¦

এইমাত্র পাওয়া

  • নরসিংদী জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাঈনুদ্দিনকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দৃর্বৃত্তরা
আফগান মুজাহিদ জঙ্গি ও শিবিরের বিরুদ্ধে হার্ডলাইনে যাওয়ার নির্দেশ

সরোয়ার আলম | প্রকাশ : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৪

আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আল কায়দার অডিও বার্তায় হুমকির ঘটনার পর আত্মগোপনে থাকা দেশী-বিদেশী জঙ্গি ও আফগান ফেরত মুজাহিদদের বিরুদ্ধে আইনশৃংখলা বাহিনীকে হার্ডলাইনে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। পাশাপাশি জামায়াত-শিবিরের দুর্ধর্ষ ক্যাডারদের দ্রুত গ্রেফতার করতে আরও জোরালো অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। ইতিমধ্যে জঙ্গিদের প্রোফাইল সংগ্রহ করা হয়েছে। নির্দেশ পাওয়ার পর নড়েচড়ে বসেছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো। এ নিয়ে সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কাদের ইন্ধনে আল কায়দা বাংলাদেশকে হুমকি দিয়েছে সে বিষয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাছেও তদন্ত করার আবেদন জানাবে। তাছাড়া ওই সংগঠনটির সঙ্গে বাংলাদেশের কারা জড়িত, তা উদ্ঘাটন করতে গোয়েন্দারা মাঠে নেমেছেন। জোট সরকারের আমলে জঙ্গিদের যারা ইন্ধন দিয়েছে তাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা হয়েছে। এমনকি তাদের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলো পুনরায় সচল করা হচ্ছে বলে পুলিশের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। এ ব্যাপারে পুলিশ মহাপরির্দশক হাসান মাহমুদ খন্দকার যুগান্তরকে বলেন, আল কায়দার হুমকির রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে। জঙ্গিদের তৎপরতা বাংলাদেশে নেই বললেই চলে। তারপরও আমরা সতর্ক অবস্থায় রয়েছি। আত্মগোপনে থাকা দেশী-বিদেশী জঙ্গি ও শিবির ক্যাডারদের বিরুদ্ধে হার্ডলাইনে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আল কায়দার অভিও বার্তাটি প্রকাশ হওয়ার পর কিছুটা বেকায়দায় পড়ে যায় পুলিশ-র‌্যাবসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো। এনিয়ে ওইসব সংস্থার কর্তাব্যক্তিরা দফায় দফায় বৈঠক করে চলেছেন। সোমবারও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে মন্ত্রণালয় ও পুলিশ-র‌্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আল কায়দার নেটওয়ার্কের পাশাপাশি দেশী-বিদেশী জঙ্গিদের ব্যাপারে বৈঠকে বিশদ আলোচনা হয়। বিশেষ করে পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বা, হরকাতুল জিহাদ হুজি, জেএমবিসহ ছোট-বড় জঙ্গি সংগঠনের সদস্যরা কে কোথায় আছে তা বের করার নির্দেশ দেয়া হয়। আফগান যুদ্ধে অংশ নেয়া মুজাহিদরা নাশকতা চালানোর কলকাঠি নাড়ছে বলে বৈঠকে আলোচনা হয়। শিবির ক্যাডাররা কে-কোথায় আছে তাও উদ্ঘাটনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে পুলিশ-র‌্যাবকে। কঠোর হার্ডলাইনে থাকতে বলা হয়েছে বৈঠকে।
