jugantor
প্রতীক পাওয়ার আগেই আ’লীগ বিএনপির মেয়র প্রার্থীরা মাঠে
রামগতি রায়পুর ও রামগঞ্জ পৌরসভা

   

১০ ডিসেম্বর ২০১৫, ০০:০০:০০  | 

আবুল কালাম আজাদ ও সাজ্জাদুর রহমান, লক্ষ্মীপুর ও রামগতি থেকে

এবার প্রথম দেশব্যাপী পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হতে যাচ্ছে। প্রথম দফায় লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর, রামগঞ্জ ও রামগতি পৌরসভা রয়েছে। পৌরসভা নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। প্রতীক পাওয়ার আগেই মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা ভোটের মাঠে আগাম নেমে পড়েছেন। লক্ষ্মীপুরের এ তিনটি পৌরসভায় নির্বাচনে মূল লড়াই হবে আ’লীগ ও বিএনপি প্রার্থীর মধ্যে। এরমধ্যে রায়পুর ও রামগতিতে বর্তমান মেয়র বিএনপি নেতা। রামগঞ্জ পৌরসভায় বর্তমান মেয়র আ’লীগ নেতা হলেও তিনি নির্বাচনে দল থেকে মনোনয়ন চেয়েও পাননি। তিনটি পৌরসভায় মেয়র পদে ১৫ জন, কাউন্সিলর পদে পুরুষ ১৫৩ জন ও ২২ জন সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থী হয়েছেন। এর মধ্যে রায়পুর পৌরসভা মেয়র পদে ৬ জন, সংরক্ষিত মহিলা পদে ৭ জন ও পুরুষ ৪৩ জন। রামগঞ্জ মেয়র পদে ৬ জন, সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ৫ জন ও পুরুষ ৭৫ জন। রামগতি পৌরসভায় মেয়র পদে ৩ জন, সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ১০ জন ও পুরুষ ৩৫ জন প্রার্থী পদে তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এছাড়া রায়পুর ও রামগঞ্জে দু’জন বিদ্রোহী এবং দু’জন স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। আওয়ামী লীগ থেকে রায়পুর উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন খোকন, রামগঞ্জ পৌর আ’লীগের সভাপতি আবুল খায়ের পাটওয়ারী ও রামগতিতে জেলা আ’লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এম মেজবাহ উদ্দিন মেজু মেয়র পদে মনোনয়ন পেয়েছেন। বিএনপির প্রার্থী রায়পুর পৌর বিএনপির সভাপতি ও বর্তমান মেয়র এবিএম জিলানী, রামগঞ্জ পৌর বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক রোমান হোসেন পাটওয়ারী ও রামগতি পৌর বিএনপির সভাপতি ও বর্তমান মেয়র সাহেদ আলী পটু মনোনয়ন পেয়েছেন। জাতীয় পার্টির সমর্থন নিয়ে রায়পুর উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওয়াদুদ মৃধা চৌধুরী, রামগঞ্জ পৌর জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মহসীন ও রামগতিতে জাতীয় পার্টিতে সদ্য যোগদানকারী ও সাবেক পৌর মেয়র আজাদ উদ্দিন চৌধুরী একক প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র পেয়েছেন। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’র সমর্থন নিয়ে রায়পুরে জাকির হোসেন পাটওয়ারী ও রামগঞ্জে মো. জাকির হোসেন একক প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন। রায়পুরে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী নজরুল ইসলাম লিটন, মাইনুল ইসলাম ডালিম স্বতন্ত্র প্রার্থী, রামগঞ্জ আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমান পৌর মেয়র বেলাল আহমেদ ও মো. খায়েরুল ইসলাম স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন। এছাড়া রায়পুরে মাইনুল ইসলাম ডালিম স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মেয়র পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। রামগঞ্জে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন (সমর্থন) চেয়েছিলেন পৌরসভার বর্তমান মেয়র বেলাল আহমেদ। কিন্তু দল থেকে তাকে মনোনয়ন দেয়া হয়নি। তাই তিনি আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। অপরদিকে, রামগতি পৌরসভার মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন আজাদ উদ্দিন চৌধুরী। কিন্তু দল থেকে প্রার্থী করা হয় জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মেজবাহ উদ্দিন মেজুকে। এ কারণে আজাদ উদ্দিন গত ২ ডিসেম্বর জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদের বনানী কার্যালয়ে ফুলের তোড়া তুলে দিয়ে জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন। এরপর বিকালে তাকে দেয়া হয় দলের মেয়র মনোনয়ন। এক সময়ে বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে যোগ দেয়া আজাদ উদ্দিন চৌধুরী চর আলেকজান্ডার ইউপি চেয়ারম্যান ও রামগতি পৌরসভার মেয়র ছিলেন। ভোটার ও স্থানীয় লোকজনদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, লড়াই হবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র মধ্যে। তবে বিএনপি’র নেতাকর্মী ও সমর্থকরা জানান, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে বিএনপি’র ঘাঁটিতে বিএনপি জয়ী হবে।



