¦
কেন্দ্রের ধমকে জমেছে লড়াই

সংগ্রাম সিংহ, মৌলভীবাজার থেকে | প্রকাশ : ২৩ ডিসেম্বর ২০১৫

প্রাচীনতম পৌরসভা মৌলভীবাজার। প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৮৮৭ সালে। শতবর্ষ পেরিয়ে গেছে অনেক আগেই। এই দীর্ঘ ইতিহাসে অনেকেই ছিলেন এ পৌরসভার। কেউ নির্বাচিত, আবার কেউ ছিলেন মনোনীত। তবে অধিকাংশই ছিলেন রাজনৈতিক দলের লোক। তাই নির্বাচন আসলেই রাজনীতির মাঠ গরম হয়ে আসে। পাশাপাশি চাঙ্গা হয়ে ওঠে দলগুলোর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব-কোন্দলও। তবে এবার কেন্দ্রের কঠোর হস্তক্ষেপে দ্রুত বদলে গেছে মাঠের চিত্র। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দ্বন্দ্ব-গ্রুপিং আড়ালে চলে গেছে। ফলে শীর্ষ লড়াইয়ে এখন নৌকা আর ধানের শীষ। মুখোমুখি আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. ফজলুর রহমান ও বিএনপির মো. অলিউর রহমান। মৌলভীবাজার পৌরসভা ঘুরে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার ভোটারদের সঙ্গে আলাপ করে এমন তথ্যই পাওয়া গেছে। তাদের মতে, শীর্ষ দুটি দল ও প্রতীক যেখানে মুখোমুখি সেখানে অন্য কেউ বিজয় ছিনিয়ে নেয়ার আশংকা নেই। দুই দলের নেতাকর্মীদের ওপর কেন্দ্রের কড়া নির্দেশ থাকায় তারা দ্বন্দ্ব-গ্র“পিং নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে নারাজ। তারপরও পরিচয় গোপন রেখে যুগান্তরের সঙ্গে কথা বলেছেন অনেকেই। তারা জানান, মাত্র ক’দিন আগেও প্রধান দুই শীর্ষ দলে দ্বন্দ্ব-কোন্দল মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল। প্রকাশ্যে চলে এসেছিল সেই রেষারেষি। শুরু হয়েছিল দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করার চেয়ে পরাজিত করার পাঁয়তারা। প্রবণতা ছিল বিদ্রোহীদের উসকে দেয়ার। কিন্তু আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কেন্দ্রের কড়া নজরদারি ছিল। তাই একক প্রার্থী নিয়ে মাঠে থাকতে নির্দেশনা আসে কেন্দ্রের। এতেও কাজ না হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় কেন্দ্র। ফলে দ্রুত পাল্টে গেছে মৌলভীবাজার পৌরসভার প্রচারণার চিত্র। দ্বন্দ্ব-কোন্দল থাকলেও এখন সবাই এক! গৃহশত্র“ নেই আওয়ামী লীগ বিএনপিতে! যদিও মন্ত্রী মরহুম সৈয়দ মহসিন আলী না থাকলেও আছেন তার সহধর্মিণী। সায়রা মহসিন এমপিকে মৌলভীবাজারবাসী ‘ছায়া মহসিন’ মনে করেন। আছেন তার কন্যা সানজিদা। একই মাঠে আছেন বিরোধীরাও। সাবেক চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ আবদুুস শহীদের অনুসারী প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা নেসার আহমদ। বিএনপিতেও একই চিত্র। সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের অনুপস্থিতিতে তার বলয়ের কর্ণধার এখন পুত্র নাসের রহমান। তার সঙ্গে বিএনপির অনেকেরই বনাবনি নেই। সাবেক এমপি খালেদা রব্বানী এর মধ্যে অন্যতম। সময়ের প্রয়োজনে দুই মেরুর এই দুই বাসিন্দা আড়ালে দ্বন্দ্ব পুষে রাখলেও প্রকাশ্যে এক। মাঠের যখন এমন অবস্থা তখন মঙ্গলবার রাতে যুগান্তরের সঙ্গে কথা হয় মেয়র প্রার্থীদের। বিএনপির প্রার্থী মো. অলিউর রহমান (ধানের শীষ) বলেন, জনগণ আমাকেই ভোট দেবে। ভোট চুরি না হলে এবং সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আমিই বিজয়ী হব। কারণ দুবার কাউন্সিলর ছিলাম। আমি উন্নয়ন বুঝি। