ’ বইটি তিনি আমার আব্বাকে উপহার দিয়েছিলেন। তাঁর শৈল্পিক গুণাগুণ সম্পর্কে এখন বলতে পারব না। তবে পঞ্চাশের দশকে তিনি যথেষ্টই পঠিত ছিলেন এবং খ্যাতিমান ছিলেন। ষাটের দশকে প্রজন্ম থেকে উপযুক্ত মর্যাদা না পেয়ে আড়ালকেই বেছে নেন মবিনউদ্দীন আহমদ তাঁর জীবনের শেষ দুটি দশক। তাঁর উত্তরসূরিরা জানেন না যে, তাদের পথনির্মাতাদের তিনি একজন।
সরদার জয়েনউদ্দীনের গল্পের বই নয়ান ঢুলী প্রকাশের মুহূর্তটির আমি একজন সাক্ষী, সে কথা আগে উল্লেখ করেছি। তাঁর গল্প-উপন্যাসের সংখ্যা অনেকগুলো। সত্তরের দশকে হাতীরপুল বাজারে একদিন তাঁর সঙ্গে দেখা। তিনি কাঁচাবাজার করতে গিয়েছিলেন চটের থলে নিয়ে। অনেকদিন পরে দেখা বলে ফুটপাতে দাঁড়িয়ে অনেকক্ষণ কথা বললেন। একপর্যায়ে তিনি প্রায় অনুরোধের মতো বললেন, আমার ‘অনেক সূর্যের আশা’ উপন্যাসটি কষ্ট করে হলেও পড়বেন। তাঁর ওই কথাটি আমার বুকে বাজে। লেখক কেন তাঁর পরবর্তী প্রজন্মের একজনকে তাঁর একটি বই পড়তে অনুরোধ করবেন? তাঁর অনুরোধের আগে কেন আমি তাঁর উপন্যাসটি পড়িনি তা ভেবে নিজের প্রতিই আমার ক্ষোভ হয়।
সরদার জয়েনউদ্দীন অবহেলা করার মতো কথাশিল্পী নন। তাঁর অবদান অস্বীকার করা অথবা তাঁকে অবহেলা করা অপরাধের শামিল। যখন তিনি জাতীয় গ্রন্থ কেন্দ্রের পরিচালক ছিলেন, তাঁর দ্বারা উপকৃত হয়েছে এ দেশের প্রবীণ ও নতুন প্রজন্মের প্রায় সব কবি-সাহিত্যিক। প্রত্যেকের বই বেরুনোর সঙ্গে সঙ্গে তিনি তাঁর সম্পাদিত কেন্দ্রের সাময়িকী ‘বই’তে প্রশংসামূলক সমালোচনা করিয়েছেন। আমার কোনো কোনো বইয়েরও আলোচনা বেরিয়েছে ‘বই’ পত্রিকায়।
একটি সময় সত্তরের দশকে কোনো কারণ ছাড়াই জয়েনউদ্দীন বাংলাদেশের লেখকসমাজ থেকে অবহেলিত হতে থাকে। খ্যাতিমান সবাই তখন আখের গোছাতে অতি ব্যস্ত। এখন কেউ বিশ্বাস করতে চাইবে না, যাঁরা শেখ মুজিবের সরকার থেকে সুবিধা নিয়েছেন সাড়ে তিন বছর জিয়া সরকার তাদের বঞ্চিত করলো না। জিয়া মামলা-মকদ্দমা ঠুকে দিল আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে অনেকেই জেলের ভাতও খেলেন তাঁর সময়ে, কিন্তু আওয়ামী কবি-শিল্প-সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ-বুদ্ধিজীবীদের কোনো অসুবিধা হল না। প্রাপ্তিযোগে বিশেষ ঘাটতি দেখা গেল না। ওই সব সুবিধাবাদিতা দেখে জয়েনউদ্দীনের ঘেন্না জন্মে থাকবে। তিনি হতাশাগ্রস্তও হয়ে পড়েন। স্বনামধন্য লেখক-বুদ্ধিজীবীদের সম্পর্কে তাঁর ধারণা প্রকাশ পেয়েছে কুমিল্লার লেখক-অধ্যাপক তিতাস চৌধুরীকে লেখা একটি ব্যক্তিগত চিঠিতে। ১৩৯০ বঙ্গাব্দে লেখা ওই চিঠিতে সরদার লিখেছিলেন :
