¦
পরিবেশবান্ধব কমলাবউ

হুমায়ূন কবীর | প্রকাশ : ১৮ এপ্রিল ২০১৫

লাজুক ও রসিক পাখি কমলাবউ। অন্য পাখির বাসার আশপাশে বসে সেই পাখির ডাক নকল করতে এরা বেশ ওস্তাদ। বাংলাদেশের প্রায় সব জায়গাতেই এদের কম-বেশি দেখা যায়। ইংরেজি নাম : Orange Headed Thrush. বৈজ্ঞানিক নাম : Zoothera citrine. এরা কমলাফুলি বা কমলা দোয়েল নামেও পরিচিত। আবার কেউ কেউ পাখিটিকে কমলা দামা বলে ডাকে। দক্ষিণ এশিয়ায় পাখিটির ১৫টি প্রজাতি রয়েছে। ১৫ প্রজাতির মধ্যে কেবল কমলাবউ বাংলাদেশে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী দুর্লভ পাখি। বাকি ১৪ প্রজাতি শীতকালে মাঝে মাঝে বাংলাদেশে দেখা যায়।
কমলাবউ আকারে জাতীয় পাখি দোয়েলের মতো। পুরুষ কমলাবউ দেখতে খুব সুন্দর। লম্বায় ২১ থেকে ২২ সেন্টিমিটার। মায়াবী চোখের রং টলমলে নীল জলের মতো। তাতে একটু কালচে পিঙ্গলের আভা। ঠোঁট হালকা গোলাপি। মাথার চাঁদি, ঘাড়, গলা ও বুকের রং গাঢ় কমলা। তাতে হলকা হলুদের ছোঁয়া আছে, আছে লালচে আভা। পেট ও লেজের নিচের রং হচ্ছে সাদাটে ও হালকা হলুদ। পাখা বন্ধ করে রাখা অবস্থায় পিঠের রং ছাই। লেজের ওপরের রঙও তাই। ওড়ার সময় চোখে পড়ে- ডানার প্রান্তে পরপর তিনটি সাদা গোলাকার ছোপ। পায়ের রং হালকা গোলাপি। সব মিলে তাকে সামনে থেকে কমলা রঙের দেখায়। স্ত্রী কমলাবউও দেখতে সুন্দরী, তবে পুরুষ পাখির মতো নয়।
কমলাবউ গ্রামের ঝোপ-ঝাড়, বন-জঙ্গল কিংবা বাঁশঝাড়ের স্যাঁতসেঁতে নির্জন জায়গায় থাকতে বেশি পছন্দ করে। প্রজননের সময় ছাড়া সাধারণত একাকি জোড় পায়ে ছোট ছোট লাফ দিয়ে চলাফেরা করে। মাটিতে পড়ে থাকা পাতা উল্টে পোকামাকড়, কেঁচো ইত্যাদি খায়। এপ্রিল থেকে জুন কমলাবউয়ের প্রজননকাল। এক থেকে পাঁচ মিটার উঁচু কোনো গাছের ঘন পাতাওয়ালা দুই ডালের ফাঁকে শুকনা পাতা, ঘাস, সরু শিকড় ও মাটি দিয়ে বাসা বানায়। পিরিচের মতো প্রথম স্তর এবং গোল বাটি কিংবা চায়ের কাপের মতো বেশ শক্তপোক্ত দ্বিতীয় স্তরের বাসা বানানো শেষ করে। এরপর স্ত্রী কমলাবউ তিন থেকে চারটি ডিম পাড়ে। ডিমের রং গোলাপি। তাতে নীল ও ফিকে আভা। পুরুষ ও স্ত্রী উভয়ই ডিমে ‘তা’ দেয়। প্রায় ১৪ দিনে বাচ্চা ফোটে। উড়তে শেখে ১০ থেকে ১৫ দিনে। কমলাবউ গায়ক পাখি। আমাদের গান শুনিয়ে যেমন সে মুগ্ধ করে তেমনি ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে পরিবেশকেও সুন্দর রাখে।
লেখক : বন্যপ্রাণী গবেষক
 

প্রকৃতি ও জীবন পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close