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আচরণবিধি আমার জন্য একরকম আর আওয়ামী লীগ প্রার্থীর জন্য আরেক রকম। আমার গাড়িতে ধানের শীষের পোস্টার লাগানোর কারণে জরিমানা করা হয়েছে। অথচ নৌকার পোস্টার লাগিয়ে যিনি ঘুরছেন তাকে কিছুই করা হয়নি। তাছাড়া আমার প্রচারণায় বাধা দিয়ে আমার কার্যালয়ের সামনে মোটরসাইকেল মহড়া দেয় নৌকা প্রতীকের ক্যাডাররা। তবে এ ব্যাপারে লিখিত কোনো অভিযোগ করেননি মেয়র প্রার্থী অলিউর। বিএনপি প্রার্থীর অভিযোগ অস্বীকার করে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. ফজলুর রহমান (নৌকা) বলেন, নৌকার জোয়ার দেখে তিনি ভীত। ভোটে হেরে যাবেন দেখে এমন অভিযোগ করছেন। ওয়ার্কার্স পার্টির সৌমিত্র দেব (হাতুড়ি) অভিযোগ করেন, বিজয় ছিনিয়ে নেয়ার অপচেষ্টা চলছে। আমার কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে পোস্টার ছিনিয়ে নিয়েছে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা। নৌকা ও ধানের শীষের প্রার্থীরা আচরণবিধি মানছেনই না। তারা মহড়া দেয়া ছাড়াও কালো টাকা বিতরণ করে চলেছেন। ইসলামী আন্দোলনের মো. মোস্তফা কামাল (হাতপাখা) বলেন, প্রচারণায় আছি। বাকি জনগণ ও আল্লাহর ইচ্ছা। বাংলাদেশ ন্যাশনাল পিপলস পার্টির সৈয়দ সুজাত আলী (আম) বলেন, নির্বাচন নিয়ে আশাবাদী। ভোটাররা ভালো প্রার্থী খুঁজছেন। আমার প্রচারণায় কোনো সমস্যা হচ্ছে না। দলীয় কোন্দলের সমাধান ও ঐক্যবদ্ধ প্রচারণার ব্যাপারে কথা বলতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগ নেতা নেসার আহমদকে ফোন করলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফোনে পাওয়া যায়নি প্রয়াত মন্ত্রী মহসিনের উত্তরাধিকারীদের। বিএনপি নেত্রী খালেদা রব্বানীর ফোন দীর্ঘ সময় ধরে ব্যস্ত। প্রয়াত মন্ত্রী নাসের রহমানের নম্বরে কল করলেও তিনি ধরেননি। ফলে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দেয়া তথ্যমতে, মৌলভীবাজার সদর পৌরসভায় মেয়র প্রার্থী ৫ জন। সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর পদের প্রার্থী ৩৮ জন। প্রাচীনতম হলেও এ পৌরসভার আয়তন এখনও মাত্র ১০ দশমিক ৪০ বর্গ কিলোমিটার। পৌরসভায় ৯ ওয়ার্ডে নারী ও পুরুষ মিলে মোট ভোটার সংখ্যা ৩৯ হাজার ৭৭৮ জন। নির্বাচনে সংরক্ষিত আসনের মহিলা কাউন্সিলররাও বেশ তৎপর। মাঠে রয়েছেন তৃষ্ণা রানী পাল (গ্যাসের চুলা), দিলারা রহমান (কাঁচি), জাহানারা বেগম (কাঁচি), রোকশানা আক্তার এ্যানি (ভ্যানিটি ব্যাগ), শ্যামলী দাশ পুরকায়স্থ (আঙ্গুর), জাহানারা বেগম (ভ্যানিটি ব্যাগ), ঝর্ণা আক্তার রনি (চকলেট) ও শিল্পী বেগম (কাঁচি)।
 

পৌরসভা নির্বাচন-২০১৫ পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close