¦
অফশোর ব্যাংকিংয়ে শত কোটি টাকার ঋণখেলাপি

যুগান্তর রিপোর্ট | প্রকাশ : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটও (ওবিইউ) খেলাপি ঋণের দুর্নাম থেকে মুক্ত থাকতে পারেনি। তাদেরও খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে শত কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। তাদের খেলাপি ঋণের পরিমাণ এতটাই বেড়েছে যে, এখন আর অর্জিত মুনাফা থেকে চাহিদা অনুযায়ী প্রভিশন রাখতে পারছে না। ফলে প্রভিশনে ঘাটতি থাকছে। প্রভিশন ঘাটতির পরিমাণও প্রায় শত কোটি টাকা। অফশোর ব্যাংকিংয়ে খেলাপি ঋণ ও প্রভিশন ঘাটতির পরিমাণ বেড়ে যাওয়াকে আশংকাজনক মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তৈরি এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, অফশোর ব্যাংকিংয়ে গত ৩০ জুন পর্যন্ত বিতরণ করা মোট ঋণের পরিমাণ ২৫ হাজার ১১৯ কোটি ২৭ লাখ টাকা। মানসম্পন্ন ঋণের পরিমাণ ২৫ হাজার ২১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৯৭ কোটি টাকা। মোট ঋণের শূন্য দশমিক ৩৯ শতাংশ খেলাপি ঋণে পরিণত হয়েছে। নিয়মিত ও খেলাপি ঋণের বিপরীতে প্রভিশন রাখা দরকার ২৯১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। রাখা আছে ১৯৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। প্রভিশন ঘাটতির পরিমাণ ৯৭ কোটি ৩ লাখ টাকা। এদিকে গত মার্চে অফশোর ব্যাংকিংয়ে মোট ঋণের পরিমাণ ছিল ২২ হাজার ৬৩১ কোটি ১২ লাখ টাকা। এর মধ্যে মানসম্পন্ন ঋণের পরিমাণ ২২ হাজার ৫২৭ কোটি ১৮ লাখ টাকা। খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৯৭ কোটি ২১ লাখ টাকা। মোট ঋণের শূন্য দশমিক ৪৩ শতাংশ। ঋণের বিপরীতে প্রভিশন রাখার দরকার ছিল ২৬১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। রাখা আছে ১৮০ কোটি ১ লাখ টাকা। প্রভিশন ঘাটতির পরিমাণ ৮১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। গত মার্চের তুলনায় জুনে ওবিইউতে ঋণ বিতরণ বেড়েছে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা। ওই সময় ঋণ বিতরণ বাড়লেও কমেছে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ও হার। তবে বেড়েছে প্রভিশন ঘাটতির পরিমাণ। অফশোর ব্যাংকিং হচ্ছে একটি বিশেষ ধরনের ব্যাংকিং ইউনিট। মূল ব্যাংকের সঙ্গে এর কোনো সংযোগ থাকবে না। ব্যবস্থাপনা, হিসাব, আমানত এসবই থাকবে সম্পূর্ণ আলাদা। শুধু লাভ-লোকসানের অংশটি মূল ব্যাংকের হিসাবের সঙ্গে যাগ হবে। অফশোর ব্যাংকিংয়ের আমানত সংগ্রহ করতে হবে বৈদেশিক মুদ্রায়, ঋণও দিতে হবে বৈদেশিক মুদ্রায়। স্থানীয় মুদ্রায় কোনো কাজ হবে না। এ ধরনের ব্যাংকিংয়ের সঙ্গে দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থার সম্পর্ক নেই বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক একে নিবিড় তদারকির আওতার বাইরে রেখেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি ব্যাংকের অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটে বড় ধরনের অনিয়মের সন্ধান পেয়েছে।
খবর পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close