jugantor
মাদকদ্রব্যসহ আটকের জের
রূপগঞ্জে ডিবি পুলিশের ওপর ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের হামলা

  রূপগঞ্জ প্রতিনিধি  

০৩ অক্টোবর ২০১৩, ০০:০০:০০  | 

রূপগঞ্জে মাদক সেবনরত অবস্থায় নবগঠিত উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও তার কয়েকজন অনুসারীকে নেশাজাত ইয়াবা ট্যাবলেটসহ আটকের জের ধরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছে উপজেলা ছাত্রলীগ সদস্যরা। এ সময় গোয়েন্দা পুলিশের সেকেন্ড অফিসারসহ তাদের পাঁচ সদস্য মারাত্মক আহত হয়েছেন। পুলিশের এক সোর্সকেও অপহরণ করে নিয়ে যায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। তিন ঘণ্টা চিরুনি তল্লাশি চালিয়ে তাকে উদ্ধার করে পুলিশ। মঙ্গলবার গভীর রাতে উপজেলার তারাব পৌরসভার রূপসী বাগবাড়ী এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ আক্তার হোসেন জানান, মঙ্গলবার রাতে ডিবির সেকেন্ড অফিসার আবুল কায়েস আকন্দের নেতৃত্বে একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য উদ্ধারের জন্য রাত ১২টার দিকে স্থানীয় রূপসী বাগবাড়ী এলাকার আমান ভূঁইয়ার বাড়ির ছাদে অভিযান চালায়। সে সময় সেখানে নবগঠিত উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হাছিবুর রহমান হাছিবসহ আরও ২০-২৫ জন বসে ইয়াবা সেবন করছিলেন। পুলিশ হাছিবের দেহ তল্লাশি করে ১০-১২টি ইয়াবা জব্দ করে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ হাছিবকে আটকের চেষ্টা করলে স্থানীয় যুবলীগ নেতা শাহিন খান, শাহ আলম মোল্লা, ছাত্রলীগের খোকন, অনিক, সুমন, আশরাফুল ভুঁইয়া, মনির খান, মাজহারুল, মাহফুজ ভুঁইয়া (খাদুন), খোকন প্রধান, রিজন, রাসেলসহ বেশ কয়েকশন ছাত্রলীগ নেতাকর্মী অস্ত্রশস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে গোয়েন্দা পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় মারাত্মক আহতরা হলেন জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) এসআই আবুল কায়েস আকন্দ, এসআই সাখাওয়াত হোসেন, এএসআই মোস্তফা মিয়া, এএসআই কিবরিয়া ও পুলিশের সোর্স রতন মিয়া। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এক পর্যায়ে জনি নামে পুলিশের আরেক সংবাদদাতাকে অপহরণ করে। এলাকাবাসী আহত পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে স্থানীয় মেডিল্যাব হাসপাতালে ভর্তি করে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের নারায়ণগঞ্জ খানপুর সরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে গোয়েন্দা পুলিশের টিম বাগবাড়ী এলাকা থেকে জনিকে উদ্ধার করে। তবে তল্লাশিকালে অভিযুক্ত কাউকে পাওয়া যায়নি বলে দাবি করে পুলিশের একাধিক সংস্থা। এ বিষয়ে অভিযুক্ত উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হাছিবুর রহমান হাছিব জানান, আমি মঙ্গলবার রাতে আমার নিজ এলাকায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে কথাবার্তা বলছিলাম। এ সময় সিভিল পোশাকে অজ্ঞাত ৬-৭ জন লোক এসে নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে একটি দিয়াশলাইয়ের ভেতর কয়েক পিস ইয়াবা ট্যাবলেট রেখে সেটা আমার পকেটে ঢুকিয়ে দেয়। পরে তারা আমাকে আটক করে নিয়ে যেতে চাইলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের বাধা দেয়। এ সময় ধস্তাধস্তিতে উভয়পক্ষের লোকজন আহত হয়েছে। তবে এ ব্যাপার অস্বীকার করেন গোয়েন্দা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ আক্তার হোসেন।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম বলেন, গোয়েন্দা পুলিশ সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়েছে। সেখানে ছাত্রলীগসহ মাদক ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন এবং মাদক সেবন ও বেচাকেনা করছিলেন। এ সময় তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা করলে তারা পুলিশের ওপর হামলা করে। এ ব্যাপারে প্রচলিত আইনে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। অপরদিকে রূপগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আসাদুজ্জামান মীর বলেন, গোয়েন্দা পুলিশের ওপর হামলার ঘটনার সংবাদ পেয়ে রূপগঞ্জ থানার একাধিক দল তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছে। থানার অফিসার ইনচার্জ বলেন, আমরা আমাদের ঊর্র্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুসারে কাজ করে যাব। কোনো রাজনৈতিক তদবির এ ঘটনাকে প্রভাবিত করতে পারবে না।


 

