¦
সিলেটে ১৮ দলের কোন্দল কেটে গেলে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে

আবদুর রশিদ রেনু, সিলেট ব্যুরো | প্রকাশ : ০১ জুন ২০১৩

সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল সমর্থিত প্রার্থী বদরউদ্দীন আহমদ কামরান পরাজিত হতে পারেন। প্রধান বিরোধী দল বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর জয়ের একমাত্র বাধা হতে পারে দলীয় কোন্দল। মেয়র পদে যেই বিজয়ী হোন না কেন লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি। সিটি নির্বাচনে মেয়র প্রার্থীদের সার্বিক অবস্থা নিয়ে একটি গোয়েন্দা সংস্থার বিশেষ প্রতিবেদনে এমন মন্তব্য করা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে ও মেয়র প্রার্থীদের ইতিহাস পর্যালোচনা করে তৈরি করা প্রতিবেদনটি ইতিমধ্যে সরকারের উচ্চ মহলে প্রেরণ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মেয়র প্রার্থী বদরউদ্দিন আহমদ কামরান ও আরিফুল হক চৌধুরী লোক হিসেবে ভালো। দুজনের ভালো পরিচিতিও রয়েছে। তবে ১৮ দলীয় জোটের কোন্দল কেটে গেলে কামরান জয়ী নাও হতে পারেন। পাশাপাশি দলীয় কোন্দলে পরাজিত হতে পারেন আরিফ। প্রতিবেদনে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সীমানা, ভোটারসহ সব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, নগরীর ছড়ারপাড়ের (৬৫ সুগন্ধা) মৃত বশির উদ্দিন আহমদের পুত্র এইচএসসি পাস বদরউদ্দিন আহমদ কামরান সিলেট পৌরসভার দুই বারের নির্বাচিত কমিশনার, একবার পৌরসভার চেয়ারম্যান ও দুইবার সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন। পেশায় বালু-পাথর সরবরাহকারী কামরান ১৪ দলীয় জোটের সমর্থন নিয়ে নাগরিক কমিটির প্রার্থী। সিটি এলাকার সর্বস্তরের জনগণের সঙ্গে রয়েছে তার ভালো সম্পর্ক। নির্বাচনে জয়লাভের সম্ভাবনা বেশি তবে বিএনপির কোন্দল কেটে গেলে ১৪ দলীয় জোট ও ১৮ জোটের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। ১৮ দলের কোন্দল কেটে গেলে মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি কামরান পরাজিত হতে পারেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নগরীর কুমারপাড়ার (বাসা নং-১) মৃত শফিকুল হক চৌধুরীর পুত্র আরিফুল হক চৌধুরী ২০০৩ সালের নির্বাচনে ১৮নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। পেশায় ব্যবসায়ী সশিক্ষিত আরিফ লোক হিসেবে ভালো। ২০০৩ সালে কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হলে সাবেক অর্থমন্ত্রী মরহুম এম সাইফুর রহমানের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক থাকায় সে সময়ে ১৮নং ওয়ার্ডসহ সিলেটের বিভিন্ন স্থানে আরিফের নেতৃত্বে উন্নয়ন হয়। এ জন্য বিএনপির কোন্দল কেটে গেলে ১৪ দল ও ১৮ দলের প্রার্থীর মধ্যে লড়াই হবে সমানে সমান। তবে দলীয় কোন্দল থাকলে আরিফ জয়লাভ নাও করতে পারেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, অপর মেয়র প্রার্থী ছালাউদ্দিন রিমন পেশায় ব্যবসায়ী। নিজেকে যুবদলের কর্মী পরিচয় দিলেও সিটি এলাকায় অনেকেই তাকে চেনেন না। তার জয়ের সম্ভাবনা নেই বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি ভালো বললেও সংঘর্ষের আশংকা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। গোয়েন্দা সংস্থার এ প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৭ বর্গকিলোমিটার আয়তনের সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকার মোট ভোটার ২ লাখ ৯১ হাজার ৪৬ জন। এর মধ্যে ১ লাখ ৫৭ হাজার ১৮১ জন পুরুষ ও ১ লাখ ৩৩ হাজার ৮৬৫ জন হলেন মহিলা ভোটার। ১২৭টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ৫৪টি। এসব কেন্দ্রে মোট বুথ সংখ্যা ৮৯৬টি। সিটি কর্পোরেশন এলাকায় রয়েছে ৬টি থানা। এর মধ্যে কোতোয়ালি মডেল থানার পুরো অংশ সিটি এলাকার। বাকি ৫ থানার আংশিক এলাকা নিয়ে সিলেট সিটি কর্পোরেশন গঠিত। মেয়র পদে ৩ জন, ২৭ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ১৩৬ জন ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর ৯ ওয়ার্ডে ৩৫ প্রার্থী রয়েছেন। আগামী ১৫ জুন শনিবার তৃতীয় বারের মতো সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন।
খবর পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close