¦
বিকৃত বীজের (জিএমও) আগ্রাসন : বিটি বেগুন ও গোল্ডেন রাইস

রীতা ভৌমিক | প্রকাশ : ১৬ মে ২০১৫

জিএম প্রযুক্তির প্রভাব সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী পরিবেশবাদী, কৃষক সংগঠন ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। বাংলাদেশেও এ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে। তবে এখনও বেশিরভাগ মানুষ এর কুফল সম্পর্কে অবগত নন। সম্প্রতি বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন ও উবিনীগ আয়োজিত বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের পাঠচক্র হলে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বিকৃত বীজের (জিএমও) আগ্রাসন : বিটি বেগুন ও গোল্ডেন রাইস শীর্ষক আলোচনা সভায় ভারতীয় ইন্সটিটিউট অব কেমিক্যাল বায়োলজির প্রধান বিজ্ঞানী ড. তুষার চক্রবর্তী বলেন, বিটি বেগুন ও গোল্ডেন রাইস জাতীয় শস্য খেলে মানবদেহের উপকৃত ব্যাকটেরিয়া মরে যায়। যা মানবদেহের শরীরের জন্য ক্ষতিকর। গোল্ডেন রাইস জিআর-২ বীজ বাংলাদেশে আমদানি করার চেষ্টা চলছে। এই চালে ভিটামিন এ থাকলেও এটি খেলে মানুষ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হবে। অন্যদিকে চীন সরকার এই ধানের বীজ তার দেশে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। চোরাই পথেও যেন এ ধানের বীজ তার দেশে প্রবেশ করতে না পারে এ নিয়ে শংকিত চীন। গোল্ডেন রাইস জিআর-২ কয়েকজন ছাত্রকে খাইয়ে তাদের ওপর চীনা বিজ্ঞানীরা গবেষণা করেন। যারা ছাত্রদের এই চালের ভাত খাইয়েছেন চীন সরকার তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছে। শুধু চীনেই নয় ফিলিপাইনেও আইন রয়েছে, প্রকৃতিকে ধ্বংস করলে, দূষণ করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। ১৯৮৩ সালে গোল্ডেন রাইস জিআর-২ প্রথম বাজারজাত করা হয়। এখনও পৃথিবীর ৯.৬ শতাংশ জমি বিকৃত বীজের আগ্রাসন হয়নি।
তিনি আরও বলেন, ভিটামিন এ সমৃদ্ধ ধান বা গোল্ডেন রাইস এ দেশের ধানের ওপর জেনেটিক কারিগরির মাধ্যমে করা হচ্ছে। অথচ উৎপাদিত শাক-সবজির মাধ্যমে ভিটামিন এ ঘাটতি মেটানো সম্ভব। এই বীজ ব্যবহারে সয়া, তুলো, ভুট্টা, ক্যানোলা- এই চারটি ফসল উৎপাদন হয়। কিন্তু কোম্পানির দ্বিগুণ লাভ হয় বীজ এবং আগাছা মারার ওষুধ বিক্রি করে।
বিটি বেগুন মানবদেহের জন্য কতখানি ক্ষতিকর এবং এর চাষে জমি কি পরিমাণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়- এ প্রসঙ্গে উবিনীগের নির্বাহী পরিচালক ফরিদা আখতার বলেন, বাংলাদেশে প্রথম ২০ জন কৃষককে বিটি বেগুনের বীজ দেয়া হয়েছিল। এ কৃষকরা বলেছেন, এই বীজ বপনে তারা ভীষণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এরপরও দ্বিতীয়বার ১৭টি জেলায় ১০৬ জন কৃষককে জোরপূর্বক এই বীজ তাদের ওপর চাপিয়ে দেয়া হয়। বিটি বেগুন হল- বেগুনের নয়টি জাতের ওপর জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে একটিকে নামকরণ করা। এটি কৃষকদের ওপর জোর করে চাপিয়ে চাষ করানো হচ্ছে। যারা চাষ করেছেন তারাই ক্ষতির শিকার হয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইন্সটিটিউটের বিজ্ঞানী ড. ওসমান জানান, বাংলাদেশে ২০০৪ সালে বিটি বেগুনের প্রোগ্রাম প্রথম ঢুকানো হয়। কোনো প্রাকৃতিক বিষয়কে পরিবর্তন করলে তা আর প্রাকৃতিক থাকে না। সে ক্ষেত্রে জিএমও-এর কথাই ধরা যাক। এই চাল খেলে যে রোগ হয় তা এখন শতকরা একশতভাগ বেড়েছে। নিরাপদ খাদ্য খেলে একজন মানুষ ওষুধ না খেয়েও সুস্থ থাকবেন। যেমন- বাংলাদেশে ১ কোটি ৫০ লাখ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ফসল উৎপাদনে মাত্র ২৫ হাজার টন ইউসেফ দিতে হয়। সেখানে বিটি বেগুনে ৮২ হাজার ইউসেফ দিতে হয়। যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর।
ফরহাদ মজহারের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বিশিষ্ট লেখক সৈয়দ আবুল মাকসুদ।
লেখক : সাংবাদিক ও লেখক
 

প্রকৃতি ও জীবন পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close