¦

এইমাত্র পাওয়া

  • হালনাগাদ ভোটার তালিকার খসড়া প্রকাশ; নতুন ভোটার ৪৩ লাখ ৬৮ হাজার ৪৭ জন
কিশোরগঞ্জের সাত পৌরসভায় বিএনপির ভরাডুবি

এটিএম নিজাম, কিশোরগঞ্জ ব্যুরো | প্রকাশ : ০২ জানুয়ারি ২০১৬

কিশোরগঞ্জের সাত পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপি’র নজিরবিহীন ভরাডুবির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনা এ এলাকার রাজনীতিকসহ নানা শ্রেণী-পেশার মানুষের কাছে বছরের শ্রেষ্ঠ আলোচিত ঘটনা হিসেবে ঠাঁই পেয়েছে। এ নিয়ে নানা পথ ও মতের মানুষের পাশাপাশি বিএনপি’র নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা ও বিচার-বিশ্লেষণ। প্রশাসনের প্রভাব, কারচুপি, নেতাকর্মীদের গ্রেফতার, গভীর রাতে বাড়িতে বাড়িতে পুলিশি তল্লাশির মাধ্যমে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে আতংক বিস্তারের কারণে এ পরিস্থিতি হয়েছে বলে বিএনপি’র শীর্ষ নেতাদের অভিযোগ। তবে দুর্বল নেতৃত্ব আর দলে বহুধা বিভক্তির কারণে অসংখ্য প্রভাবশালী নেতাকর্মীর নির্বিকার ভূমিকাকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে দলটির তৃণমূলের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। অপরদিকে, জ্বালাও-পোড়াও, বোমাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে প্রত্যাখ্যান করে চলমান উন্নয়নের রাজনীতির পক্ষে নাগরিক সমাজ রায় দিয়েছে বলে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা দাবি করেছেন। কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ব্যতীত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত পৌরসভা নির্বাচনটি শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে নির্বাচন কমিশনসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দাবি করেছেন। কিন্তু প্রকৃত বাস্তবতা ছিল পুলিশের পক্ষপাতমূলক আচরণ, গ্রেফতার হয়রানি ও তল্লাশির কারণে আতংকগ্রস্ত হয়ে পড়ে বিএনপি’র নেতাকর্মী, সমর্থক এমনকি খোদ মেয়র প্রার্থীরা। আর এ কারণে আগেভাগেই তারা নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি ও কেন্দ্র দখলের মতো ঘটনা ঘটার আশংকা প্রকাশ করেন। এ কারণে তারা ভোটযুদ্ধের প্রস্তুতিতে পিছিয়ে পড়েন। প্রভাবশালী নেতাকর্মীদের অধিকাংশই পালন করে নির্বিকার ভূমিকা। এ দুর্বল অবস্থানের কারণে কোথাও কোথাও প্রতিপক্ষ দলের প্রার্থীরা বিএনপি’র প্রভাবশালী নেতাকর্মীদেরও তাদের পক্ষে কাজে লাগানোর সুযোগ পায়। ৩০ ডিসেম্বরের এ নির্বাচনের আগের দিন থেকে বাজিতপুরে কেন্দ্র দখল করে ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী। নির্বাচনের দিন দুপুরেই সংবাদ সম্মেলন করে সন্ত্রাস ছড়িয়ে কেন্দ্র দখল করে ভোট কারচুপির অভিযোগে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী নেতা শওকত আকবর। একই কারণ দেখিয়ে এ পৌরসভার বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী এহেসান কুফিয়া পুন:নির্বাচনের দাবি জানান। যুগান্তরের অনুসন্ধানে জানা গেছে, বাজিতপুর, কুলিয়ারচর ও কটিয়াদী পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থীসহ তাদের স্বজন ও কর্মী-সমর্থকদের গ্রেফতার-হয়রানির পাশাপাশি কয়েকটি মিথ্যা মামলা রুজু এবং হামলার ঘটনা ঘটেছে। নেতৃত্ব নিয়ে দলীয় অন্তর্দ্বন্দ্ব ও দ্বিধা বিভক্তির কারণে সাংগঠনিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়া বিএনপি এ পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়। দৃশ্যত বাজিতপুর পৌরসভায় বিভিন্ন অভিযোগ এনে দুপুরের আগেই মাঠ ছেড়ে দেয় বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী। অন্যদিকে, বাজিতপুর, কটিয়াদী ও হোসেনপুরে বিএনপি’র অনেক নেতাকর্মী সমর্থকদের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে দেখা যায়। ২০১১ সালের পৌরসভা নির্বাচনে এ জেলার ৮টি পৌরসভার মধ্যে বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থীরা ৫টিতে এবং আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থীরা ৩টিতে বিজয়ী হয়। এবার অনুষ্ঠিত ৭টি পৌরসভা নির্বাচনেই ভরাডুবি হয় বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের।
পৌরসভা নির্বাচন-২০১৫ পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close