¦
ঝুলে আছে পুলিশের উচ্চ পর্যায়ের ১৭৫ পদোন্নতি

আলাউদ্দিন আরিফ | প্রকাশ : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

নানা আপত্তি ও অভিযোগে দীর্ঘদিন ঝুলে আছে পুলিশের উচ্চ পর্যায়ের ১৭৫টি পদোন্নতি। পদোন্নতির তালিকায় ১৯ জন অতিরিক্তি ডিআইজি, ৪৫ জন এসপি ও ১১১ জন এএসপির নাম রয়েছে। তবে এসপি পদে এই সংখ্যা বাড়তে পারে। গত বছরের অক্টোবরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটি (ডিপিসি) পদোন্নতি দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সব প্রক্রিয়া শেষে গত সপ্তাহে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারির কথা ছিল। কিন্তু সিনিয়র ও জুনিয়রদের পাল্টা-পাল্টি আপত্তিতে পদোন্নতির প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হয়নি। পুলিশ সদর দফতর ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ উইংয়ের যুগ্মসচিব ইমদাদুদ দস্তগীর যুগান্তরকে জানান, পদোন্নতির আনুসঙ্গিক প্রক্রিয়া প্রায় শেষ। তবে এটি চূড়ান্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করতে আরও কয়েকদিন সময় লাগবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, গত বছরের ২৩ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটি (ডিপিসি) পুলিশের তিন পদে ১৮০ জনকে পদোন্নতি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। সিনিয়রদের ডিঙিয়ে কিছু সংখ্যক জুনিয়র কর্মকর্তার নাম পদোন্নতির তালিকায় থাকায় কর্মকর্র্তাদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। কর্মকর্তারা পরস্পরের বিরুদ্ধে আপত্তি ও অভিযোগ তোলেন। পদোন্নতির জন্য প্রস্তাবিত নামের তালিকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে পাঠানোর পর তাতে বেশ কিছু অবজারভেশন দিয়ে ফেরত পাঠানো হয়। সর্বশেষ ১৯ জানুয়ারি ডিপিসির বৈঠকে আগে সিদ্ধান্ত হওয়া কয়েকজন জুনিয়র কর্মকর্তার নাম বাদ দিয়ে এবং সিনিয়র কয়েকজনের নাম অন্তর্ভুক্ত করে ১৭৫ জনকে পদোন্নতি দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এই সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন নিয়ে গত সপ্তাহে প্রজ্ঞাপন জারি করার কথা ছিল। কিন্তু আবারও আপত্তির কারণে সেটা হয়নি। সূত্র জানায়, অতিরিক্ত ডিআইজি, পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব কয়েক মাস আগে পুলিশ সদর দফতর থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। ওই প্রস্তাবে পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতির জন্য ১৭, ১৮, ২০, ২১, ২২ ও ২৪তম ব্যাচের কর্মকর্তাদের নামের তালিকা ছিল। কিন্তু ২৪তম ব্যাচের কর্মকর্তাদের ১০ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতির সুপারিশ থাকায় আগের ব্যাচের কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। এসব নিয়ে শুরু হয় অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ। চলতে থাকে সময়ক্ষেপণ। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত বছরের ২৩ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডিপিসির বৈঠকে যে ১৮০ জনকে পদোন্নতি দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল তাদের মধ্যে সিনিয়র ও জুনিয়র সব ব্যাচের কর্মকর্তাদের নাম ছিল। সুপারিশের মধ্যে ছিল ২১ জন অতিরিক্ত ডিআইজি, ৪৫ জন এসপি, ১১৪ জন অ্যাডিশনাল এসপির নাম। প্রধানমন্ত্রীর দফতরের অবজারভেশনের পর গত ১৯ জানুয়ারি জুনিয়র কয়েকজনকে বাদ দিয়ে সিনিয়রদের নাম যুক্ত করা হয়। কিন্তু বাদ পড়া জুনিয়র কর্মকর্তাদের মধ্যে কয়েকজন পুলিশ বাহিনীতে প্রভাবশালী কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত। তাদের নাম বাদ পড়ায় পদোন্নতি নিয়ে ফের জটিলতা দেখা দেয়। সময়ক্ষেপণের কারণ সম্পর্কে স্বরাষ্ট্র মন্ত্র্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, এসপি পদে আরও কয়েকজনের নাম যুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। কাদের নাম যুক্ত হচ্ছে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়ায় সময়ক্ষেপণ হচ্ছে। তাছাড়া পুলিশ সপ্তাহ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণেও কিছুটা সময়ক্ষেপণ হচ্ছে বলে জানান ওই কর্মকর্তা। তবে সব প্রক্রিয়া শেষে কয়েকদিনের মধ্যেই পদোন্নতি সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। জানতে চাইলে মন্ত্রণালয়ের পুলিশ শাখার অতিরিক্ত সচিব আখতার হোসেন ভূঁইয়া যুগান্তরকে জানান, প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
খবর পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close