সাবমিট
মাদকদ্রব্যসহ আটকের জের

রূপগঞ্জে ডিবি পুলিশের ওপর ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের হামলা

 রূপগঞ্জ প্রতিনিধি 
০৩ অক্টোবর ২০১৩, ১২:০০ এএম  | 

রূপগঞ্জে মাদক সেবনরত অবস্থায় নবগঠিত উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও তার কয়েকজন অনুসারীকে নেশাজাত ইয়াবা ট্যাবলেটসহ আটকের জের ধরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছে উপজেলা ছাত্রলীগ সদস্যরা। এ সময় গোয়েন্দা পুলিশের সেকেন্ড অফিসারসহ তাদের পাঁচ সদস্য মারাত্মক আহত হয়েছেন। পুলিশের এক সোর্সকেও অপহরণ করে নিয়ে যায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। তিন ঘণ্টা চিরুনি তল্লাশি চালিয়ে তাকে উদ্ধার করে পুলিশ। মঙ্গলবার গভীর রাতে উপজেলার তারাব পৌরসভার রূপসী বাগবাড়ী এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ আক্তার হোসেন জানান, মঙ্গলবার রাতে ডিবির সেকেন্ড অফিসার আবুল কায়েস আকন্দের নেতৃত্বে একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য উদ্ধারের জন্য রাত ১২টার দিকে স্থানীয় রূপসী বাগবাড়ী এলাকার আমান ভূঁইয়ার বাড়ির ছাদে অভিযান চালায়। সে সময় সেখানে নবগঠিত উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হাছিবুর রহমান হাছিবসহ আরও ২০-২৫ জন বসে ইয়াবা সেবন করছিলেন। পুলিশ হাছিবের দেহ তল্লাশি করে ১০-১২টি ইয়াবা জব্দ করে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ হাছিবকে আটকের চেষ্টা করলে স্থানীয় যুবলীগ নেতা শাহিন খান, শাহ আলম মোল্লা, ছাত্রলীগের খোকন, অনিক, সুমন, আশরাফুল ভুঁইয়া, মনির খান, মাজহারুল, মাহফুজ ভুঁইয়া (খাদুন), খোকন প্রধান, রিজন, রাসেলসহ বেশ কয়েকশন ছাত্রলীগ নেতাকর্মী অস্ত্রশস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে গোয়েন্দা পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় মারাত্মক আহতরা হলেন জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) এসআই আবুল কায়েস আকন্দ, এসআই সাখাওয়াত হোসেন, এএসআই মোস্তফা মিয়া, এএসআই কিবরিয়া ও পুলিশের সোর্স রতন মিয়া। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এক পর্যায়ে জনি নামে পুলিশের আরেক সংবাদদাতাকে অপহরণ করে। এলাকাবাসী আহত পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে স্থানীয় মেডিল্যাব হাসপাতালে ভর্তি করে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের নারায়ণগঞ্জ খানপুর সরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে গোয়েন্দা পুলিশের টিম বাগবাড়ী এলাকা থেকে জনিকে উদ্ধার করে। তবে তল্লাশিকালে অভিযুক্ত কাউকে পাওয়া যায়নি বলে দাবি করে পুলিশের একাধিক সংস্থা। এ বিষয়ে অভিযুক্ত উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হাছিবুর রহমান হাছিব জানান, আমি মঙ্গলবার রাতে আমার নিজ এলাকায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে কথাবার্তা বলছিলাম। এ সময় সিভিল পোশাকে অজ্ঞাত ৬-৭ জন লোক এসে নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে একটি দিয়াশলাইয়ের ভেতর কয়েক পিস ইয়াবা ট্যাবলেট রেখে সেটা আমার পকেটে ঢুকিয়ে দেয়। পরে তারা আমাকে আটক করে নিয়ে যেতে চাইলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের বাধা দেয়। এ সময় ধস্তাধস্তিতে উভয়পক্ষের লোকজন আহত হয়েছে। তবে এ ব্যাপার অস্বীকার করেন গোয়েন্দা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ আক্তার হোসেন।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম বলেন, গোয়েন্দা পুলিশ সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়েছে। সেখানে ছাত্রলীগসহ মাদক ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন এবং মাদক সেবন ও বেচাকেনা করছিলেন। এ সময় তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা করলে তারা পুলিশের ওপর হামলা করে। এ ব্যাপারে প্রচলিত আইনে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। অপরদিকে রূপগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আসাদুজ্জামান মীর বলেন, গোয়েন্দা পুলিশের ওপর হামলার ঘটনার সংবাদ পেয়ে রূপগঞ্জ থানার একাধিক দল তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছে। থানার অফিসার ইনচার্জ বলেন, আমরা আমাদের ঊর্র্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুসারে কাজ করে যাব। কোনো রাজনৈতিক তদবির এ ঘটনাকে প্রভাবিত করতে পারবে না।


 

 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র