¦
ক্যান্সার ও ডায়াবেটিস প্রতিরোধী টমাটিলো

মাহসাব রনি | প্রকাশ : ০৪ এপ্রিল ২০১৫

সবজিটির নাম টমাটিলো। বৈজ্ঞানিক নাম : Physalis ixocarpa. কাঁচা অবস্থায় হালকা সবুজ রঙের। দেখতে অনেকটা বুনো ফোসকা বেগুনের মতো মনে হলেও খোসা ছাড়ানোর পর একে আমাদের দেশীয় টমেটোর মতোই মনে হয়। পাকলে বেগুনি ও হালকা লাল রঙের হলেও টমেটোর মতো অত টকটকে লাল হয় না।
টমাটিলো গাছের পাতা অনেটা মরিচ গাছের পাতার মতো। ফলের ভেতরটা মাংসল ও বীজগুলো টমেটোর চেয়ে ছোট। কাঁচা ও পাকা অবস্থায় সালাদ করে এবং তরকারি হিসেবে রান্না করে খাওয়া যায়। স্বাদ আর পুষ্টিগুণে টমেটোর তুলনায় উন্নত। টমাটিলোর ভেতরটা ভরাট হওয়ায় এর ওজন টমেটোর চেয়ে বেশি। হেক্টরপ্রতি ফলনও টমেটোর চেয়ে বেশি হয়। দেশের মাটিতে একেবারে নতুন এ সবজিটি সফলভাবে চাষ করতে সক্ষম হয়েছেন, রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের অধ্যাপক ড. নাহিদ জেবা ও তার গবেষণা সংশ্লিষ্ট দল। উত্তর আমেরিকা অঞ্চলের মেক্সিকোর জনপ্রিয় এ সবজিটি বাংলাদেশের মাটিতে চাষাবাদ এই প্রথম। দেশের আবহাওয়া ও মাটিতে খাপ খাওয়াতে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা মাঠে গত বছর থেকে চাষের চেষ্টা চালিয়ে এ বছর সফলতার মুখ দেখেন তারা। গবেষক ড. নাহিদ জেবা জানান, খাদ্য হিসেবে এবং পুষ্টিগুণের দিক দিয়ে বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে সবজিটির। প্রোটিন, ভিটামিন সি, ক্যরোটিন সমৃদ্ধ এ সবজিতে রয়েছে ক্যান্সার প্রতিরোধী পেভনয়েড ও লাইকোপিন উপাদানের উপস্থিতি। এছাড়াও সবজিটি পেকটিন সমৃদ্ধ হওয়ায় রক্তের কোলেস্টেরল ও গ্লুকোজ কমাতে সাহায্য করে যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকারী। অপরদিকে সবজিটিতে ফাইবারের উপস্থিতি থাকায় কোষ্ঠকাঠিন্য ও ডাইরিয়া নিরাময় করে। সবজিটি চাষাবাদেও রয়েছে বিশেষ সুবিধা, বৃতিতে মোড়ানো থাকায় রোগ-বালাই ও পোকা-মাকড় বিশেষ করে ফ্রুট বোরারের আক্রমণ অনেক কম হয়। পাখি খোসা ভেদ করে ফল খেতে পারে না।
ফলে ফসলের ঘাটতি কমে যায়। এটি কীটনাশক ও বিষমুক্ত একটি পরিবেশবান্ধব সবজি। কোনো কীটনাশক ব্যবহার ছাড়াই উৎপাদন করা যায়। ফলে টমাটিলোর উৎপাদনে একদিকে পরিবেশ যেমন অপরিকল্পিত বিষাক্ত কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের হাত থেকে রক্ষা পাবে, অন্যদিকে কৃষকের উৎপাদন খরচও কমে যাবে। আমাদের দেশীয় টমেটোর সঙ্গে এর ক্রস করা সম্ভব হলে অথবা অন্য কোনো প্রক্রিয়ায় জিন স্থানান্তরের মাধ্যমে টমেটোর পুষ্টি ও ফলনের ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হবে।
টমাটিলোর চাষ সম্পর্কে ড. নাহিদ জেবা আরও জানান, সাধারণত দেশীয় টমেটোর মতোই নভেম্বরে এর চাষ শুরু করা হয়। টমেটোর তুলনায় একমাস আগেই এটিতে ফুল আসা শুরু করে এবং ফসলও সংগ্রহ করা যায় টমেটোর আগে। সবজিটির উৎপাদন হেক্টরপ্রতি ৫০ টন, যা মেক্সিকোর মাটিতে উৎপাদিত ফসলের দ্বিগুণ ও দেশীয় টমেটোর ফলনের চেয়েও ১০ থেকে ১৫ টন বেশি। দেশীয় টমেটো চাষের পদ্ধতি অনুসরণ করেই এ সবজি থেকে সর্বোচ্চ ফলন পাওয়া সম্ভব। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাথমিকভাবে এর চাষাবাদ শুরু করে আগামী মৌসুমে কৃষকদের মাঝে টমাটিলোর বীজ সরবরাহ করা হবে।
লেখক : শিক্ষার্থী, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
 

প্রকৃতি ও জীবন পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close