¦
ফুটপাত হকারদের রক্তক্ষরণ

মামুন আব্দুল্লাহ | প্রকাশ : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

আর কত দিন এগুলো সহ্য হয়, জীবন তো আর চলে না। পোলা-মাইয়াগো তো চালাইতে অইবো। ফুটপাতে দোকান চালাইতাম, বেচাকেনার যে হাল তাতে দোকানের খরচাই ওঠে না, নিজেরা খামু কি দিয়া, এহন দোকান ছাইড়া রিকশা চালাই, তাতেও বেশি কামাই নাই। কথাগুলো বলছিলেন রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বরে দাঁড়ানো রিকশাচালক জামাল মিয়া। সোমবার যুগান্তরের কাছে তিনি আরও জানালেন, তার মতো ফুটপাতে এমন হাজার হাজার হকার আছেন, যারা বাঁচার তাগিদে ব্যবসা ছেড়ে এখন অন্য পেশায় চলে গেছেন। টানা অবরোধ ও হরতালে তারা আর টিকতে পারছেন না। ফলে বাধ্য হয়ে জীবিকার তাগিদে যেখানে কিছু আয় করতে পারছেন সেখানেই চলে যাচ্ছেন।
৩১ দিন ধরে চলছে টানা অবরোধ। মাঝে মধ্যে থাকছে হরতালও। এ সময়ে বোমা ও ককটেল ফাটানো হয় বলে পুলিশ এখন ফুটপাথে কোনো দোকান চালাতে দেয় না। যে কারণে জামাল মিয়ার মতো হাজারও ফুটপাতের ব্যবসায়ীর জীবনে নেমে এসেছে ভয়াবহ বিপর্যয়। দৈনন্দিন আয়ের ওপর নির্ভরশীল এসব মানুষগুলোর এখন আয় না থাকায় অনেক কষ্টে খেয়ে না খেয়ে দিনাতিপাত করছেন। তারা আশায় আছেন, কবে থামবে অস্থিরতা, আবার জমে উঠবে তাদের ফুটপাত ব্যবসা। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছেন হকারসহ ক্ষুদ্র আয়ের বিপুলসংখ্যক মানুষ। বিভিন্ন বাস স্ট্যান্ড, লঞ্চ টার্মিনাল ও রেল স্টেশনে প্রায় প্রতিদিনই মহাব্যস্ত সময় কাটান তারা। বর্তমানে এসব স্থানে যাত্রী না থাকায় হকারদের বেচাবিক্রি নেই বললেই চলে। পাশপাশি রয়েছে পুলিশের খবরদারি। বিদ্যমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে কলমাপুর রেল স্টেশন, সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে এখন কোনো হকার ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। পুলিশের ধারণা, হকার সেজে বোমাবাজরা নানা অঘটন ঘটাচ্ছে। এছাড়া ফুটপাতের চায়ের দোকানে ভিড় করতে দিচ্ছে না পুলিশ। এমনকি সন্ধ্যার পর দোকানগুলো বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে।
বিভিন্ন হকার সমিতি সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীতে প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার ছিন্নমূল হকার আছে। আর বিভাগীয় শহরগুলোতেও আছে প্রায় সাত লাখ হকার। ঢাকাসহ অন্য শহরগুলোতে হকারদের প্রতিজনের দৈনিক গড়ে আয় হয় ৫০০ টাকা। হরতাল-অবরোধে তাদের আয় অর্ধেকেরও নিচে নেমে গেছে। ট্রেন বা লঞ্চে ভাসমান হকার নেই বললেই চলে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০ দলীয় জোটের টানা আন্দোলনে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানের ছিন্নমূল ব্যবসায়ী বা হকারদের জীবনে নেমে এসেছে ঘোর অন্ধকার। ফুটপাত ব্যবসায়ীদের পুঁজি কম থাকায় সামান্য লোকসানেই গুটিয়ে যান তারা। ফলে অনেক হকারই বাড়ি বসে আছেন। জীবন ও জীবিকা রক্ষায় কোনো কোনো হকার বাধ্য হয়েই নিজ নিজ ব্যবসা চালু রাখলেও আয় নেই। অনেকটা পুঁজি ভেঙে খাচ্ছেন। কেউ কেউ ফুটপাতের ব্যবসা গুটিয়ে শুরু করেছেন রিকশা চালানো। রোববার দুপুরে গাবতলী বাস স্টেশন এলাকায় দেখা গেল, পলিথিনের প্যাকেটে শসা, গাজর হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন তিন হকার। এক গাড়ি থেকে অন্য গাড়িতে দৌড়ে এসব পণ্য বিক্রি করা যাদের কাজ। অবরোধে থেমে গেছে কর্মব্যস্ত এই ভ্রাম্যমাণ হকারদের দৌড়-ঝাঁপ। বিক্রি নেই বললেই চলে। এ পরিস্থিতিতে শসা, খিরাই, গাজর বিক্রি ছেড়ে দিচ্ছেন। ওই তিন হকারের একজন রহিম মিয়া বললেন, আইজ এতডা দিন যাবত বেকার হইয়া আছি। কোনো কামাই-রোজগার নাই। ঘরে চাইল নাই, পেডের লাইগ্যা ঘর থেইক্কা বার হইছি। হেই সহাল থেইক্কা ঘুরতাছি তিনের এক ভাগও বেচতে পারি নাইক্যা। হামাগর জন্য কিছুটা পারলে করেন। কেউতো কিছু করে না, রাজনীতিকরা শুধু তাগো কথাই ভাবে, আমরা কিভাবে চলি হেইড তো দ্যাহে না। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী হকার লীগের সভাপতি এসএম জাকারিয়া হামিদ যুগান্তরকে বলেন, এর আগে বিভিন্ন কারণে হকারদের ফুটপাত থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। আর টানা অবরোধে তাদের প্রায় বন্ধ আছে বেচাকেনা। নাভিশ্বাস উঠেছে হকারদের।
খবর পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close