‘ঢাকার লোকজন ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের পেশাদার বুদ্ধিজীবীদের কার্যকলাপ দেখে-শুনে মনে ঘেন্না ধরে গেছে। শুধু তাই নয়, নিজের মনটার প্রতিও কেমন যেন অবিশ্বাস জন্মে গেছে। মাঝে মাঝেই মনে হয় আগের সেই সহজ-সুন্দর অপরকে সহজে ভালোবাসবার মনটা বুঝি একেবারেই নষ্ট হয়ে গেল। এ ভাবনার রশি আমায় আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধেছে, তাই সভা-সমিতি, যাকে মনে হয় গলাবাজীর আসর, ওসব জায়গায় আমি যাই-ই না। অর্থাৎ স্ব^নির্বাসিত জীবনযাপন করি।’ [তিতাস চৌধুরী, দেখা অদেখার স্মৃতি, পৃ. ১৮২]
একজন কথাশিল্পী জীবনের শেষ প্রান্তে পৌঁছে কতটা বেদনা থেকে এমন কথা বলতে পারেন। সরদার ছিলেন সহজ-সুন্দর সাদা মনের মানুষ। সহজেই সব বয়সের ও সব শ্রেণীর মানুষের সঙ্গে মিশতে পারতেন। এখন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর দিকের যেখানে দোতলায় যাওয়ার সিঁড়ি সেখানে একটি দোতলা বাড়ি ছিল। পুরনো বাড়ি। পরিত্যক্ত সম্পত্তি। চমৎকার একটি উঠানও ছিল। সেটি ছিল ন্যাশনাল বুক সেন্টার। মনে পড়ে সেখানেই ১৯৬৯ সালে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহকে একটি সংবর্ধনা দেয়া হয়েছিল। ঢাকার প্রধান কবি-সাহিত্যিক-শিল্পী প্রায় সবাই উপস্থিত ছিলেন। প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন নওরোজ কিতাবিস্তানের মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন, শওকত ওসমান, জয়নুল আবেদিন ও জয়েনুদ্দীন। সেদিন ওয়ালীউল্লাহ একটি ছোট বক্তৃতা দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, দেশের সাহিত্যসমাজ আমাকে এতটা ভালোবাসে আমি জানতাম না। এতকাল বিদেশে রয়েছি, তবু তাঁরা আমাকে মনে রেখেছেন। আমার লেখা পড়েন। এর পরে আর বিদেশে থাকা যায় না। যত শিগগির সম্ভব আমার স্ত্রী ও আমি দেশে চলে আসব। ছেলে-মেয়ে থাকবে প্যারিসে।
ওই সময় ওয়ালীউল্লাহ গুলশানে একটি একতলা বড়ি কেনেন। তাঁর পরিকল্পনা ছিল তিন-চার বছরের মধ্যে দেশে ফিরে আসবেন এবং শুধু লেখালেখিতেই জীবনের শেষ বছরগুলো ব্যয় করবেন। এর অল্পকাল পরেই শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। স্বাধীনতার সপক্ষে ইউরোপে জনমত গঠনে তিনি বিরামহীন কাজ করেন। পাকিস্তান সরকার তাঁকে চাকরিচ্যুত করায় তিনি তখন বেকার। দেশের জন্য তাঁর উদ্বেগের অন্ত ছিল না। নিজের আর্থিক অনটন। মানসিক চাপ সইতে না পেরে একাত্তরের ১০ অক্টোবর তিনি মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণে মারা যান।
