¦
সন্ত্রাস দমন আইন সংশোধ হচ্ছে

যুগান্তর রিপোর্ট | প্রকাশ : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

নাশকতা-সহিংসতা প্রতিরোধে সন্ত্রাস দমন আইন প্রয়োগের জন্য আইনটিতে সংশোধন ও সংযোজন প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। আইনটি যে অবস্থায় আছে তাতে তা কার্যকরভাবে প্রয়োগ অসম্ভব। এজন্য ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয় থেকে এটি সংশোধনেরও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আইনটি প্রয়োগের ক্ষেত্রে জটিলতা থাকায় এ চিন্তা করছে সরকার।
ভারতের বিশেষ আইন টাডার আদলে পরিবর্তন করে এ আইনটি করার চিন্তা-ভাবনা রয়েছে। এ ধরনের আইনে দীর্ঘ কারাভোগ না করে জামিন বা মামলা থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই অপরাধীদের। আছে মৃত্যুদণ্ডের বিধানও।
তবে আইনটির সংশোধনীর ব্যাপারে আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক শুক্রবার কোনো মন্তব্য না করে আগামী সপ্তাহে সঠিক তথ্য দেবেন বলে জানান। আর সন্ত্রাস দমন আইন যেভাবে আছে চলমান সহিংসতা দমনে সেটি প্রয়োগ যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেছেন আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।
তিনি বলেন, আমি তো সংসদে ভারতের টাডার আদলে আইন করার পক্ষে মত দিয়েছিলাম। এখন তারা (আইন মন্ত্রণালয়) কী করছে দেখা যাক। আমি তো মনে করি না, যে আইনটা আছে সেটাই প্রয়োগ যথেষ্ট। এটা সংশোধন ও সংযোজন হতে হবে।
২০ দলীয় জোটের হরতাল-অবরোধ চলাকালে একের পর এক নাশকতা ঠেকাতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ ব্যর্থ হচ্ছে। সাত দিনের সময় বেঁধে দিয়েও সরকার কার্যকর কিছুই করতে পারেনি। এরই মধ্যে বিভিন্ন অভিযোগে যারা গ্রেফতার হচ্ছেন, তারা জামিনে ছাড়া পেয়ে যাচ্ছেন। এসব বিষয় মাথায় রেখে সরকার কঠোর আইন প্রয়োগ চায়, যাতে সহিংসতাকারীরা গ্রেফতার হলে ছাড়া না পায়। পাশাপাশি আইনের কঠোরতা দেখেও যাতে নাশকতাকারীরা ভয় পায়।
বৃহস্পতিবার এক তথ্য বিবরণীতে সরকার ২০০৯ সালে করা আইনটি প্রয়োগের কথা উল্লেখ করে এর বিভিন্ন দিক তুলে ধরে তা গণমাধ্যমে প্রচারের উদোগ নেয়।
কিন্তু আইনটি প্রয়োগসহ নানা ক্ষেত্রে রয়েছে জটিলতা। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করতে হলে প্রাথমিক অভিযোগপত্রসহ মামলাটি প্রথমে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে (জেলা প্রশাসক) অবহিত করতে হয়। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট প্রাথমিক অভিযোগপত্রের ওপর মন্তব্য করে তা অনুমোদনের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠান। এ আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ছাড়াও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মামলার তদন্ত ও বিচার শেষ করা, সময়মতো কাজ শেষ না করতে পারলে বিভাগীয় শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে।
মামলা তদন্তের মেয়াদ আইনে নির্দিষ্ট করা আছে প্রথমে ১৫ দিন, এরপর ৩০ দিন। সুনির্দিষ্ট কারণে এটা ৭৫ দিন পর্যন্ত হতে পারে। আইনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ না করার সন্তোষজনক কারণ ব্যাখ্যা না করতে পারলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগের মধ্যে পড়ে যাবেন। কিন্তু অন্য আইনে একটি মামলা তদন্তে মাসের পর মাস, বছরের পর বছর সময় পায় তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ। আবার এ মামলার বিচার ১৮০ দিনের মধ্যে শেষ করার বিধান রয়েছে। এসব করণে ৬ বছর আগে প্রণীত এ আইনটি আজও প্রায় অকার্যকর অবস্থাতেই রয়েছে।
এদিকে এ আইনের অধীনে দায়েরকৃত মামলার বিচারের জন্য প্রতিটি জেলায় বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের কথা রয়েছে। কিন্তু আইনের বিধান অনুসারে এসব ট্রাইব্যুনাল এখনও গঠিত হয়নি। যার কারণে সাধারণ আদালতেই এ আনের অধীনে দায়েরকৃত মামলার বিচার হচ্ছে।
জানা গেছে, আইন মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে সন্ত্রাস দমন আইন, ভারতের টাডাসহ বেশকিছু দেশের এ সংক্রান্ত আইনগুলো পর্যালোচনা করছে। জাতীয় সংসদের চলমান অধিবেশনেই আইনটি সংশোধনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ এগুচ্ছে।
খবর পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close