বৈঠকে উপস্থিত থাকা ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, গত সরকারের আমলে জঙ্গিদের যারা ইন্ধন জুগিয়েছে তাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ইন্ধনদাতাদের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলো সচল করা হচ্ছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আল কায়দার হুমকির ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো যাতে তদন্ত করে সেজন্য বাংলাদেশ থেকে অনুরোধ জানানো হবে। জঙ্গিদের ব্যাপারে হার্ডলাইনে যেতে পুলিশ সুপারদের কাছে বিশেষ চিঠি পাঠানো হচ্ছে। আজ-কালের মধ্যে চিঠি পাঠানো হবে। সন্দেহজনক বাসা-বাড়ি ও মেসগুলোতে তল্লাশি চালাতে বলা হয়েছে। সীমান্ত এলাকা ও বিমানবন্দরগুলোতে কড়াকড়ি আরোপ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
সূত্র জানায়, গোয়েন্দাদের কাছে তথ্য আছে আফগান ফেরত ৮৪ মুজাহিদের যোগাযোগ আছে আল কায়দার সঙ্গে। তারা আফগানিস্থানে যুদ্ধ করার সময় তালেবান নেতা মোল্লা ওমরের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেন। প্রায় এক দশক আগে মুজাহিদরা বাংলাদেশকে তালেবান রাষ্ট্র বানানোর জন্য প্রকাশ্য মিছিল-মিটিং করেছিল। আনসারউল্লাহ বাংলা টিম নামে নতুন একটি জঙ্গি সংগঠনের আবির্ভাব ঘটে। কিছু মুজাহিদ ওই সংগঠনে আশ্রয় নিয়েছে বলে গোয়েন্দাদের জানিয়েছেন সংগঠনের প্রধান সমম্বয়কারী মাওলানা জসিম উদ্দিন রাহমানী। হরকাতুল জিহাদের শীর্ষ নেতা মুফতি আবদুল হান্নান, আইডিপির আরেক নেতা মাওলানা আবদুস সালামও কারাগার থেকে কলকাঠি নাড়ছেন বলে গোয়েন্দারা নিশ্চিত হয়েছেন।
যাদের বিরুদ্ধে হার্ডলাইনে পুলিশ-র‌্যাব : সূত্র আরও জানায়, আফগান ফেরত মুজাহিদদের মধ্যে মাওলানা যুবায়ের, মাওলানা আবদুর রশীদ, মাওলানা শহীদুল ইসলাম, মাওলানা মুফতি মাহমুদুল হাসান, মুফতি মোহম্মদ হাসান, মুফতি আবদুর রশিদ, মুফতি সাইদ নুর, মুফতি রুহুল আমিন, মাওলানা সাইফুল ইসলাম, মাওলানা ইমরানুজ্জামান, মাওলানা আবুল বাশার, মাওলানা নুরুল আমিন, মাওলানা রুহুল আমিন, মাওলানা সোহাইব হোসেন, এরশাদ হোসাইন, মাওলানা আবু তাহের, মুফতি দেলোয়ার হোসেন, মাওলানা আহমদ উল্লাহ ইমাম, মাওলানা আবদুল হাই ফারুকী, মাওলানা ফসিহ উদ্দিন, মাওলানা আবু জাফর, মাওলানা ইমরান হোসাইন ইশান, সামসুদ্দিন খন্দকার, মাওলানা আবদুর রহমান, মাওলানা আবদুল মান্নান, মাওলানা মাসুদ, মাওলানা আবুল বাসার, ফারুক হোসেন, আবদুন নূর, সিকান্দার চৌধুরী, মাওলানা নুরুল্লাহ, হাফেজ মাওলানা মুফতি বখতিয়ার হোসেন, নুরুল ইসলাম, ইয়াকুব আলীকে খুঁজছে র‌্যাব-পুলিশ। তার পাশপাশি আত্মগোপনে থাকা জঙ্গি হিসেবে অভিযুক্ত মাওলানা শফিকুর রহমান, মাওলানা ইদ্রিস আহম্মদ, মাওলানা হাবিবুর রহমান, মাওলানা মুজাহিদুল ইসলাম, হাফেজ জাহাঙ্গীর বদর, মাওলানা আবদুর রহমান, খুলনার হাফেজ মোহাম্মদ আবু তাহের, আবুল হোসেন ওরফে আবুল হাসেম, গোপালগঞ্জের বোরহান উদ্দিন মাসুম, রাজবাড়ির হাফেজ আলী ইয়াস আহম্মদ, পটুয়াখালীর ইব্রাহিম ওয়ালিউল্লাহ, গোপালগঞ্জের খালেদ, দিনাজপুরের রাশিদুল ইসলাম, চাঁদপুরের আবু জিহাদ, সিরাজগঞ্জের আবদুল আজিজ, নরসিংদীর মোস্তফা কামাল, কক্সবাজারের রেজাউল করিম, চট্টগ্রামের রেজাউল করিম, কিশোরগঞ্জের শরিউল্লাহ, চাঁদপুরের মুসা আহম্মদ, কক্সবাজারের হাফেজ রফিকুল ইসলাম, হাফেজ সিরাজুল করিম, আনোয়ার উদ্দিন জাবেদ, ফেনীর গিয়াস উদ্দিন, আবদুল আজিজ, জসিম উদ্দিন, চট্টগ্রামের সাখাওয়াত হোসেন, কামরুল ইসলাম, নুরুল আলম, কুমিল্লার দিদারুল আলম, ময়মনসিংহের আবুল কাশেম, কুমিল্লার ইউসুফ, হবিগঞ্জের নুরুল হক, মাওলানা আবু তাহের, মহিবুর রহমান, মৌলভীবাজারের আবদুল হক, বাগেরহাটের মমতাজ উদ্দিন, নাঈম, আসাদ, সোহাগ, ওসমান ও হাবিব, মাওলানা মামুনুর রশীদ, মাওলানা আবু বক্কর, সাঈদ আহম্মদকে ধরতে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।
 

খবর পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close