সাবমিট

প্রতীক পাওয়ার আগেই আ’লীগ বিএনপির মেয়র প্রার্থীরা মাঠে

রামগতি রায়পুর ও রামগঞ্জ পৌরসভা
  
১০ ডিসেম্বর ২০১৫, ১২:০০ এএম  | 
আবুল কালাম আজাদ ও সাজ্জাদুর রহমান, লক্ষ্মীপুর ও রামগতি থেকে

এবার প্রথম দেশব্যাপী পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হতে যাচ্ছে। প্রথম দফায় লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর, রামগঞ্জ ও রামগতি পৌরসভা রয়েছে। পৌরসভা নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। প্রতীক পাওয়ার আগেই মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা ভোটের মাঠে আগাম নেমে পড়েছেন। লক্ষ্মীপুরের এ তিনটি পৌরসভায় নির্বাচনে মূল লড়াই হবে আ’লীগ ও বিএনপি প্রার্থীর মধ্যে। এরমধ্যে রায়পুর ও রামগতিতে বর্তমান মেয়র বিএনপি নেতা। রামগঞ্জ পৌরসভায় বর্তমান মেয়র আ’লীগ নেতা হলেও তিনি নির্বাচনে দল থেকে মনোনয়ন চেয়েও পাননি। তিনটি পৌরসভায় মেয়র পদে ১৫ জন, কাউন্সিলর পদে পুরুষ ১৫৩ জন ও ২২ জন সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থী হয়েছেন। এর মধ্যে রায়পুর পৌরসভা মেয়র পদে ৬ জন, সংরক্ষিত মহিলা পদে ৭ জন ও পুরুষ ৪৩ জন। রামগঞ্জ মেয়র পদে ৬ জন, সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ৫ জন ও পুরুষ ৭৫ জন। রামগতি পৌরসভায় মেয়র পদে ৩ জন, সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ১০ জন ও পুরুষ ৩৫ জন প্রার্থী পদে তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এছাড়া রায়পুর ও রামগঞ্জে দু’জন বিদ্রোহী এবং দু’জন স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। আওয়ামী লীগ থেকে রায়পুর উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন খোকন, রামগঞ্জ পৌর আ’লীগের সভাপতি আবুল খায়ের পাটওয়ারী ও রামগতিতে জেলা আ’লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এম মেজবাহ উদ্দিন মেজু মেয়র পদে মনোনয়ন পেয়েছেন। বিএনপির প্রার্থী রায়পুর পৌর বিএনপির সভাপতি ও বর্তমান মেয়র এবিএম জিলানী, রামগঞ্জ পৌর বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক রোমান হোসেন পাটওয়ারী ও রামগতি পৌর বিএনপির সভাপতি ও বর্তমান মেয়র সাহেদ আলী পটু মনোনয়ন পেয়েছেন। জাতীয় পার্টির সমর্থন নিয়ে রায়পুর উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওয়াদুদ মৃধা চৌধুরী, রামগঞ্জ পৌর জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মহসীন ও রামগতিতে জাতীয় পার্টিতে সদ্য যোগদানকারী ও সাবেক পৌর মেয়র আজাদ উদ্দিন চৌধুরী একক প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র পেয়েছেন। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’র সমর্থন নিয়ে রায়পুরে জাকির হোসেন পাটওয়ারী ও রামগঞ্জে মো. জাকির হোসেন একক প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন। রায়পুরে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী নজরুল ইসলাম লিটন, মাইনুল ইসলাম ডালিম স্বতন্ত্র প্রার্থী, রামগঞ্জ আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমান পৌর মেয়র বেলাল আহমেদ ও মো. খায়েরুল ইসলাম স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন। এছাড়া রায়পুরে মাইনুল ইসলাম ডালিম স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মেয়র পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। রামগঞ্জে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন (সমর্থন) চেয়েছিলেন পৌরসভার বর্তমান মেয়র বেলাল আহমেদ। কিন্তু দল থেকে তাকে মনোনয়ন দেয়া হয়নি। তাই তিনি আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। অপরদিকে, রামগতি পৌরসভার মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন আজাদ উদ্দিন চৌধুরী। কিন্তু দল থেকে প্রার্থী করা হয় জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মেজবাহ উদ্দিন মেজুকে। এ কারণে আজাদ উদ্দিন গত ২ ডিসেম্বর জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদের বনানী কার্যালয়ে ফুলের তোড়া তুলে দিয়ে জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন। এরপর বিকালে তাকে দেয়া হয় দলের মেয়র মনোনয়ন। এক সময়ে বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে যোগ দেয়া আজাদ উদ্দিন চৌধুরী চর আলেকজান্ডার ইউপি চেয়ারম্যান ও রামগতি পৌরসভার মেয়র ছিলেন। ভোটার ও স্থানীয় লোকজনদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, লড়াই হবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র মধ্যে। তবে বিএনপি’র নেতাকর্মী ও সমর্থকরা জানান, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে বিএনপি’র ঘাঁটিতে বিএনপি জয়ী হবে।



 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র