¦
প্রকৃতি থেকে শিক্ষা

মুস্তাফা জামান আব্বাসী | প্রকাশ : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

প্রকৃতির দিকে আমরা তাকাই না। মনে করি, এগুলো যেন ফেলনা, আপনা-আপনিই এসেছে। যেন এর থেকে শিক্ষণীয় তেমন কিছুই নেই। অথচ নিজের অজান্তেই পাঠ নেই প্রকৃতি থেকে। যারা শহুরে, তারা কমই তাকাই চারদিকে সবুজ বৃক্ষরাজির এই সম্ভারের দিকে, যা পৃথিবীকে করেছে শ্যামল-সুন্দর; ভারসাম্যের দাঁড়িপাল্লা নিয়ে। গ্রহটির ভূমিভাগের এক ভাগ অরণ্যের অংশ, যা মানুষকে দিচ্ছে জীবনের সিংহভাগ রসদ, সুপেয় পানিসহ জীবনের নানাবিধ উপকরণ। বৃক্ষ না হলে পানি সুপেয় হবে না, বৃক্ষ না হলে বায়ু হয় না পরিশুদ্ধ। আমাদের নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যায় বৃক্ষ ছাড়া।
বৃক্ষ ক্ষতিকর কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে। তারপর সালোক সংশ্লেষণের মাধ্যমে নিজের খাবার তৈরি করে মানুষের জন্য বেঁচে থাকার প্রয়োজনীয় অক্সিজেন ত্যাগ করে। পৃথিবীতে যত লতাগুল্মের সৃষ্টি তার সঙ্গে আছে লক্ষ লক্ষ কীটপতঙ্গ। শুধু তাই নয়, লক্ষ কোটি গাছের পাতা যখন ঝরে যায়, সেই ঝরা পাতা দিয়ে তৈরি হয় এমন এক প্রাকৃতিক পরিবেশ, যা বাঁচিয়ে রাখে শত সহস্র প্রাণীদের। তাই তাকাতে হয় প্রতিটি সৃষ্টির দিকে, প্রকৃতি যা সাজিয়ে রেখেছে। ওরা সবাই মূল্যবান। কাউকে ফেলে দেয়ার মতো নয়। ওদের সবাইকে নিয়ে আমরা বাঁচি।
১) বৃক্ষ আমাদের নমনীয় হতে শেখায়। বৃক্ষ যখন বেড়ে ওঠে তখন একটু বাতাসেই তারা কেমন হেলে দুলে ওঠে, তারা পড়ে যায় না, শুধু দুলে ওঠে। তুমিও দুলে উঠবে, পড়ে যাবে না। যখন তুমি শক্ত হয়ে বৃক্ষের মতো বেড়ে উঠবে, তখন আর দুলতে হবে না। ভারি বাতাসে উল্টে পড়বে না। তাই আমাদের জীবন যখন বেড়ে উঠছে, তখন একটু সমালোচনাতেই মুষড়ে পড়বে না। প্রতিকূল বাতাসের আঘাতের মতোই সবটুকু সামলে নেবে। ২) পাতার দিকে তাকিয়ে দেখ। বৃক্ষে আছে লক্ষ লক্ষ পাতা। প্রতি পাতাই মূল্যবান। পাতা না থাকলে বৃক্ষ বাড়বে না। পত্রপল্লবহীন বৃক্ষ যেন মৃত। তোমার যাত্রা পথে একেকটি পাতার মতো ওরা কাজ করবে। তাই ছোট ছোট জিনিসকে মূল্য দেবে। ৩) বড় বড় অশ্বত্থ বৃক্ষের দিকে তাকিয়ে থেক। ওরা এক সময় খুব ছোট ছিল। আস্তে আস্তে বড় হয়েছে। শিক্ষণীয় এটুকু, কোনো ছোট আরম্ভই ছোট নয়। ওই ছোটরা বড় হবে একদিন অশ্বত্থের মতো। ৪) গাছের বীজ বা ফল, সেটা আম আঁটি বা যাই হোক, সেটি সারা জীবন আম আঁটি থাকে না। বদলে যায়। কাজেই বদলে যাওয়া নিয়ে ভয় পেয় না। যেমনটি ডেভিড জিন্ডেল বলেছেন, তার ‘The Broken God’ গ্রন্থে- ‘গাছের বীজ কখনও ভয় পায় না বৃক্ষে রূপান্তরিত হওয়ার লক্ষ্যে বদলে যেতে। যখন বড় হবে তখন নিশ্চয়ই বদলে যাবে।’ ৫) যারা বনে গিয়ে থেকেছে তারা জানে, বৃক্ষরা একা বাড়ে না, আশপাশের সবাইকে নিয়ে বাড়ে। ওরা এক সঙ্গে গান গায়, নানা শব্দ করে। ওরাও হাসে, ওরাও কাঁদে। এ যে একসঙ্গে বেড়ে ওঠা এটিই শিক্ষণীয়।
৬) বৃক্ষদের মধ্যে নেতৃত্বের প্রকাশ অনেকের চোখে ধরা পড়ে না, কিন্তু যারা এ নিয়ে গবেষণা করেছে তারা জানেন এক বৃক্ষ আরেক বৃক্ষকে স্বীকৃতি দেয়। তাদের মধ্যে আরেক বড় বৃক্ষকে উঠতে দেয়। মানুষও তাই করতে পারে। ৭) গাছেদের আছে শিকড় ও উৎসপ্রীতি, তা না হলে তাদের স্ফুর্তি হবে না। মানুষদেরও তাই থাকতে হবে। তা না হলে জীবনের উত্থান হবে না বৃক্ষের সঙ্গে বন্ধুত্ব করে নিজেই তৈরি করা যায় জীবনের পাঠ- ১. তোমার শিকড় থাকতেই হবে। ২. যে সময় এসেছে, ডালপালার বিস্তার অবশ্যম্ভাবী। ৩. বেদনায় জীর্ণ হয়ে তোমার পুরনো আবাস পরিত্যাগ কর না। ৪. তুমি যা বিশ্বাস কর তা থেকে সটকে পড় না। ৫. অনেক সময় পুরনো বাকলের মধ্যে আশ্রয় নিয়ে তোমাকে বেঁচে থাকতে হবে। ৬. যেখানে তোমাকে পোঁতা হয়েছে সম্ভব হলে সেখানেই বেড়ে ওঠো। ৭. দেরিতে ফুল ফুটলে কোনো ক্ষতি নেই। ফুল যখন ফোটার তখনই ফুটবে। ৮. যারা তোমাকে কেটে ফেলতে চায় তাদের পরিত্যাগ কর। ৯. যখন তোমার জীবনের শরৎকাল তখন তোমার আসল রঙ লুকাতে পারবে না। ওইটাই তোমার আসল রঙ। ১০. দাবানল এলে সবাই একসঙ্গে মরবে। রোজ কেয়ামতের সঙ্গে তুলনীয়। ১১. বসন্ত এলে সবার রঙে রঙ মেশাতে হবে। প্রকৃতিতে যখন ভালোবাসার দিন, তখন সেখানে আলাদা থেক না। ১২. একা থেক না, ঝড়ে পড়ে যাবে। সবার সঙ্গে থেক, ঝড় কিছু করতে পারবে না। ১৩. সবার জন্য ভালোবাসা, কারও জন্য এ ভালোবাসা একক নয়। নিজে তাই হতে চেষ্টা করবে। ১৪. সবুজ রঙটি বড় আদরের, ওকে কাছে রেখ।
লেখক : সাহিত্য-সঙ্গীত ব্যক্তিত্ব
 

প্রকৃতি ও জীবন পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close