ন্যাশনাল বুক সেন্টারের ডিরেক্টর হিসেবে সরদার যে ঘরে বসতেন সেটি ছিল একটি সুপরিসর কক্ষ। তিনি ছিলেন মজলিসী প্রকৃতির মানুষ। নিজেকে তিনি একজন অফিসার মনে করতেন না। তাঁর গায়ের বর্ণ ছিল কালো। লম্বা গড়ন। চুল পেছনের দিকে আঁচড়াতেন। সব সময় পাজামা-পাঞ্জাবী পড়তেন। তাঁর ঘরে কবি-সাহিত্যিকদের আড্ডা বসত। প্রয় প্রতিদিন। আমিও কোনো দিন যেতাম। যা মাইনে পেতেন তার অনেকটাই কবি-সাহিত্যিকদের চা-সিঙ্গারা-বিস্কুট খাইয়ে খরচ করতেন। সেই জয়েনউদ্দীন অবসর গ্রহণের পর নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েন। কাঁঠালবাগান ফ্রি স্কুল স্ট্রিটে ছিল তাঁর বাড়ি। শেষ দিনগুলো তাঁর সেখানেই একাকী কাটে। ২২ ডিসেম্বর ১৯৮৬ তিনি মারা যান।
জয়েনউদ্দীনের জন্ম গ্রামের প্রান্তিক কৃষক পরিবারে। পাবনা জেলার কামারহাটি গ্রামে তাঁর জন্ম তাঁর হিসাবে ১৯১৮ সালে, যদিও ম্যাট্রিক সার্টিফিকেটে অন্য সাল আছে। ১৯৪০ সালে পাবনার এডওয়ার্ড কলেজে তিনি বছরখানেক পড়েছিলেন, কিন্তু কারো বাড়ি জায়গির থেকে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। শিক্ষাজীবনে ইতি টেনে সেনাবাহিনীতে হাবিলদার ক্লার্ক হিসেবে যোগ দেন। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর সেনাবাহিনী থেকে অব্যাহতি পান। কিছুদিন পাকিস্তান অবজারভার-এ কাজ করেন বিজ্ঞাপন বিভাগে। পঞ্চাশের দশকে আমি যখন তাঁকে দেখি তখন তিনি দৈনিক সংবাদের বিজ্ঞাপন বিভাগের ম্যানেজার।
পঞ্চাশের দশকে আমাদের বাড়িতে দুটি সাময়িকী যেত। তার নাম সেতারা ও শাহীন। এক কপি করে নয়, যেত একটা বাণ্ডিল। তাতে থাকত ১০টি কপি। আব্বা সেগুলো বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে পুশিংসেল করতেন। কয়েক মাসের টাকা জমা হলে জয়েনউদ্দীন গিয়ে নিয়ে আসতেন। ওই উপলক্ষে একবেলা তাঁর সান্নিধ্য পেতাম। ১৯৬২তে বাংলা একাডেমিতে যোগ দেয়ার আগে জীবিকার জন্য সরদারকে নানা প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে হয়েছে। ষাটের দশকের প্রথম দিকে আইয়ুব সরকার ন্যাশনাল বুক সেন্টার (জাতীয় গ্রন্থ কেন্দ্র, প্রতিষ্ঠা করলে ১৯৬৪তে তাঁকে নিয়োগ দেয়া হয় গবেষণা কর্মকর্তা হিসেবে। পরে হয়েছিলেন পরিচালক।
নিষ্ঠার সঙ্গে সাহিত্যচর্চা করেছেন জয়েনউদ্দীন। ১৯৬৭ সালে তাঁর ‘অনেক সূর্যের আশা’ আদমজী সাহিত্য পুরস্কার পায়। তাঁর অন্যান্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে- আদিগন্ত (১৯৫৯), পান্না মতি (১৯৬৪), নীল রং রক্ত (১৯৬৫), বেগম শেফালী মীর্জা (১৯৬৮) প্রভৃতি। গল্পগ্রন্থ বীরকণ্ঠীর বিয়ে (১৯৫৫), খরস্রোত (১৯৫৫), বেলা ব্যানার্জির প্রেম (১৯৬৮) প্রভৃতি। [চলবে]
 

সাহিত্য সাময়িকী পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close